09/09/2026
পনেরো দিন আগে বিষয়টি নিয়ে ঘুষ সাইটে রিপোর্ট করা হয়েছে।
আপনি যদি নিজে বিদেশে পড়াশোনা করে থাকেন, কিংবা বিদেশে পড়াশোনা করার চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে যিনি এই অভিযোগটি করেছেন, তাঁর কষ্টটা কিছুটা হলেও বুঝতে পারবেন।
বিদেশে একটি ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন করা কতটা কঠিন সেটা শুধু যারা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন, তারাই জানেন। বছরের পর বছর প্রস্তুতি, গবেষণা, আবেদন, ইন্টারভিউ সবকিছু পেরিয়ে যখন অবশেষে একটি সুযোগ আসে, তখন সেটি ধরে রাখার জন্য প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কারণ এসব স্কলারশিপের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে হয়। সময় পার হয়ে গেলে আপনার সেই বহুদিনের পরিশ্রম, অর্জন এবং সুযোগ সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে।
অথচ আপনি বিদেশে পড়তে যাচ্ছেন—এতে রাষ্ট্রের কী ক্ষতি? আপনি কোনো আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘন করছেন না। বরং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে দেশের জন্যই কাজ করার সুযোগ তৈরি করছেন।
আপনার নিজস্ব অফিস হয়তো সবকিছু দ্রুত সম্পন্ন করে আপনার ফাইল ফরওয়ার্ড করল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সেই ফাইল দিনের পর দিন পড়ে থাকতে পারে। কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে হয়তো এটি আর দশটা ফাইলের মতোই একটি ফাইল—কিন্তু আবেদনকারীর কাছে সেটিই হতে পারে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।
আর যে কথাটা না বললেই নয়—
একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে বিদেশে পিএইচডি করতে যাওয়ার জন্য কেন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে?
এটাই কি আমাদের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা নয়?
একজন মানুষ নিজের যোগ্যতায় বিশ্বের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ পেলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে গ্রহণ করল, তাঁর কর্মস্থল তাঁকে ছাড়পত্র দিল—তারপরও তাঁকে এমন একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়তে হবে, যেখানে তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে একটি ফাইল কতদিন কোথায় পড়ে থাকে তার ওপর!
আমলাতন্ত্রের কাজ হওয়া উচিত নাগরিকের বৈধ কাজকে সহজ করা, অযথা জটিল করা নয়।
আজ একজন শিক্ষক বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য অনুমতির পেছনে ছুটছেন। কাল হয়তো এমন দিন আসবে, যখন দেশের একজন সাধারণ নাগরিক বিদেশে যেতে চাইলেও তাকে একের পর এক দপ্তরের দরজায় দাঁড়িয়ে অনুমতি চাইতে হবে!
রাষ্ট্র নাগরিকের জন্য—নাগরিক রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য নয়।
যোগ্যতা অর্জনের পথে বাধা নয়, সহযোগিতা দরকার।