22/12/2025
দিপু দাস হ-ত্যা=র বিচাই চাই ❗
দিপু দাস ঠিক কখন কোথায় কিভাবে ধর্মীয় অববমাননা করেছে কেউ তথ্য প্রমান দিতে পারবেন?? কোন স্ক্রিনশট বা এমন কিছু? আমি জানতে চাই।
আমি যতটুকু জানতে পেরেছি তা হলো -
তার নিজের কোন স্মার্টফোন ই ছিল না। সে বাটনফোন ইউস করতো। যে ব্যাক্তি বাটনফোন ইউস করে তার পক্ষে অবশ্যই ফেসবুকে ধর্মীয় বি/দ্বেষ ছড়িয়ে বেড়ানো সম্ভব না।
দিপু দাস একজন গার্মেন্টস কর্মী । বয়স ২৭ বছর, তার পুরো পরিবার ই তার ইনকামের উপর নির্ভরশীল । নিজের চাকরির টাকা দিয়ে নিজের ছোট দুই ভাইকে পড়ালেখা করায় । দিপুকে কিছুদিন আগেই সুপারভাইজার পদে প্রমোশন দেওয়া হয় । যে পদ আরো ২ জনকে দেয়ার কথা ছিল কিন্ত দিপুর পারফর্মেন্স ভাল তাই তাকেই দেয়া হয় । এটা নিয়েই ঝামেলা চলছিল।
এর মাঝেই দিপু দাসের নামের কোন ফেসবুক আইডির কোন একটা পোস্ট একজনের নজরের আসে। যেখানে ধর্মীয় উস্কানী-মূলক ( মুহম্মদ সঃ এর কটুক্তি) কথা ছিল । আর এর ভিত্তিতেই দিপু দাসকে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় । জাহেলিয়াত যুগের মত তাকে রাস্তার মাঝে, উল-টো করে ঝু=লিয়ে , তাকে আগুনে পুড়ি -য়ে ফেলা হয় । কোন রকম তথ্য প্রমান যাচাই বাছাই কিছুই হয়নি । জাস্ট অভিযোগ । অই আইডি যে তার, সে নিজেই চালায়, এমনা কোথাও পাবেন না যে প্রমান পাওয়ার পরে এটা করা হয়েছে, পুরোটা হয়েছে অভিযোগের ভিত্তিতে।
তার চেয়ে বেশি আশ্চর্য হই যখন দেখি শত শত মানুষ একদম উল্লাসের সাথে সেটা ভিডিও করছে, কেউ থামানোর জন্য এগিয়ে ও আসলো না।
এক মুহুর্তের জন্য ধরেই নিলাম দিপু দাস সত্যিই মুহম্মদ সঃ কে নিয়ে কোন কটূক্তি করেছে । মুসলমান হিসাবে আমার ও কষ্ট লাগবে। লাগাই স্বাভাবিক, কিন্ত আমার ধর্ম আমাকে এই পরিস্তিতিতে কি করতে বলে?
* সুরা ফুসসিলাত আয়াত ৩৪ - ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। উৎকৃষ্ট দ্বারা মন্দ প্রতিহত কর; তাহলে যাদের সাথে তোমার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত।
* সুরা নাহল আয়াত ১২৫ - তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহবান কর এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর।
* সুরা আন-আম আয়াত ১০৮ - হে মুমিনগণ! আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তারা ডাকে তোমরা তাদেরকে গালি দিও না, কেননা তারা তাদের অজ্ঞতাপ্রসূত শত্রুতার বশবর্তী হয়ে আল্লাহকে ও গালি দেবে।
কোরআনে সরাসরি এমন কথা থাকার পরেও আপনি ঠিক ইসলামের কোন যুক্তিতে একজনকে মেরে আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার কথা ভাবতে ও পারেন?
কেউ সত্যিই ধর্মীয় উস্কানি করলে, দেশে ধর্ম অবমাননা বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইন আছে, সেখানে প্রমাণ সংগ্রহ করুন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান, এটাই সঠিক পথ। নিজে বিচারক হওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলাম নিজ হাতে শাস্তি দেওয়ার ও অনুমতি দেয় না। ইসলাম আমাদের আবেগ ও যুক্তি উভয়ের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখার শিক্ষা দেয়।
আপনার আবেগতাড়িত কাজের মাধ্যমে ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না। কারন মানুষ ইসলাম দেখেনা, মানুষ মুসলিম দেখে । অনেক মানুষ মুসলিমদের আচার-আচরণ দেখেই ইসলাম গ্রহণ করেছে, তর্ক দিয়ে নয়।