16/10/2024
ঘটনা-দুটি যতবারই পড়ি, শিহরিত হই.......!
❙ ঘটনা - ১ ❙
“বাগদাদে বাস করত এক মুয়াজ্জিন...।
যার নাম ছিল সালেহ। সালেহ মুয়াজ্জিন নামে প্রসিদ্ধ ছিল সে। প্রায় চল্লিশ বছর আজান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছিল। তার সততা ও সদাচার কারো অজানা ছিল না। সকলেই তাকে খুব ভালো জানত। সত্যিই সে ছিলও তেমনই। একদিনের কথা। মুয়াজ্জিন সালেহ আজান দিতে মসজিদের মিনারায় উঠেছে।
এমতাবস্থায় তার চোখ পড়েছে মসজিদ-সংলগ্ন বাড়িতে থাকা এক খ্রিষ্টান রমণীর দিকে। দেখামাত্রই সে তার প্রেমে পড়ে যায়। এরপর সে সব ফেলে সেই রমণীর কাছে পৌঁছায়।
দরোজায় কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে আওয়াজ আসে, কে...? জবাবে সে বলে, আমি সালেহ মুয়াজ্জিন। দরোজা খুলে দিলেই সালেহ মেয়েটিকে স্প*র্শ করতে চায়।
নিরুপায় হয়ে মেয়েটি বলে,
আপনারা তো আমানতদার! তবে এ কেমন খেয়ানতের আচরণ করছেন? সালেহ বলে, যদি আমার কথা না শোনো, তাহলে প্রা*ণে মে*রে ফেলব। ‘আপনার কথা শুনতে পারি, তবে আপনাকে ইসলাম ত্যাগ করতে হবে।'—বলে মেয়েটি।
সালেহ তৎক্ষণাৎ বলে ফেলে, 'আমি ইসলাম ত্যাগ করলাম, মুহাম্মদ আনীত কোনো কিছুর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।' মেয়েটি বলে, 'এভাবে বললে তো হবে না; হতে পারে আপনার কামনা চরিতার্থ করে আপনি আবার ইসলাম গ্রহণ করবেন; তা হবে না। স্থায়িত্বের প্রমাণস্বরূপ আপনাকে শূক*রের মাংস খেতে হবে।
সালেহ তা-ই করে। তারপর তাকে ম'দ'পান করতে বলা হয়; সে তাও করে। সব কথা শোনার পর যখন আবার সে মেয়েটিকে স্পর্শ করতে যায়, তখন মেয়েটি অন্দরমহলে গিয়ে দরোজা আটকে দেয় এবং সালেহকে বলে ছাদে ওঠে অপেক্ষা করতে—যেন মেয়েটির বাবা এসে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারে।
এবার সে তা-ই করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ছাদ থেকে পড়ে সে মা*রা যায়। তারপর বেরিয়ে এসে মেয়েটি তাকে একটি কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে রাখে। তার পিতা ঘরে ফিরলে সে তাকে সব খুলে বলে। অতঃপর রাতের অন্ধ'কারে শহরের গলিতে ফেলে দেওয়া হয় সালেহ মুয়াজ্জিনের লা*শ। পরদিন সকালে ঘটনা জানাজানি হলে,সালেহের জায়গা হয় ময়লার স্তূপে!”
কুদৃষ্টির ফলাফল কতটা ভয়ংকর হতে পারে তার উপমা এই ঘটনাটি। বর্ণনা করেছেন আল্লামা ইবনুল জাওযি রাহিমাহুল্লাহ।
(জাম্মুল হাওয়া, পৃষ্ঠা ৪০৯)
বইঃ নজরের হেফাজত, পৃষ্ঠা ৫৫-৫৬।
আসলে মৃ*ত্যু'র আগে কেউই ফিতনামুক্ত নয়! সারাজীবন হকের পথে থেকে, মৃ*ত্যু'র আগে ঈমান হারিয়ে মৃ'ত্যু'বরণ করার মতো ভয়ানক আর কি হতে পারে! আল্লাহুম্মাগফিরলি!
হিদায়াত এমন এক জিনিস, হতেও পারে আপনি সারাজীবন আপনি সারাজীবন নেককার ছিলেন, কিন্তু মৃ'ত্যু'র আগে এমন একটা কাজ করে ঈমানহারা হয়ে মৃ'ত্যু'বরণ করলেন! আল্লাহ মাফ করুন।।।
❙ ঘটনা - ২ ❙
বারসিসার ঘটনাটাও ঠিক এমনই......।।
বারসিসা ছিল খুব ইবাদাত গুজার লোক।
যু*দ্ধে যাবার আগে তিন ভাই তাদের একমাত্র বোনকে বারসিসার জিন্ময় রেখে যেতে চাইলো। প্রথমে না করলেও ভাইদের পীড়াপীড়িতে অবশেষে বারসিসা রাজি হল। ঠিক হলো বারসিসা থাকবে তার নিজের বাসায়। আর মেয়েটি থাকবে অন্য এক বাসায়। রোজ খাবার তৈরি করে মেয়েটির ঘরের দরজায় রেখে আসতো বারসিসা। কথা বলতো না। কিছুদিন কেটে গেল এভাবে। কিন্তু আস্তে আস্তে বারসিসা শয়'তানের ফাঁদে পা দিল।
শয়তান তাকে বোঝালো এভাবে খাবার দিয়ে চলে আসা তো অভদ্রতা, তাকে ডেকে খাবার দিয়ে আসো। বারসিসা তাই করতে শুরু করল। তারপর শয়তান বলল তার সাথে দুই একটা কথা বল কথা বললে আর কি হবে? সে তাই করলো।
তারপর শয়তান বলল ঘরের মধ্যে বসে একটু কথা বললে আর কি হবে? মেয়েটা সারাদিন একা একা থাকে। বারসিসা শয়তানের কুমন্ত্রণায় সারা দিলো। এভাবে একটু করলে কি হয় থেকে শুরু করে একপর্যায়ে বারসিসা সেই মেয়ের সাথে যি*না করলো। মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে সন্তান জন্ম দিল।
ততদিনে ভাইদের ফেরার সময় হয়ে গিয়েছে। বারসিসা প্রচন্ড ভয় পেলো। শায়তান এবার বুদ্ধি দিল ভাইয়েরা যদি এসে এই অবস্থা দেখে তাহলে তোমাকে কঠিন শা*স্তি দেবে। তুমি বরং ঝামেলা মিটিয়ে ফেলো।
শয়তানের পরামর্শে বার্সিসা সেই মেয়ে ও তার সন্তানকে খু*ন করে ক'বর দিল। ভাইয়েরা ফিরলে কান্নাকাটি করে বলল তোমাদের বোন অসুখে মা*রা গেছে। ওইখানে ক'বর দিয়েছে। ভাইয়েরা কান্নাকাটি করে চলে গেল।
কিন্তু রাতে শয়তান গিয়ে স্বপ্নের মাধ্যমে তিন ভাইকে সত্যটা জানিয়ে দিল। পরদিন তিন ভাই মিলে বারসিসার কাছে আসলো। মেয়েটির কবরে তার সন্তানের লা*শ'ও দেখতে পেল। নিশ্চিত হল বারসিসাই তাদের বোনকে হ*ত্যা করেছে। তারা বারসিসাকে মে*রে ফেলা সিদ্ধান্ত নিলো। তারা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন শয়তান এসে বারসিসাকে বললো তুমি যদি আমাকে সিজদা করো তাহলে আমি তোমাকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করব। বারসিসা তাই করল। তারপর? তারপর শয়তান বারসিসাকে ত্যাগ করলো।
এভাবে একটু কথা বললে কি হয়__একটু তাকালে কি হয়__এই একটু একটুর ফাঁদে পরে বারসিসা জি*না করলো,খু*ন করলো, শি'রক করলো,তারপর তাকে সেই অবস্থায় ম*রতে হলো।
(বই-আকাশের ওপারে আকাশ)
এই ঘটনা দুটিতে দুজনই বড়ো বুজুর্গ ছিলেন!
কিন্তু মৃ'ত্যুর আগে আর ঈমান নিয়ে যেতে পারলেন না, সারাজীবনের এতো আমলের আর দাম থাকলো না!
একদিন মাত্র নজরের হেফাজত না করায় তার এমন নি*র্ম'ম মৃ'ত্যু হলো, আর বারসিসার ঘটনার মতো আমরাও ছোট ছোট গুনাহের ব্যাপারে ছাড় দিয়ে ফেলি ,যা আস্তে আস্তে আমাদের বড় গুনাহের দিকে নিয়ে যায়।
মানুষ আগেই সোজাসুজি হা'রা'ম রিলেশনে পা বাড়ায় না। আগে নজরের খেয়ানত করে, ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকায়, তারপর ভাবে একটু কথা বললে কি হয় , এভাবে একটু একটু করে করে বড় মারাত্মক গুনাহ করে ফেলে।
এভাবে ছোট ছোট গুনাহগুলোই বড় গুনাহের দিকে ঠেলে দেয় , যেভাবে বারসিসাকে ঠেলে দিয়েছে শি'রক এর দিকে , আর সেই অবস্থায় মৃ'ত্যু।
ঈমান ছাড়া তো আমলের কোনোই মূল্য নেই, ঠিকই যেমন প্রাণ ছাড়া দেহের কোনো মূল্য নেই!
ঠিক এইভাবেই হিদায়াত হারিয়ে যায়!
আল্লাহর কাছে এইজন্য আমাদের বেশি বেশি কান্নাকাটি করে দুআ করা উচিত যেন আল্লাহ আর সবকিছু নিয়ে গেলেও হিদায়াতটা না নিয়ে নেন!
হিদায়াতের চাইতে মূল্যবান আর কি হতে পারে?
এজন্য সবসময় এই দুআ করতে যেন না ভুলি,
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
অর্থঃ হে অন্তর পরিবর্তনকারি! আমার অন্তর তুমি তোমার দীনে সুদৃঢ় রাখ।
[জামে আত তিরমিজী : ৩৫২২]
এবং,
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর আপনি আমাদের অন্তরকে বক্র করে দিয়েন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদেরকে করুণা দান করুন । নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।
(সূরাহ আলে ইমরানঃ আয়াত ৮)।
ইয়া রব্ব, আপনি আমাদের মৃ'ত্যু পর্যন্ত বা'তি'লের বি'রু!দ্ধে আপোসহীন থাকার এবং দৃঢ়চিত্তে হ'কের পথে ঈমানের সাথে থাকার তাওফিক দিন, ঈমানের সাথে শা*হা*দা!তের মৃ'ত্যু দিন।
আমীন।
লেখা : Samiha Bint AH