31/08/2026
এগুলোই ১৪ বছর বয়সী রেজিনা ওয়াল্টার্সের শেষ পাওয়া ছবিগুলো! মানে তার জীবনের শেষ সময়ের কিছু আগে তোলা।
ভয়ংকর বিষয় হলো, ক্যামেরার পেছনে থাকা মানুষটিই ছিল তার শেষ পরিণতির জন্য দায়ী ব্যক্তি।
১৯৯০ সালের শুরুর দিকে রেজিনা তার প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পথে তাদের তুলে নেয় রবার্ট বেন রোডস নামের এক দূরপাল্লার ট্রাকচালক।
তারা তখনও বুঝতে পারেনি, কী ভয়ংকর এক মানুষের গাড়িতে তারা উঠেছে।
রোডস ছিল একজন সিরিয়াল কিলার। সে তার ট্রাকের ঘুমানোর ছোট কক্ষটিকে এমনভাবে সাজিয়েছিল, যেখানে শিকল ও বিভিন্ন ধরনের আটকে রাখার ব্যবস্থা ছিল। দূরপাল্লার ট্রাকচালক হওয়ায় এক অঙ্গরাজ্য থেকে আরেক অঙ্গরাজ্যে চলাচল করেও সে সহজেই সন্দেহ এড়িয়ে যেতে পারত।
তদন্তকারীদের ধারণা, রেজিনা ও তার প্রেমিককে গাড়িতে তোলার কিছুদিন পরই তার প্রেমিক আর বেঁচে ছিলেন না।
আর রেজিনাকে কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাকের ভেতর আটকে রেখে রোডস দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়।
এরপর ইলিনয়ের একটি পরিত্যক্ত খামারবাড়িতে ঘটে যায় ঘটনার সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায়।
ততদিনে রেজিনার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। তাকে কালো পোশাক ও হাই হিল পরতে বাধ্য করা হয়। এরপর দুই হাত ওপরে তুলে দাঁড় করিয়ে তার ছবি তোলা হয়।
ছবিটিতে তার মুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ দেখা যায়। 😰
কিছুক্ষণ পর রোডস তাকে শ্বাসরোধ করে প্রাণ কেড়ে নেয় এবং তার দেহ ওই পরিত্যক্ত স্থানে রেখে চলে যায়। কয়েক মাস পর সেখানে তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোডস ধরা পড়ে যায় এক অদ্ভুত ঘটনায়।
অ্যারিজোনার এক স্টেট ট্রুপার মহাসড়কের পাশে তার ট্রাকটিকে দেখতে পান। ট্রাকটির হ্যাজার্ড লাইট জ্বলছিল। সন্দেহ হওয়ায় তিনি কাছে গিয়ে খোঁজ নেন।
ট্রাকের ঘুমানোর কক্ষের ভেতরে ঢুকে তিনি দেখতে পান, অন্য এক নারীকে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে এবং তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন।
সেখান থেকেই খুলে যেতে থাকে রোডসের ভয়ংকর কর্মকাণ্ডের পর্দা।
১৯৯২ সালে রেজিনার ঘটনায় রোডস দোষ স্বীকার করে এবং তাকে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের ধারণা, বছরের পর বছর রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর সময় সে আরও বহু নারীর ওপর একই ধরনের নির্যাতন চালিয়ে থাকতে পারে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই আর কখনো ফিরে আসেনি।
কিন্তু ঠিক কতজন তার শিকার হয়েছিল, সেই সংখ্যা আজও অজানা।
একটি ছবি কখনো কখনো শুধু একটি মুহূর্ত ধরে রাখে না… ধরে রাখে এমন এক ভয়ংকর গল্প, যার পুরো সত্য হয়তো কোনোদিন জানা যাবে না।
©