07/05/2026
যুগশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক রাহবার অলিয়ে কুল শিরোমণি ফুলপুর, মোমেনশাহীর শায়খে বালিয়া নামে পরিচিত
পীরে কামিল আল্লামা গিয়াসউদ্দিন( রহ)
১৯৩৮ সালে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানাধীন বালিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পাঠান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা গিয়াস উদ্দীন (রহ.), যিনি 'শায়খে বালিয়া' নামে সমধিক পরিচিত। তাঁর পিতা তৈয়ব উদ্দীন পাঠান ও মাতা হাসনা বানু বেগমের তত্ত্বাবধানে এক ধার্মিক পরিবেশে তিনি বেড়ে ওঠেন। শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে মাওলানা আকবর আলীর কাছে পাঠ শুরু করার পর তিনি ঐতিহ্যবাহী আশরাফুল উলূম বালিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে মাওলানা দৌলত আলী ও মাওলানা নূরুদ্দীন গহরপুরীর মতো বরেণ্য ওস্তাদদের সান্নিধ্যে থেকে হেদায়া জামাত পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। এরপর হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হলেও শারীরিক কারণে তিনি পুনরায় সিলেট গহরপুর মাদরাসায় ফিরে আসেন এবং হযরত গহরপুরীর স্নেহচ্ছায়ায় দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন। মেধার স্বাক্ষর রেখে ১৩৮১ হিজরীতে সিলেট কওমী মাদরাসা বোর্ডে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। ওস্তাদের নির্দেশে গহরপুর মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে সাত বছর শিক্ষকতার পর ১৯৬৭ সালে তিনি নিজ গ্রামের বালিয়া মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮১ সালে তিনি বালিয়া মাদরাসার মুহতামিমের গুরুদায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০০০ সাল থেকে আমৃত্যু শায়খুল হাদীস ও ছদরুল মুহতামিম হিসেবে সেবা দিয়ে যান।
ব্যক্তিজীবনে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনায় আল্লামা গহরপুরী ও মাওলানা হাবীবুর রহমান রায়পুরীর খলীফা ছিলেন। তাঁর সাংগঠনিক জীবন ছিল অত্যন্ত বর্ণাঢ্য; তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এবং ইত্তেফাকুল উলামার মজলিসে শূরার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসীন ছিলেন। কাদিয়ানী বিরোধী ও তসলিমা নাসরিন বিরোধী আন্দোলনে তিনি প্রথম সারির সিপাহসালার হিসেবে ভূমিকা রাখেন। রূহানী চিকিৎসার ক্ষেত্রেও তাঁর খ্যাতি ছিল দেশজোড়া, বিশেষ করে তাঁর দোয়ায় জটিল রোগীদের রোগমুক্তির বহু ঘটনা লোকমুখে প্রচলিত। প্রচারবিমুখ এই মহান সাধক লন্ডন ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে দ্বীনি সফরে গিয়ে অসংখ্য মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ২০১৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বালিয়া মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে শেষ বুখারী শরীফের দরস প্রদান শেষে অসুস্থ হয়ে ভোররাতে ইন্তেকাল করেন। ময়মনসিংহের বালিয়া মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদে এই মহান আলেমকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি ৮ ছেলে ও ১২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান, যাঁদের স্মৃতিতে তিনি আজও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।