29/12/2024
আমাদের নতুন গল্পের কাজ চলছে। গল্পটি সংক্ষিপ্তে আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম, আশা করছি ভালো লাগবে।
অনুভবে অনুতাপ
Maruf Mostak
Warning
গল্পটি একজন মানুষের জীবন থেকে চুরি করা হয়েছে, তাই জীবিত অথবা মৃত কোন মানুষের জীবনের সাথে মিলে গেলে সেটার জন্য শুধুমাত্র গল্পটি যে পড়বে সে দায়ী থাকবে, সুস্মিতা নই। ও হ্যাঁ সুস্মিতা হচ্ছে এই গল্পের মূল চরিত্র। আমাদের এই গল্পে আরও একটা নাম পাবেন সেটা হল পোলু। এত সময় আপনাদের হাতে যে এই লেখাটাও Pause দিয়ে পড়ছেন..! বললাম চুরি করা গল্প তাও দেখতেই হবে তাই না..?
“ If a relationship doesn't make you a better person, then you are with the wrong one”
Based on a true story
:- ভালোবাসা ঠিক ততক্ষণই সুন্দর যতক্ষণ আমরা আমাদের পছন্দের মানুষকে ভালোবাসি বলতে না পারি। কাউকে একা একা ভালোবাসার মধ্যে একটা ব্যাপার আছে, আই লাভ ইউ বললে সেটা রিপ্লাই আই লাভ ইউ টু না এসে একটা লজ্জা পাওয়া মুচকি হাসি দেখলে শান্তি লাগে। ঘন্টার পর ঘন্টা ওর জন্য দাঁড়িয়ে থাকতেও কোনো কষ্ট হতো না, সত্যি বলতে কষ্ট হতো কিন্তু ও যখন এসে পাঁচ সেন্টেন্সের শব্দ SORRY বলতো তখনই সব কষ্ট মন থেকে নিমিষে হারিয়ে যেত। ওকে একবার দেখার জন্য ওর আসা পথের দিকে ঘন্টা পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকাও এক ধরনের ভালোবাসা। আসলে একটা অপেক্ষা, উত্তর না পেয়েও ওকে কখনো আমি কিছু বলতে পারতাম না কারণ একটাই, অধিকার তো পাইনি ওর কাছ থেকে। আর অধিকার পাবো বাহ কি করে? ও তো আর আমাকে ভালবাসে না।
আমি জানি ভালোবাসা তখনই স্বার্থ পূরণ হয়ে যাবে যখন ও আমাকে ভালোবাসি বলে ফেলবে। তবুও আমরা সবাই কেন জানি স্বার্থপর ভালবাসার জন্য অপেক্ষা করি, সবাই বসে থাকি অধিকারের অপেক্ষায়। আর অধিকার পেয়ে গেলে আমাদের সম্মানটাও বেড়ে যায়। অন্য সাধারন মানুষের মত আমারও একদিন ইচ্ছে হলো আমার ভালোবাসা কে স্বার্থপর ভালবাসা তে রূপান্তর করতে। অবশেষে ওকে একটা চিঠি লিখলাম, পরের দিন ওর সামনে দাঁড়িয়ে গেলাম উত্তরের অপেক্ষায়, তার মুখে উত্তর শোনার জন্য গভীর আগ্রহে তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ একটি শব্দ আমার কানে ভেসে আসলো ( আই লাভ ইউ টু) আমি অবাক হয়ে গেলাম আর ওর দিকে আরো ভালো করে তাকালাম। সূচনা হলো আমার আরও একটি গল্পের। আমার দুই পায়ের হাঁটার সঙ্গে যুক্ত হল আরো দুটি পা, ভালবাসতে বাসতে একটা জিনিস আবিষ্কার করলাম; একটা সম্পর্কে যে প্রথম ভালোবাসি বলে তাকে পুরোটা সম্পর্ক জুড়ে শাসিত হতে হয়। আর আমাদের সম্পর্কে আমি প্রথম বলেছিলাম ভালোবাসি! আমরা যখন কাউকে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলি তখন আমাদের ভালোবাসার মানুষ সব সময় সেটার সুযোগ নেবার চেষ্টা করে, আর আমার বেলাও ঠিক তেমনি হয়েছে। অন্য সব সম্পর্কের মত আমাদের সম্পর্কেও ঝগড়া শুরু হলো, ঝগড়ার একমাত্র কারণ আমি নিজেই! আমি কখনোই তার কথা শুনতাম না নিজের যেটা ভালো লাগতো সেটাই করতাম তার নিষেধ করা জিনিসগুলো কে আমি আরো বেশি বেশি করতাম। একদিন দুইদিন করতে করতে আমরা এক মাস দুই মাস ঝগড়া করে কেউ কারো সাথে কথা বলতাম না, ঝগড়ার কারণটা আস্তে আস্তে ইগোতে রূপান্তরিত হলো। আসলে রিলেশনশিপ টা হল একটা গেমের মত, যেখানে আমরা সবাই ব্যস্ত থাকি কার থেকে কার ইগো বেশি এটা প্রমাণ করতে। অতএব পর যার ইগো কম সে সব কিছু ভুলে গিয়ে তার ভালোবাসার মানুষের রাগ ভাঙ্গানোর কাজে ব্যস্ত থাকে। এই গেমে সব সময় জয়ী সে হয় যার ইগো অনেক বেশি, তাই সুস্মিতা প্রতিবার ব্যর্থ হত। সম্পর্কের একটা পর্যায়ে আমরা আমাদের ভালোবাসার মানুষের সাথে রাতে ফোনে কথা বলি, আমরা তাকে ভালোবাসি এজন্য না বরং সে যাতে অন্য কারো সাথে কথা না বলতে পারে এজন্য। সম্পর্ক প্রতিস্থাপনের চেয়েও সম্পর্ক রক্ষা করা অনেক বেশি কষ্টের। সম্পর্কের একটা পর্যায়ে আমাদের মধ্যে আর ভালোবাসা থাকে না কিন্তু ভালোবাসা না থাকলেও আমরা নিজেরা অনুভব করি আমার ওকে যেভাবে হোক পাওয়া লাগবে কারণ একটা সম্পর্ক তৈরি হতে এবং সেটাকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের অনেক বেশি কষ্ট করতে হয় ও অনেক বেশি সেক্রিফাইসও করতে হয়।
এবার আমাদের গল্পটা একটু অন্যদিকে মোড় নিল। আমাদের সম্পর্কের বয়স এখন তিন বছর। এই তিন বছরে আমার করা ছোট থেকে ছোট কাজও বিবরণ সে জানতো। আসলে পৃথিবীর প্রত্যেকটা সম্পর্কই তৃতীয় পক্ষের কারণেই ভাঙ্গে। ঠিক একইভাবে আমার আর তার জীবনেও একজন তৃতীয় পক্ষের আগমন ঘটে, তার নাম,,,,,,,,,। ,,,,,বিয়ে ঠিক হয় এবং তার বাসা থেকে আমাকে বলা হয় তার সঙ্গে গিয়ে তার বিয়ের কেনাকাটা গুলো করে নিতে। কেনাকাটা শেষে আমরা একটা সেলফি উঠাই এবং সেটা আমি আমার ফেসবুক স্টোরিতে দিই। সেই স্টোরিটাই হয়ে যায় আমার জীবনের কাল। স্টোরি টা দেখামাত্র সুস্মিতা আমাকে নানান রকম কথা বলে, স্বাভাবিকভাবেই এমন একটা ছবি দেখে একটা মেয়ের রাগ করাটা স্বাভাবিক কিন্তু আমার ওই মুহূর্তে কেন জানি সুস্মিতা রাগান্বিত করতে অনেক ভালো লাগছিল এজন্য কিছু না বলে চুপচাপ শুধু তার কথাগুলো শুনছিলাম। তাকে রাগান্বিত করার জন্য তার বলা কথাগুলো শুনতে শুনতে এতটাই লেট করে ফেললাম যে তাকে সত্যিকার কখনো জানানো হলো না। গল্পটি যারা ইতিমধ্যে পড়ছেন তারা হয়তো ভাবছেন আমি কেমন মানুষ যে একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক থাকার পরও অন্য একটা মেয়ের সাথে সেলফিতে!!! সেই চিরন্তন সত্যিটা হচ্ছে সে আমার ভাগ্নি হয় ভাগ্নির বিয়ের বাজার করতে গিয়েই সেলফিটা উঠানো হয়েছিল।
একটা পর্যায়ে আমি তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু সে আমার কোন কথা না শুনে আমাকে হাস্যোকর ব্যাক্তিতে রূপান্তরিত করল। তারপরও আমি তাকে সত্যটা অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু সে কোনভাবেই মানতে রাজি নই। আমি বললাম বাহ আগে তো আমার সাথে কথা না বলে একটুও থাকতে পারতা না আর এখন দেখি ভুলেও একটিবারের জন্য কথা বলো না। সুস্মিতা বলল আসলে দেখো আমাদের মধ্যে আর আগের ভালোবাসাটা নাই এখন আমরা দুজনের সাথে দুজন কথা না বলেও খুব ভালোভাবে থাকতে পারি তাই আমি একটা ডিসিশন নিয়েছি! ডিসিশনটা হল আমি আর চাই না যে আমাদের সম্পর্কটা টিকে থাক তাই এখন থেকে আমাদের সম্পর্কটা শেষ। ওর কথা শুনে আমি অবাক হলাম, ওর দিকে নিজ মনে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম তারপর তাকে আবার বোঝানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু সে আমার কোন কথা না শুনেই চলে গেল। একা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম চোখ থেকে অঝরে অশ্রু ঝরতে লাগলো কিছুক্ষণ পর হতাশ হয়ে ঝাপসা ঝাপসা চোখ দুটি নিয়ে রওনা দিলাম বাড়িতে ঠিক ওই মুহূর্তে বন্ধ হয়ে গেল একটা প্রেম কাহিনী।
কল লিস্ট থেকে সবচেয়ে পছন্দের নামটা নিচে নামতে নামতে এক সময় হারিয়ে গেল। সুস্মিতাকে অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ওই সুযোগ আমাকে দেয়নি এরপর বুঝতে পারলাম আমার আর সুস্মিতা সম্পর্কটা কিল হয়ে গেছে। ও এখন আমার জন্য একটা মরা মানুষ যে কিনা নিঃশ্বাস নেই কিন্তু আমার জন্য না। সুস্মিতা অনেকদিন তো হয়ে গেল কিন্তু তোমার অস্তিত্বের প্রতিবিম্বুটা কারো মাঝে খুঁজে পেলাম না, অভিনয়ের ভঙ্গিটাও দিন দিন বেড়ে চলেছে কিন্তু সেটা বাস্তব জীবনে জীবন্ত করে তুলতে পারে না।
আর কত, ক্লান্ত আমি!