29/11/2025
শীতের ভোরটায় কুয়াশা এমনভাবে নেমে এসেছে যেন চারপাশে নরম তুলোর চাদর বিছানো। ঠিক সেই সময়ে রোদটা ধীরে ধীরে ওঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু এখনো পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। গ্রামের রাস্তার পাশের ছোট্ট চায়ের দোকানটায় ধোঁয়া উড়তে থাকা কেটলি আর হালকা গুঞ্জন।
আরিফ আজ একটু তাড়াতাড়িই এসেছে। কারণ সে জানে—এই সময়টায় নীলাঞ্জনাও আসে। দুই কাপ চায়ের কাছে তাঁরা ধীরে ধীরে কাছাকাছি হচ্ছে, একটা অদ্ভুত বুকধড়ফড়ানি তাদের দু’জনেরই।
নীলা আজ উলের শালে নিজেকে মুড়িয়ে দোকানের সামনে এসে দাঁড়াতেই আরিফ হেসে বলল—
“আজ তো আগের চেয়ে বেশি ঠান্ডা। চা খাইলে গরম লাগবে।”
নীলা এক চিলতে হাসি দিয়ে বলল,
“চা কি ঠান্ডা দূর করে, নাকি অন্য কিছুও গরম করে দেয়—বলতো?”
আরিফ একটু থমকে গেলেও, তার চোখের কোনায় লজ্জা মেশানো খুশির ঝিলিক। দুইজনই দোকানের কোণে বেঞ্চিতে বসল। কাঁচের গ্লাসে ধোঁয়া ওঠা লালচা চা এনে রাখল দোকানদার। গরম গ্লাসটা হাতে ধরতেই নীলার আঙুল কেঁপে উঠলো। আরিফ দেখে হেসে বলল—
“চাইলে ধরতে সাহায্য করতে পারি।”
নীলা গ্লাসটা আরিফের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“তাহলে ধরো। গরমতো লাগবেই, কিন্তু পড়ে গেলে আবার তোমাকেই দোষ দিতে হবে।”
আরিফ গ্লাসটা দু’হাতে ধরে নিল, তাদের আঙুল একসাথে ছুঁয়ে গেল। সেই স্পর্শে চায়ের চেয়েও বেশি উষ্ণতা যেন ছড়িয়ে পড়ল দু’জনের গায়ে। বাইরে ঠান্ডা বাতাস বইছে, কিন্তু তাদের মাঝে উষ্ণতা জমে উঠছে অদ্ভুত নরমভাবে।
চুমুক দিয়ে চা খেতে খেতে নীলা বলল—
“শীতের সকালে চা সবসময়ই আমার প্রিয় ছিল। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে… আরও বেশি ভালো লাগছে।”
আরিফ তাকিয়ে রইল তার দিকে, নীচু স্বরে বলল—
“আর যদি এই সকালটা আমরা দু’জনে নিয়ম করে কাটাই… প্রতিদিন?”
নীলা চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। কুয়াশার ভিতর দিয়ে সূর্যের আলো এবার একটু উজ্জ্বল হলো। তারপর নীলা ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে বলল—
“শুনে তো বেশ লাগছে। তাহলে কালও এই সময়… এই একই জায়গায়?”
আরিফ হাসল।
“চা আমি আনব। আর তোমার হাসিটা… তুমি আনবা।”
শীতে কাঁপা সকালে দুই কাপ গরম চা—আর তার চেয়েও গরম দুটো মন। গল্পটা ঠিক সেখানেই শুরু হল।