12/07/2026
কঠিন সময়ে দল ছাড়িনি,পদ না পেলেও আক্ষেপ নেই: নাজমুল
দুঃসময়ে যারা দল ছেড়ে চলে যায়,তারা হয়তো পদ পায়,কিন্তু আমি দুঃসময়ে দল ছাড়িনি। তাই পদ না পেলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই আমার।বিএনপি ও ছাত্রদলকে ভালোবেসেই রাজনীতি করি,ভালোবেসেই আজও আছি।
আবেগঘন কণ্ঠে কথাগুলো বলেন ছাত্রদল নেতা নাজমুল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান,রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর।
সেদিন বিএনপির চেয়ারপারসন ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ময়মনসিংহ সফর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি প্রথমবারের মতো অংশ নেন। তখন তিনি মাত্র পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।সেই সফরেই জননেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়।
নাজমুল জানান,চায়না মোড় থেকে পায়ে হেঁটে সার্কিট হাউসে পৌঁছে জনসভায় অংশ নেওয়ার সেই অভিজ্ঞতা আজও তার হৃদয়ে অম্লান।সেই দিনই রাজনীতির প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয়,যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর সারা দেশে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে,তাতেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তার ভাষায়,রাজপথের আন্দোলনই তাকে সাহসী করে তুলেছে।পুলিশের উপস্থিতিতেও মিছিলের সামনে থেকে স্লোগান দেওয়ার স্মৃতি আজও তাকে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি বলেন,এরপর থেকে দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সামনের সারিতে থাকার চেষ্টা করেছি।বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়টি ছিল বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।গ্রেপ্তার, মামলা,আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার সেই দিনগুলোও তিনি দলের সঙ্গেই কাটিয়েছেন।
নাজমুল বলেন,"অনেকেই তখন দূরে সরে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমি দল ছাড়িনি।কারণ আমার কাছে রাজনীতি মানে শুধু পদ-পদবি নয়,রাজনীতি মানে আদর্শ,ত্যাগ আর ভালোবাসা।পদ পেলে কাজ করব,না পেলেও দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবেই থাকব।
তিনি আরও বলেন,আজ পর্যন্ত কোনো পদ না পাওয়া নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই।বিএনপি ও ছাত্রদল আমাকে যে পরিচয় দিয়েছে,সেটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।দলের প্রয়োজনে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাজপথে থাকব।
H.M. Nazmul Sarker