Nishat Anjum Raka

Nishat Anjum Raka বিশ্বাস ভালোবাসার শক্তি
কর্মব্যস্ত জীবনে স্বপ্ন বলে কিছু থাকেনা💔
(6)

যখন দেখবেন কোনো মেয়ের মাথার চুল খুব পরিপাটি; মাঝখান দিয়ে একদম সোজা সিঁথি কেটে বেণি কিংবা খোঁপা করেছে, তখন বুঝবেন মনটা খু...
05/05/2026

যখন দেখবেন কোনো মেয়ের মাথার চুল খুব পরিপাটি; মাঝখান দিয়ে একদম সোজা সিঁথি কেটে বেণি কিংবা খোঁপা করেছে, তখন বুঝবেন মনটা খুব বেশি ফুরফুরে না থাকলেও খারাপ নেই। যা বলবেন সেটা শুনবে, বুঝবে। সে তখন নিজের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।

সুগন্ধি শ্যাম্পু লাগিয়ে, চিকন চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে চুল খুলে রাখা অবস্থায় কখনো কোনো মেয়েকে দেখলে বুঝবেন তার মেজাজটা বেজায় ভালো। খুব বেশি ফুরফুরে মেজাজে না থাকলে অকারণে মেয়েরা চুল খুলে উড়তে দেয় না বরং চুলের স্বাধীনতা হরণ করে ক্লিপের নিচে আটকে রাখে কিংবা একটা মেসি বান করে বসে থাকে।

রুক্ষ, খুশকি ভরা, চিরুনি করার অভাবে দলা পেকে যাওয়া চুলের কোনো মেয়েকে দেখলে একটু আন্তরিক হবেন। কারণ তার মনটা ভালো নেই, মাথার ভেতরেও অসংখ্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। হতে পারে সে এটাকিং মুডে আছে কিংবা সুই*সাইডাল। এসময় তার কথা শুনবেন, যত্ন নিবেন, সময় দিবেন।

আর কোনো মেয়ে যদি তার বিরাট লম্বা চুল কেটে একেবারে আধখানা করে ফেলে তাহলে তার আর কাউকে দরকার নেই। সে আর কারো ওপর বিশ্বাস রাখার মতোন বোকামি করবেনা। এমন মেয়ে খুব বড় কোনো ডিসিশন নেয়ার আগে চুল কেটে নিজের সহ্যশক্তির জানান দেয় নিজের কাছে। সে চলে গেছে জীবনের সার্ভাইভাল মুডে। যতো যা-ই হোক ভাঙবে তবু মচকাবে না🙂

মানুষ বলে চোখ নাকি মনের কথা বলে, আমি বলি মেয়ে মানুষের মনের অবস্থা প্রকাশ পায় তার চুলে।

জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, আপনার চুল বেশিরভাগ সময় কিভাবে থাকে? কেমনই বা আছেন আপনি?

গরমে এক গ্লাস শান্তি, 🥰।
04/05/2026

গরমে এক গ্লাস শান্তি, 🥰।

04/05/2026

মানুষের হক নষ্ট করা যাবে না। যাই ই হোক। ゚viralシ

01/05/2026

আমার সাত রাজ্যের রাজকন্যা। 🥰😍😘 ゚viralシ

মারিয়াম সোনার জন্মদিনের ছবি। Say, Mash Allah.
01/05/2026

মারিয়াম সোনার জন্মদিনের ছবি।
Say, Mash Allah.

01/05/2026

কিছু খাবার থাকে যা শুধু পেট ভরায় না মনও ভরিয়ে দেয়। 😋 ゚viralシ

যতদিনে বুঝতে পারবেন যে ৯টা থেকে ৫টা অবধি অফিস করার এই সর্বনাশা সাইকেল থেকে কোনোদিনই বের হওয়া সম্ভব নয় - ততদিনে বড্ড দেরি...
17/04/2026

যতদিনে বুঝতে পারবেন যে ৯টা থেকে ৫টা অবধি অফিস করার এই সর্বনাশা সাইকেল থেকে কোনোদিনই বের হওয়া সম্ভব নয় - ততদিনে বড্ড দেরি হয়ে যাবে।

অথচ আমাদের বাপ-দাদারা কিন্তু এমন জীবনে অভ্যস্ত ছিল না। সে অনেক বছর আগের কথা। তখনো বুড়িগঙ্গা নদীর জন্ম হয়নি, ইজিপ্টে খুফুর পিরামিড নামে কিছু কেউ চিনতো না, কুরুক্ষেত্রে ধুন্ধুমার যুদ্ধ না হওয়ায় তখনো অক্ষত ছিল মহাভারতের অযুত ক্ষত্রিয়-প্রাণ।

মানুষ তখন পুরোদস্তুর শিকারি জীব। আগুনটাকে সদ্য আয়ত্তে আনতে শিখেছে, পাথর ভেঙে তৈরি করেছে মাংস-ছেদী ব্রহ্মাস্ত্র। বুনো জন্তুর পেছনে সে পা টিপে টিপে ঘুরে বেড়ায়, শক্তিতে পারবে না জেনে বুদ্ধি আর সংখ্যাধিক্য ব্যবহার করে অবলা প্রাণীর হৃদয় বরাবর গেঁথে দেয় লকলকে লোভী হাতিয়ার।

এক হিসেবে - জীবন কিন্তু বেশ সহজ ছিল। দিনে কাজ করতে হতো বড়জোর তিন ঘণ্টা। এরপর রান্নাবান্না সেরে গরম মাংস আর কুড়োনো ফল দিয়ে চলতো ভোজ। বাকি দিনটা তার অখণ্ড অবসর। প্রিয়তমা নারীর সাথে উদ্দাম যৌনতা আর ছোট বাচ্চাদের বেঁচে থাকার কৌশল শেখানোর ফাঁকে ফাঁকে দুপুর গড়িয়ে নেমে আসতো মধুর বিকেল। বনের হাওয়া আর পাখির ডাকে কোন ফাঁকে বিকেল চম্পট দিতো, আর কোন ফাঁকে আকাশের চামড়া ফেটে উঁকি দিতো অনন্ত নক্ষত্ররাজির লুকোচুরি গল্প - সে খেয়াল তাদের ছিল না। বুক ভর্তি তাজা বাতাস আর চোখ ভর্তি ক্লান্তি নিয়ে ঘুমের কাছে আত্মাকে সঁপে দেয়ার মজাই অন্যরকম।

মানুষ বাঁচতো আর কয়দিন - গড় আয়ু ছিল বছর ত্রিশেক। এর মধ্যেই হয় নেকড়ের পেটে, কিংবা সামান্য ঠাণ্ডা-জ্বরে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হতো।

এই ক্ষুদ্র, তুচ্ছ মানবজীবনে অবশ্য আনন্দের কমতি ছিল না কখনোই।

শিকারির জীবন অনিশ্চয়তায় ঠাসা। শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যার কনভিনিয়েন্সের লোভ, তার ধাতে এমন ঝামেলা কাঁহাতক সহ্য হয়? খুঁজতে খুঁজতে একদিন মানুষ ঠিকই জেনে ফেলল - কেমন করে পোষ মানানো যায় বুনো জানোয়ারকে, আর কেমন করে যত্ন নিলেই জমিতে সোনা ফলায় মুঠো মুঠো দানাশস্য।

মানুষ এবার শিকার ছেড়ে পুরোদস্তুর কৃষক হয়ে গেল।

সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত তার সময় কাটে ফসল আর পোষা প্রাণীর পরিচর্যায়। এখন তার ওয়ার্ক আওয়ার বেড়েছে, তিন ঘণ্টার জায়গায় কাজ করতে হয় ছ' ঘণ্টা। তবু তো জীবন অনেকটাই নিরাপদ - গজ দাঁতওয়ালা ভীষণদর্শন কোনো পশু তার নাড়িভুঁড়ি এক ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন করে দেয় না।

কৃষক সমাজে আনন্দ আর ধরে না - তাদের গড় আয়ু বেড়েছে, খাবারের অভাব মিটেছে। প্রকৃতিকে তারা পোষ মানিয়েছে।

অবশ্য কে যে কার পোষ মেনেছে - সেই প্রশ্নের উত্তরটা বেশ জটিল।

মানুষ আগে স্বাধীন ছিল, এখন তাকে সারাক্ষণ শস্যের চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয়। আগে সে যখন ইচ্ছা আনন্দ করতে পারতো, এখন তাকে অপেক্ষা করতে হয় হার্ভেস্ট সিজনের জন্য। আগে যুদ্ধ বা খরা হলে সে মাইগ্রেট করতো, এখন ফসলের মায়ায় তাকে একই জমিতে পড়ে থাকতে হয় বছরের পর বছর।

এদিকে জগতের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীর কাছে লাগাতার যত্নআত্তি পেয়ে অবিশ্বাস্য রকমের বংশবৃদ্ধি করতে লাগল পোষা জীব আর ফসলি গুল্মলতার ঝোঁপ। ফলে তাদের কাছে মনে হতেই পারে - তারা কখনো পোষ মানেনি, বরং মানুষই আসলে পোষ মেনে নিয়েছিল - নির্বোধ এই দোপেয়ে জানোয়ারগুলো আজ অবধি তা ধরতে পারেনি।

আধুনিক কর্পোরেটের ঝাঁ চকচকে জীবন মূলত পোষ মানার এই প্যারাডক্সেরই পলিশড একটা ভার্শন।

আমরা পড়াশোনা করি বড় হওয়ার জন্য। বড় হলে চাকরি মিলবে, এরপরে মিলবে পছন্দের মেয়েটাকে বিয়ে করার সুযোগ। দুই থেকে তিন, তিন থেকে চার - বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে নিজের বীজ পরের প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয়ার আদিমতম সেই প্রবৃত্তি। আর এ সব কিছু সাস্টেইন করাতে হলে প্রয়োজন হবে ৯টা থেকে ৫টার সেই ভুতুড়ে রুটিন। অফিসে ঢোকা আর অফিস থেকে বের হওয়ার মধ্যিখানের সময়টুকুতেই জীবন কেটে যাবে। একদিন অফিস শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে হঠাৎ আবিষ্কার করবেন - আপনার বয়স সত্তুর ছুঁই ছুঁই।

কী অসম্ভব নিরানন্দ, সাপের জিভের মতো হিসহিসে সাতটে দশক! চিকিৎসাবিজ্ঞান আপনাকে বার্ধক্যের দামে বর্ধিত গড় আয়ু কিনে দিয়েছে - অথচ মৃত্যু এরপরেও আপনার দরোজায় ঠিকই টোকা দিচ্ছে। ঠকঠকানির সেই আওয়াজ মৃদু হলেও একেবারে স্পষ্ট। যেন বা ফিসফিসিয়ে বলছে - গান শোনার, কবিতা লেখার, সিনেমা দেখার, বৃষ্টিতে ভেজার, পাহাড় ডিঙোবার বয়স এখন অতীত। সামনে স্রেফ নিঃসীম, প্রগাঢ় এক শূন্যতা। কারণ আপনার বয়স এখন সত্তুর হয়েছে।

অথচ আমাদের বাপ-দাদারা কখনোই সত্তুর বছর বাঁচতে পারেনি। যেমন ভাবে পারেনি তারা নীরবে-নিভৃতে পোষ মানতে।.

_মানুষ তার জীবনের অর্ধেক সময় ভুল করে, আর বাকী সময় সংশোধন করতে করতে কাটায়।💔😅.
17/04/2026

_মানুষ তার জীবনের অর্ধেক সময় ভুল করে, আর বাকী সময় সংশোধন করতে করতে কাটায়।💔😅.

16/04/2026

তারপর বুঝলাম , মানুষ তার জীবনের কঠিন সময়গুলো একাই পার করে। 🙂🙃

বিয়ের তিন মাস পর আমার স্বামী নিশান আমাকে রেখে ইতালি চলে গিয়েছিল। দীর্ঘ আট মাস পরে আজ দেশে ফিরছে সে। বছরের পর বছর দেশে আস...
05/01/2026

বিয়ের তিন মাস পর আমার স্বামী নিশান আমাকে রেখে ইতালি চলে গিয়েছিল। দীর্ঘ আট মাস পরে আজ দেশে ফিরছে সে। বছরের পর বছর দেশে আসা ওর কাছে স্বাভাবিক বিষয়। তবে এবার সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছে—আমি, আর আমাদের অনাগত সন্তান, একসাথে তিনজন পাড়ি দেব ইতালিতে।

বাচ্চা এখনো হয়নি, মাতৃ*গ*র্ভে আছে। আমি আট মাসের প্রেগ*ন্যা*ন্ট । সামনের মাসেই ডেলিভারির তারিখ। ডাক্তার সম্পূর্ণ বেড রেস্ট দিয়েছেন বলে এখন বাপের বাড়িতে আছি। তাছাড়া নতুন বিয়ে, স্বামী বিদেশে, নতুন অবস্থায় তাকে ছাড়া শ্বশুরবাড়িতে থাকাটা খালি খালি লাগে। তাই বাবার বাড়িতে থাকাটাই স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছে।

তার আসার খবর শুনে গতকালই শ্বশুরবাড়ি যেতে চেয়েছিলাম। সে বাধা দিলো। বলল, "রিস্ক নেওয়ার কি দরকার? শুধু এক রাত বাড়িতে কাটাবো, তারপরেই তোমার কাছে চলে আসব। ওখানেই বেশি সময় থাকব।"

সে যতই বলুক, আমার এই ছটফটানিটা সে টের পাচ্ছে না। শুধু আমি জানি, আমার ভেতরে কি চলছে। আমি এক রাতও অপেক্ষা করতে পারছি না। তাকে কাছে পেতে চাই, জড়িয়ে ধরতে চাই। সে আমার শহরেই আছে অথচ আমার পাশে নেই—এই ভাবনায় মনটা আরও ধুকপুক করতে লাগলো।

চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। না, চোখ বন্ধ করলেও চোখের সামনে ভেসে উঠছে ওর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো। প্রথম কাছে আসা, শরীর কাঁপা, স্পর্শ করা, হাত ধরা—আর কত কী! আপনাআপনি লজ্জায় মুখে এক চিলতে হাসি ফুটল। মিটিমিটি হাসতে লাগলাম।

ভিডিও কল করলাম তাকে। বললাম, "আর সহ্য হচ্ছে না আমার, পাখি হয়ে উড়ে এসো জান।’"

সে হেসে বলল, ‘"পা*গ*লী আমার! একটু অপেক্ষা করো, সকালটা হোক। দেখবে আমি তোমার কাছে চলে আসছি। খুব টায়ার্ড আমি। এখন একটু ঘুমুতে দাও, প্লিজ।"

ছাড়তে মন চাচ্ছিল না তাকে, তবু কল কাটলাম। সত্যিই তো, বেচারা অনেক ক্লান্ত। একটু ঘুমিয়ে নিক।

তখনি পেটের মধ্যে পুঁচকেটা মোচড় দিয়ে উঠলো। ওকে হাত দিয়ে ছুঁয়ে বিড়বিড় করে বললাম, "জানো সোনা, তোমার আব্বু আসছে। কাল প্রথমবার তোমাকে ছুঁয়ে দেখবে! তুমি টের পাবে তো? চিনতে পারবে তো বাবার স্পর্শ? জানো? তোমার আগমনের খবর পেয়ে সবচেয়ে খুশি হয়েছিল তোমার পাপা....!রাজপুত্রের সঙ্গে মনে মনে কথা বলতে বলতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম, টেরই পাইনি।

সকালে বড় ভাবির ডাকে ঘুম ভাঙলো। ঘড়ির কাঁটায় তাকিয়ে দেখি সকাল সাতটা বাজে। ভাবি বললেন, "ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নাও সুমাইয়া।"
তারপর মিটিমিটি হেসে বললেন,
"আজ একটু পরিপাটি হয়ে থেকো, কেমন? কতদিন পর দুজনার দেখা হবে!"

ভাবির কথায় লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম।

ভাবি চলে গেলেন। ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হলাম। রুমে ফিরে হাতে ভর দিয়ে চেয়ারে বসলাম। শরীর এত ভারি হয়েছে যে হাঁটাচলা, বসা-উঠা—সবই কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে।

মা বিভিন্ন রকম ফল নিয়ে এসে আমার পাশে বসলেন। খেতে খেতে অনেক গল্প করলাম।

ঘরে সুস্বাদু খাবারের রান্না চলছে। ঘ্রাণে বাড়িটা মইমই করছে। বড় ভাই বাজার থেকে বড় রুই মাছ, গলদা চিংড়ি, গরুর মাংস—আরও কত কি এনেছেন! বাড়ির জামাই আসছে বলে কথা! কোনো দিক দিয়েই কোনো ত্রুটি নেই।

আমার তো কোনো কাজ নেই। বসে বসে ফোন টিপছি আর ওর কথা ভাবছি। সকাল থেকে বহুবার ফোন চেক করেছি, অথচ ওর কোনো কল পেলাম না। মন খারাপ করিনি। অনেকদিন পর বাড়ি এসেছে, কত লোক দেখতে আসছে— হয়তো আলাপে ব্যস্ত। এই ভেবে আমিও আর কল করিনি।

১১টার দিকে ভাবি হালকা গরম পানি দিয়ে দিলেন। গোসল করে কমফোর্টেবল একটা প্রে*গন্যা*ন্সি ফ্রক পরলাম। মুখে হালকা ফেস পাউডার, চোখে হালকা কাজল আর ঠোঁটে লিপস্টিক দিলাম। আয়নায় নিজেকে দেখলাম, মাশাআল্লাহ লাগছে আমাকে।

দুপুর ১২টা বাজে। নিশানের এখানে এসে লাঞ্চ করার কথা। আমার বাড়ি থেকে তার বাড়ির দূরত্ব ৩ ঘন্টা। এখন নিশ্চয়ই সে গাড়িতে। কল করলাম, কয়েকবার রিং হওয়ার পরেও রিসিভ হলো না। শাশুড়ী মায়ের কাছে কল করে জানলাম, সে এগারোটায় বাড়ি থেকে বের হয়েছে আমাদের বাড়ি আসার জন্য। তার অপেক্ষা করতে লাগলাম আমিসহ ঘরের সবাই। অপেক্ষা করতে করতে ২টা পার হয়ে গেল, নিশান এখনও আসেনি। কল করছে একাধারে সবাই, কিন্তু সুইচ অফ। আমার মুখ নিভে গেল। দুনিয়ায় যত রকমের বিপদ আপদ আছে, সব একে একে মনে পড়তে লাগল। আমার বেহাল অবস্থা দেখে মা আমাকে ধরে বসালেন। বুঝালেন, রাস্তাঘাটে কত ঝামেলা হয়, জ্যাম থাকে, সময়ও যায় মাঝেমধ্যে। টেনশনের কিছু নাই। তোর শাশুড়ী তো বলেছে, চলে আসবে, দেখিস।

না, মায়ের কথা ঠিক হয়নি। সন্ধ্যা পেরিয়ে এশার সময় হতে গেল, তার খোঁজ নেই এখনও। শশুড়বাড়ি আর আমার বাড়ির সবাই যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু কেউ পারছে না। অবশেষে আমার দুই ভাই থানায় গেলেন। আমার দেবর, শশুড়সহ ওখানের অনেক লোক সবাই এক হয়ে সবাই মিলে থানায় জিডি করলেন। আমার আপন চাচা সেনাবাহিনীর উচ্চপদে আছেন, তিনি তার পরিচিত পু*লি*শ অফিসারদের দিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়েছেন।

আমি নামাজ পড়লাম, জায়নামাজে বসে কাঁদতেই আছি। কেঁদে কেঁদে দোয়া করছি, "আল্লাহ, আমার স্বামীকে সকল ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করো। সে যেখানেই থাক, তাকে সুস্থভাবে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও।" এমনিতে প্রে*গ*ন্যা*ন্ট, তার ওপর মনের মধ্যে যে কী যাচ্ছে, তা বলার মতো নয়। সবাই ঘিরে বসে, পজিটিভ বুঝাচ্ছে আমাকে। টেনশন না করতে বলছে, কারণ বেশি টেনশন করলে বাচ্চার ক্ষতি হবে। আমি চাচ্ছি কান্না যেন থামে, তবুও চোখের পানি অনবরত পড়তেই আছে। কাঁদতে কাঁদতে একদম নেতিয়ে পড়েছি। প্রেশার হাই হয়ে গেছে। ডাক্তারকে কল করে নিয়ে আসছিল ভাবি। ডাক্তার ঔষধ দিয়েছে, ঘুমাতে বলেছে। কিন্তু আমি সন্ধ্যা থেকে না ঘুমিয়ে আছি। ঘুম না আসলে জোর করে তো ঘুমাতে পারব না। আমার স্বামী হুট করে উধাও, এতকিছুর মাঝে ঘুম পালিয়ে যাওয়ারই কথা।

অপেক্ষা করতে করতে সময় যেতে থাকে। ভাইয়েরা এখনও কেউ বাড়ি ফেরেনি। এদিকে ভোর চারটা বাজে। মা সজাগ ছিলেন এতক্ষণ, একটু আগে উনার চোখ লেগে গেছে।। ছোট বোনও পাশে ঘুমাচ্ছে। শুধু ভাবি সজাগ। চুপচাপ শুয়ে আছেন। ভাবিকে বললাম,

"আরেকবার কল দাও, ভাবি। দেখো ভাইয়া কী বলেন। কোন খবর পাওয়া গেলো নাকি!"

ভাবি কল করলেন, ভাইয়া কী বলছে জানিনা, ভাবি উঠে বাহিরে গেলেন। ভাবির চলে যাওয়া দেখে আমার মনে কু ডাকছে। সন্দেহ লাগছে। আমি ধীরে ধীরে খাট থেকে নামলাম। দরজার পাশে পর্দার আড়ালে গিয়ে দাঁড়ালাম। ভাবি কথা বলছেন আস্তে আস্তে। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। তখনই প্রস্রাবের বেগ পেল প্রচুর। ওয়াশরুমে ঢুকলাম।

তখনি মা ডাকলেন, "সুমাইয়া, তুই কই?"

জবাব দিলাম, "মা, আমি ওয়াশরুমে আছি।"

মিনিট দুয়েক পর বের হয়ে দেখি মা রুমে নেই। বারান্দায় বের হলাম। দেখি, ভাবি আর মা অন্যরুমে ফিসফিস করে কথা বলছেন। তাদের এইসব লুকোচুরি দেখেই আমার ভয় বাড়ছে। কী এমন কথা তারা এরকম আমাকে এড়িয়ে গিয়ে বলছে? শুনতেই হবে আমার। আমি চুপ পায়ে হেঁটে পর্দার আড়ালে গিয়ে দাঁড়ালাম। স্পষ্ট শুনতে পেলাম, ভাবি বলছে, "সুমাইয়ার এই অবস্থা, যদি সে শুনে, নিশান তাকে ঠকিয়ে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে, তার অবস্থা কী হবে মা, বুজতে পারছেন?"

কথাটা শুনে আমার শরীর ভূমিকম্পের মতো এক ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠল। আমি টের পেলাম, পুরো বাড়ি যেন আমার চারপাশে ঘুরছে। সবকিছু অন্ধকার লাগছে। নিজেকে আর স্থির রাখতে পারিনি। আল্লাহ গো! বলে মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম সেই জায়গায়।

গল্প_অপরাজিতা
#পর্ব_এক

আমার মেয়ে, মাশাল্লাহ😍কেমন আছেন সবাই।
26/12/2025

আমার মেয়ে, মাশাল্লাহ😍
কেমন আছেন সবাই।

Address

Jamalpur Sadar
Mymensingh

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nishat Anjum Raka posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share