12/10/2025
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডিপসি ডক এলাকায় মো. সোহেল (৩০) নামে এক জাহাজ শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে ডকের ভেতর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও, ঘটনাটিকে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
মৃত সোহেল নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডিপসি ডক এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর থেকে তাঁকে আর দেখা যাচ্ছিল না। পরে সন্ধ্যার দিকে সহকর্মীরা তাঁকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে সদরঘাট নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি— এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু, তা নিশ্চিত হতে সময় লাগবে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।”
এদিকে, স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা জানান, সোহেল একজন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কোনো ধরনের পারিবারিক বা কর্মস্থল-সংক্রান্ত সমস্যায় ছিলেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের ডক এলাকায় আগে ঘটেনি। সোহেল হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন নিলেন, তা বুঝে উঠতে পারছি না।”
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, হত্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত চলছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে গলায় চাপের চিহ্ন স্পষ্ট। তবে ঘটনাস্থল ও সিসি টিভি ফুটেজের বিশ্লেষণ মিলিয়ে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।
সোহেলের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় এখন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা বলেন, “আমরা চাই না এই ঘটনার তদন্ত গড়িমসিতে হারিয়ে যাক। সোহেলের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”