19/06/2026
সমুদ্র অনেক বিশাল। তার বিস্তৃতি চোখে দেখা যায় না, তার গভীরতার শেষ খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু এত বিশাল হওয়া সত্ত্বেও সমুদ্র মানুষের এক ফোঁটা তৃষ্ণাও মেটাতে পারে না। কারণ তার জল লবণাক্ত। অন্যদিকে একটি ছোট্ট কলসের দিকে তাকালে দেখা যায়, তার ধারণক্ষমতা খুবই সীমিত। তবুও সেই কলশের পানি মানুষের তৃষ্ণা মেটায়, পথিককে স্বস্তি দেয়, এমনকি অনেক সময় জীবনও বাঁচায়।
এই সাধারণ উদাহরণের মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের একটি গভীর শিক্ষা। আমাদের সমাজে অনেকেই সম্পদ, ক্ষমতা, পদমর্যাদা কিংবা খ্যাতির ভিত্তিতে মানুষকে বড় বলে বিবেচনা করে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে বড় হওয়া এসবের উপর নির্ভর করে না। একজন মানুষ কতটা বড়, তা নির্ধারিত হয় তিনি কত মানুষের উপকারে আসতে পেরেছেন তার মাধ্যমে।
যার অনেক অর্থ আছে, কিন্তু সে কারও দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ায় না— তার সেই সম্পদের মূল্য সমাজের কাছে খুব বেশি নয়। আবার এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের সামর্থ্য সীমিত, কিন্তু তারা সবসময় অন্যের বিপদে এগিয়ে আসেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটান, কষ্টের সময়ে সাহস দেন। সমাজের প্রকৃত সম্পদ তারাই।
একটি গাছ নিজের জন্য ফল ধরে না; নদী নিজের জন্য বয়ে চলে না; সূর্য নিজের জন্য আলো দেয় না। প্রকৃতির প্রতিটি মহৎ সৃষ্টিই অন্যের উপকারের জন্য কাজ করে। মানুষের জীবনও তেমনই হওয়া উচিত। শুধু নিজের জন্য বেঁচে থাকা নয়, বরং অন্যের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা।
তাই আমাদের মনে রাখতে হবে, যার অনেক কিছু আছে সে-ই বড় নয়। বড় সে-ই, যে তার সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের কাজে আসে, মানুষের উপকার করে এবং সমাজকে কিছু দিতে পারে। কারণ মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব তার অর্জনে নয়, তার অবদানে; তার সম্পদে নয়, তার মানবিকতায়।
জীবনের শেষে মানুষ আমাদের ধন-সম্পদ, পদ-পদবি বা ক্ষমতার জন্য স্মরণ করবে না; স্মরণ করবে আমাদের ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং মানুষের জন্য করা কাজগুলোর জন্য। তাই সত্যিকারের বড় হতে চাইলে, বিশাল সমুদ্র হওয়ার চেয়ে উপকারী কলস হওয়ার চেষ্টা করাই শ্রেয়।