20/04/2026
ঈমানের পথে মুমিনের ভয় নেই।
**************************
পুনরুত্থানের গল্প।
গভীর সমুদ্রের নিস্তব্ধ অন্ধকারে, মাছের পেটের ভেতর ইউনুস (আঃ) জানতেন না—এই অন্ধকারই তাঁর মুক্তির দরজা হবে। তিনি শুধু জানতেন, তাঁর রব আছেন। আর যাঁর কাছে তিনি ফিরে গেছেন, তিনি তাঁকে হারিয়ে যেতে দেবেন না। শেষ পর্যন্ত সেই অন্ধকারই আলোর পথ হয়ে উঠল।
ঈমান বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর পথে ইউসুফ (আঃ) জানতেন না—যে দরজা আজ তাঁর সামনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেটাই একদিন তাঁর জন্য রাজত্বের দরজা খুলে দেবে। কিন্তু তাঁর রব জানতেন।
ফিরআউনের সেনাবাহিনীর গর্জন যখন পেছনে, আর সামনে শুধু সাগর—মুসা (আঃ) জানতেন না, এই সাগরই আল্লাহর হুকুমে পথ হয়ে যাবে। চোখে ছিল শুধু বিপদ, কিন্তু আসমানে ছিল মুক্তির ফয়সালা।
ইব্রাহীম (আঃ) যখন আগুনে নিক্ষিপ্ত হলেন, তখন আগুন ছিল দহন ও ধ্বংসের প্রতীক। কিন্তু তাঁর হৃদয়ে ছিল একটাই বিশ্বাস—“আমার রব আছেন।” আর সেই আগুন হয়ে গেল শান্তির বাগান।
ইসমাঈল (আঃ) যখন কুরবানীর জন্য শুয়ে পড়লেন, তখন তিনি জানতেন না—এই ছুরি আল্লাহর ইচ্ছায় থেমে যাবে। আর সেই আত্মসমর্পণই হয়ে গেল আসমানের প্রশংসিত দৃষ্টান্ত।
আইয়ুব (আঃ) যখন রোগ, কষ্ট আর নিঃসঙ্গতায় ভেঙে পড়েছিলেন, তখনও তিনি রবকে ভুলে যাননি। আর ধৈর্যের পর আল্লাহ তাঁকে দিলেন এমন সুস্থতা ও সম্মান, যা আগের চেয়েও মহান।
এখন আসি আমাদের প্রিয় নবী ﷺ-এর জীবনে…
মক্কার সেই কঠিন দিনগুলোতে, যখন তাঁকে অপমান করা হচ্ছিল, পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছিল, তায়েফে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে ছিলেন—তখন বাহ্যিক দুনিয়া বলছিল “সব শেষ”, কিন্তু আসমান বলছিল “এটা শুরু”।
আর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য—হিজরতের রাতে যখন তিনি গারে সাওরে (হেরা গুহায় নয়) আবু বকর (রাঃ)-এর সাথে লুকিয়ে ছিলেন, শত্রুরা গুহার মুখ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে… আবু বকর (রাঃ) কাঁপছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন—
“লা তাহজান, ইন্নাল্লাহা মাআনা”
“ভয় করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।”
কি অপূর্ব তাওয়াক্কুল! চোখে ছিল অন্ধকার, কিন্তু হৃদয়ে ছিল নিশ্চিত আলো—“আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।”
এই সেই একই সত্য—যা ইউনুস (আঃ)-কে মাছের পেট থেকে বের করেছে, মুসা (আঃ)-কে সাগরের উপর দিয়ে হাঁটিয়েছে, ইব্রাহীম (আঃ)-এর জন্য আগুনকে ফুলের বাগান বানিয়েছে, আর নবী ﷺ-কে গুহার অন্ধকারেও নিরাপত্তা দিয়েছে।
তাঁরা কেউই পর্দার আড়ালের দৃশ্য দেখেননি… কিন্তু সবাই জানতেন—তাঁদের রব আছেন। আর সেই জানাটাই ছিল যথেষ্ট।
যখন বান্দা সত্যিকার অর্থে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তখন অন্ধকার পথ হয়ে যায়, আগুন শান্তি হয়ে যায়, বিপদ রহমতে পরিণত হয়।
হে আল্লাহ! আমাদের হৃদয়কে সেই তাওয়াক্কুল দান করুন—যেখানে দুনিয়ার দৃশ্য নয়, আপনার ওয়াদা-ই আমাদের শান্তি হয়। আমাদেরকে ধৈর্য, ঈমানের দৃঢ়তা এবং আপনার প্রতি পূর্ণ ভরসার তাওফিক দান করুন। আমীন।