Md Rakib Hossen

Md Rakib Hossen I love to hard work. If you change mind ,You will get prosperity. Customization

04/11/2025

১. সৌদি আরবের রিয়াদে মরুভূমির নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝে মেট্রোরেল প্রজেক্টে খরচ হয়েছে প্রতি কিঃমিঃ এ ১৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এক্সটেনশনের ক্ষেত্রে ঐ খরচ নেমে এসেছে ৯৫ মিলিয়নে।
২. দুবাইয়ে বালুর সমুদ্রে একই ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে মেট্রোরেল প্রজেক্টে খরচ হয়েছে প্রতি কিঃমিঃ এ ১৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩. ভারতের পাটনায় একই ধরনের মেট্রোরেল প্রজেক্টে প্রতি কিঃমিঃ এ খরচ হয়েছে মাত্র ৪০.৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেটা মরুভূমির বাইরে স্বাভাবিক কস্ট। পাটনায় খরচ হয়েছে ৩৩ মিলিয়ন পার কিঃমিঃ ও দিল্লিতে ৩০ মিলিয়ন পার কিঃমিঃ। ইন্দোরে এই খরচ ২৮ মিলিয়নে নেমে এসেছে।

কিন্তু বাংলাদেশে, যেটা মরুভূমি না বা তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই, দুই দফার খরচ হয়েছে প্রতি কিঃমিঃ এ ২২৬ মিলিয়ন ও ২৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার!

অর্থাৎ, ভারতের সবথেকে ব্যয়বহুল প্রজেক্ট পাটনা মেট্রোরেলের তুলনায় হিসাব করলে ঢাকা মেট্রোরেল ১ এ বাংলাদেশের অতিরিক্ত লেগেছে প্রায় ৬৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ঢাকা মেট্রোরেল ২ প্রজেক্টে অতিরিক্ত লেগেছে প্রায় ৩১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মোট ৯৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বা ৯.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত খরচ করেছে বাংলাদেশের তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার।

আমি পয়েন্টের হিসাব বাদ দিছি, নইলে এটা ১০ বিলিয়নই হবে। অর্থাৎ টাকায় হবে ১.২ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা আপনার-আমার টাকা। কার পকেটে গেছে? হাসিনার সন্তানদের, যারা এখন বিদেশে পালিয়ে আছে।

এবার একটা হিসাব দেই। ধরুন আপনি জন্মের সাথে সাথে কথা বলার শক্তি পেলেন। এবং আপনি ৬০ বছর বাঁচলেন। এই ৬০ বছরে অনবরত অন্য কোনোকিছু না করে কেবল বললেন, "মেট্রোরেলে চড়ার সময় মনে পড়বে হাসিনার অবদান", তাহলে আপনি সর্বোচ্চ ৬৩ কোটি ১০ লক্ষ বার এটা বলতে পারবেন। হাসিনা কেবল মেট্রোরেল প্রজেক্ট থেকে মেরেছে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা। আপনার জিকিরের থেকে ১৯০০ গুণ বেশি।

~Merza Hashib

01/11/2025

সুদানের সংকট আসলে কী?
অনেকেই আজ প্রশ্ন করছেন—সুদানে আসলে কী ঘটছে? কেন মানুষ একে অপরের র*ক্ত ঝরাচ্ছে? এ কি সেই সুদান নয়, যাকে একসময় বলা হতো “আফ্রিকার খাদ্যভান্ডার”? নীলনদের আশীর্বাদে ভরপুর উর্বর ভূমি, যেখানে ছিল বিশ্বের বৃহত্তম কৃষি প্রকল্প—গেজিরা স্কিম।

এই দেশই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্বর্ণসম্পদ আর পঞ্চম বৃহত্তম গবাদিপশুসম্পদের অধিকারী। অথচ আজ সেই সুদানই অনাহার, যু%দ্ধ আর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রায় এক কোটি সুদানি মানুষ আজ মারাত্মক খাদ্যসংকটে ভুগছে, অনেকেই অনাহারের দ্বারপ্রান্তে।

প্রশ্ন জাগে—যে দেশ এত সম্পদে পরিপূর্ণ, সেখানে কীভাবে এমন র*ক্তস্নাত বিভীষিকা নেমে এলো?

---

বর্তমান সংঘাতের শেকড়

সুদানে চলমান গৃহযু%দ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে, যখন দেশের দুটি প্রধান সামরিক শক্তি পরস্পরের বি*রুদ্ধে অ%স্ত্র তুলে নেয়—

১️। সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (SAF)
২। র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF), যাদের *জাঞ্জাওয়িদ* নামেও চেনে অনেকে।

এ সংঘাত মূলত ক্ষমতা, সামরিক আধিপত্য এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের লড়াই।

পটভূমি এমন—
২০১৯ সালে গণবিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বাশিরের ৩০ বছরের শাসন পতন হয়। এরপর গঠিত হয় এক অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক-নাগরিক সরকার। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় ক্ষমতার টানাপোড়েন—সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেদতি)-এর মধ্যে।

আরএসএফকে সেনাবাহিনীতে একীভূত করা, ক্ষমতা ভাগাভাগি এবং ভবিষ্যৎ বেসামরিক সরকারের কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ দেশকে গৃহযু%দ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রথমে সংঘাত সীমিত ছিল রাজধানী খারতুম ও আশপাশের এলাকায়, কিন্তু দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে—বিশেষ করে দারফুরে, যেখানে লড়াইটি জাতিগত রূপ নেয়। শান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত আল-ফাশির আজ এক ভগ্ন নগরী।

---

আরএসএফ-এর উত্থান কাহিনি

আরএসএফ শুরুতে কোনো আনুষ্ঠানিক সেনাবাহিনী ছিল না—বরং এক উপজাতীয় মিলিশিয়া। ২০১৯ সালের আন্দোলনের সময় বাশির সরকার নিজেদের রক্ষা করতে এই মিলিশিয়াকে পাশে নেয়, তাদের আধা-সরকারি মর্যাদা দেয়, আর নেতা হেমেদতিকে জেনারেলের পদে উন্নীত করে। এরপর এই বাহিনীর নাম দেওয়া হয় র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)।

যখন এপ্রিল ২০১৯-এ আল-বাশির উৎখাত হন, তখন জেনারেল আল-বুরহান ও তার সহকর্মীরা ক্ষমতা নেয় এবং গঠন করে ট্রানজিশনাল মিলিটারি কাউন্সিল। জনগণ প্রথমে একে স্বাগত জানালেও শীঘ্রই তারা বেসামরিক সরকার দাবি করে।

‘ফোর্সেস অফ ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জ (FFC)’ নামে এক রাজনৈতিক জোট গড়ে ওঠে, যারা নাগরিক শাসনের জন্য চাপ দেয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৯ সালের আগস্টে গঠিত হয় যৌথ সামরিক-নাগরিক সরকার। অর্থনীতিবিদ আবদুল্লাহ হামদক হন প্রধানমন্ত্রী, আর আল-বুরহান সেনাপ্রধান হিসেবেই থাকেন।

এই সময় সুদান ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরে আসে; এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসপৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকেও বাদ পড়ে।

কিন্তু ২০২১ সালের অক্টোবরে আল-বুরহান আবারও সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বেসামরিক সরকার ভেঙে দেন এবং হামদককে গৃহবন্দি করেন। সেনাবাহিনী পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়—এভাবেই ভবিষ্যতের সংঘাতের বীজ বপন হয়।

এদিকে আরএসএফও শক্তিশালী এক সমান্তরাল বাহিনীতে পরিণত হয়। সেনাবাহিনীতে একীভূত হওয়ার প্রশ্নে উত্তেজনা তীব্র হয়, এবং অবশেষে ২০২৩ সালের এপ্রিলে তা রূপ নেয় উন্মুক্ত যু%দ্ধে।

খারতুম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আল-ফাশিরে শুরু হয় হ%ত্যাযজ্ঞ ও দুর্ভিক্ষ। ১ কোটি মানুষেরও বেশি বাস্তুচ্যুত হয়। যে “স্বাধীনতার বিপ্লব” একসময় আশার আলো জ্বেলেছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে বিশৃঙ্খলায়।

---

বিদেশি স্বার্থ ও হস্তক্ষেপ

সুদানের এই যুদ্ধ শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ নয়—বড় শক্তিগুলোরও এতে গভীর স্বার্থ জড়িয়ে আছে।

রেড সি বা লোহিত সাগরের তীরে সুদানের অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত—মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপকে যুক্ত করা এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। ফলে এটি পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার ময়দানে।

🔹 সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE): আরএসএফকে অ%স্ত্র ও অর্থসহায়তা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। সুদানি সরকার তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছে।

আমিরাতের আগ্রহ মূলত সুদানের সোনা, কৃষিজমি ও বন্দরনগরীগুলো ঘিরে। অভিযোগ আছে—আমিরাত-সমর্থিত কোম্পানিগুলো দারফুরসহ উত্তরাঞ্চল থেকে সোনা পাচার করছে, বিনিময়ে আরএসএফকে অ%স্ত্র ও অর্থ দিচ্ছে।

🔹 মিশর: মিশর সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে, কারণ তারা আশঙ্কা করছে—আরএসএফ ক্ষমতায় এলে নীলনদের পানিবণ্টনে তাদের প্রভাব হুমকির মুখে পড়বে।

🔹 সৌদি আরব: সামনে থেকে শান্তি আলোচনা চালালেও, ভেতরে ভেতরে এমন এক সরকার চায়, যা তাদের আঞ্চলিক স্বার্থে অনুগত থাকবে।

🔹 রাশিয়া: তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট—রেড সি-তে নৌঘাঁটি স্থাপন। ওয়াগনার গ্রুপ নামের রুশ ভাড়াটে বাহিনী বহু বছর ধরেই সুদানের সোনা বাণিজ্যে যুক্ত।

🔹 যুক্তরাষ্ট্র ও ইস%রা*য়েল: আমেরিকা চায়, সুদান যেন রাশিয়া বা চীনের ঘনিষ্ঠ না হয়; আর ইস&রা%য়েল, আল-বাশির পতনের পর থেকে সুদানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, পূর্ব আফ্রিকায় এক কৌশলগত মিত্র গড়ে তুলতে চায়—ইরানি প্রভাব ঠেকানোর জন্য।

খবরে জানা যায়, ইস&রা&য়েলি গোয়েন্দারা আরএসএফ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং কায়রোর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

---

বিভক্তির আশঙ্কা

অনেক বিশ্লেষক এখন আশঙ্কা করছেন—সুদান হয়তো আবারও বিভক্তির পথে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তা ঘোষণা করেনি।
বর্তমানে—

• উত্তর ও পূর্বাঞ্চল (যার মধ্যে পোর্ট সুদানও আছে) সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

• পশ্চিমাঞ্চল (বিশেষত দারফুর ও আল-ফাশির) আরএসএফের দখলে।

যদি যু%দ্ধ চলতেই থাকে, তবে দেশটি হয়তো তিন ভাগে ভেঙে যাবে—উত্তরে সামরিক শাসিত অঞ্চল, পশ্চিমে আরএসএফের এলাকা, আর পূর্বে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে একটি অঞ্চল।

আগে যে দেশটি দক্ষিণ সুদান আলাদা হওয়ার মাধ্যমে একবার বিভক্ত হয়েছিল, আজ সেই দেশ আবারও একই পথে হাঁটছে।

---

মানবিক বিপর্যয়

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নি&হত এবং ১৪ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত।

হাসপাতালগুলো ভেঙে পড়েছে, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বন্ধ, শহরগুলো পরিণত হয়েছে মৃ&ত্যুপুরীতে। আল-ফাশির, নিয়ালা, আল-জেনেইনা—সবখানেই মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র।

যখন যু%দ্ধবাজরা সোনা, তেল, জমি আর ক্ষমতার ভাগাভাগিতে ব্যস্ত—তখন সাধারণ সুদানি মানুষ মৃ&ত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে ক্ষুধা ও রোগে।

যে দেশ একসময় “আফ্রিকার ভবিষ্যৎ” নামে পরিচিত ছিল—উর্বর জমি, অফুরন্ত খনিজ, অসংখ্য গবাদিপশু আর নীলনদের আশীর্বাদে সমৃদ্ধ—আজ সেই দেশ জ্ব&লছে যু&দ্ধের আ*গুনে।

যেখানে একদা ছিল সজীব ফসলের মাঠ, আজ সেখানে ছড়িয়ে আছে গানপাউডারের গন্ধ। যেখানে শিশুরা তালগাছের ছায়ায় খেলত, আজ সেখানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে মায়েদের আর্তনাদ।

---

উপসংহার

মূলত, এ যু%দ্ধ কোনো নীতির নয়—এটি স্বার্থের যু&দ্ধ, যা গরিব মানুষের র&ক্তে জ্বালানি পায়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন— “যখন তাদের বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করো না,’ তারা বলে, ‘আমরা তো শুধু সংশোধন করছি।’” (সূরা আল-বাকারা, ২:১১)

আজকের সুদান এই আয়াতের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি—যেখানে প্রত্যেকে বলে, তারা নাকি শান্তির জন্য লড়ছে, অথচ তাদের হাতের নিচে ভেসে যাচ্ছে র&ক্ত, ধ্বংস আর মানবতার আর্তনাদ।

©
লেখক: এনামুল হক ইবনে ইউসুফ
ইংরেজি থেকে অনুবাদ

01/11/2025

Celebrating my 8th year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉

27/08/2025

জনৈক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: পাঁচটি বিষয়ের আগে পাঁচটি বিষয়ের প্রতি (সময় থাকতেই) গুরুত্ব প্রদান করো:
১. বার্ধক্য আসার আগে যৌবনের;
২. রোগাক্রান্ত হওয়ার আগে সুস্থতার;
৩. দারিদ্র্য আসার আগে সচ্ছলতার;
৪. ব্যস্ত হয়ে যাবার আগে অবসর সময়ের;
৫. মৃত্যু আসার আগে জীবনের।

(ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী হাদিসটি সহিহ তবে তারা হাদিসটি তাদের গ্রন্থে বর্ণনা করেননি। আল মুসতাদরাক-৪র্থ খণ্ড, মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা-৭ম খণ্ড, তিরমিযী, মিশকাত)।

08/08/2025

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম ১২ মাসে (গঠনকাল থেকে এক বছরের মধ্যে) সরকারের ১২টি সাফল্যের একটি বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরেছেন। নিচে সেগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

1. শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুন:প্রতিষ্ঠা — জুলাই গণঅভ্যুত্কূলে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নৈতিক নেতৃত্ব এ প্রক্রিয়ার প্রধান চালিকা শক্তি ছিল ।

2. অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন — খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৪ % থেকে অর্ধেকে নামিয়ে এনে, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৮ % (৩৫ মাসের সর্বনিম্ন) করা হয়েছে; প্রবাসী আয় রেকর্ড $৩০.৩৩ বিলিয়ন, রপ্তানি ৯ % বৃদ্ধি এবং টাকার ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থা; ব্যাংক খাত স্থিতিশীল হয়েছে ।

3. বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অগ্রগতি — যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনার সফল সমাপ্তি, হান্ডা গ্রুপের $২৫ মিলিয়নের টেক্সটাইল বিনিয়োগ (২৫ হাজার কর্মসংস্থান); দ্বিগুণ FDI প্রবাহ; চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ।

4. গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ — সংস্কার কমিশন গঠন, ৩০+ রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত—যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ বন্ধ করবে ।

5. জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার — চারটি বড় মামলা বিচারাধীন এবং শেখ হাসিনার বিচার আরম্ভ ।

6. নির্বাচন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী সংস্কার — ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নির্ধারণ; প্রবাসী, প্রথমবারের ভোটার ও নারীর ভোটাধিকার নিশ্চিত; ডিজিটাল মতামত প্ল্যাটফর্ম চালু; ৮ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন পরিকল্পনা ।

7. প্রতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কার — বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুরক্ষা; পুলিশি সংস্কারে মানবাধিকার সেল, বডিক্যাম, স্বচ্ছ জিজ্ঞাসাবাদ, UN মানের প্রতিবাদ-প্রোটোকল; আইনি সংস্কারে গ্রেফতারির তথ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানানো, আইনজীবীর অ্যাক্সেস, চিকিৎসা সুরক্ষা, অনলাইন জিডি চালু ।

8. গণমাধ্যম ও ইন্টারনেট স্বাধীনতা — দমনমূলক সাইবার আইন বাতিল; সাংবাদিকদের মামলা বাতিল; সমালোচনার স্বাধীনতা; ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা ।

9. পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন — বহুমাত্রিক কূটনীতি গড়ে তোলা; যুক্তরাষ্ট্র, চীন, EU-সহ অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সংকট মোকাবেলার সহযোগিতা; SAARC পুনর্জাগরণ ও ASEAN সদস্যপদ প্রচেষ্টা ।

10. প্রবাসী ও শ্রমিকদের অধিকার — আমিরাতে ভিসা পুনরায় চালু; মালয়েশিয়ায় একাধিক প্রবেশ ভিসা; অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা; জাপানে ১ লাখ তরুণ পাঠানোর উদ্যোগ; ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, সার্বিয়ায় শ্রমিক প্রেরণ পরিকল্পনা ।

11. শহীদ ও আহত বিপ্লবীদের সহায়তা — শহীদ ও আহতদের তালিকা; ৭৭৫ শহীদ পরিবার পেয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও ভাতা; ১৩৮০০ আহত বিপ্লবী পান ১৫৩ কোটি টাকা; গুরুতর আহতদের জন্য বিদেশে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা ।

12. সমুদ্র ও অবকাঠামো উন্নয়ন — বঙ্গোপসাগরকে ‘জলভিত্তিক অর্থনীতির মূল সম্পদ’ ঘোষণা; চট্টগ্রাম বন্দরে দক্ষতা বৃদ্ধি (প্রতিদিন +২২৫ কনটেইনার); উপকূলীয় উন্নয়ন; গভীর সমুদ্রের মৎস্য ও শিল্প প্রকল্পের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারতা ।

বামরা আসলে সাদিক কায়েমের শত্রু নয়, ইসলামের শত্রু।
05/08/2025

বামরা আসলে সাদিক কায়েমের শত্রু নয়, ইসলামের শত্রু।

২০১৫ সালের ৩০ মে গ্রে প্তার করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীকে। সেদিন বেলা ১১টার দিকে বনশ্রীর বাসা থেকে ...
03/08/2025

২০১৫ সালের ৩০ মে গ্রে প্তার করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীকে। সেদিন বেলা ১১টার দিকে বনশ্রীর বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশে বের হওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। যদিও এর আগে তাকে তার অফিসে খোঁজ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল। সেখানে তাকে না পেয়ে অফিসের অন্য এক কর্মচারীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই তরুণ বলেন, ধরার পরপরই আমাকে টর্চার করা হয়, যতক্ষণ না তারা বুঝতে পারে যে আমি ভুল ব্যক্তি। মূলত তারা যাদের খুঁজছিলেন, তাদের কাউকেই আমি চিনতাম না। তাদের উপলব্ধির পর তারা আমার ওপর নির্যাতন বন্ধ করে। তবে আমাকে আট দিন ঘুমাতে দেয়নি। প্রথম দিনে প্রায় এক ঘণ্টা টর্চার করে এবং পরে রিমান্ড চলাকালীনও নির্যাতন চলে। তিনি বলেন, মোট ২৩-২৪ দিনের মতো রিমান্ডে ছিলাম, যা বিভিন্ন মামলায় ৫ থেকে ৭ দিন করে বিভক্ত ছিল। এরপর ১৬৪ ধারার জবানবন্দির সময় আমাকে একটি প্রস্তুতকৃত স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে মামলার বর্ণনা সাজানো ছিল। সেই স্ক্রিপ্টে উল্লেখ ছিল যে, আমাকে আমার বাবার বাসার গ্যারেজ থেকে আটক করা হয়েছে এবং আমাদের কেস পার্টনারদের মধ্যে ছয়-সাতজনকে ওই গ্যারেজ থেকে আটক করা হয়। কারও হাতে ছু রি, কারও হাতে বো মা—এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন আমরা একটি ব্যাংক ডা কা তির জন্য বের হয়েছি। তবে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গিয়ে সত্যটাই বলি। শেষ পর্যন্ত মোট পাঁচটি মামলা হলো, যার ভিত্তিতে আমি ২৩ মাস জেল খাটলাম। এই ২৩ মাসের মধ্যে ডিটেনশন সেলে আট দিন আমাকে ঘুমাতে দেওয়া হয়নি।

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আমি ব্যবসায় মনোনিবেশ করি। কারণ, আগের ঘটনাগুলোর কারণে চাকরি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি আবারও বিপদের মুখোমুখি হই। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার ফোন দিয়ে জানায়, কালো গ্লাসওয়ালা মাইক্রোবাসে কিছু লোক আমাকে খুঁজতে এসেছে। আমি পালানোর সিদ্ধান্ত নিই, কিন্তু এর ফল হয় ভয়াবহ। র‌্যাব প্রথমে এক গাড়ি নিয়ে আসে, তারপর তিনটি গাড়ি নিয়ে আমার খোঁজে তল্লাশি চালায়। আমার শ্বশুরবাড়িতেও অভিযান চালানো হয়।

আমাকে না পেয়ে তারা আমার স্ত্রী ও শ্যালককে ধরে নিয়ে যায়। তিন দিন তারা র‌্যাব-১১ এর হেফাজতে ছিল। ওই সময় আমি নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করি। তখন আমাকে বলা হয়, আমি ধরা দিলে আমার স্ত্রী এবং শ্যালককে ছেড়ে দেবে। তখন শর্ত দিই যে, আগে আমার স্ত্রী ও শ্যালককে মুক্তি দিতে হবে, তারপর আমি আত্মসমর্পণ করব। পরে আমার স্ত্রী এবং শ্যালককে ছেড়ে দেয়। এরপর আমি আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েই র্যাবের কার্যালয়ে আত্মসমর্পণ করি। আমাকে গ্রেপ্তার করার পর আমার ধারণা ছিল, তারা হয়তো কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেই ছেড়ে দেবে, কিন্তু আমি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় মামলা লিখে ফেলল, আমাকে আদালতে চালান করল, এবং জেলে পাঠাল।

আমার স্ত্রীকে তিন দিন ধরে আটক রাখা হয় র‌্যাব অফিসে। তাকে এমন একটি সেলে রাখা হয়েছিল, যেখানে টয়লেটের সাইডের দেয়াল ছিল না, শুধু সামনের দেয়াল ছিল। সেখানে সিসি ক্যামেরাও ছিল। সেই তিন দিনে তাকে ঘুমাতে দেওয়া হয়নি, খারাপ দৃষ্টিতে তাকানো, আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার, ‘জ ঙ্গির বউ’ ও ‘জ ঙ্গি মদদদাতা’ বলে গা লাগাল করা হয়েছে।

তিন দিন পর স্ত্রী ছাড়া পেলেও এবার আমাকে গ্রেপ্তারের পর তিন মাস পরে জামিন দেওয়া হয়। জামিনের পরে ফের আলেপ উদ্দিন আমাকে স্ত্রীসহ তার অফিসে ডাকে। তার অফিসে যাই। সেখানে আলেপের চেম্বারে আমরা দুজন বসেছিলাম। সেই দিন আলেপ আমাকে কিছু নসিহত করে গেস্টরুমে পাঠিয়ে দিল এবং বলল, ‘আপনার স্ত্রীর সঙ্গে একটু ব্যক্তিগত কথা আছে।’ ১৫-২০ মিনিট পর আমার স্ত্রী গেস্টরুমে এলো। আমি প্রথমবার লক্ষ করলাম, তার চেহারা বিধ্বস্ত, ভেঙে পড়া, চোখ ছলছল করছে, হাঁটতে পারছে না। মনে হলো, এমন কিছু তাকে বলা হয়েছে, যা তাকে ভীত ও অমানষিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।

এরপর কয়েকদিন কেটে গেল, কিন্তু আমি লক্ষ করতে লাগলাম যে, আমার স্ত্রী ক্রমশ মনমরা হয়ে যাচ্ছে, অন্যমনস্ক থাকছে। সে আমার সামনে থেকেও নেই, কথাগুলো শুনছে, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে না। বেঁচে থেকেও মৃতের মতো, প্রাণহীন, নিস্তেজ।

এরপর স্ত্রীকে এভাবে মনমরা হয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাপ দিতে থাকলাম। একপর্যায়ে আমার স্ত্রী সব ঘটনা খুলে বলে। আমাকে ক্রসফায়ার এবং নির্যাতনের করা হবে—এমন ভয় দেখিয়ে স্ত্রীকে দুবার ধ র্ষণ করা হয়েছে। শ্লী*লতাহানিও করা হয়েছে।

প্রথমে ছোটখাটো ইঙ্গিতমূলক কথা বলত, যেমন—‘আপনি একা একা কেমন আছেন?’, ‘আপনার স্বামীকে সহজে বের করে আনার জন্য কি কিছু করা যায়?’, ‘আসুন, আমরা বসে কথা বলি।’ এ ধরনের কথাবার্তা দিয়ে সে মানসিক চাপে ফেলত। যখন আমি দ্বিতীয়বার গ্রে*প্তার হলাম, তখন আমরা আফতাবনগরে থাকতাম। গ্রে*প্তারের পর আমার স্ত্রী তার বাবার বাড়ি, পূর্ব গোড়ানে চলে যায়। আলেপ উদ্দিন তখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে, ‘আপনার বাসার ঠিকানা মামলায় দেওয়া আছে, তাই ইনভেস্টিগেশনের জন্য আপনাকে বাসায় আসতে হবে।’ এভাবে আমার স্ত্রীকে বাসায় ডেকে আনে। সেই দিনই প্রথমবার আলেপ শ্লী*লতাহানির চেষ্টা করে। বাসার দারোয়ান তখন ছিল এবং আলেপ নিজেকে আমার খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে উপরে উঠে আসে। তবে আমার স্ত্রী দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ করে এবং আশপাশের ফ্ল্যাটগুলোতে মানুষ থাকার কারণে সে সফল হয়নি। এরপর আলেপ বারবার ফোন করে বোঝাতে থাকে, ‘আমি চাই আপনার স্বামী সহজেই বেরিয়ে আসুক। আমি চাই না সে আর কোনো হয়রানির শিকার হোক। আপনার সঙ্গে কথা বললে সব সহজ হয়ে যাবে।’ এভাবে সে আমার স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে।

তিন মাস পর যখন আমি জামিনে মুক্তি পেলাম, তখন আবার আমাকে রিঅ্যারেস্ট করা হলো এবং থানায় নেওয়া হলো। এবার আলেপ পুরোপুরি পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিল। সে আমার স্ত্রীকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিল, ‘এখন সবকিছু আমার হাতে। চাইলে আমি তোমার স্বামীকে ছেড়ে দিতে পারি, আবার চাইলে নতুন মামলায় ফাঁসাতে পারি এবং চাইলে ক্রস ফা য়ার দিয়ে হ ত্যা করতে পারি।’ এই চাপের মুখে নিরুপায় করে আলেপ আমার স্ত্রীকে তার অফিসে ডাকে। অফিসে দেখা করার পর সে তার ব্যক্তিগত সাদা টয়োটা গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যায়। মাঝপথে ইপিজেড পার হয়ে র‌্যাব অফিসার্স কোয়ার্টারে নিয়ে যায়। সেখানেই ঘটে সেই ভয়ংকর ঘটনা, যা আমার স্ত্রী অনেকদিন পর্যন্ত বলতে পারেনি। সেখানে সে আমার স্ত্রীকে প্রথমবার ধর্ষ ণ করে। ওই সময় আমার স্ত্রী আমাকে ঘটনা জানায়নি। ভেবেছে যদি আমি ভুল কিছু করে ফেলি। কিন্তু বের হয়ে আমি ঘটনা জানার পরে আলেপকে জিজ্ঞাসা করি। তখন সে উল্টো আমাদের ভয় দেখায়। মামলা, ক্রস*ফায়া*রের ভয় দেখায়।

এরপর আমি জামিনে বের হই। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে আলেপ আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করত। দেখা করতে চাইত। না করলে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিতে। তিনি বলেন, ওই সময়ে রোজার মাস ছিল। শবেকদরের দিন। আমি এতেকাফে বসেছিলাম মসজিদে। তখন আলেপ আমার স্ত্রীকে হুমকি দেয়। সামনের ঈদ মাটি করে দেবে। আমাকে মসজিদ থেকে তুলে নিয়ে ক্র*সফা*য়ারে দিয়ে দেবে। এমন নানা হুমকি-ধমকি দিয়ে আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে তুলে নেয়। এরপর ওই কোয়ার্টারেই নিয়ে যায়। প্রথমবার তিনতলার সাত নম্বর রুমে নেওয়া হয়েছিল। এর পরেরবার নিচতলায় ঢোকার সময় বাম পাশে। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী আমাকে সব ম্যাপ থেকে দেখাইছে। ইচ্ছে ছিল মামলা করব। কিন্তু স্ত্রী অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করায় আর মামলা করা হয়নি।

আমার স্ত্রী আর এই ট্রমা থেকে বের হতে পারেননি। দিনের পর দিন কেবল কান্না করতেন। রাতে মোনাজাতে দুই হাত উঠিয়ে কান্না করতেন। ফ্লোরে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতেন। মানুষটা আমাকে খুব ভালোবাসত। কি সুন্দর সংসার ছিল! সবসময় হাসিখুশি। বেশি চাওয়া-পাওয়ার ছিল না। কিন্তু সব শেষ করে দিল। বড় বড় মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু উন্নতি হয়নি। তিনি বলেন, যখন আমার স্ত্রী হাসপাতালে। কথা বলতে পারতেন না। তখনো চোখ খুলে আমার দিকে তাকিয়ে কাঁদতেন। যেন ক্ষমা করে দিই। ঘটনার পর থেকে কখনো আর স্বাভাবিক হতে পারেননি। শুধু আমার কাছে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন।

আলেপ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক অভিযোগের প্রায় সব অভিযোগেই রয়েছে এমন নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা। কোথাও কোথাও বিকৃত কথাবার্তা বলে মানসিক পীড়নের অভিযোগও পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার অনেক ব্যক্তিই বলছেন, আলেপ বিকৃত রুচির মানুষ। সবসময় নারীদের নিয়ে নোংরা কথা বলতেন। ভুক্তভোগীদের পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়েও নানা কুরুচিপূর্ণ কথা বলতেন।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আলেপ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সবচেয়ে মারাত্মক। স্বামীকে ক্র*সফায়ারে হ*ত্যার হু*মকি দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষ*ণের তথ্য পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। তিনি অসংখ্য মানুষকে গু*ম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। নিষ্ঠুরতম পন্থায় নির্যাতন করেছিল। ইলেকট্রিক শক দেওয়া, চোখ বেঁধে রাখা, উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো সব তিনি করেছেন, বলেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, সবচেয়ে মারাত্মক যেটা করেছিলেন, গু*ম করে স্বামীকে হ*ত্যা*র ভয় দেখিয়ে স্ত্রীকে রোজার মাসে রোজা ভাঙিয়ে একাধিকবার ধ*র্ষণ করেছিলেন। এর তথ্য-প্রমাণাদি আমাদের কাছে এসেছে।

সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আলেপ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক আসামির স্ত্রীকে ভয় দেখিয়ে রোজা ভাঙিয়ে ধ*র্ষণ করার প্রমাণ পেয়েছে প্রসিকিউশন। ওই নারীকে একবার নয়, তিনি একাধিকবার ধ*র্ষণ করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশের বরখাস্ত হওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং র‌্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার আলেপ উদ্দিনের লালসার শিকার হয়েছেন এমন অনেকে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অন্তত অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। যাদের তুচ্ছ কারণে গুম করা হয়েছিল। এরপর নানা বাহানায় বছরের পর বছর নির্যাতন করা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় পারিবারিক বন্ধন। ব্যবসা-চাকরি হারিয়ে এসব মানুষ আজও দিশেহারা। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি কেউই।

- কালবেলা

আল্লাহর কাছে দুআ করি, আওয়ামী লীগ, তাদের সহযোগী এবং তাদের এসব অন্যায়ের সমর্থনকারী কেউ যেন দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি না পায়। এখনও যারা তাদের সমর্থন করে তারাও কেউ যেন দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি না পায়। তারা সবাই যেন সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। আমিন।

©Jubair Bin Harun

28/07/2025

🌸পুলিশ_ভেরিফিকেশনের_নতুন_সিধান্তসমূহঃ👇👇👇

👉 চাকরিপ্রার্থীর বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ পুলিশ ভেরিফিকেশনের অংশ হবে না বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

👉 পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশ বাস্তবায়নবিষয়ক প্রথম সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, চাকরিপ্রার্থীর বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা/শিক্ষা সনদপত্র/ট্রান্সক্রিপ্ট/মার্কশিট ইত্যাদি যাচাই-বাছাই পুলিশ ভেরিফিকেশনের অংশ হবে না–সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

👉 রাজনৈতিক মতাদর্শ চাকরিপ্রার্থীর ভেরিফিকেশন রিপোর্টের অংশ হবে না–সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

👉 পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার বিধান বাতিলের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

👉 চাকরিপ্রার্থী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সেই তথ্য রিপোর্টে প্রতিফলিত হবে।

👉 চাকরির জন্য সব পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
//

সিটি কলেজে ভাইভা অভিজ্ঞতা ( ইসলামিক স্টাডিজ) ‌আসসালামু আলাইকুম স্যার, √√ ওয়ালাইকুম আসসালাম‌আসবো স্যার?√√ আসুন, বসুন‌ধন্য...
25/07/2025

সিটি কলেজে ভাইভা অভিজ্ঞতা ( ইসলামিক স্টাডিজ)

‌আসসালামু আলাইকুম স্যার,
√√ ওয়ালাইকুম আসসালাম

‌আসবো স্যার?
√√ আসুন, বসুন
‌ধন্যবাদ স্যার।

‌introduce yourself
- I’m Mahmodul Hasan, I...., I am from jajira, Shariatpur
(পুরো ভাইভা ইংরেজিতে হয়েছে তবে আমি বাংলায় লিখছি।)

‌জাজিরা পালং এর এমপি কে? চেনেন?
- জি স্যার, ইকবাল হোসেন অপু

‌এর আগে কে ছিলেন?
- বি এম মোজাম্মেল হক

‌হেমায়াত উল্লাহ আওরঙ্গ কে চেনেন?
- জি, ২০০১ সালের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন।

‌এইই জানেন তার সম্পর্কে?
- জি স্যার।

‌তিনি ১৯৯১ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলেন, জানেন?
- না স্যার।

‌আপনার জন্ম কবে?
-......

ও! তাইলে ঠিকই আছে, না জানারই কথা।
‌বাড়িতে কীভাবে যান?
- পদ্মা সেতু দিয়ে।

‌পদ্মা সেতু আপনাদের কী ধরনের উপকারে আসবে?
- আমাদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রেই পদ্মা সেতুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সাধারণ নাগরিক এর সুফল পেতে শুরু করেছি। এই সেতুর জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।

‌আগামী নির্বাচনে শরীয়তপুরের তিনটি আসন থেকেই আওয়ামীলীগ জিতবে?
- আমাদের শরীয়তপুরের মানুষ আওয়ামী লীগকে পছন্দ করে। মনে হচ্ছে, সবগুলো আসনেই আওয়ামীলীগ জিতবে।

‌সাতার জানেন?
- জি

‌বাংলা চ্যানেল পারি দিয়েছেন?
- না স্যার, পদ্মা নদীতে সাতরিয়েছি।

‌বাংলাদেশের ওয়ার্ল্ড হেরিজেট নিয়ে বলুন
- সুন্দরবন, কক্সবাজার,,,,

‌আপনি আমার প্রশ্নের ধরন বুঝেননি? আরেকটু ডিপে গেলেতো থ হয়ে বসে থাকবেন।
- স্যার, ৭ই মার্চের,,,

‌বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগ করতেন?
- না স্যার। তবে বন্ধুরা ছাত্রলীগ করতো। ডিপার্টমেন্টেও ছাত্রলীগের কাজ হত।

‌আপনার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির লিডার কারা ছিলেন?
- আবিদ হাসান ভাই ও মোতাহার হোসেন প্রিন্স ভাই।

‌ও প্রিন্স! আমার সাথে তার দেখা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। কথা হয় ফোনে। প্রিন্স এখন কোথায় থাকে?
- জানিনা স্যার। তবে তার বাড়ি বাগেরহাটে।

‌যেহেতু সে এখন কোথায় থাকে তা জানেন না, তারমানে তার সাথে আপনার পরিচয় নাই।
- না স্যার, ভাই আমাদের অনেক সিনিয়র। খুব বেশি পরিচয় নেই। তবে ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই, মাঝেমধ্যে দেখা হয়।

‌হুম, সেটাই। যদি পরিচয় থাকতো তাইলে আজ আপনার কথা বলতো। সেতো অন্য একজন ক্যান্ডিডেটের ব্যাপারে আমাকে ফোন দিয়েছিলো, আপনার কথা সে বলেনি।
- (চুপ)

‌আপনার রেজাল্টতো ভালো। আপনাকে চাকুরী দিলেতো কয়দিন পর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবেন।
- স্যার, বাস্তবতা কিছুটা কঠিন। মাত্র ৭ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সাবজেক্ট আছে। অনেক ডাবল ফার্স্ট সেখানে হট ক্যান্ডিডেট হিসেবে থাকবেন।

‌কোনটায় কোনটায় আছে?
- ঢাবি, জবি,,,,

‌কেনো শাহজালালে নেই?
- না স্যার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোটাতেই নেই।

‌কেন? আপনি কি বলতে চান? ইসলাম কি বিজ্ঞান সমর্থন করেনা?

- অবশ্যই করে স্যার। আমি বলছি, ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ খোলা হয়নি। তবে শাহজালালে আরবি ভাষা কোর্স আছে। ইসলামিক স্টাডিজ নেই।

‌আন্দোলন করেন, তাইলে হবে।
- (চুপ!.)

‌তিলাওয়াত করেন
- সূরা আদ দোহা থেকে তিলাওয়াত,,

‌ইন্নাল্লাহা লা ইয়ুহিব্বুল মু'তাদিন অর্থ কী?
- নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেননা।

‌এইটা কোন সূরার কত নাম্বার আয়াত?
- সরি স্যার।

‌সূরা আলে ইমরানের ১০০ নাম্বার আয়াত বলেন
- সরি স্যার।

‌এগুলা জানতে হবেনা? আপনারা আলেম মানুষ!
- জি স্যার।

‌আচ্ছা, আপনি এখন কোথাও আছেন?
- জি স্যার। মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজে।

‌তাইলে এখানে আসছেন কেন?
-.....

‌ঠিকাছে, আমাদের বাচ্চাকাচ্চা ঠিকঠাক মত ভর্তি কইরা দিয়েন।
- জি স্যার, অবশ্যই।

‌ঠিকাছে, আসেন তাহলে।
- জি স্যার, আসসালামু আলাইকুম স্যার।

বোর্ডে মোট ৫ জন থাকলেও প্রায় ১৫ মিনিটের এই ভাইভায় সকল প্রশ্ন একজনই করেছেন।

বোর্ড:
জিবি মেম্বার: এডভোকেট কাজি মোরশেদ হোসাইন কামাল ( ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।)
প্রিন্সিপাল,
একাডেমিক এডভাইসার,
বিভাগীয় প্রধান ও
অন্য একজন প্রতিনিধি। ( সম্ভবত সরকারি কোনো প্রতিনিধি হবেন।)

[২৮ জানুয়ারি, ২০২৩
অভিজ্ঞতাটি তখনই (২৯ জানুয়ারি '২৩) লিখে রেখেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের দু একজন স্যারকে দিয়েছিলাম। আজ হঠাৎ সামনে পড়লো, তাই সবার সাথে হুবহু সেদিনকার লেখাটাই শেয়ার করলাম।

আর হ্যা, ছবিটা সেদিন জিবি কাজী মোরশেদ তার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেছিলো, তখন Abdul Kadir Mamun স্যার আমাকে ছবিটা দিয়েছিলেন।]

Hasan

17/07/2025

Address

Uttar Wapda, Dormopur<Sadar Noakhali
Noakhali
3802

Telephone

+8801840228989

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Md Rakib Hossen posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Md Rakib Hossen:

Share