MR Saroar

MR Saroar

নিজের চেয়ে আপন আর কেউ নেই !💔

১২টি কাজ করবেন—জীবনের গতি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাবে, ইনশাআল্লাহ!জীবনে কখনো এমন সময় আসে, যখন মনে হয়—কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। চেষ্...
24/08/2026

১২টি কাজ করবেন—জীবনের গতি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাবে, ইনশাআল্লাহ!

জীবনে কখনো এমন সময় আসে, যখন মনে হয়—কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। চেষ্টা করছি, কিন্তু ফল পাচ্ছি না; দোয়া করছি, কিন্তু পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না; চারপাশে মানুষ আছে, তবুও ভেতরে একাকিত্ব। এমন অবস্থায় একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং নিজের জীবনকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নতুন করে সাজানো।
আল্লাহ তাআলা বলেন,“নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।”—সূরা আর-রাদ, ১৩:১১।
অর্থাৎ শুধু পরিবর্তনের আশা করলেই হবে না; নিজের বিশ্বাস, আমল, অভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে। নিচের ১২টি বিষয়কে জীবনের নিয়ম বানানোর চেষ্টা করলে—আল্লাহর ইচ্ছায় আপনার চিন্তা, চরিত্র, সময় ব্যবস্থাপনা, ইবাদত ও জীবনের লক্ষ্য অনেকটাই বদলে যেতে পারে।

১. ✅পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের প্রথম অগ্রাধিকার দিন

জীবন পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো নামাজ। কাজ, ব্যবসা, পড়াশোনা, মোবাইল কিংবা বিনোদন—কোনোটিই নামাজের ওপর অগ্রাধিকার পেতে পারে না।
নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি একজন মুমিনের সঙ্গে আল্লাহর নিয়মিত সম্পর্কের মাধ্যম। তাই নামাজ সময়মতো আদায় করার অভ্যাস করুন।
আল্লাহ বলেন,“নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।”—সূরা আল-আনকাবুত, ২৯:৪৫।
আপনি যদি জীবনে বড় পরিবর্তন চান, তাহলে প্রথম সিদ্ধান্ত হতে পারে—“নামাজ আর কোনোভাবেই ছাড়ব না।”

২. ✅প্রতিদিন কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করুন

প্রতিদিন অল্প হলেও কুরআন পড়ুন। শুধু তিলাওয়াত নয়—অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন এবং নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
অনেক সময় আমরা সমস্যার সমাধান পৃথিবীর মানুষের কাছে খুঁজি, অথচ আল্লাহর কিতাবের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল থাকে। কুরআন মানুষের হৃদয়কে পথ দেখায়, সান্ত্বনা দেয় এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো ঘরে মানুষ একত্র হয়ে কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন করলে তাদের ওপর প্রশান্তি নেমে আসে, রহমত তাদের ঢেকে ফেলে এবং ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখেন। —সহিহ মুসলিম, ২৬৯৯।
তাই প্রতিদিন অন্তত কয়েক আয়াত হলেও কুরআনের জন্য সময় রাখুন।

৩. ✅বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন

জীবনের অস্থিরতা, গুনাহ ও ভুলের বোঝা থেকে মুক্তির অন্যতম পথ হলো তওবা ও ইস্তিগফার।
শুধু মুখে “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলাই যথেষ্ট নয়; গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, গুনাহ ছেড়ে দেওয়া এবং আবার না করার দৃঢ় সংকল্পও জরুরি।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ‘সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার’-কে ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হিসেবে শিক্ষা দিয়েছেন। —সহিহ বুখারি, ৬৩০৬।
তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ইস্তিগফারের জন্য রাখুন। নিজের ভাষাতেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।

৪. ✅গুনাহকে ছোট মনে করা বন্ধ করুন

অনেক মানুষ বড় গুনাহ থেকে বাঁচতে চায়, কিন্তু ছোট ছোট গুনাহকে গুরুত্ব দেয় না। অথচ বারবার করা ছোট ভুলও মানুষের হৃদয়কে দুর্বল করে দিতে পারে।
মিথ্যা, গীবত, পরনিন্দা, অহংকার, হারাম দৃষ্টি, অন্যের হক নষ্ট করা—এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
রাসুল ﷺ-এর একটি হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন—বান্দারা রাত-দিন গুনাহ করে, আর তিনি গুনাহ ক্ষমা করেন; তাই তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। —সহিহ মুসলিম, ২৫৭৭।
তাই পরিবর্তন শুরু করুন নিজের গোপন জীবন থেকে।

৫. ✅হালাল রিজিকের ব্যাপারে আপস করবেন না

জীবনে যত কষ্টই আসুক, হারাম পথে দ্রুত সফল হওয়ার চেষ্টা করবেন না। হারাম উপার্জন বাহ্যিকভাবে সম্পদ বাড়াতে পারে, কিন্তু একজন মুমিনের জন্য আসল সফলতা হলো হালাল ও বরকতময় রিজিক।
নিজের পেশা, ব্যবসা ও লেনদেনে সততা রাখুন। কারো অধিকার নষ্ট করবেন না। প্রতারণা করবেন না।
মনে রাখবেন, রিজিকের মালিক আল্লাহ। আপনার দায়িত্ব হলো বৈধ উপায়ে চেষ্টা করা এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করা।

৬.✅ মানুষের হক আদায় করুন

অনেক সময় আমরা নফল ইবাদত নিয়ে ব্যস্ত থাকি, কিন্তু মানুষের অধিকার ভুলে যাই। অথচ কারো টাকা আটকে রাখা, অন্যায় করা, অপমান করা কিংবা প্রতারণা করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
আল্লাহ তাআলা হাদিসে কুদসিতে জুলুমকে নিজের জন্যও হারাম করেছেন এবং বান্দাদের মধ্যেও তা হারাম করেছেন। —সহিহ মুসলিম, ২৫৭৭।
তাই কারো হক নষ্ট করে থাকলে সম্ভব হলে তা ফিরিয়ে দিন, ক্ষমা চান এবং সম্পর্ক সংশোধনের চেষ্টা করুন।

৭. ✅মা-বাবার সঙ্গে উত্তম আচরণ করুন

জীবনে বরকতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো মা-বাবার প্রতি সদাচরণ।
তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলা, অবহেলা করা বা প্রয়োজনের সময় পাশে না থাকা থেকে বিরত থাকুন। তারা জীবিত থাকলে তাদের খেদমত করার সুযোগকে সৌভাগ্য মনে করুন।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের নির্দেশের সঙ্গে মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন—সূরা আল-ইসরা, ১৭:২৩।
আপনি যদি জীবনের পরিবর্তন চান, তাহলে আজ থেকেই মা-বাবার জন্য সময় বের করুন, তাদের খোঁজ নিন এবং তাদের জন্য দোয়া করুন।

৮. ✅প্রতিদিন দোয়া করার অভ্যাস করুন

দোয়া শুধু বিপদের সময়ের বিষয় নয়। সুখে-দুঃখে, সফলতায়-ব্যর্থতায়—সব অবস্থায় আল্লাহর কাছে চাইতে হবে।
নিজের ভাষায় আল্লাহকে নিজের কথা বলুন। আপনার ভয়, কষ্ট, স্বপ্ন, ব্যর্থতা, ভবিষ্যৎ—সব তাঁর কাছে তুলে ধরুন।
তবে দোয়ার সঙ্গে বৈধ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। শুধু দোয়া করে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি নয়।
আল্লাহর ওপর ভরসা করুন, কিন্তু নিজের দায়িত্বও পালন করুন।

৯. ✅নিয়মিত সদকা করুন

সদকা শুধু ধনী মানুষের জন্য নয়। সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প হলেও দান করুন।
কারো ক্ষুধা মেটানো, অসহায়কে সাহায্য করা, দরিদ্র আত্মীয়ের পাশে দাঁড়ানো, কাউকে প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়া—এসবও নেক কাজ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনের তার একটি কষ্ট দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো অসচ্ছল ব্যক্তির জন্য সহজ করে, আল্লাহ তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সহজ করবেন। —সহিহ মুসলিম, ২৬৯৯।
তাই প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে ছোট একটি সদকার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

১০. ✅সময়ের অপচয় বন্ধ করুন

জীবন বদলাতে হলে সময়ের ব্যবহার বদলাতে হবে।
অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া, অপ্রয়োজনীয় ভিডিও, অহেতুক আড্ডা, অন্যের জীবন নিয়ে আলোচনা—এসব আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করছে কি না, নিজেকে প্রশ্ন করুন।
প্রতিদিনের জন্য একটি ছোট পরিকল্পনা করুন। নামাজ, কুরআন, কাজ/পড়াশোনা, পরিবার, বিশ্রাম—সবকিছুর জন্য সময় নির্ধারণ করুন।
মনে রাখবেন, জীবন আসলে সময়ের সমষ্টি। সময় চলে গেলে টাকা দিয়ে সেটি ফেরত কেনা যায় না।

১১. ✅ভালো কাজ অল্প হলেও নিয়মিত করুন

অনেকে একদিন অনেক আমল শুরু করেন, কয়েকদিন পর সব ছেড়ে দেন। এটি পরিবর্তনের স্থায়ী পথ নয়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়। —সহিহ বুখারি, ৬৪৬৪।
তাই একদিনে বিশাল পরিবর্তনের চেষ্টা না করে ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তুলুন।
যেমন—
• প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ।
• প্রতিদিন কয়েক আয়াত কুরআন।
• নিয়মিত ইস্তিগফার।
• প্রতিদিন কিছু দরুদ।
• সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ সদকা।
• নিয়মিত মা-বাবার খোঁজ নেওয়া।
• প্রতিদিন নিজের ভুলের হিসাব করা।
ছোট আমল যখন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তখন সেটিই জীবনের বড় পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।

১২. ✅আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চেষ্টা করবেন, কিন্তু ফলাফলের মালিক হিসেবে আল্লাহকে বিশ্বাস করবেন।
আপনার দায়িত্ব চেষ্টা করা। ফল কখন, কীভাবে এবং কতটুকু আসবে—তা আল্লাহর হাতে।
সূরা আর-রাদের ১১ নম্বর আয়াত আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের ভেতরের অবস্থা পরিবর্তন করে।
তাই শুধু “আমার জীবন বদলে যাক” বলবেন না। বরং প্রশ্ন করুন—“আমাকে কী পরিবর্তন করতে হবে?”
একটি সহজ দৈনিক রুটিন
আপনি চাইলে এই ১২টি বিষয়কে একটি দৈনিক রুটিনে পরিণত করতে পারেন—
সকাল:ফজর, কুরআন, ইস্তিগফার ও দিনের পরিকল্পনা।
দিন:হালাল উপার্জনের চেষ্টা, মানুষের হক আদায়, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং প্রয়োজনমতো সদকা।
সন্ধ্যা:নিজের দিনের ভুলগুলো পর্যালোচনা, তওবা ও পরিবারের খোঁজখবর।
রাত:ইশার নামাজ, কুরআন/জিকির, আল্লাহর কাছে দোয়া এবং পরের দিনের পরিকল্পনা।
শেষ কথা
“জীবনের গতি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাবে”—এটি কোনো যান্ত্রিক বা নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি নয়। ইসলাম আমাদের শেখায়, পরিবর্তন আসে আল্লাহর তাওফিক, সঠিক ঈমান, তওবা, আমল এবং বৈধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে।
আল্লাহর কাছে ফিরে আসুন। নামাজ ঠিক করুন। গুনাহ ছাড়ুন। হালাল রিজিকের চেষ্টা করুন। মানুষের হক আদায় করুন। কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ুন। ইস্তিগফার করুন। নিয়মিত দোয়া করুন। ভালো কাজ অল্প হলেও নিয়মিত করুন।
আর মনে রাখুন—আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না।
আপনার আজকের একটি আন্তরিক সিদ্ধান্তই হয়তো আগামী দিনের সম্পূর্ণ জীবনকে নতুন পথে নিয়ে যেতে পারে।আল্লাহর জন্য একটি গুনাহ ছেড়ে দিন, একটি ভালো আমল শুরু করুন এবং সেটি নিয়মিত ধরে রাখুন।
ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আপনার অন্তরকে পরিবর্তন করুন, আপনার জীবনে হালাল রিজিক, প্রশান্তি, বরকত ও কল্যাণ দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফল করুন। আমিন।

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব...
24/08/2026

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব্যাংকের কাগজ, চাকরির কাগজ, আদালতের নোটিশ, অনলাইন অর্ডারের বাক্স।

আমার নাম কামাল। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, হাজারীবাগ, এই এলাকাগুলোতে আমার রুট। প্রতিদিন একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘুরি। বৃষ্টি হলে ভিজি। রোদ হলে পুড়ি। শীত হলে কাঁপি। কাজটা ভালো লাগে না। তবু ছাড়িনি।

আমাদের অফিসে একটা নিয়ম আছে। ঠিকানা ভুল হলে তিনবার চেষ্টা করতে হয়। তারপর লেখা হয়-

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

এই তিনটা শব্দ আমি জীবনে অসংখ্যবার লিখেছি। কিন্তু একদিন একটা খামের উপর এই তিনটা শব্দ লিখতে গিয়ে আমার হাত থেমে গিয়েছিল। খামের উপর লেখা ছিল-

প্রেরক: আবদুল হালিম
প্রাপক: রাশেদ হালিম
বাড়ি: ১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা।
নিচে ছোট করে লেখা-
জরুরি। ব্যক্তিগত।

অর্থাৎ, আবদুল হালিম নামে এক বয়স্ক বাবা তাঁর ছেলে রাশেদ হালিমের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, প্রেরক ও প্রাপক দুজনেরই ঠিকানা একই দেয়া-
১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা। মানে বাবা তাঁর নিজের বাড়ির ঠিকানাতেই ছেলের নামে চিঠি পোস্ট করেছেন!

আমি ঠিকানায় গিয়ে দেখি, ১৭/বি বলে কোনো বাড়িই নেই।
১৭ আছে।
১৭/এ আছে।
১৭/সি আছে।
কিন্তু ১৭/বি নেই।

পাশের দোকানের লোককে জিজ্ঞেস করলাম। লোকটা বললো, "আগে ছিল।"
"এখন?"
"ভেঙে ফ্ল্যাট হইছে।"
"হালিম সাহেব?"
লোকটা কাঁধ ঝাঁকালো, "চিনি না।"

আমি পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। চা-ওয়ালা বললো, "আবদুল হালিম নামে একজন ছিল।"
"কোথায় গেছে?"
"মারা গেছে।"
"কবে?"
"অনেক বছর।"

আমি অফিসে ফিরে খামটা "প্রাপককে পাওয়া যায়নি" লিখে জমা দিতে পারতাম। দিইনি। পরদিন আবার গেলাম। ১৭ নম্বর বাড়ির পুরোনো দারোয়ানকে পেলাম। বয়স অনেক। নাম গফুর। আমি খামের নামটা বলতেই লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

"আপনি আবদুল হালিম সাহেবের ছেলের লোক?"
"না। কুরিয়ার।''
লোকটা বললো, "আবদুল হালিম সাহেব তো নাই।"
আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তার ছেলে কোথায়?"
"বিদেশে।"
"কোন দেশে?"
"কানাডা।"
"যোগাযোগ নেই?"
"না।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"
লোকটা বললো, "বাপ ছেলের ঝামেলা।"

এই কথাটা বাংলাদেশের মানুষের খুব প্রিয়। সবকিছুর ব্যাখ্যা এক কথায় হয়ে যায়, "ঝামেলা ছিল।"

আমি বললাম, "কী ঝামেলা?"
লোকটা বললো, "সেইটা আমি জানি না।"
তারপর একটু থেমে বললো, "তবে শেষের দিকে আবদুল হালিম সাহেব প্রতিদিন বিকেলে গেটের সামনে বসে থাকতেন।"
"কেন?"
"ছেলের জন্য।"
"ছেলে আসতো?"
"না।"

আমি চুপ করে গেলাম।

কানাডায় ছেলেটার নাম ছিল রাশেদ হালিম। ফেসবুকে খুঁজলাম। পেলাম না। লিংকডইনে পেলাম একজনকে। নাম মিলে যায়। ঢাকায় জন্ম। কানাডায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বয়সও মিলে। আমি তার প্রোফাইলের ছবি দেখলাম। একজন হাসিখুশি মানুষ। বউ। দুইটা বাচ্চা। বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি। ক্যাপশনে লেখা-

"Home is where your people are."

আমি অনেকক্ষণ ঐ কথাটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হোম ইজ হোয়্যার ইয়োর পিপল আর। মানুষ কত সহজে ইংরেজিতে এমন কথা লিখে ফেলে। নিজের ভাষায় বলতে গেলে বুক কাঁপে।

আমি তাকে মেসেজ পাঠালাম, "আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে।"

কোনো উত্তর নেই।

দুই দিন পর উত্তর এলো, "Who are you?"
আমি বললাম, "আমি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। আপনার বাবা একটা চিঠি পোস্ট করেছে।"
সে লিখলো, "My father died years ago."
আমি বললাম, "চিঠিটা আপনার জন্যই।"

অনেকক্ষণ কোনো উত্তর নেই।
তারপর লিখলো, "Don't contact me again."

আমি চুপ করে গেলাম। চিঠিটা আমার ড্রয়ারে রয়ে গেল।
তারপর এক সপ্তাহ। দুই সপ্তাহ। এক মাস। আমি চিঠিটা অফিসে জমা দিইনি।

একদিন সন্ধ্যায় রাশেদের কাছ থেকে মেসেজ এলো, "What does the letter say?"
আমি বললাম, "আমি খুলি নাই।"
সে আবার লিখলো, "Can you send me a picture?"

আমি খামের ছবি পাঠালাম।
সে অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিলো না।

তারপর লিখলো, "That's my father's handwriting."
আমি বললাম, "আপনি চিঠিটা চান?"
অনেকক্ষণ পর উত্তর এলো, "Yes."
আমি বললাম, "ঠিকানা দেন।"

সে ঠিকানা দিল। সেদিনই আমি চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম। কাজ শেষ। ভাবলাম, এবার আমার দায়িত্ব শেষ। তিন দিন পর একটা ফোন এলো। বিদেশি নম্বর। আমি ধরলাম। ওপাশ থেকে একটা পুরুষের গলা।

"আপনি কামাল?"
"জি।"
"আমি রাশেদ।"
"জি।"
"চিঠিটা পেয়েছি।"

আমি চুপ করে থাকলাম।

সে বললো, "আপনি কি জানেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে শেষবার আমাকে কী বলেছিলেন?"
"না।"
"বলেছিলেন, তুই যদি কোনোদিন ফিরে আসিস, আমার কাছে আসিস না।"

আমি কিছু বললাম না।

সে বললো, "আমি আর ফিরিনি।"

তারপর দীর্ঘ নীরবতা।

"চিঠিতে কী ছিল জানেন?"
"না।"

সে হাসলো।

তারপর বললো, "আমার বাবা কখনো কাউকে চিঠি লিখতেন না।"

আমি অবাক হলাম।

বললাম, "কিন্তু এটা তো আপনার বাবার হাতের লেখা।"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে?"
"তিনি লিখেছিলেন। কিন্তু পাঠাননি।"

আমি বুঝলাম না।

রাশেদ বললো, "চিঠিটা তিনি নিজের আলমারিতে রেখে গিয়েছিলেন।"
"কীভাবে পোস্ট হলো?"
"তার বাড়ি বিক্রি করার পর নতুন মালিক পুরোনো আলমারির কাগজপত্রের মধ্যে খামটা পেয়েছিলেন। হয়তো ভেবেছেন পোস্ট করা হয়নি, তাই দয়ায় পড়ে ডাকবাক্সে ফেলে দিয়েছেন।"
আমি বললাম, "চিঠিতে কী ছিল?"
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "একটা মাত্র বাক্য।"
"কী?"

"আমি ভুল করেছিলাম।"

আমি বললাম, "এইটুকু?"
"হ্যাঁ।"
"আর কিছু?"
"না।"

আমি বললাম, "তাহলে আপনি কাঁদছেন কেন?"
রাশেদ কান্না থামিয়ে বললো, "আমি ভেবেছিলাম, বাবারা কখনো ভুল করে না।"

আমি জানি না কেন, কথাটা শুনে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়লো। আমার বাবা ছিলেন রাগী মানুষ। আমি ছোটবেলায় একবার স্কুল থেকে পালিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। বাবা জানতে পেরে আমাকে এমন মেরেছিলেন যে তিনদিন স্কুলে যেতে পারিনি। তারপর আমি ঠিক করেছিলাম, কোনোদিন বাবার সঙ্গে কথা বলবো না।

দুদিন পরই বাবা মারা গেলেন। আমার রাগটা রয়ে গেল। বাবা রইলেন না। মানুষের রাগেরও একটা সমস্যা আছে। যার ওপর রাগ করা হয়, সে না থাকলেও রাগটা থেকে যায়। তারপর একদিন সেই রাগের কোনো ঠিকানা থাকে না।

রাশেদ বলল, "কামাল ভাই?"
"জি?''
"আপনি কি একটা কাজ করবেন?"
"কী?"
"আমার বাবার কবরটা খুঁজে দিতে পারবেন?"
আমি বললাম, "পারবো।"
"কেন জানি না, আমি যেতে চাই।"
"আসবেন?"
"হ্যাঁ।"

তিন মাস পর রাশেদ ঢাকায় এলো। আমি তাকে বিমানবন্দর থেকে নিতে যাইনি। কিন্তু সে নিজেই আমাকে ফোন করলে।

"কামাল ভাই, আমি ঢাকায়।"
"কোথায়?"
"পুরোনো বাসার সামনে।"

আমি গেলাম। সে গাড়ি থেকে নামলো। আমি প্রথমে চিনতেই পারিনি। ছবির চেয়ে মানুষ বাস্তবে অন্যরকম।

সে আমাকে দেখে বললো, "আপনিই কামাল?"
"জি।"

সে হাত বাড়ালো। আমি হাত ধরলাম। তার হাত কাঁপছিল। আমরা একসঙ্গে কবরস্থানে গেলাম। তার বাবার কবর খুঁজে পেলাম। রাশেদ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বসে পড়লো।

কোনো দোয়া পড়লো না। কিছু বললো না। শুধু মাটির উপর হাত রাখলো।

অনেকক্ষণ পর বললো, "বাবা, আমি এসেছি।"

আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

সে আবার বললো, "তুমি বলেছিলে, আসিস না।''

চুপ

''আমি আসিনি।''

চুপ

''তুমি ভুল করেছিলে।"

চুপ

"আমিও ভুল করেছিলাম বাবা।"

আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। দূরে সরে গেলাম।
মানুষের কিছু কথার সাক্ষী হওয়া উচিত না। কিছু কথা মৃত মানুষের আর জীবিত মানুষের মাঝেই থাকা ভালো।

ফেরার সময় রাশেদ আমাকে বললো, "কামাল ভাই, আপনি না থাকলে আমি আসতাম না।"
আমি বললাম, "আমি তো শুধু চিঠি পৌঁছাইছি।"
সে বললো, "না।"
"তাহলে?"
"আপনি আমার কাছে একটা ঠিকানা পৌঁছে দিয়েছেন।"
আমি হেসে বললাম, "কবরের ঠিকানা?"
সে মাথা নাড়লো, "না।"
"তাহলে?"
সে বললো, "বাবার কাছে যাওয়ার ঠিকানা।"

আমি কিছু বললাম না। অফিসে গিয়ে আমার ছেলেকে ফোন করলাম। সে ধরলো না। আবার করলাম। ধরলো।

বললো, "কী হয়েছে?"
আমি বললাম, "কিছু না।"
"তাহলে ফোন করছো কেন?"
আমি বললাম, "তুই কেমন আছিস?"
সে বললো, "ভালো।"
আমি বললাম, "তোর সঙ্গে আমার কোনোদিন খুব বেশি রাগারাগি হয়েছে?"
ওপাশে সে হাসলো, "আপনার তো প্রতিদিনই রাগারাগি হয়।"
আমি বললাম, "আমি যদি কোনোদিন ভুল করে থাকি?"

সে চুপ করে গেল।

আমি বললাম, "তাহলে আমাকে বলিস।"
"কেন?"
"যাতে আমি ঠিক করতে পারি।"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "আব্বা, আপনি ঠিক আছেন তো?''
"হ্যাঁ।"
"কিছু খাইছেন?"
"না।"
"খেয়ে ঘুমান।"

ফোন কেটে গেল।

আমি অনেকক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর ড্রয়ার খুললাম। রাশেদের বাবার চিঠির একটা ফটোকপি সেখানে রেখেছিলাম। মাত্র এক লাইন।

''আমি ভুল করেছিলাম।''

আমি কাগজটা হাতে নিয়ে ভাবলাম, মানুষ পৃথিবীতে কত কিছু লিখে। উপন্যাস। কবিতা। ইতিহাস। আইন। প্রেমপত্র। ক্ষমাপত্র। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন চিঠিটা সম্ভবত এই তিনটা শব্দের, আমি ভুল করেছিলাম। এই তিনটা শব্দ বলতে একজন বাবার পঁচাত্তর বছর লাগে। একজন ছেলের ত্রিশ বছর। কখনো কখনো পুরো একটা জীবন।

পরদিন অফিসে গিয়ে টেবিলে এক পুরোনো পার্সেল পড়ে থাকতে দেখলাম। প্রাপক মৃত, প্রেরকের খোঁজ নেই। ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় ধুলো জমছে খামের উপর। আমি কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, পৃথিবীতে কত অভিমান, কত অসম্পূর্ণ কথা এভাবেই কোনো না কোনো টেবিলে ঠিকানাহীন হয়ে জমা পড়ে থাকে।

অফিসে ভালো লাগলো না। আমি বাড়ি ফিরে এলাম।

আমার ছেলে তখন ঘরে বসে ফোন দেখছিল। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে তাকালো।

আমি বললাম, "তোর সাথে আমার একটা কথা ছিল।"
সে অবাক হয়ে বললো, "কী কথা?"

আমি ড্রয়ার থেকে রাশেদের বাবার চিঠির ফটোকপিটা বের করে তার সামনে রাখলাম।

সে খামটার দিকে, তারপর আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

অনেক বছর পর। খুব অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু যথেষ্ট। আমি তার পিঠে হাত রাখলাম। কিছু বললাম না। আমার মনে হলো, সেদিন যদি রাশেদের বাবার চিঠিটা পৌঁছে না দিতাম, তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে আমি এই কথাগুলো কোনোদিন বলতাম না।

আমি এখনও কুরিয়ারে কাজ করি। এখনও ভুল ঠিকানার পার্সেল আসে। এখনো অফিসে তিনটা শব্দ লেখা হয়,

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

কিন্তু আমি আর আগের মতো সহজে লিখতে পারি না। কারণ আমি জানি, কখনো কখনো মানুষ ঠিকানায় থাকে না। অভিমানে থাকে। দূরত্বে থাকে। ভুল বোঝাবুঝিতে থাকে। কখনো বিদেশে থাকে। কখনো কবরের নিচে। আর কখনো, একই বাড়িতে থেকেও একটা দরজার ওপাশে থাকে। তাই কোনো চিঠি হাতে নিয়ে যদি মনে হয়, "লোকটা তো নেই।" আমি একটু অপেক্ষা করি। কারণ ঠিকানাটা ভুল হতে পারে। কিন্তু চিঠিটা নয়। চিঠি সাধারণত ঠিক মানুষটার কাছেই যেতে চায়। শুধু পৌঁছাতে কখনো কখনো একজন কামালের দরকার হয়!

-কপি পোষ্ট

22/08/2026

আরও একটি শুক্রবার চলে গেল, কিন্তু ন্যায়বিচার অধরাই রয়ে গেলো। আরও একটি সপ্তাহ চলে গেল, কিন্তু ন্যায়বিচারের অপেক্ষা অফুরান হতে চলল...

18/08/2026

মহিলা বাস সার্ভিসের প্রথম দিনেই - "সরি ভাইয়া" 🙂
মহিলা বাস সার্ভিস চালু হওয়ার প্রথম দিনই বাস লাগিয়ে দিল একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে! 😅
তবে বাসের চালক ওস্তাযাহ মুচকি হেসে বললেন—
“সরি ভাইয়া!” 😄
এরপর সুন্দর হাসির মায়াজালে কথা বলে প্রাইভেট কারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও সমাধান করে দিলেন।

চিন্তা করতেছি বেচারা প্রাইভেট কারের মালিক একটা হাসির জন্য..... উস্তাজা কে ছেড়ে দিল 😐
নাকি নারী ড্রাইভার এর সাথে হাঙ্গামা করে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলা খাবে বলে..?
আহ আজ মানবতা বেঁচে আছে বলে...

রাজনীতিতে হাসনাত হইলো এনসিপির গ্যাংস্টার। কোন ভয়ডর নাই। খালেদ মুহিউদ্দীনের সঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহর খোলামেলা আলাপ দেখলাম...
17/08/2026

রাজনীতিতে হাসনাত হইলো এনসিপির গ্যাংস্টার। কোন ভয়ডর নাই। খালেদ মুহিউদ্দীনের সঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহর খোলামেলা আলাপ দেখলাম।

হাসনাতের ভাষায়, রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতায় যাওয়া না। রাজনীতি হইল এমন একটা নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া, যেইখানে দেশের বেশিরভাগ মানুষের কল্যাণ আর সমতা নিশ্চিত করা যায়। আর জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া সেই নীতি বাস্তবায়ন করাও সম্ভব না।

নির্বাচন আর টাকা প্রসঙ্গ নিয়া বলছে যে-

রাজনীতিকে টাকা আর দুর্নীতির চক্র থেকে বের কইরা আনা তার অন্যতম লক্ষ্য।

নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যক্তিগত টাকার চেয়ে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই বড় ছিল। আর কারো কাছে কোনো বিষয়ে দায়বদ্ধ নয় সে।

মাজার ভাঙা প্রসঙ্গে বলে-

কারো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা ধর্মীয় বিশ্বাস জোর কইরা অন্যের ওপর চাপায়া দেওয়া ঠিক না। মাজার ভাঙা কিংবা ধর্মীয় ইস্যুতে তার অবস্থানটা মোটামুটি পরিষ্কার।

সংখ্যালঘু ইস্যুতে বলে-

মেজরিটি-মাইনরিটি এই ভাগাভাগির বাইরে গিয়া সবাইকে সমান বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সামাজিক সচেতনতার ওপরও জোর দিতে হবে।

বসুন্ধরার কথা বলতে ভোলেনা হাসনাত, বলে-

বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকে রাজনীতি আর গণমাধ্যমকে মুক্ত করা দরকার।

বসুন্ধরার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব ও মিডিয়া প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে নিজের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলে সে।

সব মিলায়া, কথাবার্তায় একটা বিষয় বেশ স্পষ্ট, ক্ষমতা দখলের রাজনীতির বাইরে গিয়ে রাজনীতি, রাষ্ট্র আর নাগরিক অধিকারকে নতুনভাবে দেখার একটা অবস্থান তুলে ধরতে চাইতেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

দেখাযাক হাসনাত কতটা সফল হয়। তার উপর আস্থা রাখলাম। তরুণরা যদি এই দেশের রাজনীতি ঠিক করতে পারে তাহলে এই দেশ বদলাইতে সময় লাগবনা। ❤️

আজকে অফিস শেষে বাসায় ফেরার সময় হঠাৎ রিক্সার মধ্যে এই লিখাটা খেয়াল করলাম এবং কৌতুহলবসত ছবিটি তুললাম। কিছুক্ষণ পর মামা (ছব...
16/08/2026

আজকে অফিস শেষে বাসায় ফেরার সময় হঠাৎ রিক্সার মধ্যে এই লিখাটা খেয়াল করলাম এবং কৌতুহলবসত ছবিটি তুললাম।

কিছুক্ষণ পর মামা (ছবিতে যেই ভদ্র লোককে দেখছেন) বলতেসে যে "মামা, আমি গার্মেন্টসে চাকরি করি, ছুটির পর রিক্সা নিয়ে বের হই, যা ভাড়া পাই তা দিয়ে অসহায় মানুষদের খাওয়াই , আমার একটা ফেইসবুক পেইজ আছে, ফলো করে দিয়েন"
নাম পলাশের মানবিক উদ্যোগ

আসলে মানুষের পাশে দাড়াতে পাহাড় সমান ধনসম্পদের দরকার হয় না, উনার মত মন মানসিকতা থাকলেই হয়।

আল্লাহ উনার সকল আশা পূরণ করুক🖤

আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় রিজিকটা হয়তো আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নেই।হয়তো সেটা প্রতিদিন আপনার পাশেই ঘুমায়।হয়তো সেটা আপ...
14/08/2026

আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় রিজিকটা হয়তো আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নেই।

হয়তো সেটা প্রতিদিন আপনার পাশেই ঘুমায়।

হয়তো সেটা আপনাকে না বলেই সকালে নাস্তা বানিয়ে দেয়।

হয়তো সেটা আপনার মায়ের কণ্ঠে আসে-

“বাবা, খেয়েছিস?”

হয়তো সেটা আপনার সন্তানের একটা হাসি।

অথচ আমরা রিজিক বলতে সাধারণত টাকা বুঝি।

ব্যবসার লাভ।
ব্যাংক ব্যালেন্স।
দামি গাড়ি।
বড় বাড়ি।

কিন্তু রিজিকের গল্পটা তার চেয়ে অনেক বড়।

সুস্থ শরীর রিজিক।
শান্তির ঘুম রিজিক।
পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময় রিজিক।
নামাজে দাঁড়ানোর তৌফিক রিজিক।
আর জীবনে থাকা ভালো মানুষগুলোও আল্লাহর দেওয়া রিজিক।

রিজিকের একটা অংশ আমরা খুঁজি।
আরেকটা অংশ আমাদের ঘিরেই থাকে।

বিপদ হলো—
প্রথমটার পেছনে ছুটতে গিয়ে দ্বিতীয়টাকে আমরা অনেক সময় দেখতে পাই না।

সারাদিন হিসাব করি-

কত টাকা এলো?
কত লাভ হলো?

কিন্তু খুব কমই ভাবি-

আজ মায়ের সঙ্গে কতক্ষণ কথা বললাম?

সন্তানের সঙ্গে শেষ কবে খেলেছি?

স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কবে নির্ভার হয়ে বসেছি?

অথচ একটা সময় আসবে—

টাকা থাকবে।
ব্যবসা থাকবে।
ব্যাংক ব্যালেন্সও থাকবে।

কিন্তু হয়তো মানুষগুলো থাকবে না।

তখন বুঝবেন,
যে মুহূর্তগুলোকে একসময় “সময় নষ্ট” ভেবেছিলেন,
সেগুলোই ছিল জীবনের সবচেয়ে দামি রিজিক।

তাই নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন—

আপনি কি রিজিকের পেছনে এতটাই ছুটছেন,
যে হাতের কাছের রিজিকগুলোই দেখতে পাচ্ছেন না?

ব্যবসা করবেন।
রোজগার করবেন।
সোর্স খুঁজবেন।

অবশ্যই করবেন।

কিন্তু জীবনটা শুধু রিজিক খোঁজার জন্য নয়-রিজিক উপভোগ করার জন্যও।

এই কারণেই 'পাইকার খুঁজি' -তে আমাদের একটা ছোট্ট উদ্দেশ্য

পাইকারি সোর্স খুঁজতে আপনার যে সময়টা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যায়, সেটা একটু বাঁচিয়ে দেওয়া।

যাতে সেই সময়টা আপনি দিতে পারেন-

আপনার মা-বাবাকে।
আপনার স্ত্রীকে।
আপনার সন্তানকে।
আপনার বন্ধুদের।
আর সবচেয়ে বড় কথা-নিজেকে।

কারণ দিনশেষে,

রিজিক শুধু টাকায় আসে না।
কিছু রিজিক মানুষ হয়ে আসে।

গত কয়েক দিনে আমাদের শেয়ার করা ১০টি পাইকারি সোর্স একসাথে পেতে কমেন্ট করুন “Riziq”। ফাইলটি চলে যাবে আপনার ইনবক্সে।

রিজিক খুঁজুন।
কিন্তু আপনার কাছে থাকা রিজিকগুলোও চিনতে শিখুন। ❤️

কানাডা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি কারিগরি ত্রুটির কারণে ইতালীর রোমে প্রায় ৪০ ঘণ্টা আটকে থাকে। ফ্...
13/08/2026

কানাডা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি কারিগরি ত্রুটির কারণে ইতালীর রোমে প্রায় ৪০ ঘণ্টা আটকে থাকে। ফ্লাইটে থাকা ২৫৯ যাত্রীর মধ্যে অন্তত ১৭০ জন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ইতালীয় ইমিগ্রেশনের অনুমতি না পাওয়ায় বিমানবন্দর ছাড়তে পারেননি। ফলে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরের ফ্লোরেই থাকতে হয়েছে।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয়ঃ একই বিমানের কানাডিয়ান ও মার্কিন পাসপোর্টধারীরা হোটেলে যেতে পারলেও বাংলাদেশিরা পারেননি। এটা শুধু একটি ফ্লাইটের দুর্ভোগ নয়; এটা আমাদের পাসপোর্টের মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা নিয়ে কঠিন প্রশ্ন।

দেশটাকে যারা লুটেপুটে খেয়ে বিদেশে পালিয়েছেন এবং যারা পালানোর জন্য অর্থ জমাচ্ছেন। আপনারা কি বাংলাদেশি পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে না...?

আপনাদের চুরির জন্যই গরিব বাঙ্গালী জাতি বিশ্বব্যাপী ঘৃণিত, অপমানিত ও অপদস্ত হচ্ছে।

অফিসের বস সেদিন একটা গল্প শুনাইলেন। গল্পটা আমার কাছে এতোটাই শিক্ষণীয় ছিল যে মনে হলো আপনাদের সাথে শেয়ার করি। বসের মাসিক ই...
09/08/2026

অফিসের বস সেদিন একটা গল্প শুনাইলেন। গল্পটা আমার কাছে এতোটাই শিক্ষণীয় ছিল যে মনে হলো আপনাদের সাথে শেয়ার করি।

বসের মাসিক ইনকাম যখন ২০-২৫ হাজার ছিল তখন তার একজন স্কুল বা কলেজ ফ্রেন্ডের স্যালারি ছিল ৬৫-৭০। এক পর্যায়ে স্কুল ফ্রেন্ডের স্যালারি দাঁড়ায় লাখ টাকায়। তখনও বসের স্যালারি ২৫-৩০ এর আশপাশেই। এরমধ্যে তার বন্ধুর আরও প্রমোশন হয়, বিয়েশাদী করে। এক পর্যায়ে অনেকদিন পরষ্পরের যোগাযোগ হয়নি। বা দেখা সাক্ষাৎ হয়নি।

এরমধ্যে গত কিছুদিন আগে বাড়ি গিয়ে কোন এক কাজে কোথাও যাওয়ার জন্য গাড়ির অপেক্ষা করার সময় হঠাৎ সেই বন্ধুর সাথে দেখা। বসের সেই বন্ধু অটো রিকশা চালাচ্ছে। উনি তো পুরো থ! কেইসে হো সাকতা। তাৎক্ষণিক কিছু জিজ্ঞেস না করে পরে একদিন বন্ধুর সাথে বসেছেন এর রহস্য জানতে।

মূলত এটাই গল্পের মূল শিক্ষণীয় পার্ট। ভালো স্যালারি পাওয়ার বন্ধুর সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু বিয়ের পর বউ নিয়ে এতো বেশি প্রমোভ্রমণে মত্ত হয়ে উঠেছিলো যে মনের অজান্তেই সে তার কাজের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে গেছিলো। এক পর্যায়ে অফিস পরিবর্তন করেছে, নতুন জায়গায় গেছে। সেখানেও সেইম সমস্যা। এভাবে অধপতন হতে হতে এক পর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে এলাকায় ফিরে গিয়ে অটো রিকশা চালানো শুরু করেছে।

এর পেছনে আরও অনেক রহস্য বা ঘটনা থাকতে পারে। বাট যেহেতু বন্ধু এইটাই বলেছে তার কাছে, তিনিও আমাদের এইটাই শুনিয়েছেন।

ব্যাপারটা সমসাময়িক যারা বিয়ে শাদী করছে তাদের অনেকের সার্বিক অবস্থার সাথে খানিকটা মিলে যায়। অনেকেই আসলে খেয় হারিয়ে ফেলেন।

বলে রাখি, বউ পরিবারকে সময় দেওয়া দোষের না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে রেসে টিকে থাকতে যদি বউ পরিবার আপনার সহযোগী না হয় বা আপনি তাদের সহযোগী না বানাতে পারেন এক পর্যায়ে ছিটকে পড়তে হবে।

অনেকেই বিয়ের বরকত বলতে বুঝেন শুধু টাকার বরকত হওয়া। অথচ কোথাও বিয়ের বরকত বলতে শুধু টাকার বরকত হবে এমন কিছু উল্লেখ করা নাই। সারাদিন কাজ শেষে আপনি যে দু মুঠ ভাত রেডি পাচ্ছেন এটাও বিয়ের বরকতের অংশ। আবার আপনার পরিবারকে যে তিনি আগলে রাখছেন আপনার প্রয়োজনীয় কাজে হেল্প করছেন এগুলোও কিন্তু বরকতই। এমনকি আপনার সার্বিক জরুরত কোন না কোন মাধ্যমে পূরণ হয়ে যাওয়াটাও বিয়ের বরকত হতে পারে।

এই বরকতগুলোকে যদি আাপনি প্রোপারভাবে গ্রহণ করতে পারেন তবে এর মাধ্যমে টাকার বরকত বের করে আনা সম্ভব। কিন্তু আপনি বিয়ের পর আপনার স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিকঠাক না করে যদি ভাবেন এমনি এমনিই স্যালারি বেড়ে যাবে, আসমান থেকে টাকা এসে পড়বে এসব ভুল ধারণা ভাই। এভাবে বরকত হবে না ভাই।

এক্ষেত্রে আসলে পরিবার বিশাল গুরুত্ব বহন করে। একজন পুরুষের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি গড়ে তুলতে যে পরিশ্রম ও সময় দেওয়া দরকার পরিবারের উচিত তাকে সে সময় ও পরিশ্রম দেওয়ার বিষয়ে হেল্প করা। সেটা না করে যদি শুধু সময় আর চাহিদাই পেশ করা হয় তবে জীবনভর একই ধাঁচে খেটেই যেতে হবে।

মুখোমুখি সম্পূরক হিসেবে আরেকটা গল্প মনে পড়ল। তবে সেটা বলব না। মূল কথাটা বলি। কিছু পুরুষ আছেন আবার পরিবার টরিবার তোয়াক্কা করেন না। বছরের পর বছর শুধু খেটেই যান। টাকা কামাই করেন। দিনশেষে বছরে একদিনও প্রিয় মানুষকে নিয়ে কোথাও ‍ঘুরতে যাওয়ারও সময় পান না। এটাও মারাত্মক ভুল। এবং এমন ভুলে অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হলেও সাংসারিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পুরুষ মানুষ হিসেবে সবকিছুর মধ্যেই ব্যালেন্স করতে পারাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এইটা আমাদের করতে শিখতে হবে।

জাওয়াদ আহমাদ

এশার নামাজের পর প্রতিদিনের মতো মসজিদে বসে ছিলাম। কয়েক দিন ধরেই একটি ছেলেকে লক্ষ্য করছি। জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা প্রায় প্...
31/07/2026

এশার নামাজের পর প্রতিদিনের মতো মসজিদে বসে ছিলাম। কয়েক দিন ধরেই একটি ছেলেকে লক্ষ্য করছি। জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা প্রায় প্রতিটি ওয়াক্তেই সে তাকবিরে উলার সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করে। নামাজের পর চুপচাপ মসজিদের কোনো এক কোণে, একটি ফ্যানের নিচে বসে কোরআন তিলাওয়াত করতে থাকে।

আজ সুন্নত শেষ করে তার কাছে গেলাম। দেখলাম, সে গভীর মনোযোগে সূরা মুলক তিলাওয়াত করছে। কিছুক্ষণ নীরবে তার তিলাওয়াত শুনলাম....!

কৌতূহলবশত তার সম্পর্কে জানতে চাইলাম।
জানলাম, তার নাম রনি। সিলেট বন্দর বাজার একটি দোকানে কাজ করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করে সংসারে সাহায্য করে। আর তার বাবা একজন রিকশাচালক। মুহূর্তের জন্য আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।

যে বয়সে অনেক তরুণ মোবাইলের পর্দায় ডুবে থাকে, অকারণে সময় নষ্ট করে, সেই বয়সে এই ছেলেটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নশীল, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। দুনিয়ার কষ্ট তাকে আল্লাহর ঘর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়নি, বরং আরও কাছে নিয়ে এসেছে।

হয়তো তার পকেটে অনেক টাকা নেই, হয়তো তার পরিচয় দেওয়ার মতো বড় কোনো পদবী নেই। কিন্তু আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা আমাদের অনেকের চেয়ে কত বেশি তা কে জানে?

রনিদের দেখলে মনে হয়, এই পৃথিবী এখনও ভালো মানুষের কারণে টিকে আছে। আল্লাহ এই সন্তানকে দ্বীনের পথে অটল রাখুন, তার রিজিকে বরকত দিন, তার বাবা-মায়ের কষ্টগুলো সহজ করে দিন। আমিন।

Address

Naogaon

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MR Saroar posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share