07/03/2026
খাদীজাহ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহার সম্পদ নিয়ে ব্যবসা:
নাফিসা বিনতে মুনিয়াহ থেকে ইবনে সা‘দ, ইবনুস সাকান ও আবু নু‘আইম রাহিমাহুমুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পঁচিশ বছর বয়সে উপনীত হন, উত্তম গুণাবলির কারণে তখন মক্কায় আল-আমিন ছাড়া তাঁর আর কোনো নাম ছিল না।
আবু তালিব তাঁকে বলেছিলেন: হে ভাতিজা! আমি এমন একজন ব্যক্তি যার কাছে অর্থ নেই এবং সময়ও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একের পর এক মন্দার বছর আমাদের ওপর চেপে বসেছে। আমাদের কাছে না আছে কোনো সম্পদ, না আছে ব্যবসা। সম্প্রতি তোমার গোত্রের লোকদের বাণিজ্য কাফেলা শামের উদ্দেশ্যে রওনা হতে চলেছে। খাদীজাহ বিনতে খুওয়াইলিদ তোমার গোত্রের উপযুক্ত পুরুষ খুঁজে বাণিজ্যিক কাফেলার সাথে পাঠায় এবং তারা খাদীজার হয়ে তাঁর অর্থ নিয়ে ব্যবসা করে। এর বিনিময়ে তারা মুনাফা পায়। তুমি তাঁর কাছে গিয়ে নিজের আগ্রহের কথা তাঁকে বললে নির্দ্বিধায় সে তোমাকে দায়িত্ব দিবে এবং অন্যদের চেয়ে তোমাকে অগ্রাধিকার দিবে। কারণ ইতোমধ্যে সে তোমার সচ্চরিত্রতা ও আমানতদারিতা সম্পর্কে খবর পেয়েছে, যদিও তোমার শামে যাওয়াটা আমি অপছন্দ করি এবং তোমার ব্যাপারে ইয়াহূদীদের ভয় করি, কিন্তু এছাড়া আমরা কোনো উপায়ও দেখছি না।
কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের লজ্জা ও আত্মমর্যাদাবোধ তা করতে কোনোভাবেই সায় দিচ্ছিল না। তাই তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবকে বললেন: “আমার বিশ্বাস—খাদীজাহ নিজেই আমার কাছে ব্যবসায়ের প্রস্তাব পাঠাবে।”
আবু তালিব বললেন: আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, সে তোমার পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে দেয় কিনা (তুমি না গেলে), তখন তুমি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পিছনে ছুটবে।
কথাবার্তা শেষে দু’জন যে যার মতো আলাদা হয়ে গেলেন। এদিকে খাদীজাহ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহার কাছে তাদের চাচা-ভাতিজার কথোপকথন পৌঁছে যায়। তিনি আগে থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যভাষণ ও সর্বোচ্চ আমানতদারিতা সম্পর্কে জানতেন।
খাদীজাহ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা বললেন: আমার জানা ছিল না যে, তিনি (মুহাম্মাদ) যেতে রাজি হবেন।
তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে লোক মারফত প্রস্তাব পাঠালেন এবং বললেন যে, আমি আপনার কথার সত্যতা, সর্বোচ্চ আমানতদারিতা ও চারিত্রিক সুষমা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আর আপনার এসব গুণ আমাকে এই প্রস্তাব দিতে উৎসাহিত করেছে। (আপনি আমার প্রস্তাবে রাজি হলে) আমি আপনাকে আপনার গোত্রের অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ লভ্যাংশ দিব।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা)র এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলেন। তারপর তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে দেখা করে তাঁকে বিস্তারিত বিষয় অবহিত করেন। সব শুনে আবু তালিব বললেন: ‘নিঃসন্দেহে এই রিযিক আল্লাহ তা‘আলা তোমার কাছে টেনে এনেছেন।’
সফরের সময় হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা)র দাস মাইসারাকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। খাদীজাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) তার দাস মাইসারাকে বললেন: ‘তাঁর আদেশ অমান্য করো না, তাঁর মতের বিরুদ্ধাচারণ করো না
বই: উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদা খাদীজাহ [জীবন ও কর্ম]
মূল: আবদুল হামীদ মাহমুদ তহমায
অনুবাদ: মিজানুর রহমান ফকির
সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া