24/12/2025
ক্রিসমাস ডে পালনের শরঈ দৃষ্টিকোণ—_
খ্রি*ষ্টানরা ২৫ ডিসেম্বরকে “ক্রিসমাস ডে” বলে। ধর্মীয় ও সামাজিক দিক থেকে দিনটি তাদের বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মদিন পালন করেন তাঁরা। যদিও তাঁর জন্মদিনের তারিখ কেউ জানে না। বাইবেলে ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ দেওয়া নেই। কিন্তু ৩৩৬ সাল নাগাদ থেকে এটি তাঁর জন্মদিন হিসাবেই নথিভুক্ত করে রোমানরা। দিনটি সামনে রেখে খ্রি*ষ্টানরা তাদের গির্জা, বাসা, বাগান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ক্রিসমাস ট্রি, মোমবাতি ও আলোকসজ্জাসহ নানা সরঞ্জামাদি দিয়ে সাজান।
অর্থগত দিক থেকে ক্রিসমাস শব্দটিই একটি শিরকি শব্দ। কারণ শব্দটির অর্থ “প্রভুর জন্মদিন বা প্রভুর পুত্রের জন্ম দিন।” নাউযু-বিল্লাহ মিন যালিক, মহান আল্লাহ এ থেকে পুত পবিত্র। এ ব্যাপারে কুরআনের বয়ান হলো—
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
“তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি।” (সূরা ইখলাস, আয়াত : ৩)
আরো ইরশাদ হয়েছে—
فَآَمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ انْتَهُوا خَيْرًا لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا
তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান
আন এবং বলো না ‘আল্লাহ তিন।’ এর থেকে নিবৃত্ত হও। এরই মধ্যে তোমাদের কল্যাণ। আল্লাহ তো একই মাবূদ। তার কোনো পুত্র থাকবে-এর থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র। আর আকাশমন্ডল ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা তাঁরই। সকলের তত্ত্বাবধানের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
(সূরা নিসা, আয়াত : ১৭১)
আর খ্রি*ষ্টানরা হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর ব্যাপারে—যে আকিদা-বিশ্বাস পোষণ করে তিনি কখনোই তা ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন আল্লাহর বান্দা ও তাঁর সম্মানিত রাসূল। তাঁর বিভিন্ন মুজিযা ছিল। তাঁর পূর্বেও অনেক রাসূল এসেছিলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকেও বিভিন্ন মুজিযা দান করেছিলেন।
তাই ক্রিসমাস ডে বা বড়দিন হচ্ছে কথিত খ্রি*ষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। যা তাদের ধর্ম ও ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। অতএব একজন মুসলমানের জন্য এ ধরণের উৎসব ও সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
বিধর্মীদের কোনো ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেওয়া, স্বীকৃতি দেওয়া বা সহায়তা করা সুস্পষ্ট হারাম কাজ। এজাতীয় উৎসবে নিজে অংশ না নিলেও নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যে সেই উৎসবকে উপলক্ষ্য বানানোও মূলত উৎসবটিকে প্রকাশ্য সমর্থনেরই অংশ, তাই তাও বৈধ নয়।
নবী কারীম (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করছেন, যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।
(সুনানে আবু দাউদ : ৪০৩১)
অন্য একটি বর্ণনায় খলিফা হযরত উমর (রা.) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর দুশমনদের উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাক।
(সূত্র : আসসুনানুল কুবরা, হাদীস - ১৮৮৬২)
অন্য বর্ণনায় তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, কারণ এক্ষেত্রে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নাযিল হয়ে থাকে। আরেকটি বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেছেন, যারা বিধর্মীদের মত উৎসব করবে, কিয়ামত দিবসে তাদের হাশর ঐ লোকদের সাথেই হবে।
(সূত্র : আসসুনানুল কুবরা, হাদীস - ১৫৫৬৩)
১. ক্রিসমাস ডে উপলক্ষ্যে পণ্যে ডিসকাউন্ট—
ক্রিসমাসকে আলাদাভাবে উল্লেখ করে ডিসকাউন্ট প্রদান করা বৈধ নয়। যারা ডিসকাউন্ট দিবে তাদের পণ্যট ক্রয় করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। অবশ্য এই দিনগুলোকে আলাদাভাবে ট্যাগ করা ও হুবহু অনুকরণ ছাড়াই যদি এই সময়গুলোতে বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য ক্রেতাকে ডিসকাউন্ট প্রদান করা হয় তাহলে তা বৈধ হবে। যেমন : শীত উপলক্ষ্যে ডিসেম্বর মাসব্যাপী ডিসকাউন্ট। একইভাবে এসময়ে ডিসকাউন্ট ঘোষিত পণ্য ক্রয় করাও বৈধ হবে।
২. ক্রিসমাস ডে উপলক্ষ্যে কর্মবিরতির বিধান—
সরকারীভাবে আম ছুটির নির্দেশনা থাকলে ভিন্ন
কথা। এক্ষেত্রে সরকারি হুকুমের তামিলের কারণে নিজেদের এখতিয়ার থাকেনা। সেহেতু এই পর্যায়ে কেউ ‘ক্রিসমাস ডে’ এর ছুটি নিলে বা মঞ্জুর করলে তাকে প্রকৃত অর্থে গুনাহগার সাব্যস্ত না করাই অধিক শ্রেয়। তবে কোন মুসলিম ব্যবসায়ী বা মালিক তাদের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে ক্রিসমাস ডে’ উপলক্ষ্যে এ দিন কর্মবিরতি গ্রহণ করলে বা কোনো শারঈ কারণ ব্যতিরেকে ছুটি মঞ্জুর করলে তা নিশ্চিতরূপে হারাম সাব্যস্ত হবে। তবে খ্রি*ষ্টান ধর্মালম্বী কোনো কর্মচারী থাকলে তাকে ছুটি প্রদান করা যাবে।
আর ক্রিসমাস ডে উপলক্ষে মুসলিম মালিকদের
জন্য স্টাফদের বোনাস, উপহার সামগ্রী প্রদান করা জায়েয নেই। তবে ক্রিসমাস ডে এর নিয়ত ছাড়া ২৫ ডিসেম্বরের আগে বা পরে প্রচলন অনুযায়ী প্রদান করা যেতে পারে।