07/06/2026
রামিসা হ'ত্যা ও ধ'র্ষণ মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী বললেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি।
তবে তারা নিজেরাও ধ'র্ষ'কের বিচার চেয়েছেন। প্রশ্ন হলো, তাহলে তারা কেন ধর্ষকের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন?
উত্তরটা খুবই সহজ। এবং এই আইন আপনার জানা থাকলে আপনিও ভবিষ্যতে বড় ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে পারেন, চলুন জেনে আসি!
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন। এছাড়া সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তির আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই কারণেই বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনজীবীর সহায়তা চাইতে পারেন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান।
এই মামলায় যেহেতু আসামির পক্ষের কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি, তাই রাষ্ট্র তার পক্ষে একজন আইনজীবীর ব্যবস্থা করেছে, যেন বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হয়। কারণ আদালত কেবল রাষ্ট্রপক্ষের কথা শুনে বিচার করেন না, উভয় পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি যুক্তি বিবেচনা করেই রায় দেন।
আর যদি আজ এখানে আসামির পক্ষের কোনো আইনজীবী না থাকতেন, তাহলে বিচার প্রক্রিয়া একতরফা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এতে আরেকটি বড় বিপদ ঘটতে পারত। কারণ অনেক সময় নিরপরাধ ব্যক্তিকেও ধ'র্ষক বা অপরাধী বানিয়ে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে সেই নিরপরাধ ব্যক্তি আইনের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন।
উদাহরণস্বরূপ, ফেনীতে পরশুরামে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর মোজাফফর নামে এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে ধ'র্ষণের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের পর তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ছাত্র জনতা এবং তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে শুধু তাই নয় এক মাস দুই দিন জেল খাটতে হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতে উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণ ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, তিনি ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না তাকে ফাঁসানো হয়েছে। বরং প্রকৃত অপরাধী (ধ'র্ষক) ছিলেন মেয়ের আপন ভাই। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে কাউকে অপরাধী ধরে নেওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।
তাই এই আইনজীবীদের গালি না দিয়ে আইনের ভাষা বোঝা উচিত। একজন আইনজীবী আসামির পক্ষে দাঁড়ালেই তিনি অপরাধকে সমর্থন করছেন, বিষয়টি এমন নয়। তিনি সংবিধান ও আইনের বিধান অনুযায়ী একজন অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাজ করছেন।
আশা করি আপনারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
সর্বশেষ কথা, রামিসা ধ'র্ষণ ও হ'ত্যা মামলায় আসামির মৃ'ত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। আমরা আশা করি, উচ্চ আদালতের সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত রায় কার্যকর হবে। তবেই মানুষ আইনের প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হবে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
ধন্যবাদ সবাইকে।
এম এইচ তকি খান
সাংবাদিক