18/04/2026
বিরক্তির এক চরম সীমা আর মধ্যবিত্ত জীবনের ‘মশলাদার’ কমেডি নিয়ে একটা ছোট গল্প নিচে দেওয়া হলো:
# # **বিঘ্নরাজ বিমলদা ও রোববারের খাসির মাংস**
অনিমেষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হলো রবিবার দুপুরবেলা আয়েশ করে কষানো খাসির মাংস আর ভাত খেয়ে একটা লম্বা ঘুম দেওয়া। কিন্তু এই শান্তির পথে পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন পাশের বাড়ির **বিমলদা**। বিমলদা এমন এক মানুষ, যিনি বিনা নিমন্ত্রণে ঢোকার ব্যাপারে অলিম্পিকে সোনা পেতে পারেন।
# # # **ঘটনার সূত্রপাত**
ঠিক দুপুর ১:৩০। মাংসের গন্ধে সারা পাড়া ম ম করছে। অনিমেষ সবে প্রথম গ্রাসটা মুখে তুলতে যাবে, ঠিক তখনই কলিং বেলটা বেজে উঠল।
**টিন-টিন-টিন-টিন...** (যেন কেউ হারমোনিয়াম বাজাচ্ছে!)
দরজা খুলতেই দেখা গেল দাঁত বের করে দাঁড়িয়ে আছেন বিমলদা। হাতে একটা ফাটা টেনিস বল।
> "কিরে অনিমেষ? কী রান্না হচ্ছে রে? গন্ধটা তো একদম যোধপুর পার্কের ক্যাটারারের মতো!"
>
# # # **বিরক্তির ক্লাইম্যাক্স**
অনিমেষ মনে মনে চাইল বিমলদাকে ওখানেই পুঁতে দিতে, কিন্তু মুখে বলল, "এই তো বিমলদা, সামান্য খাসির মাংস।"
বিমলদা জুতো খুলে সোজা ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসলেন। "জানিস অনিমেষ, ডাক্তার বলেছে আমার ইউরিক অ্যাসিড হাই, মাংস ছোঁয়াই বারণ। কিন্তু তোর বৌমার হাতের রান্না... আহারে! একটু ঝোল দিয়ে টেস্ট করে দেখি?"
অনিমেষের স্ত্রী অগত্যা এক বাটি মাংস দিয়ে গেল। বিমলদা খেতে শুরু করলেন আর সাথে চলল অবান্তর সব গল্প:
* কীভাবে ১৯৭৮ সালে তিনি একটা আস্ত পাঁঠা একাই খেয়েছিলেন।
* কেন পাড়ার মোড়ের হারু মোদকের জিলিপি এখন আর আগের মতো নেই।
* এবং কীভাবে প্যান্টের চেইন আটকে গিয়ে একবার তিনি নাজেহাল হয়েছিলেন।
# # # **মশলাদার মোড়**
অনিমেষের সহ্যশক্তি তখন Lim \to \infty (অসীমের দিকে ধাবমান)। বিমলদা নিজের বাটি শেষ করে অনিমেষের থালার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকালেন।
ঠিক তখনই অনিমেষের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সে গম্ভীর হয়ে বলল, "জানেন বিমলদা, আমাদের এই রান্নায় আজ এক বিশেষ মশলা দিয়েছি। মেক্সিকোর এক তান্ত্রিক সাধুর দেওয়া **'জ্বালামুখী লঙ্কা'**। খাওয়ার ১০ মিনিট পর থেকে পেটের ভেতর যেন আগ্নেয়গিরি ফাটে!"
বিমলদা থমকে গেলেন। "বলিস কী? ঝাল তো বেশ ভালোই লাগছে!"
অনিমেষ ফিসফিস করে বলল, "শুধু ঝাল নয় বিমলদা, এই মশলা খেলে নাকি মানুষের পুরনো কথা ভুলে যাওয়ার রোগ হয়। এই তো পাশের বাড়ির ননী জেঠু খেয়ে এখন নিজেকে ট্রাম্পের নাতি বলে দাবি করছেন!"
# # # **ফলাফল**
বিমলদার মুখটা মুহূর্তের মধ্যে শুকিয়ে আমসি হয়ে গেল। তিনি থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়ালেন।
> "অ্যাঁ! বলিস কী? আমার তো এমনিতেই প্রেশার বেশি। চলি রে অনিমেষ, বাড়িতে মনে হয় ইস্ত্রিটা প্লাগে দিয়ে এসেছি!"
>
বিমলদা এমন দৌড় দিলেন যে, টেনিস বলটা নিতেও ভুলে গেলেন। অনিমেষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে নিজের থালাটা টেনে নিল।
# # # **উপসংহার**
বিরক্তি দূর করতে মাঝে মাঝে একটু 'মিথ্যে মশলা' ছড়িয়ে দেওয়াই ভালো। অন্তত আগামী তিন রবিবার বিমলদাকে আর এ বাড়িতে দেখা যাবে না, এটা নিশ্চিত!
আপনার জীবনেও কি এমন কোনো 'বিমলদা' মার্কা চরিত্র আছে যে বিনা নোটিশে উদয় হয়? #গল্প