08/06/2026
কখনো মৃত্যুকে ভয় পাইনি আমি।
বরং সময়ের দীর্ঘ করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে বুঝেছি, মৃত্যু কোনো দৈত্য নয়; সে কেবল এক নীরব দরজা, যার ওপারে একদিন সবাইকে চলে যেতে হয়। তাই এখন আর তাকে অচেনা মনে হয় না।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মানুষের কান্না আজকাল আমাকে খুব একটা বিচলিত করে না। অনেক সময় মনে হয়, আমরা হারানোর জন্য যতটা কাঁদি, তার চেয়ে বেশি কাঁদি অভ্যাস ভেঙে যাওয়ার জন্য। তাই চোখের জল দেখলেও আমার চোখের কোণে আর জল জমে না।
তবে ইদানীং এক অদ্ভুত দৃশ্য আমাকে প্রায়ই অনুসরণ করে। ভিড়ের মধ্যে, একাকী দুপুরে, কিংবা গভীর রাতের নিস্তব্ধতায়—আমি যেন নিজের অনুপস্থিতিকে দেখতে পাই। যেন পৃথিবীর কোথাও আমার জন্য বরাদ্দ জায়গাটুকু ধীরে ধীরে শূন্য হয়ে যাচ্ছে।
আর আশ্চর্যের বিষয়, এই ভাবনা আমাকে ভয় দেখায় না।
বরং কখনো কখনো মনে হয়, আমি চলে গেলে পৃথিবীর হিসাব-নিকাশে খুব বড় কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। একটি বালিশ একটু কম উষ্ণ হবে, একটি চেয়ারে ধুলো একটু বেশি জমবে, একটি থালা হয়তো একটি অংশ খাবার কম অপেক্ষা করবে। তারপর সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে, যেমন নদী তার তীরে ভেঙে পড়া একটি পাতা ভুলে যায়।
একসময় ভাবতাম—কে মনে রাখবে, কে ভুলে যাবে, কার চোখে জল নামবে, কে নীরবে কোনো এক বিকেলে আমার কথা ভাববে। এখন আর সেই প্রশ্নগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। কারণ সময়ের চেয়ে বড় বিস্মৃতির শিল্পী আর কেউ নেই।
তবু মাঝে মাঝে মনে হয়, মানুষের অস্তিত্ব বুঝি ঠিক প্রদীপের আলোর মতো। আলো নিভে গেলে ঘর কিছুক্ষণ তার অনুপস্থিতি টের পায়, তারপর ধীরে ধীরে অন্ধকারও সেই শূন্যতার সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
আর তখন বুঝি, আমরা কেউই এই পৃথিবীতে স্থায়ী নই—আমরা কেবল কিছুদিনের জন্য রেখে যাওয়া উষ্ণতা, কিছু অসমাপ্ত বাক্য, কিছু স্মৃতি, আর কিছু নীরবতার নাম।
৮ জুন, ২০২৬
সময়: ৯:০০ pm