Israt Jahan Razia

Israt Jahan Razia Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Israt Jahan Razia, Digital creator, Narayanganj.

� আইডিয়া থেকে কনটেন্ট — আমি তৈরি করি গল্প �
� ভিডিও • � ভয়েস • � আইডিয়া
� সৃজনশীলতা যার নেশা, কনটেন্ট যার ভাষা
� কল্যাবরেশন/প্রোমো: ইনবক্স করুন
� বাংলাদেশ |

টিউশনিতে গিয়ে দেখলাম ছাত্রের মা-বাবা তুমুলঝগড়া। আমার কাছে ব্যাপারটা কেমন অস্বস্তিকর মনে হলো। তবুও ঝগড়ার মাঝে যেহেতু ঢুকে...
20/11/2025

টিউশনিতে গিয়ে দেখলাম ছাত্রের মা-বাবা তুমুলঝগড়া। আমার কাছে ব্যাপারটা কেমন অস্বস্তিকর মনে হলো। তবুও ঝগড়ার মাঝে যেহেতু ঢুকেই পড়েছি বিষয়টা খতিয়ে না দেখলেই নয়৷
এদিকে আমার ছাত্র খুব মনোযোগ দিয়ে বাবা-মায়ের ঝগড়ার মাঝে কথা গিলছেন। ফাঁকিবাজ ছেলেটার চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে, সে আজ পড়ার মোডে নেই৷
যাইহোক আমি নিচু গলায় আন্টিকে জিজ্ঞেস করলাম, -কি হয়েছে আন্টি? কোনো সমস্যা?,,,,

আন্টি কিছু বলার আগেই ছাত্রের বাবা বলে উঠলো,
-কি আবার হবে? তোমরা তো সবই বুঝো?বর্তমান যুগে কাউকে বিশ্বাস করাটা কত ভয়ানক ব্যাপার! আর সে বিশ্বাস যদি নিজের ঘরের বউ ভেঙে দেয়। তাহলে আর বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই মরে যায়।

আংকেলের কথাটা মাথার উপরে দিয়ে গেল। এই বয়সে আন্টি কি এমন করে বসলো? যে তার বিশ্বাস ভেঙে গেছে? তাদের বড় ছেলে এবার অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র।

যাইহোক,নিজের মনকে প্রশ্ন করলে উলটাপালটা উত্তর আসবে। তাই আংকেলকে আবার জিজ্ঞেস করলাম,
-কি করেছে আন্টি?

ব্যস,এখন গড়গড় করে সব বলতে লাগলো আংকেল।
-দ্যাখো না মা! আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ৷ এতো ছলচাতুরী কি আমাদের মানায়? তুমি আমার ছেলেকে পড়ানো বাবদ কতো টাকা সম্মানী পাও?

-আমি তো ২০০০ টাকা।

-দেখেছো? আর তোমার আন্টি এতো মাস আমার থেকে তোমার কথা বলে ৩০০০ টাকা করে নিতো। শুধু তাই নয়।বড় ছেলের কলেজ, ভার্সিটি, হাত-খরচ সব কিছুতেই বাড়িয়ে বলে আমার কাছ থেকে নিয়েছে। ছোট ছেলের ভর্তি ফি যদি হয় ১ হাজার উনি নিয়েছে ৭ হাজার। বাড়িওয়ালার ভাড়া তো একই কিন্তু কারেন্ট বিলের ক্ষেত্রেও সবসময় আমাকে বাড়িয়ে বলে। আশ্চর্য এগুলো কি? আমাকে এতো কেন মিথ্যে বলতে হবে তার? আমি কি খুব খারাপ স্বামী? তাকে কি আমি না খাইয়ে রাখি? তবে কেন এতো মিথ্যার আশ্রয়?
এটা কি আমার বিশ্বাস ভাঙা নয়? কেন সব জায়গায় তার ১ টাকার ক্ষেত্রে ৭ টাকা বাড়িয়ে বলার অভ্যাস? তার যদি টাকার এতোই প্রয়োজন। আমার কাছে চাইতে পারতো। আমি তো দেখি না, তার কোনো কিছুর অভাব আছে? তাহলে কেন এই ছল আমার সাথে?

কথাগুলো শুনে আমিও একটু অবাক হয়ে গেলাম। আংকেলের কথা তো সত্যিই।কিসের এতো অভাব আংটির? যার জন্য এতো মিথ্যে বলে টাকা বাড়িয়ে নিতে হয়?আংকেলের কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক।

আরও অবাক হলাম৷ আন্টি কিছুতেই স্বীকার করছে না। আর সে সোজা বলে দিলো, আমার কাছে কোনো টাকা নেই।
আমি উনাদের পারিবারিক ব্যাপার নিয়ে কোনো কথা বললাম না।
-হয়তো আপনাদের দুজনেরই কোথাও একটা ভুল হচ্ছে।ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাপারটা সামলানোর কথা বলে চলে এলাম।

পরদিন আবার পড়াতে গিয়ে দেখলাম পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তার মানে, এটা ভুল বুঝাবুঝি ছিল৷
আমিও আগ বাড়িয়ে কখনও আন্টিকে এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করি নি।
তবে মাস দুয়েক পর।ছাত্রের বাবা আমাকে বললো,
-নওমি,আমার ছেলেকে সামনে মাস থেকে আর পড়াতে এসো না।আসলে কি করবো বলো তো? হঠাৎ করে আমার চাকুরিটা চলে গেছে। নতুন চাকুরি খুঁজতেও তো মাস দুয়েক লেগে যাবে। তাই বলছি আমরা আবার, তোমাকেই ডাকবো পড়ানোর জন্য। এখন চলতে একটু সমস্যা হয়ে যাবে।

কথাটা শুনে আমার কাছে খুব খারাপই লাগলো। এদিকে সামনে আলভির বার্ষিক পরিক্ষা ঘনিয়ে এসেছে। ও তো এমনিতেই ফাঁকিবাজ। আর নিজে নিজে কিভাবে পরিক্ষা দিবে?
ভাবতে ভাবতেই পাশেই রুম থেকে আন্টি এসে বললো,
-তুমি নওমিকে না করে দিচ্ছো কেন? জানোনা, আলভির পরিক্ষা ঘনিয়ে এসেছে?

-হ্যাঁ তো কি করবো? এখন তো আমার চাকুরিটা নেই।

-চাকুরি নেই তো কি হয়েছে? আমি আছি না? ওর বেতন নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। তোমার ৬ মাসও যদি চাকুরি না থাকে, আমি তোমার সংসার আর তোমার ছেলেদের ঠিক আগের মতো করেই চালাতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

আংকেল রীতিমতো অবাক হয়ে গেলো।
-মানে? কিভাবে সম্ভব? তোমার ইনকামের তো কোনো রাস্তা নেই। এতো টাকা কোথায় পাবে?

-সেদিন তো ওর সামনে আমাকে কত কথা শুনালে।আমি বিশ্বাস ভেঙেছি। তোমার কাছে বাড়িয়ে বলে টাকা নেই৷ তখন আমি তোমার সাথে তর্ক করি নি। আজ বলছি কেন টাকা নেই জানো? বিপদের কোনো হাত পা নেই৷ হঠাৎ কোথায় কোন কাজে লেগে যায় বলা যায় না। আর তোমার কাছ থেকে কম নিলেও এই টাকাটা কি তুমি রাখতে পারতে বলো? পারতে না!আমি নেই বলে কি খরচ করে ফেলি? না। ওই তো, সেদিন তোমার বড় ছেলে এসে বললো, ভার্সিটি থেকে পিকনিকে যাবো টাকা দাও৷ দিয়ে দিলাম। কই তখন তো তোমার কাছে আমি চাই নি? ছোট ছেলেটাকে নিয়ে যখন স্কুলে যাই। ছেলেটা বায়না ধরে মামুনী এটা কিনে দাও,ওটা কিনে দাও। কই কখনও তোমার কাছে আলাদা করে সেই টাকা নিয়েছি? টীচারের বেতন, বাড়িওয়ালার ভাড়া,বুয়ার বেতন, ময়লার বিল, ওয়াইফাই বিল থেকে শুরু করে সব কিছুর টাকা তুমি আমার হাতে ১৫ তারিখের পরে দাও।
অথচ তুমি জানোই না, আমি এগুলো প্রতি মাসে ৩ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করি। এতে করে পাওনাদারদের কাছে সম্মান বজায় থাকে। আর সেই সম্মান কি শুধু আমার? শুধু আমার না তোমারও। কারণ তুমি আমার স্বামী। তোমার কাছে আলাদা ভাবে যদি ১০০ টাকা চাই। তুমি কি দিবে আমাকে? কোনো কারণ ছাড়া ১০০ টাকা? দিবেনা।কারণ, তার জন্য তোমার কাছে আমার ১০০ টা কৌফেয়ত দেওয়া লাগবে।আর তুমি আমাকে কি করে বলতে পারলে আমি বিশ্বাস ভেঙে ফেলছি? তোমার কাছে বাড়িয়ে বলি ঠিকই কিন্তু তা এ সংসারেই কাজে লাগাই। কেন বলতো? এ সংসারটা যে আমার। আমার সংসার বাঁচিয়ে রাখার দ্বায়িত্বও আমারই।
আন্টির কথা শুনে আমারই গর্ব হচ্ছে। আংকেল তো রীতিমতো বাকরুদ্ধ অবস্থা। ঘরের লক্ষী বুঝি একেই বলে! তার বড় একটি উদাহরণ তো এই পরিস্থিতি।কিন্তু, কত সহজে একজন পুরুষ তাদের ভুল বুঝে ফেলে। আপনি ঘরের কর্তা ঠিক আছে। মাস শেষে কিছু টাকা বেহিসেবীভাবে ঘরের বউকে দিয়ে রাখুন। কখনও এর হিসেব চাইবেন না। দেখবেন কোনো এক বিপদের দিনে অবলম্বন হিসেবে আপনার বউ আপনার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এতে করে বাইরে কারও কাছে আপনার ছোট হতে হবে না। খারাপ সময় আসাটা স্বাভাবিক।সবাই জীবনের কোনো না কোনো এক সময় আর্থিক সংকটে পড়ে। তবে, তা মোকাবেলায় সহধর্মিণীকে পাশে পাওয়াটা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।

#বিশ্বাস

লেখাঃফাতেমা_আক্তার_নওমি।
ফ্যানপোস্টঃলিখালিখি

20/11/2025
শাহেদের ওয়াইফ দিন দিন মোটা হচ্ছে। তার মেজাজ খারাপ। সে সেক্সে ফ্যান্টাসি পছন্দ করে। কিন্তু এই শরীর নিয়ে মোনা বিশেষ সময়ে ত...
20/11/2025

শাহেদের ওয়াইফ দিন দিন মোটা হচ্ছে। তার মেজাজ খারাপ। সে সেক্সে ফ্যান্টাসি পছন্দ করে। কিন্তু এই শরীর নিয়ে মোনা বিশেষ সময়ে তার সাথে পেরে উঠেনা। হাঁপিয়ে উঠে। তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। মেজাজ খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেক্স জীবনের খুব গূরুত্বপূর্ণ বিষয়। পৃথিবীতে তিনটা কারণে অপরাধ হয় – অর্থ, ক্ষমতা আর সেক্স। সুতরাং এটাকে গৌণ করে দেখার কোন সুযোগ নেই। শাহেদ এটাই বিশ্বাস করে। এখন তার প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হচ্ছে। একটু আগে ইন্টারকোর্স করেছে। কিন্তু আকাংক্ষা মিটে নাই। সেকেন্ড এটেম্পট নিতে যেতেই মোনা বলে, “আবার করবা? ...... আচ্ছা আসো।” এই অনাগ্রহ দেখে শাহেদের মুড চলে গেছে। “আচ্ছা বাদ দাও” বলে সরে এসেছে। মোনা আর কথা বাড়ায়নি। ওয়াশরুম থেকে এসে দেখে মোনা গভীর ঘুমে। বিশ্রী করে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।
শাহেদ বারান্দায় এসে বসে সিগারেট ধরাল। মেজাজ খারাপ, এখন ঘুম আসবেনা। এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে তাদের সুখী পরিবার। অন্তত বাইরে থেকে সেটাই মনে হয়। কিন্তু তার এই ফ্রাস্ট্রেশন তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। বাচ্চা হলেই এত মোটা-বেসাইজ হতে হবে? মেজাজ ঠান্ডা করতেই পারছেনা। শাহেদ একদলা থুথু নিচের রাস্তায় ফেলল।
মোনার শারিরীক সমস্যার কথা শাহেদ ভাবছে। মোনার থাইরয়েড আছে। কিছু না খেলেও ওয়েট গেইন হয়। সে না খেয়ে না খেয়ে চেষ্টা করছে ওয়েট লুজ করার। কিন্তু হচ্ছেনা। বাড়ছেই। ডাঃ জাহাঙ্গীরের ভিডিও দেখে দেখে এপেল সিডার সহ আরও কি সব কিনে ঘর ভরায়ে ফেলছে। আরও এটা খায়, ওটা খায়। কিন্তু লাভ হচ্ছেনা। সে চেষ্টা করছে, কিন্তু যেটা করতে বলা হচ্ছে সেটা করেনা। শাহেদ পরামর্শ দিয়েছিল জিমে ভর্তি হওয়ার জন্য। সেটা হবেনা। সাইক্লিং মেশিন, ট্রেডমিল কিনে দিয়েছিল। ওগুলা এখন কাপড় রাখার আলনায় পরিণত হয়েছে। একদিন ব্যবহার করেছে কিনা সন্দেহ। না খেয়ে না খেয়ে স্লিম হওয়া যায়? শাহেদের রাগটা এখানেই।
ভাল কিছু ভাবা যাক। ভাবল শাহেদ। ভাবতেই অফিসের শায়লা আপুর কথা মাথায় আসল। শায়লা আর সে প্রায় সেম এজ হলেও আপু ডাকে। শায়লা আপুর তিন সন্তান। থাইরয়েড, ডায়াবেটিস সবই আছে। কিন্তু কি সুন্দর ফিগার মেইনটেইন করে। দেখে মনে হয় ইন্টারে পড়ুয়া কোন মেয়ে। শায়লা আপুর হাজব্যান্ডকে শাহেদ ঈর্ষা করে। কি বৌ পাইছে। উফ! “পুরা একটা মাল। সেরকম সেক্সি। এরকম পাইলে সে পুরাপুরি সুখী হইত।” ভাবল শাহেদ। শায়লা আপুর কথা ভাবতেই শাহেদ খানিকটা উত্তেজিত হলো। ওর সাথে অফিসের বাইরেও মাঝে মাঝে সময় কাটায়। সময় কাটানো মানে রেস্টুরেন্টে, চায়ের দোকানে বসে। শায়লা আপুর সাথে হাজব্যান্ডের সম্পর্ক ভালো না। কি জানি ঝামেলা আছে। শায়লা আপু এটা শেয়ার করতে চায়না আর সে কোনদিন জিজ্ঞাসাও করেনি।
অফিসের ঢোকার আগে যথারীতি শাহেদ চা খেয়ে ঢুকলো। ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে শায়লা আপু চলে আসছে। শায়লা তার পাশেই বসে। আজকে শাড়ি পরে আসছে। এমনিতেই সে অসাধারণ সুন্দরী তার উপর শাড়ি পরায় সৌন্দর্য অসহ্য পর্যায়ে গিয়ে ঠেকছে।
শাহেদ জিজ্ঞাসা করলো, “কি ব্যপার? মাঞ্জা মারছো ক্যান?”
শায়লা তার ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে বললো, “আজকে স্পেশাল ডে।”
“কি?”
“আজকে আমার বার্থডে।”
“ওহহ সরি। ভুলে গেছি।”
“ইটস ওকে।”
“আচ্ছা চলো। আজকে ট্রিট দিই।”
“নাহ। আমি দিব। অফিসের পর ফ্রি থাইক।”
“কেন? কি হবে?”
“স্পেশাল ডে তে তো স্পেশাল কিছুই হবে।”
“বর্ষাও আজকে মাঞ্জা মারছে।”
“তোমার কি শুধু আমাকে দিয়ে হয়না? আবার বর্ষাও লাগে?”
“আরে নাহ। চোখে পড়লো তাই বললাম আরকি।”
এই বর্ষাও অফিসের আরেক হট কেক। সবাই পিছে পিছে কথা বলে। কারণও আছে। সে সুন্দরী, সেক্সি। আর থাকেও ওভাবে। সবাইকে সিডিউস করার একটা টেন্ডেন্সি তার স্বভাবজাত। কিন্তু এমন একটা ভাব ধরে থাকে যেন কিছুই বোঝেনা। পুরাই ইনোসেন্ট। লিফটে শাহেদের সাথেও একদিন ফাজলামি করেছিল। সেদিন অফিসে আসার জন্য লিফটে উঠে বর্ষার সাথে দেখা। তাদের অফিস এগার তলায়। সবাই নেমে গেছে। শাহেদ লিফটের ভেতরে হাতলে হাত রেখে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় বর্ষা কাছে এসে তার সুউচ্চ আর আকর্ষনীয় নিতম্ব হাতলে রাখা তার হাতের উপর চেপে ধরে। নরম আর উত্তপ্ত নিতম্বের স্পর্শ তার অবস্থা খারাপ করে দিয়েছিল। বড় বড় নিঃশ্বাস বের হয়ে আসছিল। কিন্তু শাহেদ এমন ভাব করে যেন কিছুই হয়নি। দুজনেই লিফটে মজা নিচ্ছিল।
এখন আজকে শায়লা আবার কি করে কে জানে! তবে তার খারাপ লাগেনা। বৌ এর কাছ থেকে না পাওয়া সুখের শূণ্যস্থান কিছুটা হলেও এভাবে মিটে গেলে ক্ষতি কি? সে ধার্মিক না। ধর্ম পালন মাঝে মাঝে বিপদে পড়লে নামায, জুমআর নামায আর ঈদের নামাযের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর সে তো কারও ক্ষতি করছেনা। যা হচ্ছে আপোষে। সবচে বড় কথা সে সীমারেখা রেখেই করছে যদিও সেই সীমারেখা কতটুকু তা সেই জানেনা।
অফিস শেষে সে নিচের চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিল। শায়লার ফোন আসলো।
“তুমি কোথায়?”
“নিচে। চায়ের দোকানে”
“সামনের মোড়ে দাঁড়াও। আমি আসছি।”
শাহেদ সামনের মোড়ে দাঁড়াতেই গাড়ি এসে শাহেদকে পিক করে নিল।
“কি ব্যপার? এত লুকোচুরি?”
“লুকোচুরির কি দেখলা? অফিসকে দেখায়ে লাভ আছে? খালি কথা হবে।”
“আমরা যাচ্ছি কোথায়?”
“ভয় পাইয়োনা। তোমাকে বিপদে ফেলবোনা।”
গাড়ি উত্তরার দিকে যেতেই শাহেদ বুঝতে পারলো তারা শায়লার বাসাতেই যাচ্ছে। কিন্তু কিছু বললোনা। শায়লার মাথায় কি অন্য কোন প্ল্যান? ওর হাজব্যান্ড-বেবিরা কি বাসায় নাই? মনে হয় নাই। থাকলে ওকে নিতোনা। আজকে অনেক দিনের আশা পূরণ হবে। আজকে সকল ফ্যান্টাসি সে শায়লার উপর প্রয়োগ করবে। শায়লার শরীরের প্রতিটা অংশ থেকে সে তার মনের ক্ষুধা মেটাবে যেটা তার স্ত্রী পারেনি। সে মনে মনে তীব্র উত্তেজনা অনুভব করছিল, কিন্তু মুখে এর কোন প্রকাশ করছিলনা যাতে শায়লা সেটা বুঝতে পারে। সে আর অপেক্ষা করতে পারছিলোনা আর বারবার বাইরে তাকাচ্ছিল কখন তারা উত্তরায় প্রবেশ করবে। শাহেদ তার ফোনটাকে সাইলেন্ট মোডে নিয়ে নিল যাতে বিশেষ সময়ে তার বেরসিক স্ত্রী ফোন করে “কোথায় আছো?” এই টাইপ সস্তা কেয়ারিং প্রশ্ন করে তাকে অহেতুক বিরক্ত করতে না পারে। সে এই সময়টার পুরোপুরি ফায়দা নিতে চায়।
শাহেদ শায়লার ড্রইং রুমে বসে আছে। ঘড়িতে সাড়ে আটটা বাজে। শাহেদ প্রচন্ড উত্তেজনা বোধ করছে। একটু পর এখানে কি হবে তা ভেবে নিজের মধ্যে প্রচন্ড একটা উন্মাদনা যেন ভেতর থেকে বের হয়ে আসতে চাচ্ছে যার উৎস অনেক গভীর আর অদম্য।
এর মধ্যে শায়লা আসলো আর শাহেদ উত্তেজনায় একটা ধাক্কার মত খেল। শায়লার পরনে লাল কালারের গাউন আর হাতে জুসের গ্লাস। গাউনটি ফিনফিনে। শরীরের প্রতিটা ভাঁজ যেন বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। তার বিশালবক্ষের মাঝে গভীর গিরিখাত সুস্পষ্ট আর আকর্ষনীয়। হাঁটার তালে তার দোলায়মান বুক দেখে পৃথিবীবাসী না জানলেও শাহেদ জেনে গিয়েছিল যে সেখানে অন্তর্বাস অনুপস্থিত। শাহেদ এরকম চোখ ঝাঁঝাঁলো সৌন্দর্য দেখে ঢোক গিলল যেটা দেখে শায়লা শরীর দুলিয়ে হেসে উঠলো।
ভুরু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “অমন করে কি দেখ?”
একথা বলেই থেমে থাকলোনা। শায়লা শাহেদের শার্টের কলার ধরে কাছে টেনে নিল। এখন তারা একদম কাছাকাছি। একজনের গরম নিঃশ্বাস আরেকজনকে স্পর্শ করছে। এরা পূর্ণ চোখে একজন আরেকজনকে দেখতে লাগল।
এসময় শাহেদের অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো। শায়লার মোহনীয় মুখ ভেদ করে যেন মোনার ঘামযুক্ত তেলতেলে মুখ শাহেদের চোখে ভেসে উঠলো। শাহেদ মাথা ঝাড়া দিয়ে মোনার ছবি মাথা থেকে সরানোর চেষ্টা করলেও সেই মুখ যেন আরও গভীর আর প্রকট হয়ে ফেরত আসলো। আর সাথে সাথেই কোথা থেকে একটা তীব্র অনুভুতি আসলো যেটা শায়লার প্রতি মোহকে নিমিষেই অনাগ্রহে পরিণত করলো। শায়লার উপর তার হাতের বাঁধন হালকা হয়ে এল।
শায়লা শাহেদের এই আকষ্মিক কিন্তু দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ করে জিজ্ঞেস করলো, “এনিথিং রং?”
শাহেদ কোনমতে নিজেকে ধাতস্থ করেই “সরি” বলেই দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসলো। ষোল-সতেরশ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটটি থেকে বের হতে শাহেদের মনে হলো যেন এক যুগ পেরিয়ে গেছে। এক অদম্য আত্মবিশ্বাস সে নিজের মধ্যে আবিষ্কার করলো যেটা ছিল সুপ্ত আর অজানা। নিচে নেমে শাহেদ দ্রুত গতিতে এমনভাবে হেঁটে যাচ্ছিল যে দেখে মনে হবে সে পালাচ্ছে।
অনেকক্ষন হেঁটে শাহেদ একটা চা এর দোকানে বসলো নিজেকে শান্ত করার জন্য। এতক্ষনে সে কিছুটা ধাতস্থ হতে পেরেছে। দোকানে বসে ফোনটা হাতে নিল। হাতে নিয়ে দেখে একত্রিশটা মিসড কল। সবই বাসা থেকে। “কোন বিপদ হলো নাকি?” ভাবতে ভাবতেই শাহেদ ফোন ব্যাক করলো। ফোন ধরলো মা।
“তুই কই?”
“আমি অফিসের বাইরে। কেন?”
“এতক্ষণ কই ছিলি? মোনা সিড়ি থেকে পড়ে মাথা ফাটায়ে ফেলছে। হাসপাতালে আছে। তাড়াতাড়ি যা। তোর ছোট ভাই আছে। ওকে ফোন দে।” মা এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেল।
শাহেদের সারা শরীর মনে হয় একটা ঝাঁকুনি দিল। তার শরীর কাঁপছে। তার মন বলছে ছোট ভাইকে ফোন দিলেই খারাপ কোন সংবাদ শুনবে। ফোন দিতে সে সাহস পাচ্ছেনা। বিরাট একটা অপরাধ সে করে ফেলছে যার শাস্তি এখন পাচ্ছে। শাহেদ অসহায় বোধ করতে লাগলো। প্রচন্ড চা এর তেষ্টা পেল। শাহেদ এক কাপ চা এর অর্ডার দিল।
শাহেদ হাসপাতালের রুমে বসে আছে। তার সামনেই মোনা শুয়ে আছে। তার চোখ হালকা খোলা। মাথায় ব্যান্ডেজ। বিপদ কেটে গেছে। ঘটনা আর কিছুইনা। স্লিম হওয়ার জন্য দিনের পর দিন না খেয়ে থাকার কারণে দুর্বল শরীর হওয়ায় মাথা ঘুরে তখন সিড়ি থেকে গড়িয়ে পড়ে যায়।
“মোনা শোন তোমাকে কিছু কথা বলি।”
“বলো”।
“এই পৃথিবীতে অনেক মেয়ে আছে যারা তোমার থেকে অনেক সুন্দর, স্লিম। কিন্তু এই পৃথিবীতে একজনই মোনা আছে যে মোটা কিন্তু সে আমার, শুধু আমার। আর কারও না। তুমি মোটা এজন্য আমার অনেক আক্ষেপ থাকলেও সেটা এমন না যে তোমার প্রতি ভালবাসা কম। সুতরাং স্লিম হওয়ার জন্য এ ধরণের পাগলামি আর করবানা প্লিজ।”
শাহেদের কথা শেষ হওয়া মাত্রই মোনার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো। চোখের পানি লুকানোর কোন চেষ্টাই সে করলোনা। ঘাড় ঘুরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো। বাইরে বিপুল অন্ধকার। কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। কিন্তু তারপরও মোনা সেদিকে অপলক তাকিয়ে রইল।
এই সুন্দর আর অসাধারণ কথাগুলো বলার সময় কি শাহেদ তার হাতটা একটু ধরতে পারতোনা? সে তার বিবাহিত স্ত্রী। তার হাত ধরলে কি জাত যাবে? সে এত গাধা কেন? মোনা আজকে আবার এই গাধাটার প্রেমে পড়লো। পৃথিবীর সবচে সুন্দর বিষয়গুলার একটি হচ্ছে একই মানুষের প্রেমে বারবার পড়া।
মোনা মনে মনে হাসছে। তার চোখে-মুখে সুখী সুখী ভাব। ভাবলো, “সে এত সুখী কেন?”
"আমার স্ত্রী মোনা”
রিফাত হক

17/10/2025

"কাজের বুয়াটা প্রেগন্যান্ট তাই ছুটিতে আছে এজন্য বাসার কাজ গুলো আমাকেই করতে হচ্ছে,
হাতের কাজ গুলো শেষে মনে পড়লো ছাদে কাপড় রয়ে গেছে সেগুলো আনতে ছাদে উঠে দেখি পাশের ফ্ল্যাটে আন্টি ছাদের একপাশে পায়চারি করছে,।উনাকে দেখে সামনে গিয়ে ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করলাম,
টুকটাক কথার মধ্যে তিনি বললেন উনার নাতীর সাথে এসেছে আর নাতী বাসায় একটু দরকারে গেছে ফিরলেই নাতীর সাথে ঘরে যাবে,
তো আমি উনাকে একা রেখে আসতে কেমন যেনো লাগছিল তাই গল্প করতে লাগলাম,
উনি নিজেই বলছেন উনার ছেলের বউ অনেক ভালো তার অনেক যত্ন করে খেয়াল রাখে,
তার একটাই ছেলে স্বামী নেই তাই ছেলের কাছেই থাকেন,
বাড়ি যেতে চাইলে ছেলে ছেলের বউ কেউ যেতে দেয়না,
তারা বলে কি করবা বাড়ি গিয়ে কে আছে তোমার বাড়িতে এখানে আমাদের সাথেই থাকো,
তাই ওদের মন রাখতে তিনি তাদের সাথে থাকেন।
উনি আমতা আমতা করে আরো বলেন...
আসোলে মা এই ছেলেটা ছাড়া আমার তেমন কাছের কেউ নেই,
একমাত্র ছেলে আমার অনেক আদরের অনেক যত্নের অনেক মায়ার!
তোমার আঙ্কেল মারা যাবার পর ছেলেটাকে আগলেই আমার জীবন কেটেছে তাই ওর মায়া কাটাতে পারিনা,
ছেলের বউটাও মাশাআল্লাহ অনেক ভালো পেয়েছি,
আজকাল এমন ছেলের বউ কোথায় কে পায়?
আমার তো ভাগ্য নিজের মায়ের মত রাখে আমাকে।

"আমি উনার মুখে কথা গুলো শুনে খুবই অবাক হলাম এইজন্য যে...
উনার ছেলের বউয়ের সাথে আমার যতটুকু কথা হয়েছে তিনি তার শাশুড়ী কে নিয়ে খুবই বিরক্ত,
আমি পোশায় একজন গাইনি ডাক্তার,
আমার কাজের পারপাসে বাইরে যেতে হয় তাই উনি কয়েকবার আমাকে আমার জানাশোনা কোনো বিদ্যাশ্রম আছে কিনা জিজ্ঞেস ও করেছিলো,
কিন্তু কাজের চাপে আমি আর তেমন খোঁজ দিতে পারিনি,
আমি খেয়াল করলাম উনি কথা বলছে ঠিকই কিন্তু উনার চোখে মুখে প্রচন্ড দীর্ঘশ্বাস।

যাই হোক আমরা অনেক সময় পর্যন্ত কথা বলার পরও দেখি উনাকে নিতে কেউ আসেনি,
এদিকে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এলো তাই আমি বললাম...
আন্টি কেউ তো আসছে না চলুন আমি আপনাকে ধরে নামিয়ে নিয়ে যাই,
উনি বললেন ছোট বাচ্চা তো হয়তো বাসায় গিয়ে ভুলে গেছে,
তুমি আবার কষ্ট করবা মা?
আমি বললাম সমস্যা নেই আমি ও তো সেইম ফ্লোরেই নামব আসুন আমার সাথে,
মনে মনে ভাবলাম এত অমায়িক একজন ভদ্রমহিলা, আর সবচাইতে বড় কথা উনার মধ্যে কাউকে নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই,
কত সুন্দর করে ছেলের বউ নাতীকে সেভ করলো,
অথচ এটা যে কারো বুঝার কথা এত সময় বৃদ্ধ মানুষটা বাসায় নেই,
বাচ্চা ছেলেটা না হয় ভুলে গেছে হয়ত কিন্তু ছেলের বউয়ের ও কি মনে নেই তিনি যে ছাদে একা!

যাই হোক আন্টিকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে নিজের ঘরে ঢুকব তখনই ভিতর থেকে চ্যাঁচামেচি শুনতে পেয়ে ইচ্ছে না থাকার স্বত্বেও দাঁড়াই,
কারণ উনার ছেলের বউয়ের কথা গুলো এতোটাই স্পষ্ট যে না শুনে পারলাম না,
তিনি চিৎকার করে বলছেন,
কি দরকার ছিলো উনার সাথে আসার?
একটু সহ্য হলো চলে আসছে আরেকজনের সাথে,
না জানি কি কি বলেছেন আমাদের সম্পর্কে,
আমি তার প্রতিত্তোরে আন্টির একটা কথা ও শুনলাম না,
মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেলো।

বাসায় হেল্পিং হ্যান্ড না থাকায় কিছুদিন ক্লিনিকে যাওয়া অফ করে দেই,
বাসার সব কাজ করে বাচ্চা সামলে ক্লিনিকে যাওয়া হয়ে উঠে না,
হবে ইমারজেন্সি হলে তখন যেতেই হয়,
সেইদিন কার পর থেকে ছাদে গেলে আন্টি আমাকে কেমন জানি এড়িয়ে চলে,
আনমনে হাঁটতে থাকে,
উনার ডায়বেটিস লেভেল টা অনেক হাই তাই সকাল বিকাল ডাক্তার উনাকে হাঁটতে বলেছেন,
কিন্তু উনাকে এমন উদাস দেখে আমার মনটা খারাপ হয়ে যায়,
বেচারি ছেলের বউয়ের ভয়ে কারো সাথে কথা ও বলেনা।

এর মধ্যে একদিন আমাকে ডেকে তিনি দুটো কথা বলেন আর কথা গুলো এখন কারো কাছে শেয়ার করতে ও বারণ করেন,
সেইদিন আমি তার চোখে মুখে অনেক বিষন্নতা আর একাকীত্বের ছাপ দেখতে পাই,
মনে হচ্ছিল তিনি সবার সাথে থেকে ও অনেক একা,
মনে মনে ভাবি হায়রে সন্তান!

তারপর আমি কাজে রেগুলার হয়ে পরি,
আমার মাথায় সেই আন্টির খেয়াল আসেনা আর কাজের চাপে ও বুয়া আসায় ছাদে উঠা ও হয়ে উঠেনা।
তারপর কেটে যায় আরো কিছু দিন,
একদিন বাসায় ফেরার সময় দেখি বাসার গেটের সামনে একটা এ্যাম্বুলেন্স দাড়িয়ে আছে,
দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে,
দারোয়ান বলল আপনার পাশের ফ্ল্যাটে যে বয়স্ক মহিলা ছিলো তিনি মারা গেছেন তাকে গোরস্থানে গ্নিতেই এই এম্বুলেন্স,
জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছিলো?
দারোয়ান বলল তারা কিছু জানেনা,
রাতে ঘুমিয়ে ছিলো দুপুর পর্যন্ত উঠেনি দেখে উনার রুমে গিয়ে দেখেন উনি আর নেই,
কথা গুলো শুনে ভিতরটা কেমন করে উঠলো,
আহ্ কি করুন মৃত্যু!
আহারে মুখটা চোখের সামনে ভাসছে,
এমন অমায়িক মানুষ খুব কম দেখা যায়।

হঠাৎ আমার তার সাথে বলা শেষ কথা গুলোর কথা মনে পরে যায়,
আমি লিফ্ট দিয়ে তাড়াতাড়ি উপরে উঠে তাদের ঘরে যাই,
গিয়ে দেখি উনাকে বিদায়ের কাজ পুরোপুরি শেষ,
আমি আন্টির ছেলে কে ডেকে বলি...
ভাইয়া যদি কিছু মনে না করতেন দুটো কথা বলার ছিলো,
তিনি আমাকে বললেন বলুন কি বলবেন,
আমি বললাম আন্টি ছাদে আমাকে কিছুদিন আগে কয়টা কথা বলেছিলেন যাতে আপনাকে বলি,
উনি বললেন বলেন বলেন কি বলেছিলো আমার মা,
আমি তাকে বলি,
উনি বলেছিলে উনি মারা গেলে উনাকে যাতে উনার গ্রামের বাড়ি উনার স্বামীর কবরের পাশে মাটি দেন,
উনি বলেন ও আচ্ছা ঠিক আছে।
আর আরো একটা কথা বলেছিলেন যেটা শুনে হয়ত আপনাদের ভালো লাগবেনা,
উনি বলেন জ্বি আপনি বলুন,
আমি বললাম উনার শেষ ইচ্ছে হলো যদি আপনি মারা যান আপনাকে তার পাশে যেনো কবর দেওয়া হয়,
উনি অনেক আক্ষেপ নিয়ে বলেন,
বুকে পিঠে করে যে ছেলেকে মানুষ করেছি বড় হয়ে ছেলেটা কেমন জানি আমার বুক খালি করে আলগা হয়ে গেলো তাই বেঁচে থাকতে তো ওর ব্যস্ততার কারণে কাছে পাইনি মৃত্যুর পর আমার পাশেই যেনো ওর কবর হয়,
আমার একপাশে স্বামী আরেক পাশে সন্তান,
কথা গুলো বলতেই নিজের অজান্তেই আমি ইমোশনাল হয়ে পরি এবং আমার চোখ থেকে পানি পরতে থাকে,
খেয়াল করলাম ভাইয়ার চোখেও পানি,
কিন্তু আজ কেঁদে আর কি হবে?
মানুষ টা একবুক অভিমান নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো।

তারপর কেটে গেলো কিছুদিন,
একদিন সন্ধ্যায় আন্টির ছেলের বউ তার একমাত্র ছেলেকে খুজতে আমার বাসায় এলো,
আমার ছেলেটা উনার ছেলের দুই বছর বড়,
মাঝে মাঝেই আসে বাচ্চাটা আমার ছেলের সাথে একসাথে বসে গেমস গেলে,
কিন্তু সেইদিন আসেনি আমি তাকে জানালাম,
তিনি পাগলের মত ছেলেকে খুঁজতে থাকে,
উনি উনার বরকে কল করে আর তখন জানতে পারে অফিস থেকে ফেরার পথে গেটের সামনে ছেলে বাবাকে ধরে মার্কেটে নিয়ে যায় আইসক্রিম খাবে আর কিছু খেলনা কিনবে তাই,
উনার চোখে মুখে স্বস্তি দেখলাম যা কিছু সময় আগে ও ছিলোনা,
আমি উনাকে বসতে বলি,
উনি বসলে আমি এক গ্লাস পানি এনে দেই।

পানি খেতে বলেন,
আর একটু হলে আমার জান-ই বের হয়ে যেতো,
কি একটা অবস্থা বলুন!
এই ছেলেটা ছাড়া আমার আছে কে?
কত কষ্ট আর কত সাধনার ফল এই ছেলে,
ওর কিছু হলে আমি তো পাগল-ই হয়ে যেতাম,
আমি তার দিকো তাকিয়ে বলি একটা কথা বলি ভাবি?
উনি বলেন জ্বি বলুন,
আমি বলি সব সন্তানই মায়ের চোখের মনি বুকের মানিক হয়ে থাকে,
তবে একটা এডভাইজ দিব আপনাকে,
উনি বলেন জ্বি বলুন,
আমি তার দুটো হাত ধরে বলি...
ছেলের প্রতি আস্তে আস্তে মায়া কমিয়ে ফেলুন নয়তো পরে বেশি কষ্ট পাবেন,
উনি উৎকণ্ঠা নিয়ে বললেন কেনো এমন বলছেন?
আমি একটু হেসে বলি,
ছেলে বড় হবে একটা সময় বিরাট চাকরি করবে বিয়ে করবে তার নিজের সংসার হবে তখন যদি এমন মায়া বহাল রাখেন তাহলে হয়ত আপনার শাশুড়ির মত বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে একটা সময় নিরবে নিভৃতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে।
উনি আমার কথার কোনো জবাব দিলেন না,
শুধু উনার চোখ থেকে টপটপ করে গাল বেয়ে পানি পরতে থাকলো।

আমি জানি এই পানি উনার অনুশোচনার পানি,
উনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন,
হয়তো দেরিতে বুঝতে পেরেছেন কিন্তু বুঝেছেন এটাই সত্য।

আমরা বুঝি তবে হারিয়ে বুঝি,
এমন সময় বুঝি যখন নিজেকে শোধরানো বা যাদের সাথে অন্যায় করি তাদের কাছে ক্ষমা চাইবার রাস্তাটুকু ও ওপেন থাকেনা।
মা আসোলে মা-ই হয়,
মায়ের তুলনা কেবল মা।

#ধন্য

17/10/2025

মা আপনি এই ঠান্ডায় এত সকালে বাহিরে বসে আছেন কেন?
রাবেয়া অবাক হয়ে পিছনে তাকিয়ে বলল বৌমা তুমি এত সকালে উঠেছ যে? আজকে তো শুক্রবার।
মা আমার আজকে অফিস আছে। বছরের শেষে কাজের চাপ একটু বেশি থাকে।
তোমার টিফিন বক্স তো রেডি করিনি মা, দুপুরে তাহলে কি খাবে?
আজকে দুপুরে অফিস লান্চ করাবে মা। আপনি একদম চিন্তা করবেন না।
মা আপনার কি কোন কারণে মন খারাপ?
না মা কেন মন খারাপ হবে?
না আপনাকে দেখে খুব উদাস লাগছে।
না বৌমা আমি ভাল আছি।
মা আপনি আজকে শাহানা আন্টির বাসায় যান। সারাদিন দুই বান্ধবী নিজেদের মত করে সময় কাটাবেন। আর আপনি গাড়িটা নিয়ে যান। আমি গাড়ি নিয়ে অফিসে যাবনা। আজকে অফিসের গাড়ি আমাকে নিতে আসবে।

রাবেয়া কি বলবে বুঝতে পারছেনা। সত্যিই আজকে তার মনটা খারাপ। অন্যদিন সকালে রান্নাবান্না শেষ করে নাতিকে নিয়ে স্কুলে চলে যায়। ওখানে অনেক গার্ডিয়ানের সাথে দেখা হয়, কত রকম গল্প হয়। ছুটির দিনগুলোতে তার একটু এলোমেলো হয়। রিটায়ার ব্যাক্তিদের এই একটা জ্বালা। তারপরও রাবেয়া বলল না বৌমা আমি ভাল আছি। আমাকে নিয়ে কোন চিন্তা করনা।

মা আপনি আজকে অবশ্যই বেড়াতে যাবেন। আপনার নাতি আর ছেলের চিন্তা করার দরকার নেই। ওরা আজকে নামাজ পড়ে আসার সময় বাহির থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে আসবে। আর আমি অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে রাতের রান্না করে ফেলব।
রাবেয়া তার বৌমার হাত ধরে বলল মা তুমি আমার বৌমা না মেয়ে।
নীলা তার শাশুড়ীর হাতটা আরও শক্ত করে ধরে বলল আপনিও আমার শাশুড়ী মা না, শুধু মা।

নীলা চলে যাওয়ার পর রাবেয়া বেলকনিতে বসে রইল। এত বছর পর তার পুরোনো স্মৃতিগুলো চোখ ভিজায় দিচ্ছে।
রাবেয়া বাবার একমাত্র মেয়ে ছিল। বড় আদরে বাবা তাকে বড় করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শেষের দিকে বাবা তাদের গ্রামের বাড়ির পাশের গ্রামের এক ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক করে। ছেলে ঢাকায় সরকারী ভাল চাকুরী করে। এবং ছেলে খুব ভাল ও সৎ। রাবেয়া এক ছুটিতে বাড়িতে গেলে তার বিয়ে হয়ে যায়। বাড়ির বড় ছেলে বলে তার স্বামীকে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হত। তার ছোট আরও চার ভাইবোন ছিল। সবার পড়াশুনার খরচ তাকে চালাতে হত।
বিয়ের পর প্রতিবছর শেষে তারা ভাবত ক্ক্সবাজার যাবে, যাওয়া আর হয়না, যখনই টাকা জমায় তারা তখনই শ্বশুর বাড়ির কোন না কোন প্রয়োজনে খরচ হত। এগুলো নিয়ে তাদের মধ্যে কোনদিন কোন ঝগড়া হতনা। বরং তার স্বামীএকটু হীনমন্যতায় ভুগত তাকে কক্সবাজার নিয়ে না যেতে পারায়। তারা তখন একদিন করে ছুটির দিনে পুরো ঢাকা শহর ঘুরত রিক্সায়। বাদাম, ফুসকা, চটপটি খেত। দুপুরের খাবার বাহিরে খেত। সন্ধায় বাসায় ফেরার আগে তার স্বামী তাকে এক গোছা রজনীগন্ধা হাতে দিয়ে বলত এভাবেই সারাজীবন আমার পাশে থেকো। ঘরভর্তি তাদের সুখ ছিল। এই সুখটুকু এত তাড়াতাড়ি শেষ হবে সে বুঝেনাই।

রাবেয়ার আর তার স্বামীর সাথে সমুদ্রের পাড়ে নীল টিপ, নীল শাড়ি পরে পাশাপাশি হাঁটা হয়নি।
একদিন একটা ঝড় এসে সমস্ত কিছু থামিয়ে দিল। তার স্বামী অফিসের কাজে অফিসের গাড়িতে ঢাকার বাহিরে যাচ্ছিল। তার গাড়িটা একটা ট্রাকের সাথে এক্সিডেন হলে ড্রাইভার ও সে দুজনই সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। রাবেয়া তখন দিশেহারা হয়ে যায়। তার ছেলে নীলের বয়স তখন মাত্র ছয় বছর। রাবেয়া যেহেতু শিক্ষিত মেয়ে তার স্বামীর অফিসেই তার একটা চাকুরীর ব্যবস্থা হলো।

বাচ্চাটাকে একা বড় করতে গিয়ে রাবেয়াকে কত ঝড় ঝাপটা যে সামলাতে হয়েছে। রাবেয়া দেখতে সুন্দর ছিল কতজন বিয়ের প্রস্তাব দিলে রাবেয়াকে বিরক্ত করত। তার এসব ভাল লাগত না। সে তার বাচ্চাকে নিয়ে শুধু বাঁচতে চায়। হাজব্যান্ডের সাথে তার মধুর স্মৃতিগুলো আজীবন তার মনে ধরে রাখতে চায় সে। এখনও সে স্মৃতি তার মনে বেঁচে আছে। যা তাঁকে মাঝে মাঝে মন খারাপ করে দেয়, ঠিক আজকেও তাই।

তবে সে একটা সোনার ছেলে পেয়েছে। সাথে সোনার একটা বউ। তাদের জন্যই সে আজ অনেক দুঃখ ভুলে গিয়েছে। কোনভাবেই তারা তার মন খারাপ দেখতে পারেনা। ছেলে গতকাল রাতে তাকে বলেছে মা তোমার ভিসা করতে দিয়েছি। তোমাকে থাইল্যান্ডের পাতায়া নিয়ে যাব। নতুন বছরের প্রথম দিনে সমুদ্রের পাড়ে তুমি আমার হাত ধরে হাটঁবা। আর আমি ছোটবেলায় ফিরে যাব। সমুদ্রের সুর্যের আলো তোমার মুখে পড়বে, আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখব আমার মায়ের মধুর হাসি।

গতরাতে ছেলের মুখে এসব কথা শুনে তার শুধু আগের কথা মনে পড়ছে। নিজেকে সে আজ কোনভাবেই ধরে রাখতে পারছেনা। চোখের জলে ভেসে যাচ্ছে সে। ওপার থেকে তার স্বামী কি তার ছেলেকে তার জমানো মনের কথাগুলো বলে দিচ্ছে? আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ট পরিকল্পনাকারী। বেলাশেষে যে তার এত সুখ লেখা আছে সে
কোনদিন কল্পনা করতে পারেনি। সে মনে মনে বলছে আজ আমার সকল দুঃখ ভাসিয়ে দিলাম ভালোবাসার স্রোতে।

©রামিছা পারভীন প্রধান*
ভালো লাগলে কমেন্ট করে জানাবেন দয়া করে।

17/10/2025

সন্ধ্যেবেলায় বড় আপুর শ্বশুরবাড়ি থেকে তার শাশুড়ি আর একমাত্র দেবর ইকবাল ভাই মিষ্টি হাতে উপস্থিত। আমরা সবাই একটু অবাক হলাম। আপুর বিয়ে হয়েছে প্রায় সাত বছর। ভাইয়া একজন ইঞ্জিনিয়ার, আমার আপু দেখতে শুনতে বেশ সুন্দর। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর আপুর বিয়ে হয়ে গেল, তারপর আর পড়াশোনা হয়নি। ওদের দুই সন্তান, বলা চলে সুখী পরিবার।

তবে খুব স্বাভাবিকভাবেই বাঙালি পরিবারগুলোতে বউ শাশুড়ির মধ্যে একটু ভেদাভেদ থাকেই, এই পরিবার তার ব্যতিক্রম নয়। প্রথম প্রথম আপু কেঁদে কেঁদে ফোনে নালিশ জানাতো আম্মুকে কিন্তু আম্মু ওকে অনেক বুঝিয়েছে তারপর থেকে আমার বোনটা চুপ হয়ে গেছে অবশ্য আমার দুলাভাই মানুষটা খারাপ না। তো মিষ্টি দেখে আমরা সবাই অবাক হলাম কারণ সেই বিয়ের কথা চলাকালীন সময় যে মিষ্টি এসেছিল এরপর ওদের বাড়ি থেকে আর কখনো কোন মিষ্টি আসেনি। যাই হোক আম্মু তড়িঘড়ি করে খাবারের আয়োজন করতে লাগলো।

সন্ধ্যাবেলা যেহেতু এসেছেন আব্বু আম্মুর ইচ্ছা ওনাদেরকে ডিনার শেষে যেতে বলবেন। কিন্তু আন্টি মানে আমার বোনের শাশুড়ি সুন্দর করে বললেন ওনারা ডিনার করবেন না শুধু চা হলেই চলবে। উনারা কিছু কথা বলতে চান আসলে। বাবা-মা পরস্পরের দিকে তাকালেন কারণ তারা খুব ভালো করে জানেন বড় আপুর সাথে তার শাশুড়ি কখনোই ন্যায় বিচার করে না। কিন্তু মিষ্টি নিয়ে নিশ্চয়ই কটু কথা বলতে আসেননি উনি।

আমার একটু বিরক্ত লাগছিল কারণ কিছুক্ষণ আগে ডিউটি শেষ করে বাড়িতে ফিরেছি। এখনো ফ্রেশ হতে পারিনি। আমি ফাইজা, এমবিবিএস কমপ্লিট করে ইন্টার্নশিপ করছি। কিন্তু কিছু করার নেই ,উঠে চলে যাওয়াটা অশোভন দেখায়।

আম্মা একটু গলা খাকাড়ী দিয়ে বললেন,
- বলুন আপা কি বলতে চান?
-আমার ছোট ছেলে ইকবালকে তো আপনারা ভালো করেই চেনেন, আপনার মেয়েটিও খুব লক্ষ্মী, ওকে আমরা আগে থেকেই পছন্দ করি। তাই আমরা আসলে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। দুই বোন যদি জা হয় তাহলে সম্পর্কটা আরো ভালো হলো না?

আমি প্রায় আঁতকে উঠলাম। ইকবাল ভাই স্বভাব চরিত্রের কোন দিক থেকে ভালো না ।আপু নিজেই বলেছে সিগারেট খাওয়া তো আজকাল মামুলি ব্যাপার সেটার পাশাপাশি আরো অনেক ধরনের আজেবাজে জিনিস খায় তাছাড়া বিভিন্ন মেয়ের সাথে আমি নিজেই দেখেছি। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ভর্তি হয়েছিল একটা ডিগ্রী কলেজে কিন্তু পড়াশোনা আর চালিয়ে যায়নি।

আব্বা রেগে গিয়ে কিছু বলতেই যাচ্ছিলেন ঠিক এমন সময় আম্মা আটকে দিলেন।
-আচ্ছা আপা আমরা একটু চিন্তা ভাবনা করে দেখি।

-আমি বুঝলাম না এখানে চিন্তাভাবনা করার কি আছে? মেয়ে আমাদের দেখা আপনারাও আমাদেরকে দেখেছেন আঙটি আমি সাথে করে নিয়ে এসেছি পরিয়ে দিয়ে চলে যাবো

-না না আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে কি, ওর চাচা ফুফুরা আছে সবার সাথে একটু আলোচনা করতে হবে।

এবার আন্টির আসল রূপ বেরিয়ে এলো।

- করুন, আলোচনা করুন কিন্তু আমার মনে হয় না কোন লাভ হবে। আপনাদের উত্তরটা হ্যাঁ হওয়া চাই, যদি সেটা না হয় তাহলে পরবর্তীতে আপনার বড় মেয়েটি কে এই বাড়িতে পাঠিয়ে দেব, আজ উঠি সময় করে আলোচনা করে অবশ্যই জানাবেন।

ইকবাল ভাই একটু ঝাঁঝের স্বরে বললেন,
-তোমার কি ইচ্ছা ফাইজা? আমি উত্তর দিলাম না।

আম্মা আমতা আমতা করে বলতে লাগলেন,

দেখেন আমার মেয়েটি এমবিবিএস কমপ্লিট করেছে আর আপনার ছেলে ইন্টারমিডিয়েট পাস সে তো ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েছিল শুধু, পড়াশোনা আর করেনি যদি অন্তত ডিগ্রিটা পাস করতো তাহলে আমরা অবশ্যই চিন্তা করতাম।

-আরে রাখেন আন্টি , ফাজলামো কথাবার্তা কম বলেন। আমার ভাই নিজে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে আপনার ইন্টারমিডিয়েট পাস মেয়েকে বিয়ে করেনি? কই তখন তো এত চিন্তা করেননি। বরং মেয়েকে পার করে বেঁচেছেন। গেলাম আমরা, আম্মা চলো, ইকবাল ভাই বললেন।

আব্বা আম্মা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। আমিও নিজের রুমে ফিরে এলাম।

আজকের সকালটা একটু কেমন যেন, দ্রুত নাস্তা করে নিলাম, আজকে মর্নিং ডিউটি।

মাঝখানে আব্বা জিজ্ঞেস করলেন,

-কিরে মা রাতে ঘুমাস নি?

-না আব্বা সব ঠিক আছে।

-তুই এসব নিয়ে চিন্তা করিস না, আমি আমার এক মেয়েকে নরকে ফেলেছি, অন্য মেয়েকে বলি দেব না আর ফারিয়ার সাথে আমার কথা হয়েছে ও নিজেই রাজি না। যা খুশি হোক, তাছাড়া তোর দুলাভাইকে তো তুই চিনিস, ও কখনোই ফারিয়াকে ওর মায়ের কথায় ছেড়ে দেবে না।

-সবই বুঝতে পারছি বাবা কিন্তু আমি রাজি।

বাবা-মা দুজনে একসাথে চমকে উঠলেন।

-মানে ওই অপদার্থটাকে বিয়ে করার জন্য তোকে ডাক্তার বানিয়েছি !

আমি এসব কথার কোন ধার ঘেঁষলাম না । সরাসরি আব্বাকে বললাম,

-উনাদের সবাইকে আসতে বলো, সবাই মানে সবাই , উনার চাচা ফুপু মামা-মামী সবাই থাকবে আর আমাদের তরফ থেকেও, সেখানেই আংটি বদল হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আর তোমরা যদি কথা না বলো তাহলে সমস্যা নেই আমি পালিয়ে গিয়ে ইকবাল ভাইকে বিয়ে করে নেব। বাবা মাকে হতভম্ব অবস্থায় রেখে আমি চলে এলাম।

ফিরতে ফিরতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। বাবা-মা স্তম্ভিত হয়ে বসে আছেন। আগামী পরশু শুক্রবার ওই দিনই নাকি ধার্য করা হয়েছে।

আমাকে শুনিয়ে মা বাবাকে বললেন,
- এজন্যই মেয়েদেরকে এত শিক্ষিত করতে হয় না, দেখলে তো পরিণাম। কেমন মুখের উপর কথা বললো, নিজের জীবনটা নিজে জাহান্নামে ফেলতে যাচ্ছে, চোখের সামনে বোনটাকে জ্বলতে দেখছে তবুও কোন বিকার নেই।

আমি কানে তুললাম না যেহেতু পরশুদিন খুব নিকটে তাই সুন্দর একটা ড্রেস খুঁজতে লাগলাম।

সন্ধ্যাবেলায় সব গেস্ট এসে উপস্থিত। মা কোন কিছুই রান্না করেনি। সব বাইরের খাবার, আমি বুঝতে পারছি মায়ের এসব কোন কিছুতেই মন নেই। এক ফাঁকে বড় আপু রুমে এসে আমাকে বললেন,

- তোর বুদ্ধিশুদ্ধি কি লোপ পেয়ে গেছে ফাইজা? কি করছিস এসব, তোর দুলাভাই নিজেই তো রাজি না।

-কিন্তু তোমার শ্বশুর শাশুড়ি দেবর সবাই তো রাজি তাই না আমি তো আর দুলাভাইকে নিয়ে সংসার করবো না।
আপু প্রায় ছিটকে বের হয়ে গেলেন।

ড্রয়িং রুমে তখন প্রায় ত্রিশ জনের মত লোক। একদম গাদা গাদি অবস্থা। সবাই সবার মত করে কথা বলছে, আমি গিয়ে উপস্থিত হতেই সবার মধ্যে গুঞ্জন একটু কমলো। আমি সরাসরি ইকবাল ভাইয়ের পাশে গিয়ে বসলাম।সবাই একটু নড়েচড়ে বসলো। আঙটি পড়ানোর আগ মুহূর্তে আমি গলা খাঁকারি দিয়ে বললাম, আমার কিছু কথা বলার আছে।‌
উপস্থিত সকলের চোখ তখন আমার দিকে। আমি ইকবাল আর তার মায়ের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বললাম,

-আমরা এত বড় একটা কাজ করতে যাচ্ছি তাই এর আগে সবকিছু পরিষ্কার করে নেয়া ভালো।‌

-বলো, আন্টি বললেন।

-মোহরানা নিয়ে আমার কোন‌ সমস্যা নেই, চাইলে আপনারা পাঁচ হাজার টাকাও ধরতে পারেন আর না দিলে নাই।

-আলহামদুলিল্লাহ আন্টির কন্ঠে উচ্ছাস।

-তবে খাট আলমারি সোফা টিভি ফ্রিজ ডাইনিং টেবিল দিতে হবে, আমি যেহেতু বাইক চালাই না তাই একটা স্কুটি দিতে হবে।

-এই মেয়ে, তোমার মাথা কি নষ্ট? আন্টি প্রায় চিৎকার করে বললেন।

-আমার কথা শেষ হয় নি, শুনুন ইকবাল সাহেব আমার বাড়িতে থেকে রান্নাবান্না, ঘর গোছানো, কাপড় ধোঁয়া, বাবা মায়ের যত্ন নেয়া এসব খুব সুনিপুণ ভাবে আপনাকে করতে হবে । যেহেতু সন্তান প্রসব করা আপনার পক্ষে সম্ভব না তাই আমি আপনার হয়ে ঐ কাজটা করবো কিন্তু প্রতিপালন আপনাকেই করতে হবে ।‌তাদের অযত্ন আমি মানবো না। আমার সাধ্য অনুযায়ী আপনাকে মাসে একবার বাইরে ডিনার বা ঘুরতে নিয়ে যাবো। আমার অনুমতি ছাড়া আপনার বাসায় মেতে পারবেন না।

-এই, এই মেয়ে এসব কি বলছো তুমি?

-আজব তো , সেদিন তো বললেন আমার এইচএসসি পাস বোন যদি আপনার ইন্জিনিয়ার ভাইয়ের বৌ হতে পারে তাহলে আপনার সাথে আমার সম্পর্ক হতে পারে না কেন?

-হ্যাঁ বলেছি , তো?

-আমার বোন আপনার পরিবারের জন্য যা যা করে তাহলে আপনার কি উচিত না আমার পরিবারের জন্য ঠিক তাই করা।

-ফাজলামো করো ?

-একদম না, সত্যি বলছি অবশ্যই ছেলের পড়াশোনা বা চাকরি মেয়ের চেয়ে নিম্ন হতেই পারে কিন্তু সেখানে ঐ মেয়েটি কেন সব মেনে নেয় জানেন? কারন বিশ্বাস ভালোবাসা বন্ধুত্ব সততা যার কোনটাই আপনার মাঝে নেই । আমি নিজেই বিভিন্ন মেয়ের সাথে নানা জায়গায় আপনাকে দেখেছি তাছাড়াও আপনি যে নেশা করেন তা আমার অজানা না। আর বোন বিদায়ের সময় গয়না থেকে শুরু করে সমস্ত আসবাব এমনকি দুলাভাই কে বাইক পর্যন্ত আমার বাবা কিনে দিয়েছে, কারন শিক্ষাগত যোগ্যতা আমার বোনটির কম , তাহলে আমার বেলায় তা হবে না কেন? যাই হোক আন্টি আমার কথা শেষ , প্রথমে আমি আঙটি পড়াবো তারপর আপনারা । সবই হবে তবে উল্টো নিয়মে। কই ইকবাল সাহেব হাত দিন। উপস্থিত সবার মাঝে চাপা উত্তেজনা। কি ব্যাপার দুলাভাই, আপনার ভাই যে এত লাজুক জানতাম না তো ! আমি হেসে ফেললাম। আমি রাজি না হলে নাকি আমার বোনকে পাঠিয়ে দেবেন, তাই রাজি হয়েছি।

-এসব কথা তোমাকে কে বলেছে ফাইজা, দুলাভাই বললেন।

-আপনার মা আর ভাই।

-হ্যাঁ তোমার বোন এখন থেকে এখানেই থাকবে, যতদিন আমি নতুন বাসা খুঁজে না পাই । আমি আমার পরিবার নিয়ে আলাদা হবো। মানে আমি ফারিয়া আর আমাদের দুই সন্তান। তুমি আমার চোখ খুলে দিয়েছো, কখনো ফারিয়ার এত শ্রম আমার নজরে পড়ে নি, মা ওর সাথে তা করে সবসময় ভেবেছি একসময় ঠিক হয়ে যাবে । কিন্তু না হয় নি । কিরে ইকবাল ফাইজার শর্ত মেনে আঙটি বদল করলে তাড়াতাড়ি কর। সবারই কাজ আছে।

ঘরে পিনপতন নীরবতা, আমি হাসিমুখে তাকিয়ে আছি মাথা নিচু করে বসে থাকা ইকবালের দিকে।

্টো_চিত্র_ #
কলমে: সুবর্না শারমিন

Address

Narayanganj
1400

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Israt Jahan Razia posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share