05/06/2026
বর্তমানে দেশের অসংখ্য কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা বিদেশি প্ল্যাটফর্ম থেকে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে নিয়ে আসছেন। ফেসবুক, ইউটিউব, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস এবং ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে অর্জিত এই অর্থ দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবেশ করছে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এই খাতের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে শুনছি যে তাদের আয়ের উপর ৭.৫% হারে ডেবিট ট্যাক্স বা উৎসে কর কাটা হচ্ছে। আমার টাকাটা যেহেতু ঈদের আগেই একাউন্টে ঢুকে যায় তাই আমার কাটেনি।কিন্তু অন্যদের টাকা কাটার বিষয়টি আমাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ বাস্তবতা হলো, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন এখন আর আগের মতো লাভজনক নেই। কয়েক বছর আগে যেখানে তুলনামূলক কম ভিউতেই আয় হতো, সেখানে এখন একই পরিমাণ আয় করতে কয়েকগুণ বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
একটি ভিডিওর পেছনে কত শ্রম থাকে তা হয়তো বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুটিং, সম্পাদনা, স্ক্রিপ্ট লেখা, ভয়েসওভার, ইন্টারনেট খরচ, ডিভাইস আপডেট, বিদ্যুৎ বিল—সবকিছু মিলিয়ে একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ করতে হয়। হাজারো ব্যর্থতার পর একটি ভিডিও সফল হয়। অনেকেই চাকরি না পেয়ে নয়, বরং নিজের দক্ষতার উপর ভরসা করে এই খাতকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
আজ বাংলাদেশের তরুণরা শুধু বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরি করছে না। তারা কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, পর্যটন, রান্না, হস্তশিল্প এবং দেশের ইতিবাচক গল্প বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক পরিচয় তৈরি হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রবাসীরা যেমন বিদেশে শ্রম দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, তেমনি ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটররাও নিজেদের মেধা ও শ্রম ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে নিয়ে আসছেন। কাজের ধরন ভিন্ন হলেও দেশের অর্থনীতিতে অবদানের জায়গাটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের রেমিট্যান্স অর্থনীতি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা আনার প্রতিটি ক্ষেত্রকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
আমরা কর ফাঁকি দিতে চাই না। আমরা শুধু চাই এমন একটি নীতি, যা এই খাতকে নিরুৎসাহিত না করে বরং আরও শক্তিশালী করে। কারণ একজন সফল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শুধু নিজের পরিবারের জন্য আয় করেন না, তিনি ভিডিও এডিটর, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ক্যামেরাম্যান, ভয়েস আর্টিস্টসহ আরও অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেন।
তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রির কাছে বিনীত অনুরোধ—
✅ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের উপর আরোপিত ৭.৫% ডেবিট ট্যাক্স বা উৎসে করের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।
✅ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক।
✅ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হোক।
✅ বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই খাতকে উৎসাহিত করা হোক।
আমরা বিশ্বাস করি, আগামী দিনের বাংলাদেশ শুধু পোশাক শিল্প বা প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভর করবে না; ডিজিটাল অর্থনীতিও হবে দেশের অন্যতম প্রধান শক্তি। আর সেই শক্তির পেছনে কাজ করবে বাংলাদেশের লাখো তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।
আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।
—
KP’s Cooking Vlog