22/08/2026
শুভ বি'বা'হ'বা'র্ষি'কী, আমার প্রিয় মায়াবিনী স্ত্রী নুযু!
এই তো ২০২১ সালের ২০ আগস্ট—তোমাকে নিজের করে জী'ব'ন'সঙ্গী করেছিলাম। অথচ আমাদের একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল সেই ২০১৯ সাল থেকে। কত স্বপ্ন, কত আশা, কত ইচ্ছে আর ভালোবাসা নিয়ে আমরা দু’জন একসঙ্গে পথ চলার স্বপ্ন দেখেছিলাম।
২০ আগস্ট ২০২১—দিনটা আজও আমার কাছে ভীষণ স্মৃতিময়। এই বিশেষ দিনে তোমাকে জী'ব'নসঙ্গী হিসেবে পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম সেরা ভাগ্য ছিল। এরপর শুরু হয়েছিল আমাদের ছোট্ট সংসা'র। আমরা দু’জন দু’জনকে কথা দিয়েছিলাম মৃ-ত্যু-র আগ পর্যন্ত কেউ কারও হাত ছাড়ব না।
কিন্তু ভাগ্যের কী নি'র্ম'ম পরিহাস! ২০২৫ সালে এসে আমাদের সব স্বপ্ন, সব আশা, সবকিছু যেন নিমিষেই শে-ষ হয়ে গেল। তুমি আজ আর আমাদের মা%ঝে নেই।
তোমার মৃ%ত্যু%র সময় আমি তোমার সাথে দৈর্ঘ্য ১৩টা দিন আইসিইউ তে কা-টি-য়ে দিলাম।
তুমি যে সন্তানের জন্য দোয়া করতে, আল্লাহ তোমার সেই দোয়া কবুল করেছেন। কিন্তু তুমি যে সন্তানকে নিয়ে হাজারো স্বপ্ন দেখতে, সেই সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে গিয়েই তুমি এই দু'নি'য়ার মায়া ত্যা-গ করলে।
এটাই একজন মায়ের শ্রেষ্ঠ আ-ত্ম-ত্যা-গ।
তোমাকে ছাড়া আজ ৫৩০ দিন। তোমাকে ছাড়া আমি একদম অগোছালো হয়ে গেছি। কথা ছিল, আমরা দু’জন সারাজীবন একসঙ্গে থাকব। কিন্তু আল্লাহ হয়তো আমাদের ভাগ্যে সেই জীবনটা লিখে রাখেননি।
তোমাকে পেয়েও হারিয়েছি তাই আ'ফ'সো'সটা আরও বেশি। এই প্র'জ'ন্মে এসেও তোমার মতো একজন স্ত্রী পেয়েছিলাম, এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। তুমি ছিলে আমার জীবনের Best একজন মানুষ।
তোমার জন্য আমার ভালোবাসা, মায়া আর শ্রদ্ধা আজও আগের মতোই আছে। যেমনটা ছিল আমাদের সম্পর্কের শুরুতে, যেমনটা ছিল আমাদের বি'বা'হিত জীবনে।
তোমার সঙ্গে ৫ বছর ১১ মাস ১৯ দিনের এই ভালোবাসার যাত্রার শেষটা যে অশ্রুজলে হবে, সেটা কখনো কল্পনাও করিনি।
প্রিয় মায়াবিনী স্ত্রী নুযু, আমাদের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে গিয়ে তুমি এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলে। তুমি চলে গেছো, কিন্তু রেখে গেছো তোমার সবচেয়ে মূল্যবান উপহার আমাদের সন্তান নুবায়েদকে।
উপরের ছবিটির নিচে ঘুমিয়ে আছে আমার হৃ'দ'য়ের সবচেয়ে আপন মানুষটি। সাথে মায়ের ক-ব-র ধরে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের পিচ্ছি নুবায়েদ বাবাই টা। তুমি নেই, কিন্তু তোমার ভালোবাসা, তোমার স্মৃতি আর তোমার রেখে যাওয়া নুবায়েদ আজও আমাকে বাঁ'চি'য়ে রেখেছে।
নুবায়েদ শুধু আমার সন্তান নয়—সে আমার বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়, আমার শক্তি এবং তোমার চিরন্তন স্মৃতি।
আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী…
আজ আমাদের একসঙ্গে কোনো কেক কা-টা হবে না, কোনো হাসি-আনন্দ হবে না।শুধু তোমার স্মৃতিগুলোকে বু-কে জড়িয়ে নীরবে তোমাকে মনে করব।
প্রিয় মায়াবিনী, তুমি ছিলে আমার জীবনের হাসি, আমার স্বপ্নের রং, আমার প্রতিটি দিনের আলো।
কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুরতায় তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে—আমাদের সন্তানকে জন্ম দিতে গিয়ে। তোমাকে হা'রা'নো ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বেদনাদায়ক মুহূর্ত।
তোমার সাথে ৫ বছর ১১ মাস ১৯ দিনের ভালোবাসার এই যাত্রায় আজ শুধু একটি কথাই বলতে চাই—
তুমি না থাকলেও তুমি আছো আমার প্রতিটি দোয়ায়,
তুমি আছো আমার প্রতিটি নিঃ'শ্বা'সে,
তুমি আছো আমার হৃ'দ'য়ের প্রতিটি স্পন্দনে।
এই দিনে নতুন করে আমার কিছু চাওয়ার নেই।
আল্লাহর কাছে শুধু একটাই প্রার্থনা—
হে আল্লাহ, আমার প্রিয় মায়াবিনী স্ত্রী নুযুকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন। তার ক-ব-রকে নূরে ভরে দিন, তার সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন এবং জান্নাতে আবারও আমাদের দু’জনকে একসঙ্গে মিলিত করুন।
প্রিয় মায়াবিনী, খুব ভালোবাসি তোমাকে।
প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত তোমাকে পা'গ'লের মতো খুঁজে বেড়াই।
কেন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে নুযু…?
কেন আমাদের এত সুন্দর স্বপ্নগুলো অসম্পূর্ণ রেখে চলে গেলে…?
আল্লাহ তোমাকে ওপারে ভালো রাখুন।
আল্লাহর কাছে সবসময় এই দোয়াই করি—
তুমি জান্নাতে শান্তিতে থেকো, আর একদিন আমাকেও তোমার কাছে ফিরিয়ে দিও।
ভালো থেকো, প্রিয় মায়াবিনী স্ত্রী।
শুভ বি'বা'হ'বা'র্ষিকী, আমার প্রিয়তমা স্ত্রী।
তুমি আজ স্বর্গের ওপারে, আমি এই দু'নি'য়ায়—
কিন্তু আমাদের ভালোবাসা কখনো শেষ হবে না।
তুমি ছিলে, তুমি আছো, তুমি থাকবে—আমার হৃদয়ের শেষ নিঃ'শ্বা'স পর্যন্ত।🥹❤️🩹
এক ভাইয়ের পোস্ট।