16/04/2026
"পরীক্ষার হল নাকি টর্চার সেল? 'সাইলেন্ট এক্সপেল' বনাম একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ!"
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসন যে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ নামক মরণফাঁদ পেতেছে, তা কোনোভাবেই সুস্থ মস্তিষ্কের কাজ হতে পারে না। একজন শিক্ষার্থী সারাবছর হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে প্রস্তুতি নিলো, আর পরীক্ষার হলে স্রেফ একটু ঘাড় ঘোরানোর অপরাধে তাকে কিছু না জানিয়েই খাতা বাতিল করে দেওয়া হবে! এর চেয়ে নিষ্ঠুর তামাশা আর কী হতে পারে!
📌 প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি জিজ্ঞাসা—
১. শিক্ষার্থীরা কি গিনিপিগ?
আপনারা কি শিক্ষার্থীদের মানুষ মনে করেন নাকি ল্যাবরেটরির কোনো অবুঝ প্রাণী? পরীক্ষার হল কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয় যে সেখানে এমন গোপন ‘অপারেশন’ চালাতে হবে।
২. স্বচ্ছতার লেবাসে ধোঁকাবাজি কেন?
যদি কেউ ভুল করে, তাকে সংশোধন করার বা বহিষ্কার করার সাহসিকতা সরাসরি দেখান। আড়ালে খাতা বাতিল করে দেওয়া কাপুরুষোচিত কাজ। এটি স্বচ্ছতা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সাথে এক ধরণের প্রতারণা।
৩. মানসিক স্বাস্থ্যের দায় কে নেবে?
পরীক্ষা শুরুর মাত্র ৫ দিন আগে এই আতঙ্কের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কোনো শিক্ষার্থী যদি ভয়ে স্ট্রোক করে বা হল থেকে বেরিয়ে আত্মঘাতী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেই রক্ত কি নীতিনির্ধারকদের হাতে লাগবে না?
বাস্তবতা হলো— এই নিয়ম নকল আটকাবে না, বরং একজন সৎ ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে মানসিক রোগী বানিয়ে হল থেকে বের করবে। কলম ধরতে গেলে যার হাত কাঁপবে, সে কি আপনার সম্ভাবনাময় নতুন বাংলাদেশের দক্ষ কারিগর হবে?
শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে এই ‘মানসিক সন্ত্রাস’ বন্ধ করুন। আমরা মেধাবী প্রজন্ম চাই, আতঙ্কগ্রস্ত কোনো রোবট নয়।
পরিশেষে— এহেন অমানবিক ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত যারা নিয়েছেন, সেই শিক্ষাবোর্ড ও নীতিনির্ধারকদের দ্রুত 'বিবেকের আরোগ্য' কামনা করছি। তারা অসুস্থ না হলে সুস্থ শিক্ষার্থীদের ওপর এরূপ মানসিক নির্যাতন চালাতে পারতেন না।