08/01/2026
🥰🥰
আমি S.S.C এক্সাম দেওয়ার পর থেকেই স্টুডেন্ট পরিয়েছি,টিউশন পরিয়েছি, স্কুলে পরিয়েছি, কোচিং এ পরিয়েছি৷গত ৫ বছর ধরে ছেড়ে ছেড়ে আমি পরিয়েই যাচ্ছি। বিষয়টা এমন না যে আমি সব পারতাম,বা পারি বা আমার মতো মেধাবী আর একটাও ছিলোনা, আমি যে ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট তাওনা,এমন কী আমার রেজাল্টও আশানুরূপ ছিলো না। আমার থেকে হাজার হাজার ভালো স্টুডেন্ট আছে। কিন্তু আমার ভেতরে এটা ছিলো যে আমি যা জানি বা শিখেছি তা অন্যকে আমার মাধ্যমে দেবো, এবং আমি এটা পারতামও খুব ভালোভাবে।হয়তো এটা আল্লাহ প্রদত্ত দান। যা নিজে বুঝতাম অন্যকে সহজে বুঝাতে পারতাম।যা জানতামনা, তা আমি আমার স্যারদের সহয়তাই আমি শিখে স্টুডেন্টদের পরিয়েছি,যদিও আল্লাহর রহমতে কখনো কোনো ফল্স পজিশনে পড়িনি, আলহামদুলিল্লাহ। নিজে শিখে অন্যকে শেখানো লজ্জার কিছুই নেই । অনেকেই আছে নিজে ভালো জানে কিন্তু ঠিকভাবে বুঝাতে পারেনা বা অন্যকে দিতে কার্পন্য করে সেটা অন্য বিষয়।
আমার অনেক বান্ধবী পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে আছে,আবার অনেকে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে, আবার অনেকে বিয়ে করে সংসার করছেন,সাথে পড়াশোনা করছেন, আলহামদুলিল্লাহ ৷ আমার মনে আছে, ক্লাস ৯ এ আমরা বান্ধবীরা মিলে গ্রুপ স্টাডি করতাম, বিজ্ঞান পড়তাম, একএকদিন একএকজন মেডাম হতাম, যখন আমার পালা আসলো বান্ধবীরা বলেছিলো, "তুই ভালোভাবে বুঝাতে পারিস, তকে মেডাম মানায়।তুই পড়াইবি।" তখন বান্ধবীদের মনে হয়তো কোনো হিংসা বা অহংকার ছিলোনা । এবং যেগুলো বুঝতামনা রুকন স্যারের কাছ থেকে বুঝে গ্রুপ স্টাডিতে বান্ধবীদের বুঝাতাম, খুব মজা লাগতো তখন।অনেকেই অনেক ভালো পজিশনে যাবি, অনেক উন্নতি করবি দোয়া করি৷ এ কথাগুলোর কোনোটাই আত্ম অহংকারনা। এগুলো বলার একটা কারণ আছে। ছোটোবেলায় আমরা অনেক কিছু হবো ভাবতাম, যদিও সময়টা আমাদের চলে যায়নি, আমাদের অনেক অনেক গুণ আছে, সেগুলো চাপা পরে যাচ্ছে, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নিজের ভেতরের টেলেন্টটাকে খুঁজে বের করতে হবে। আমি কীসের জন্য এতোগুলো কথা লিখলাম তার একটা কারণতো অবশ্যই আছে। আমি ছাত্রজীবনে কেমন ছিলাম তা মোটামুটি আমার স্যাররা সবাই জানে ,তৎকালীন স্কুলে শিক্ষারত ছাত্র ছাত্রীরাও জানে। খুব ভালোভাবে স্কুল জীবনটা, কলেজ জীবনটা শেষ করেছি, সম্মান এবং ভালোবাসার সাথে।কখনো বিতর্ক প্রতিযোগিতা,কখনো কবিতা, কখনো গান, কখনো নাচ,কখনো স্কাউট লিডার, কখনো গার্লগাইড, কখনো অভিনেত্রী, কখনো বা মেধাতালিকা সবি ছুয়েগেছি৷ ভালোলাগার শেষ ছিলোনা স্কুল জীবনটা।লিখতে লিখতে আসল ঘটনায় লিখতে মন চাইছেনা আর, আবেগে চোখের কোনায় পানি চলে আসছে,সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য, আমার বন্ধু, বান্ধবীদের জন্য(যাদের সাথে বছরের পর বছরেও আর দেখা হয়না)এবং আমাদের পরিবারের জন্য । অন্য কোনো একটা লেখায় আসল ঘটনাটা শেয়ার করবো কেনো নিজেকে নিয়ে এতো কিছু লিখলাম। ধন্যবাদ সবাইকে লিখাটা ধৈর্যধরে পরার জন্য।