10/04/2026
শেষ লেখা, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (শেষ অংশ): “হে মানুষ! তোমরা আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো। কারণ আমি জানি না, এ বছরের পর এই স্থানে তোমাদের সঙ্গে আমার আর কখনো সাক্ষাৎ হবে কি না। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে, তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে (আমার কথা) পৌঁছে দেয়। কারণ অনেক সময় যার কাছে পৌঁছানো হয়, সে সরাসরি শ্রোতার চেয়েও বেশি ভালোভাবে তা বুঝে ও সংরক্ষণ করে।”
কয়েকটি মুক্তামালা:
১."নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক মানুষ তাই পাবে, যা সে নিয়ত করেছে।"
২.“জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।”
৩.“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।”
৪.“অতএব তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস কর, যদি তোমরা না জানো।”
৫.“যে ব্যক্তিকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, আর সে তা গোপন করল—কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।”
৬.“তোমরা আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াতই হয়।”
৭.“প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার হাত ও জিহ্বা (মুখ) থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।”
৮.“মানুষ তার সাথেই থাকবে, যাকে সে ভালোবাসে।”
৯.“মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে, তাই তোমরা দেখো কার সাথে বন্ধুত্ব করছ।”
১০.“তুমি তোমার প্রিয়জনকে মাঝামাঝি পরিমাণে ভালোবাসো, কারণ হতে পারে একদিন সে তোমার ঘৃণিত ব্যক্তি হয়ে যাবে।
আর তুমি তোমার ঘৃণিত ব্যক্তিকেও মাঝামাঝি পরিমাণে ঘৃণা করো, কারণ হতে পারে একদিন সে তোমার প্রিয়জন হয়ে যাবে।”
১১.“মুনাফিকের তিনটি লক্ষণ রয়েছে—
i. যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে
ii. যখন সে ওয়াদা করে, তা ভঙ্গ করে
iii. যখন তার কাছে আমানত রাখা হয়, সে খেয়ানত করে”
১২.“কিয়ামতের আলামতের মধ্যে রয়েছে—
জ্ঞান উঠিয়ে নেওয়া হবে,
অজ্ঞতা প্রতিষ্ঠিত হবে,
ব্যভিচার প্রকাশ পাবে,
এবং মদ্যপান ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।”
১৩.“ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত—”
i. শাহাদাহ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর রাসূল—এ সাক্ষ্য দেওয়া
ii. সালাত: নামাজ কায়েম করা
iii. যাকাত: যাকাত আদায় করা
iv. সাওম: রমজানের রোজা রাখা
v. হজ্জ: সামর্থ্য থাকলে কাবা শরিফের হজ্জ করা
১৪.“কিয়ামতের দিন আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থানে থাকবে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি, যার আখলাক (চরিত্র) সবচেয়ে উত্তম।”
১৫.“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের জন্য সর্বোত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের জন্য সর্বোত্তম।”
১৬.“তোমরা পৃথিবীর অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন (আল্লাহ) তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।”
১৭.“কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যের অংশ হলো—সে এমন বিষয় ত্যাগ করা, যা তার জন্য অপ্রয়োজনীয়।”
১৮.“তোমরা জুলুম (অন্যায়) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হবে।”
১৯.“আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী (ত্রুটিশীল)। আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা, যারা বেশি বেশি তওবা করে।”
২০“হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো। নিশ্চয়ই আমি নিজেও প্রতিদিন আল্লাহর কাছে একশত বার তওবা করি।”
২১.“নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দার তওবা কবুল করেন, যতক্ষণ না তার প্রাণ কণ্ঠনালিতে পৌঁছে যায় (অর্থাৎ মৃত্যুর মুহূর্ত আসার আগে)।”
২২.“তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতভেদ ও বিভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের উপর আমার সুন্নত এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নত অনুসরণ করা আবশ্যক। তোমরা তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো—দাঁতের মাড়ি দিয়ে কামড়ে ধরার মতো করে।”
২৩.হারাম নির্দিষ্ট ও উল্লেখিত বিষয় সমূহ।অন্যদিকে হারাম বাদে দুনিয়ার সবি হালাল।হারাম হতে স্পষ্ট দলিল প্রয়োজন। হারাম সাব্যস্ত করা না গেলে সবি হালাল।
২৪.“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”
২৫.“তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতভেদ ও বিভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের উপর আমার সুন্নত এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নত অনুসরণ করা আবশ্যক। তোমরা তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো—দাঁতের মাড়ি দিয়ে কামড়ে ধরার মতো করে।”
২৬."উপরের হাত নিচের হাত অপেক্ষা উওম।"
২৭.“যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।”
২৮.“সহজ করো, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও, মানুষকে দূরে ঠেলে দিও না।”
২৯“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও ধন-সম্পদের দিকে তাকান না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।”
৩০.“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে, নতুবা চুপ থাকে।”
যে কথাগুলো না বললেই নয়:
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“নেকি হলো তা, যা তোমার আত্মাকে প্রশান্তি দেয় এবং যার প্রতি তোমার হৃদয় আশ্বস্ত হয়। আর পাপ হলো তা, যা তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং তুমি চাও যে মানুষ তা না জানুক।”
📚 (সহিহ মুসলিম, মিশকাতসহ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাঁর আরশের ছায়ায় সাত শ্রেণীর মানুষকে আশ্রয় দেবেন: ন্যায়পরায়ণ শাসক, ইবাদতে বড় হওয়া যুবক, যার হৃদয় মসজিদের সাথে যুক্ত, আল্লাহর জন্য পরস্পর ভালোবাসা রাখা দুই ব্যক্তি, একাকী আল্লাহকে স্মরণ করে কাঁদা ব্যক্তি, পাপের আহ্বান থেকেও আল্লাহভীতিতে বিরত থাকা ব্যক্তি, এবং গোপনে দানকারী ব্যক্তি। 📚 (সহিহ বুখারি, মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“পাঁচটি জিনিস আসার আগে পাঁচটি জিনিসকে গনিমত (সুযোগ হিসেবে) গ্রহণ করো—”
১) বার্ধক্য আসার আগে যৌবনকে
২) অসুস্থতা আসার আগে সুস্থতাকে
৩) দারিদ্র্য আসার আগে সচ্ছলতাকে
৪) ব্যস্ততা আসার আগে অবসরকে
৫) মৃত্যু আসার আগে জীবনকে
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
কিয়ামতের দিন কোনো আদম সন্তান তার দুই পা নড়াতে পারবে না যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে— ১) জীবন কীভাবে কাটিয়েছে ২) যৌবন কীভাবে ব্যয় করেছে ৩) সম্পদ কীভাবে অর্জন করেছে ৪) সম্পদ কীভাবে খরচ করেছে ৫) জ্ঞান অনুযায়ী কী আমল করেছে 📚 (তিরমিজি)
সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কি প্রস্তুত? পরকালের পাথেয় গুছিয়ে নেওয়ার এখনই সময়।
রাসুল ﷺ তাঁর শেষ সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন— 👉 নামাজ প্রতিষ্ঠা করা
👉 মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব পালনে আল্লাহভীতি রাখা।
📜 আরবি:
الصَّلَاةَ الصَّلَاةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
📖 বাংলা অনুবাদ:
“নামাজ, নামাজ (অবশ্যই আদায় করবে) এবং তোমাদের অধীনস্থদের (দাস-দাসী/কর্মচারী/দায়িত্বে যারা আছে) বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করবে।”
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ শেষ সময় তাঁর মাথা আমার কোলে ছিল। তখন তিনি বারবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং শুনতে পাওয়া যাচ্ছিল তিনি বলছেন:
“اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى”
-আল বিদা
✍️সারোয়ার খান শুভ⏳