26/05/2026
আমরা কীভাবে আরাফার দিনের (ইয়াওমুল আরাফাহ) সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করব?
আরাফাতের দিনটি শপিং, কেনাকাটা, ঘুম কিংবা আরাম-আয়েশ করে কাটিয়ে দেওয়ার দিন নয়!
যদি এই কাজগুলো খুব বেশি জরুরি হয়, তবে আরাফাতের দিনের অন্তত দুই দিন আগেই তা শেষ করে ফেলুন।
এটি এমন এক দিন, যাকে আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত সম্মানিত করেছেন। এটি সেই দিন, যার সম্মান করার নির্দেশ আল্লাহ নিজে দিয়েছেন।
এই দিনে আল্লাহ তা'আলা আসমানের ফেরেশতাদের সামনে আরাফাতের ময়দানে সমবেত বান্দাদের নিয়ে গর্ব করেন।
এটি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার দিন, ইবাদত ও আনুগত্যে কঠোর পরিশ্রম করার দিন; আর বছরের সবচেয়ে সেরা দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।
তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন, যেন আপনার জীবনের এই বিশেষ দিনের একটি নিঃশ্বাসও আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া পার না হয়।
আরাফার দিনের ইবাদতের একটি আদর্শ রুটিন (টাইমটেবিল):
১.আরাফাতের আগের রাতে জলদি ঘুমিয়ে পড়ুন, যেন পরদিন আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করার জন্য শরীরে পূর্ণ শক্তি পান।
২. ফজর হওয়ার আগেই ঘুম থেকে উঠুন, যেন এই মহামূল্যবান দিনের রোজা রাখার উদ্দেশ্যে শেষ রাতে সাহরি খেতে পারেন।
৩. তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করুন। কম পক্ষে দুই বা চার রাকাত নামাজ পড়ুন। সেজদারত অবস্থায় আপনার রবের কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণ চেয়ে আকুল দোয়া করুন।
আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানান যে, তিনি আপনাকে রহমত ও মাগফিরাতের এই বিশেষ দিনটি পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছেন।
৪. ফজরের আগের সময়টুকু ইস্তিগফারে কাটান, যেন আল্লাহর দরবারে আপনার নামটিও শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের তালিকায় লিখে নেওয়া হয়।
৫. ফজরের আযানের ৫ মিনিট আগেই প্রস্তুত হয়ে যান। ওযু করার সময় মনে মনে এই অনুভূতি রাখুন যে, ওযুর শেষ ফোঁটা পানির সাথে আপনার জীবনের গুনাহগুলোও ধুয়ে মুছে যাচ্ছে।
৬. ফজরের নামাজ পড়ুন এবং জায়নামাজেই বসে থাকুন। সূর্য ওঠার পর আরও ১৫ মিনিট পর্যন্ত নিজের জায়নামাজেই অবস্থান করুন; যেন একটি পূর্ণাঙ্গ হজ ও উমরার সওয়াব লাভ করতে পারেন, যেমনটি প্রিয় নবী ﷺ হাদিসে বর্ণনা করেছেন।
৭. ফজর নামাজের সালাম ফেরানোর পর থেকেই তাকবীর শুরু করে দিন:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।"
৮. ফজরের নামায শেষে ইশরাকের সময় পর্যন্ত বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করুন।
তাসবীহ-তাহলীল পড়ুন, আল্লাহর হামদ (প্রশংসা) করুন, নবী করীম ﷺ-