02/03/2026
#রামাদান : রাত্রি-জাগরণের স্বর্ণালি মুহূর্ত
يَا أَيُّهَا الْمُرْضِلَ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا يَصْفَهُ أو انقض مِنْهُ قَلِيلًا أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَيل
الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا )
হে কত্রাবৃত, রাতের কিছু অংশ ব্যতীত রাতজেগে সালাত পড়ুন; অর্ধরাত
কিংবা তদপেক্ষা কিছু কম। অথবা তদপেক্ষা বেশি। আর কুরআন আবৃত্তি
করুন ধীরে ধীরে—সুস্পষ্টভাবে
এভাবেই আল্লাহ তার প্রিয় রাসূলকে নির্দেশ করেছেন। রাসূল -ও এই নির্দে
পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করেছেন। রাতে দীর্ঘ সময় ধরে ইবাদাত করেছেন। রব্যে
দরবারে অশ্রু নিবেদন করেছেন এবং খুশু-খুযূর সাথে সালাত আদায়ে নিমগ্ন থেকেছেন
মহান আল্লাহ অন্যত্র তার নবীকে রাত্রি জাগরণের নির্দেশ দিয়ে ও তার প্রতিদান
ঘোষণা করে বলেন-
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةٌ لَكَ عَسَى أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا المحمُودًا
আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন। এটা আপনার অতিরিক্ত দায়িত্ব।
শীঘ্রই আপনার পালনকর্তা আপনাকে উন্নীত করবেন প্রশংসিত স্থানে /
দিনে সিয়াম পালন ও রাতে সালাত আদায়ের মাস এই রামাদান। দিনভর সিয়াম
পালন শেষে আঁধার রাতে নির্জনে সালাত আদায়ে যে-মধুর আত্মতৃপ্তি, তা একমাত্র
সিয়াম পালনকারী ব্যতীত অন্যকেউ অনুভব করতে পারে না।
যারা প্রকৃত অর্থেই সিয়াম পালন করে, রামাদানের রাতগুলো তাদের কাছে খুব
বেশি সংক্ষিপ্ত মনে হয়। কারণ, আনন্দমুখর সময়গুলো কীভাবে যেন ফুরিয়ে যায়।
আর নিরানন্দ অবসরের সময় যেন শেষই হতে চায় না। সৎকর্মশীলদের গুণাবলি
বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন—
كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ
তারা রাতের সামান্য অংশেই নিদ্রা যায় । [৩]
ফলে তাদের রাত হতো সুখময়।
রাতের শেষ প্রহরে তাদের অবস্থা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন-
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।[4]
অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে—
[১] অর্থাৎ, এই রাত্রি জাগরণ হবে কিয়ামত দিবসে আপনার প্রশংসার উচ্চ শিখরে পৌঁছার অন্যতম প্রধান সিঁড়ি।
[2] সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত : ৭৯
[৩] সূরা যারিয়াত, আয়াত : ১৭
[8] সূরা যারিয়াত, আয়াত : ১৮
وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالأَسْحَارِ
এবং তারা শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে (১)
এভাবে তাদের শেষরাতগুলো হতো ছবির মতো সুন্দর।
মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ রাতের আঁধারে অঝোরে কাঁদতেন। রবের দরব
ফরিয়াদ করতেন। হৃদয়ের সবটুকু বিনয় ও কোমলতা ঢেলে দিয়ে মিনতি জানাতে
কিন্তু দিন হলেই জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। বিজয় অথবা শাহাদাত অব
যুদ্ধ করে যেতেন। হৃদয়ের কঠোরতা ও নির্মমতায় কাফিরদের ভস্ম করতেন।
অপরদিকে রাতের প্রথমভাগে তাদের ঘর হয়ে উঠত তিলাওয়াত, যিকির, ঈমা
ইসলাম ও ইসলামী শিষ্টাচার শিক্ষার অনন্য পাঠশালা; কিন্তু পরিতাপের বিষয়
যে, বর্তমানে আমাদের ঘরগুলো হচ্ছে গান-বাদ্য, নাটক-সিনেমা এবং অনর্থক
অশ্লীল কর্মকাণ্ডের আখড়া। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।
বস্তুত, যখন থেকে আমরা রাত্রি-জাগরণ ও রবের স্মরণে অশ্রুপাত ছেড়ে দিয়েি
তখন থেকে ধীরে ধীরে আমাদের অন্তরগুলো শক্ত হতে শুরু করেছে। ঈমান দুর্ব
হয়ে পড়েছে। তাই শত চেষ্টা সত্ত্বেও এখন আর আমাদের চোখে পানি আসে ন
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে নবীজি
রামাদানে রাত্রি জাগরণের ব্যাপারে উৎসাহিত করে বলেন—
GG
আমাদে
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে-ব্যক্তি রামাদানে ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় রাত জাগবে এবং
সালাত আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে ।
(2) সূরা আল ইমরান, আয়াত : ১৭
10)
: 00: মুসলিম : ১৪
ভালোবাসার রামাদান বই থেকে হুবহু অনুকরণ চলমান
#৪৪থেকে৪৬পাতা