18/08/2026
অভিভাবকদের কাছে কিন্ডারগার্টেনের গ্রহণযোগ্যতা ও সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষার বৈষম্য বিশ্লেষণ
১. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মানের সংকট (এভিডেন্সসহ)
বিশ্বব্যাংক, ইউনেস্কো এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (BIDS) একাধিক গবেষণায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে:
লার্নিং পোভার্টি (Learning Poverty): বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৫৮% থেকে ৬৭% শিশু ১০ বছর বয়সেও একটি সহজ বাংলা অনুচ্ছেদ পড়ে বুঝতে পারে না।
গণিত ও ইংরেজির দুর্বলতা: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা মূল্যায়ন (NSAM) অনুযায়ী, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ৩য় শ্রেণির মানের গণিত (যেমন: সাধারণ গণনা ও যোগ-বিয়োগ) ও ইংরেজি সঠিকভাবে সমাধান করতে সক্ষম হয় না।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ও তদারকি: সরকারি প্রাথমিকে প্রতি শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক সময় ৪০-৬০ জন বা তার বেশি থাকে, ফলে একজন শিক্ষকের পক্ষে প্রতিটি শিশুর প্রতি আলাদা নজর দেওয়া সম্ভব হয় না।
২. কেন অভিভাবকরা কিন্ডারগার্টেন বেছে নিচ্ছেন?
বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো অভিভাবকদের আস্থা অর্জনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে:
ক) ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও ছোট শ্রেণীকক্ষ
কিন্ডারগার্টেনগুলোতে সাধারণত প্রতি শ্রেণীতে ১৫ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকে। ফলে শিক্ষক প্রতিটি শিশুর ঘাটতি চিহ্নিত করে ধরে ধরে শেখাতে পারেন।
খ) শুরু থেকেই মৌলিক দক্ষতার (Basic Skills) ওপর জোর
ফোনিক্স ও রিডিং: শৈশব থেকেই বর্ণমালা উচ্চারণ, শব্দ তৈরি এবং বাক্য গঠনের ওপর নিয়মিত অনুশীলন করানো হয়।
গণিতের বাস্তব চর্চা: সংখ্যা চেনা, মুখে মুখে হিসাব এবং ১-১০০ পর্যন্ত গণনার জন্য নিয়মিত কার্ড, খেলাধুলা ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
গ) শিক্ষক-অভিভাবক সংযোগ (Parent-Teacher Interaction)
কিন্ডারগার্টেনগুলোতে ডায়রি সিস্টেম, নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে (হোয়াটসঅ্যাপ/ফোন) প্রতিদিনের পড়া ও উপস্থিতির খবরাখবর দেওয়া হয়। ফলে অভিভাবকরা সন্তানের অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকেন।
ঘ) অতিরিক্ত শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের চাকরির স্থায়িত্ব নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স ও অভিভাবকদের সন্তুষ্টির ওপর। ফলে পাঠদানে অবহেলার সুযোগ কম থাকে।