07/08/2026
মানুষের উপকার করলে শেষে এই অবস্থায়ই হয়। যাই হোক, মূল ঘটনায় আসি—ছবিতে যে ফ্যানটা দেখতে পাচ্ছেন, সেটা আমাদের বাড়ির ফ্যান। আমার এক দাদু (আমার দাদুর ভাই) মারা যাওয়ার কারণে বাড়িতে অনেক মানুষজন আসে। তাদের সুবিধার জন্য আমার বাবা ফ্যানটা তাদের বাড়িতে দিয়ে আসেন। তখন কিন্তু ফ্যানটা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারত 😁😁।
তারপর সেই ফ্যানটা ওখান থেকে আমার আরেক দাদুর ভাইয়ের ছেলে—সম্পর্কে আমার আঙ্কেল—তিনি তাদের বাড়িতে নিয়ে যান বাতাস খাওয়ার জন্য। কিছুদিন ফ্যানটা ওনাদের বাড়িতে ছিল। এর মধ্যেই কোনোভাবে তারা আমাদের ফ্যানটার এই অবস্থা করেছে 🙂।
যাই হোক, সেটা আমাদের না জানিয়ে তারা কী করেছে, সেটা শুনলে আপনারা আরও অবাক হবেন। ফ্যানটা ভেঙে যাওয়ার কারণে যখন আর নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না, তখন তারা সেটাকে চিত অবস্থায় রেখে ঘরের টিনের সাথে বেঁধে বাতাস খাচ্ছিলেন 😌। মানে, ফ্যানটা নিয়ে গিয়ে ভেঙে ফেললেও তাদের কোনো অনুশোচনা নেই, এমনকি আমাদের জানানোর প্রয়োজনও মনে করেননি।
তারপর বেশ কিছুদিন পরে যখন আমার বাবা ফ্যানটা ফেরত দিতে বলেন, তখনও তারা সরাসরি কিছু বলেনি যে ফ্যানটা ভেঙে গেছে। বরং ফ্যানটা আঠা দিয়ে ঠিক করার জন্য আমার বাবার দোকানেই আঠা কিনতে যায়। যখন আমার বাবা জানতে চান আঠা দিয়ে কী করবে, তখন তারা জানায়—ফ্যানটা ভেঙে গেছে, সেটাকে জোড়া লাগানোর জন্য আঠা নিচ্ছে 🙂।
মানুষের চিন্তাভাবনা দেখে সত্যিই আমি অবাক হয়ে যাই। আমরা তো উপকার করার জন্য ফ্যানটা দিয়েছিলাম, আর সেখান থেকে আরেকজন সেটা নিয়ে গিয়ে এই অবস্থা করেও তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। মানুষের বিবেক তাহলে কোথায় চলে গেছে—আল্লাহই ভালো জানেন। 🙂🙂