03/03/2024
"৪ বছর আগে, আমি যখন ৯০ বছরে পা দিলাম, তখন মনে মনে নিজেকে বললাম, 'এত বয়স হয়ে গেল, তবু আমি এখনো একটা পয়সাও কামাইনি।' আমার সারাটা জীবনই কেটে গেছে ঘর আর পরিবার সামলাতে। যখন আমার বাচ্চারা স্কুলে থাকত, আর স্বামী কাজে যেত, তখন আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে নতুন নতুন রেসিপি চেষ্টা করতাম। কারণ আমি রান্না করতে ভালোবাসতাম। অথচ যখন আমার বয়স ৮৪, ততদিনে আমার সন্তানরা দূরে চলে গেছে, আর আমার স্বামীও মারা গেছে। তখন আমি একাকী অনুভব করতে শুরু করেছিলাম।
আমি তারপর মেয়ের সাথে থাকতে শুরু করলাম, আর ওকে বললাম, 'আমার কিছু একটা করতে হবে, নিজের জন্য।' ও হেসে আমাকে বলল, 'মা, তুমি কাছের বাজারে তোমার বরফি আর আচার বিক্রি করতে পারো।' আমার বাচ্চারা ওগুলো খুব ভালোবাসত। তাই আমার মনে হলো, এটা তো দারুণ বুদ্ধি! বাজারের মালিকও সাথে সাথেই আমার কথায় রাজি হয়ে গেল, এবং এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যেই, আমার দোকান বসে গেল. কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে, সবকিছু বিক্রিও হয়ে গেল!
ওইদিনই আমি প্রথম অর্থ উপার্জন করলাম। আট বাক্স বরফির জন্য দুই হাজার রুপি। আমার দুচোখ তখন জলে ভরে গেছে... আমি নিজে প্রথম উপার্জন করেছি, ৯০ বছর বয়সে! তবে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হলাম যখন একটি কমবয়সী মেয়ে আমাকে বলল, 'নানি, আপনি আমাকে মায়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন।' আমি তখন একছুটে বাসায় চলে আসলাম। নতুন রেসিপি চেষ্টা করতে লাগলাম! ওইরকম উত্তেজনা আমি বহুদিন অনুভব করিনি!
অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই, গোটা শহর আমার বরফির কথা জেনে গেল। আমার বরফি নাকি তাদের ছেলেবেলার কথা মনে করিয়ে দেয়। তাই আমার নাতনি বরফির বাক্স তৈরি করে দিল। তার উপর লেখা, 'হরভজন, ভালোবাসা দিয়ে বানানো, ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে যায়।'
ওই বছরের পর সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গেল। এমনকি পত্রিকাও তখন আমাকে নিয়ে লিখতে শুরু করে দিয়েছে! এবং পাঁচ মাস আগে, আমার মেয়ে দৌড়ে এসে আমাকে একটা সংবাদ দেখাল, যেখানে আনন্দ মহিন্দ্র নামে এক ভদ্রলোক বলেছেন আমি নাকি 'এন্টারপ্রেনার অভ দ্য ইয়ার'। আমি জানতাম না শব্দটার মানে কী। তখন ও আমাকে বুঝিয়ে দিল, 'এর মানে হলো তুমি তোমার নিজের ব্যবসা শুরু করেছ!' আমি ওকে বললাম, 'তাহলে তো আমি সারা জীবনভরই একজন এন্টারপ্রেনার। কারণ আমি তোদেরকে খাইয়ে আসছি!'
জীবন এখন অনেক ব্যস্ত। আমি সারাদিন রান্না করি। যখন আমি একসাথে অনেক অর্ডার পাই, তখন সকাল আটটা থেকে সন্ধে ছয়টা পর্যন্ত কাজ করি। কিন্তু আমার বিরক্ত বা একাকী বোধ হয় না। আমি এখন আগের চেয়ে সাজগোজও বাড়িয়ে দিয়েছি। প্রতিটা শাড়ির জন্য আলাদা আলাদা পুঁটলিও কিনেছি!
যখন আমার ছেলেমেয়েরা, কিংবা নাতি-নাতনিরা ওদের ক্যারিয়ার নিয়ে বিভ্রান্ত থাকে, আমি ওদেরকে বলি, 'মন পরিবর্তন করতে কখনোই দেরি হয়ে যায় না। নানি যদি ৯০ বছর বয়সে এসেও এসব করতে পারে, তাহলে তোমরাও যেকোনো কিছু করতে পারবে।'"
(Humans of Bombay থেকে অনূদিত)
copy
অকারনে মানুষের গীবত আর ক্ষতি নাহ করে।নিজে কিছু করার চেস্টা করুন।নিজেকে সফল করার জন্য নির্ধারিত বয়সের প্রয়োজন হয় নাহ।।। ইচ্ছে থাকলে যেকোনো বয়সে আপনে নিজেকে দাঁড়া করাতে পারবেন।