27/07/2026
গতকালের টুথপেস্ট সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি দেখে আমি হতবাক। দেশের বাজারে ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শরীরে জমে থাকে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো, শিশুদের জন্য তৈরি ৬টি পেস্টের মধ্যে ৪টিতেই এই ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। মানে যে পেস্ট আমরা নিশ্চিন্তে শিশুদের ব্যবহার করতে দিচ্ছি, সেটাও নিরাপদ নয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকলে সহজে বের হয় না। এটি রক্তে, ফুসফুসে, এমনকি মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। দিনে দুবার, বছরের পর বছর ব্যবহারে এর পরিমাণ কম নয়। এই খবরটি পড়ে আমার মনে হলো, আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দশ বছর আগে যে মিসওয়াকের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তা কি নিছক ধর্মীয় অভ্যাস ছিল নাকি এর পেছনে আরও গভীর কিছু ছিল?
তিনি (সাঃ) বলেছিলেন, আমার উম্মতের কষ্ট হবে ভেবে না হলে আমি প্রত্যেক নামাজের আগে মিসওয়াক ফরজ করে দিতাম। (সহিহ বুখারি) ভাবুন, একটি দাঁতন নিয়ে এত জোর কেন? আজকের বিজ্ঞান কিছুটা উত্তর দিচ্ছে। মিসওয়াকে (বিশেষত পিলু গাছের ডালে) প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে, যা মুখের জীবাণু কমায়। এতে ফ্লোরাইড-জাতীয় উপাদান আছে, যা দাঁত মজবুত করে। নেই কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক, প্লাস্টিক বা প্রিজারভেটিভ।
গাছ থেকে ভেঙে আনলেন, ব্যবহার করলেন, মাটিতে ফেলে দিলেন, মাটিতে মিশে গেল। না শরীরের ক্ষতি, না পরিবেশের। চৌদ্দশ বছর ধরে মানুষ এটি ব্যবহার করছে, একটাও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর নেই।
আমি বলছি না আজ থেকে সব টুথপেস্ট ফেলে দিন। সব পেস্ট ক্ষতিকরও না — কিছু ব্র্যান্ডে এই কণা পাওয়া যায়নি। যাচাই করে ভালোটা বেছে নেওয়া যায়। কিন্তু পাশাপাশি মিসওয়াকটাও ফিরিয়ে আনা যায় না কি? সুন্নাহ তো বটেই — সাথে স্বাস্থ্যকর, সস্তা, নিরাপদ, আর প্রকৃতিবান্ধব।
মজার ব্যাপার কী জানেন? আমরা যেসব "প্রাকৃতিক", "কেমিক্যাল-ফ্রি", "অর্গানিক" জিনিসের পেছনে আজ হাজার হাজার টাকা খরচ করছি — সেই সমাধানটা নবীজি চৌদ্দশ বছর আগেই দিয়ে গেছেন। বিনা মূল্যে। আমরা শুধু ভুলে গিয়েছিলাম।
আল্লাহ আমাদের সুন্নাহর মধ্যে লুকানো কল্যাণগুলো বোঝার তাওফিক দিন। আমীন। 🤍