29/04/2026
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খায়রুল আহসান মারজান বলেছেন, আমরা বলেছিলাম ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হবে, কিন্তু একটা গ্রুপ অফ স্টুডেন্ট তারা নানানভাবে ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছে। কিন্তু সপ্তাহ ও মাস না যেতেই ওই ছাত্রদেরকে আমরা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মিছিলে, প্রোগ্রামে এমনকি গুপ্ত অবস্থায় বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে আমরা তাদেরকে দেখতে পেয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ থাকবে যারা গুপ্ত তারা মুক্ত হন।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মারজান বলেন, মূলত এই গুপ্ততার প্রতিপত্তি ছাত্রদের মধ্যে মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিরক্তিভাব চলে এসেছে, কারণ আপনি মতাদর্শ লালন করতে পারেন, এটা আপনার অধিকার। আপনি মতাদর্শ লালন করবেন কিন্তু যখন সেটা গুপ্ত রাখবেন এবং সেই গুপ্ত রেখে নিজেকে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে অন্যকে বেশি করে কটাক্ষ করে কথা বলবেন, নারীদেরকে হেয় করবেন তখন কিন্তু মানুষ ন্যাচারালি এই গুপ্ততার প্রতি একদম বিরক্তি চলে আসে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের বন্ধুরা অনেকেই বলছেন যে, বিগত সময়ে ছাত্রলীগের ভয়ে অনেকেই গুপ্ত থাকতে বাধ্য হয়ে ছিলেন, সেটা মানলাম, কিন্তু এখন তো ছাত্রলীগ নেই, এখন তো সংগঠন হিসেবে কেউ আপনাকে দায়ী করছে না, আপনার সংগঠনকে কেউ নিষিদ্ধ করছে না, তাহলে আপনি পুনরায় এখনো গুপ্ততা বজায় রেখেছেন, আমাদের কাছে মনে হয় এটাই মূল সমস্যাটা। সেজন্য ছাত্র সংগঠন প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে সেটা হলো যে, আপনারা এই গুপ্ত অবস্থান থেকে মুক্ত হয়ে আসেন।
তিনি বলেন, যার গায়ে শক্তি বেশি সে ক্যাম্পাসে টিকে থাকবে। শিক্ষার্থীরা এই ধরনের যে মুখোমুখি লড়াই, পেশি শক্তির সেই রাজনীতি থেকে আগস্টের পাঁচ তারিখের পরেই ধিক্কার জানিয়ে তারা বাদ দিয়েছে। কেউ যদি নতুন করে ছাত্রদল হোক কিংবা অন্য কেউ আগের রাজনীতি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা গ্রহণ করবে না।
হামলার ঘটনায় তিনি বলেন, ছাত্রদলের যাদের হাতে অস্ত্র দেখা গেছে অথবা এই মারামারিতে যারা অংশ গ্রহণ করেছে তাদের ওই কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ থাকবে যারা গুপ্ত তারা মুক্ত হন। যারা অপরাধী তারা তাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিচার করেন।
এদিকে গতকালকের ওই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস ও সহিংসতার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে সন্ত্রাসবিরোধী পদযাত্রা এবং রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশব্যাপী সব ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসবিরোধী মানববন্ধন। এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।