RS Media

RS Media Religion organisations. personal blog travel entertainment and motivate

উলিল আমর মোজাদ্দেদ জামান পীর আবু বকর সিদ্দিকী ফুরফুরাভী রহঃ এর মতাদর্শ সবার সামনে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য

 #রামাদান : রাত্রি-জাগরণের স্বর্ণালি মুহূর্তيَا أَيُّهَا الْمُرْضِلَ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا يَصْفَهُ أو انقض مِن...
02/03/2026

#রামাদান : রাত্রি-জাগরণের স্বর্ণালি মুহূর্ত
يَا أَيُّهَا الْمُرْضِلَ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا يَصْفَهُ أو انقض مِنْهُ قَلِيلًا أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَيل
الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا )
হে কত্রাবৃত, রাতের কিছু অংশ ব্যতীত রাতজেগে সালাত পড়ুন; অর্ধরাত
কিংবা তদপেক্ষা কিছু কম। অথবা তদপেক্ষা বেশি। আর কুরআন আবৃত্তি
করুন ধীরে ধীরে—সুস্পষ্টভাবে
এভাবেই আল্লাহ তার প্রিয় রাসূলকে নির্দেশ করেছেন। রাসূল -ও এই নির্দে
পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করেছেন। রাতে দীর্ঘ সময় ধরে ইবাদাত করেছেন। রব্যে
দরবারে অশ্রু নিবেদন করেছেন এবং খুশু-খুযূর সাথে সালাত আদায়ে নিমগ্ন থেকেছেন
মহান আল্লাহ অন্যত্র তার নবীকে রাত্রি জাগরণের নির্দেশ দিয়ে ও তার প্রতিদান
ঘোষণা করে বলেন-
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةٌ لَكَ عَسَى أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا المحمُودًا
আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন। এটা আপনার অতিরিক্ত দায়িত্ব।
শীঘ্রই আপনার পালনকর্তা আপনাকে উন্নীত করবেন প্রশংসিত স্থানে /
দিনে সিয়াম পালন ও রাতে সালাত আদায়ের মাস এই রামাদান। দিনভর সিয়াম
পালন শেষে আঁধার রাতে নির্জনে সালাত আদায়ে যে-মধুর আত্মতৃপ্তি, তা একমাত্র
সিয়াম পালনকারী ব্যতীত অন্যকেউ অনুভব করতে পারে না।
যারা প্রকৃত অর্থেই সিয়াম পালন করে, রামাদানের রাতগুলো তাদের কাছে খুব
বেশি সংক্ষিপ্ত মনে হয়। কারণ, আনন্দমুখর সময়গুলো কীভাবে যেন ফুরিয়ে যায়।
আর নিরানন্দ অবসরের সময় যেন শেষই হতে চায় না। সৎকর্মশীলদের গুণাবলি
বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন—
كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ
তারা রাতের সামান্য অংশেই নিদ্রা যায় । [৩]
ফলে তাদের রাত হতো সুখময়।
রাতের শেষ প্রহরে তাদের অবস্থা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন-
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।[4]
অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে—
[১] অর্থাৎ, এই রাত্রি জাগরণ হবে কিয়ামত দিবসে আপনার প্রশংসার উচ্চ শিখরে পৌঁছার অন্যতম প্রধান সিঁড়ি।
[2] সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত : ৭৯
[৩] সূরা যারিয়াত, আয়াত : ১৭
[8] সূরা যারিয়াত, আয়াত : ১৮
وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالأَسْحَارِ
এবং তারা শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে (১)
এভাবে তাদের শেষরাতগুলো হতো ছবির মতো সুন্দর।
মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ রাতের আঁধারে অঝোরে কাঁদতেন। রবের দরব
ফরিয়াদ করতেন। হৃদয়ের সবটুকু বিনয় ও কোমলতা ঢেলে দিয়ে মিনতি জানাতে
কিন্তু দিন হলেই জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। বিজয় অথবা শাহাদাত অব
যুদ্ধ করে যেতেন। হৃদয়ের কঠোরতা ও নির্মমতায় কাফিরদের ভস্ম করতেন।
অপরদিকে রাতের প্রথমভাগে তাদের ঘর হয়ে উঠত তিলাওয়াত, যিকির, ঈমা
ইসলাম ও ইসলামী শিষ্টাচার শিক্ষার অনন্য পাঠশালা; কিন্তু পরিতাপের বিষয়
যে, বর্তমানে আমাদের ঘরগুলো হচ্ছে গান-বাদ্য, নাটক-সিনেমা এবং অনর্থক
অশ্লীল কর্মকাণ্ডের আখড়া। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।
বস্তুত, যখন থেকে আমরা রাত্রি-জাগরণ ও রবের স্মরণে অশ্রুপাত ছেড়ে দিয়েি
তখন থেকে ধীরে ধীরে আমাদের অন্তরগুলো শক্ত হতে শুরু করেছে। ঈমান দুর্ব
হয়ে পড়েছে। তাই শত চেষ্টা সত্ত্বেও এখন আর আমাদের চোখে পানি আসে ন
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে নবীজি
রামাদানে রাত্রি জাগরণের ব্যাপারে উৎসাহিত করে বলেন—
GG
আমাদে
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে-ব্যক্তি রামাদানে ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় রাত জাগবে এবং
সালাত আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে ।
(2) সূরা আল ইমরান, আয়াত : ১৭
10)
: 00: মুসলিম : ১৪
ভালোবাসার রামাদান বই থেকে হুবহু অনুকরণ চলমান
#৪৪থেকে৪৬পাতা

 #ভালোবাসার রামাদানএমনও অনেক সিয়াম পালনকারী আছেন—যাদের কাছে সাহরী করার মতেন্যূনতম খাবার নেই। এমনকি স্বল্প আয়ের সংসারে ...
25/02/2026

#ভালোবাসার রামাদান
এমনও অনেক সিয়াম পালনকারী আছেন—যাদের কাছে সাহরী করার মতে
ন্যূনতম খাবার নেই। এমনকি স্বল্প আয়ের সংসারে ক্ষুধার্ত সন্তানের মুখে
দিকে তাকালে ইফতারেরও কোনো উপায় নেই!
এসব কারণেই নবী রামাদানে দানের ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন।
বর্ণিত হয়েছে-
GG
مَنْ فَر صَابِما كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّابِمِ شَيْئًا
যে ব্যক্তি কোনো সিয়াম পালনকারীকে ইফতার করাবে, সে তার অনুরূপ
সাওয়াব লাভ করবে; কিন্তু এতে সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির সাওয়াব বিন্দুমাত্র
হ্রাস পাবে না ।[১]
সমাজের সৎ ও মহান ব্যক্তিবর্গ রামাদান মাসে অত্যন্ত উদারমনা হন। গরীব-দুঃখীদের
অকাতরে দান করেন। অনেক দ্বীনদার ভাই সাওয়াবের আশায় সমাজের দরিদ্রশ্রেণির
লোকদের জন্য স্বতঃফূর্তভাবে ইফতারের আয়োজন করেন। এটা অনেক ভালো
গুণ। বিরাট সাওয়াবের কাজ। সালাফগণও এমন করতেন। তারা রামাদানে প্রতিটি
মসজিদে গরীব ও মুসাফিরদের জন্য ইফতার ও খাবারের ব্যবস্থা করতেন। ফলে
কোনো এলাকায় ক্ষুধার্ত ও খাবারবঞ্চিত কাউকে খুঁজে পাওয়া যেত না।
দেখুন, খাবার-দাবার এবং পোশাক-আশাকের পেছনে যে-অর্থ ব্যয় করা হয়, তা
কখনো ফিরে আসে না; বরং এতে সম্পদ ক্রমশ হ্রাস পায়; তবে আল্লাহর সন্তুষ্টির
উদ্দেশ্যে যে-সম্পদ খরচ করা হয়, তার সবটুকু রয়ে যায়; বরং বহুগণ বৃদ্ধি পায়।
মহান আল্লাহর ঘোষণা—
إن تُقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفَهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ شَكُورُ حَلِيمٌ
তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করো তবে তিনি তোমাদের জন্যে তা
দ্বিগুণ করে দেবেন। উপরন্তু তোমাদের ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, সহনশীল (২)
12) আমি রিনি: ০
(২) সূরা তাগাবুন, আয়াত : ১৭
হে সিয়াম পালনকারী ভাই, আপনার দান-সাদাকা -ই আপনার একমাত্র সঞ্চয়।
কিয়ামতের দিন যখন চরম সংকট ও দুঃসময়ে নিপতিত হবেন তখন সাদাকা ই
আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে। সূর্য যখন খুব নিচে এসে আপনাকে দগ্ধ করবে তখন
এই সাদাকা-ই সুশীতল ছায়া হয়ে আপনাকে সঙ্গ দেবে।
সুতরাং ভাই আমার, একটু ভেবে দেখুন, গরীবকে দেওয়া আপনার একঢোক পানি,
একটুখানি দুধ, একমুঠো খেজুর, সামান্য অর্থ, খাবার কিংবা সাধারণ একটি বা
হতে পারে আপনার জান্নাতের ওসিলা। সেই সঙ্গে এটাও মনে রাখুন, সাদাকা
সম্পদ হ্রাস করে না; বরং সংরক্ষণ করে। যাকাত সম্পদ নিঃশেষ করে না; বরং
পরিশুদ্ধ করে। এতএব, যাকাত এবং সাদাকা ব্যতীত আপনি কিছুতেই সম্পদ
সংরক্ষণ অথবা পরিশুদ্ধ করতে পারবেন না। কত কত সম্পদশালী এই পৃথিবী
থেকে বিদায় নিয়েছে—যাদের অর্থবিত্ত, ধন-সম্পদ ও বিশাল বিশাল অট্টালিকা
আজ নিস্তব্ধ পড়ে আছে। পার্থিবজীবনে এগুলো তাদের দুশ্চিন্তা ও বিড়ম্বনার কারণ
হয়েছে। উপযুক্ত স্থানে ব্যয় না করার কারণে হাশরের দিনও এগুলো তাদের লজ্জা
ও অনুতাপের কারণ হবে!
কাল বিচারদিবসে আপনার সামনে সব লাভ-লোকসান স্পষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং
প্রস্তুত হোন! একমাত্র আল্লাহ-ই হবেন আপনার আশ্রয়স্থল!
ভালোবাসার রামাদান বই থেকে হুবহু অনুকরণ চলমান
#৪২থেকে৪৩পাতা
#রামাদান

 #রামাদান : বদান্যতার উর্বর ক্ষেত্রআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-وَمَا تُقَدِّمُوا لأنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ ...
24/02/2026

#রামাদান : বদান্যতার উর্বর ক্ষেত্র
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
وَمَا تُقَدِّمُوا لأنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ
তোমরা নিজেদের জন্য যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর নিকট পাবে
তিনি আরও বলেন—
مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِ سُنبُلَةٍ مَاتَهُ حَبَّةٍ
وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَن يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা এমন একটি
শস্য-দানার মতো, যা উৎপন্ন করেছে সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে রয়েছে
একশ দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তাকে আরও বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ
অতি দানশীল, সর্বজ্ঞ [2]
[১] সূরা বাকারা, আয়াত : ১১০
[২] সূরা বাকারা, আয়াত : ২৬১
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
নবীজি ছিলেন সর্বাপেক্ষা দানশীল। আর রামাদানে যখন জিবরীল আলাইহিম
সালাম তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন।
এক কথায়, তিনি ছিলেন রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল (১)
সিয়াম মানুষকে ইয়াতীম-অসহায়, নিঃস্ব-হতদরিদ্র ও অন্নহীনদের অন্ন-বস্ত্রসহ
সার্বিক সহায়তা প্রদানে উদ্বুদ্ধ করে। কাজেই রামাদান হচ্ছে দাতা, সচ্ছল ও
ধনিক-শ্রেণির দান-সাদাকা করার মৌসুম। দানের মাধ্যমে নেকীর পাহাড় গড়ার মহা
সুযোগ। দানের প্রভূত কল্যাণ ও নেকীর কথা বর্ণনা করে আল্লাহর নবী আ
হুরায়রা রাযিয়াল্লাহুর সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসে বলেন —
مَا مِنْ يَوْمٍ يُصبحُ العِبادُ فِيهِ إِلَّا مَلَكَانِ يَنْزِلانِ، فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا: اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا،
وَيَقُولُ الآخَرُ: اللَّهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا
প্রতিদিন সকাল বেলা দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। অতঃপর তাদের
একজন বলেন, হে আল্লাহ, আপনি দানকারীকে অনুরূপ প্রতিদান দিন।
অপরজন বলেন, হে আল্লাহ, আপনি কৃপণের মাল ধ্বংস করুন [২]
বান্দা যখনই দান করে, আল্লাহ তাকে শারীরিক উন্নতি ও মানসিক তৃপ্তি দান
করেন। তার রিযিকে বরকত দেন। মুআয ইবনু জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণিত, রাসূল বলেন-
الصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ
সাদাকা যাবতীয় গুনাহ মিটিয়ে দেয়, ঠিক যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় [৩]
[১] সহীহ বুখারী : ৬
[3] সহীহ বুখারি: ১৪৪
[৩] জামি তিরমিনী ২৬১৬
বস্তুত গুনাহের এক প্রকার উত্তাপ রয়েছে, যা অন্তরে উয়তা সৃষ্টি করে। জীবনকে
বিষিয়ে তোলে। আর এই বিষবাষ্প দূর করে একমাত্র সাদাকা।
সাদাকা হলো শীতল হাওয়া—যা মানুষের প্রাণ জুড়ায়। অন্তর থেকে মুছে ফেলে গুনাহের
সকল কালিমা। উকবা ইবনু আমের রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন—
كُلُّ امْرِئ في ظِلَّ صَدَقَتِهِ حَتَّى يُفْصَلَ بَيْنَ النَّاسِ
কিয়ামতের ময়দানে মানুষের হিসেব-নিকেশ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকে তার
সাদাকার ছায়ায় অবস্থান করবে।[১]
কত বিরাট ব্যাপার! সাদাকা কিয়ামতের সেই কঠিন মুহূর্তে মানুষের জন্য ছায়া হবে।
সেদিন প্রত্যেকে তার নির্ধারিত সাদাকা পরিমাণ ছায়া লাভ করবে।
সাহাবীদের মধ্যে উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অত্যন্ত ধনী। তিনি তার সমস্ত
সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করেছেন। তাবুকের যুদ্ধে যাবতীয় সরঞ্জাম সরবরাহ
করেছেন। মুসলিমদের জন্য ‘রূমা’ নামক কূপ ক্রয় করেছেন এবং ব্যক্তিগত সমস্ত
সহায়-সম্পত্তি আল্লাহর রাস্তায় অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের
ভাষ্যমতে ‘তিনি সত্বরই সন্তুষ্টি লাভ করবেন'।
আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাযিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন প্রচুর সম্পত্তির মালিক।
একবার তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশায় সাতশো উট বোঝাই করা মাল
মদীনাবাসীর মাঝে বিলিয়ে দেন; কিন্তু তারা কেন এভাবে দান করেছেন? কিংবা
আমরাই বা কেন দান করবো? কারণ—
■ এমন অনেক সিয়াম পালনকারী আছেন—যাদের কাছে ইফতারের জন্য এক
টুকরো রুটি, এক ঢোক পানি কিংবা একমুঠো খেজুরও নেই!
এমন অনেক সিয়াম পালনকারী আছেন—যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই,
যাতায়াতের ভাড়া নেই; এমনকি বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর অথবা সান্ত্বনা
দেওয়ারও কেউ নেই ।
[১] মুসনাদে আহমাদ : ১৭৩৩৩
#৩৯থেকে৪১পাতা
ভালোবাসার রামাদান বই থেকে হুবহু অনুকরণ চলমান
#রমজান

 #ভালোবাসার_রামাদানরাসূলের বাচনভঙ্গি কত চমৎকার! তিনি বললেন, 'তোমার জিহ্বাকে আল্লাহযিকিরে সতেজ রাখবে'। এই সামান্য একটি কথ...
23/02/2026

#ভালোবাসার_রামাদান
রাসূলের বাচনভঙ্গি কত চমৎকার! তিনি বললেন, 'তোমার জিহ্বাকে আল্লাহ
যিকিরে সতেজ রাখবে'। এই সামান্য একটি কথায় কত কিছু চলে এসেছে!
সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির ক্ষুধা বা পিপাসা অনুভব হবে কী করে? সে তো স
• দিন মহামহিম আল্লাহর যিকিরে নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে। যিকিরের স্বাদ তার
সব কিছু থেকে গাফেল করে দিয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, আল্লাহর স্মরণে জিহ্বা সিক্ত রাখার অর্থ কী? এর অর্থ হচ্ছে
প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে ও হৃদয়ের স্পন্দনে দু-ঠোঁটের মাঝখান থেকে রবের নাম
উচ্চারিত হওয়া। যারা এই মানে ও পরিমাণে যিকির করে তারা আল্লাহর সবচে
প্রিয়ভাজন। তারা আল্লাহর প্রতিদানের সর্বাধিক হকদার। মহান আল্লাহ তাদের এ
হক যথাযথভাবে আদায় করবেন এবং তাদের সর্বাধিক পুরস্কারে ভূষিত করবে
মানুষ যখন মহান প্রতিপালকের এই কল্যাণময় স্মরণ হতে বিমুখ হয় তখন তাদের
ওপর রাজ্যের হতাশা নেমে আসে। বিষণ্ণতা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরে
একেরপর এক দুশ্চিন্তা এসে তাদের সমস্ত সুখ কেড়ে নেয়। অথচ এসব দুঃশ্চিন্তা,
হতাশা ও নিরাশার কার্যকরী প্রতিষেধক তাদের নাগালেই আছে; তবে তারা ে
হয় বুঝতে পারছে না। কিংবা বুঝলেও প্রবৃত্তির তাড়নায় গ্রহণ করছে না। কী সেই
প্রতিষেধক? দেখুন, কুরআনের ভাষায়—
ألا بذكر اللهِ تَعْلَمَينُ الْقُلُوبُ
একমাত্র আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয় । ১
অতএব, যিকিরই হচ্ছে সমস্ত অশান্তি ও মানসিক ব্যাধির মহৌষধ।
জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে নবীজি বলেন—
منْ قَالَ: سُبْحانَ اللهِ وبِحَمدِهِ، غُرِستْ لهُ نَخْلَةٌ في الجَنَّةِ
[১] সূরা রা'দ, আয়াত: ২৮
যে-ব্যক্তি 'সুবাহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি' পাঠ করবে, প্রতিবারে তার জন্য
জান্নাতে একটি করে খেজুরবৃক্ষ রোপণ করা হবে (১]
এবার চিন্তা করুন তো, যিকির থেকে গাফেল ও গভীর নিদ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তি কতগুলো
মূল্যবান বৃক্ষ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে!
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন—
GE
سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَر
এই কালিমাটি একবার পড়া আমার নিকট পৃথিবীর সমস্ত কিছুর চাইতেও অধিক প্রিয় [২]
কীসের পৃথিবী? কীসের স্বর্ণালংকার, আর কীসের বড় বড় আট্টালিকা? এই সমস্ত
কিছু এক পাল্লায় রাখলেও প্রিয়নবী -এর মতে মাত্র একবার—il,
yিly, a—পড়ার প্রতিদানের সমতুল্যও হবে না!
সুতরাং, এমন কেউ কি আছে, যে সর্বক্ষণ এই শব্দগুলো জপতে থাকবে এবং হাশরের
ময়দানে শান্তি, নিরাপত্তা ও মহাপুরস্কার-লাভে ধন্য হবে? আছে কি কেউ?...
আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন—
GG
أَلَا أُنبِّئُكُمْ بَغير أَعْمَالِكُمْ، وَأَرْكَاهَا عِنْدَ مَلِيكِكُمْ، وَأَرْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ وَخَيْرُ لَكُمْ مِنْ
إنْفَاقِ الذَّهَبِ وَالوَرِقِ، وَخَيْرٌ لَكُمْ مِنْ أَنْ تَلْقَوْا عَدُوَّكُمْ فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقَكُمْ ؟
قَالُوا: بَلَى قَالَ: ذِكْرُ اللهِ تَعَالَى
[১] জামি তিরমিযী : ৫/৫ ১১
[২] সহীহ মুসলিম : ২৬৯৫
আমি কি তোমাদের সর্বোত্তম আমল সম্বন্ধে জানাব না—যা তোমাদের রবের নিক,
সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের সম্মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্বর্ণ-রৌপ্য দান করার চেয়েও
মহোত্তম; এমনকি শত্রুদের মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদের সংহার করা কিংবা
তারা তোমাদের শহীদ করা অপেক্ষাও অধিকতর উত্তম? তারা বললেন, ছি,
অবশ্যই। তিনি বললেন, সেই মহোত্তম কাজটি হচ্ছে আল্লাহ তাআলার যিকির। (b)
পুণ্যবান ব্যক্তিগণ ফজরের সালাত আদায়ের পর আপন স্থানে বসে যিকিরে
হতেন। সূর্য ওপরে ওঠা পর্যন্ত যিকিরে মগ্ন থাকতেন। অনেকে পবিত্র কুরআ
খুলে বসতেন। গভীর দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট ও আলঙ্কারিক আয়াত ও তার তাংগ
প্রত্যক্ষ করতেন। এতে তাদের অন্তর হতো কুরআনের আলোয় আলোকিত, আ
আমলনামা হতো নেক আমল ও সৎকর্মে পরিপূর্ণ।
ব্যর্থ তো তারা, যারা রামাদান মাস পেয়েও তাকে যথাযথ কাজে লাগাতে পারে
না। যিকির ও রবের তাসবীহ আদায়ের মধ্য দিয়ে সময়গুলো ব্যয় করতে পারে না
এমন অটল অবিচল কেউ কি আছে, যে-জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে
লাগাতে পারে?
ভালোবাসার রামাদান বই থেকে হুবহু অনুকরণ চলমান
#৩৬থেকে৩৮পাতা

 #যিকিরের গুঞ্জনসিয়াম পালনকারীদের মুখে সর্বদা বিশেষ একটি সুর গুঞ্জরিত হতে থাকে। সব সময়যিকির, তাসবীহ, তাহলীল ও ইসতিগফার...
22/02/2026

#যিকিরের গুঞ্জন
সিয়াম পালনকারীদের মুখে সর্বদা বিশেষ একটি সুর গুঞ্জরিত হতে থাকে। সব সময়
যিকির, তাসবীহ, তাহলীল ও ইসতিগফার চলতে থাকে। রামাদানে যখন দিন অনেক
বড় হয়, আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন থাকার ফলে তখনো তাদের কাছে দিনগুলো নিতান্তই
ছোট মনে হয়। যিকিরের আমেজে তাদের ক্ষুধা নিবারিত হয়। কারণ, যিকির তাদের
ইহকালীন সফলতা ও পরকালীন সৌভাগ্যের প্রতীক। তারা আল্লাহকে স্মরণ করে,
তাই আল্লাহও তাদের স্মরণ করেন। কুরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে—
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ
তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করবো।[১]
তারা আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ফলে আল্লাহ তাদের নিয়ামত
বাড়িয়ে দেন। কুরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে—
لين شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ وَلَيْن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدُ
[১] সূরা বাকারা, আয়াত : ১৫২

যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য
নিয়ামত বৃদ্ধি করে দেবো।
সত্যিকার সিয়াম পালনকারীগণ চলাফেরা, ওঠাবসা—সর্বাবস্থায়, সবখানে আল্লাহে
ঘণ করেন। তাদের অবস্থার প্রশংসা বর্ণনা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন—
ذِينَ يَذْكُرُونَ الله قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىَ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا هنا
خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় এবং চিন্তা-
গবেষণা করে আসমান ও যমীন সৃষ্টির বিষয়ে (তারা বলে) হে আমাদের
রব, এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করোনি। সকল পবিত্রতা তোমারই। সুতরাং,
তুমি আমাদের আগুনের আযাব হতে রক্ষা করো।[২]
যারা সত্যিকার সিয়াম পালনকারী, আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্ত হয়। রব্যে
ভালোবাসার তাদের হৃদয় সিত্ত হয়। মহান আল্লাহ বলেন—
الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَيِنُ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَينُ الْقُلُوبُ
যারা বিশ্বাস দ্যাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা প্রশান্তি
লাভ করে; জেনে রাখো, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায় [৩]
আবু মুসা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন—
مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِى لا يَذْكُرُ رَبَّهُ مَثَلُ الحَي والميت

যে তার প্রতিগালককে স্মরণ করে আর যে করে না তাদের দৃষ্টান্ত হলো
জীবিত ও মৃতের মতো। (অর্থাৎ, যে আল্লাহকে স্মরণ করে সে জীবিত। আর
যে স্মরণ করে না সে মৃত।)।
আফসোস! আমাদের চারপাশে কত জীবস্মৃত মানুষ বিচরণ করে; খায়-দায়-ফূর্তি
করে। কিন্তু আল্লাহর যিকিরের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে না। ফলে তারা জীবস্মৃত
থেকেই মৃত্যুবরণ করে।
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন—
GG
سَبَقَ الْمُفَرِّدُونَ، قَالُوا : وَمَا الْمُفَرِّدُونَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ : الذَّاكِرُونَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتُ
মুফাররিদরা অগ্রগামী হয়েছে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, মুফাররিদ কারা?
তিনি বললেন, ওই সকল নারী-পুরুষ, যারা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে ি
সিয়াম অবস্থায় যিকিরকারী ব্যক্তি সৎকাজে অগ্রগামী হবে। দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ
করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে থাকবে। তার আমলনামা হবে নেক আমল ও
সৎকর্মে পরিপূর্ণ। অতএব, উপর্যুক্ত সুসংবাদ কেবল তারই জন্য।
মুআয রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী বলেন—
يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ شَرَابِعَ الإِسْلامِ قَدْ كَثُرَتْ عَلَى، فَأَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ أَتَقَبَّتُ بِهِ، قَالَ: لَا يَزالُ لِسَانُكَ
رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ
এক সাহাবী এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার কাছে ইসলামের বিধান
অনেক বেশি মনে হয়। তাই আমাকে এমন একটি বিষয় বলে দিন, যার ওপর
আমি সর্বদা আমল করতে পারি। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'তোমার জিহ্বাকে
সর্বদা আল্লাহর যিকিরে সতেজ রাখবে।'[৩]
[১] সহীহ বুখারী : ৬৪০; সহীহ মুসলিম : ৭৭৯
[2] সহীহ মুসলিম : २
[৩] জামি তিরমিযী : ৩৩৭৫; সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৭৯৩
ভালোবাসার রামাদান বই থেকে হুবহু অনুকরণ চলমান
#৩৩থেকে৩৫পাতা

 #চার. আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন—الَّذِي يَقْرَأُ القُرْآنَ وَهُو ماهِرُ بِهِ معَ السَّفَرَةِ ال...
20/02/2026

#চার. আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন—

الَّذِي يَقْرَأُ القُرْآنَ وَهُو ماهِرُ بِهِ معَ السَّفَرَةِ الكِرَامِ البَرَةِ، وَالَّذِى يقرأ القُرْآنَ ويَتَعْتَعُ فيه وهو
عليه شاق له أجران
আল কুরআনে দক্ষ ও পণ্ডিত ব্যক্তি সম্মানিত ও পুণ্যবান ফিরিশতাদের সঙ্গে
থাকবে। আর যে ব্যক্তি আটকে আটকে তিলাওয়াত করে এবং তার জন্য এটা
কষ্টকর হয়, তবে তার জন্য দুটি প্রতিদান রয়েছে। (প্রথমটি তিলাওয়াতের
প্রতিদান, দ্বিতীয়টি কষ্টের প্রতিদান।) [১]
রামাদান এলে সালাফগণ সব সময় কুরআন সাথে রাখতেন। ঘরে, বাইরে, সফরে
ও যাত্রাবিরতিতে—সর্বাবস্থায় একমনে তিলাওয়াত করতেন।
ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে জানা যায় যে, রামাদান এলে তিনি দারস,
ফতোয়া, মজলিস—সব কিছু বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কুরআন নিয়ে বসে পড়তেন। তিনি
বলতেন, ‘এই মাস হচ্ছে কুরআনের মাস।’
রামাদানে সালাফদের ঘর থেকে সব সময় তিলাওয়াতের গুনগুন শব্দ ভেসে আসত।
কুরআনের সুমধুর কলরবে মুখরিত হতো চারিদিক। প্রতিটি ঘর যেন কুরআনের
আলোয় ছেয়ে যেত। সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠত প্রতিটি আঙিনা।
তারা খুব ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করতেন। কোথাও বিস্ময়কর আলোচনা এলে
সেখানে থামতেন। উপদেশমূলক ও শাস্তির আয়াতে কাঁদতেন এবং সুসংবাদের
আয়াত তিলাওয়াতকালে আনন্দিত হতেন। কুরআনের আদেশ-নিষেধ ও যাবতীয়
বিধান-মাফিক নিজেদের জীবন গড়ে তুলতেন।
ইবনু মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একবার নবীজি তাকে কুরআন
তিলাওয়াত করে শোনাতে বললে তিনি ‘সূরা নিসা’র প্রথমাংশ তিলাওয়াত করেন।
যখন এই আয়াতে পৌঁছেন—
فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا
[১] সহীহ বুখারী : ৪৬৫৩; সহীহ মুসলিম : ৭৯৮
কুরআনে কারীম ও রামাদানের সম্পর্ক
অতএব, কেমন হবে তখন, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী
উপস্থিত করব এবং আপনাকে উপস্থিত করব তাদের ওপর সাক্ষীরূপে?[১]
তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম বলেন, ব্যস, যথেষ্ট।
ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এসময় আমি নবীজির দিকে তাকিয়ে দেখি,
তার চক্ষুদ্বয় থেকে অনবরত অশ্রু ঝরছে! প্রিয়তমের বাণী শ্রবণে কান্না আটকে
রাখা যে বড় দায়!
উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে সাহাবীগণ একত্র হলে তিনি আবু মূসা
আশআরী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে বলতেন, আমাদের রবের কথা স্মরণ
করিয়ে দাও। আবু মূসা তখন তার সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত আরম্ভ করতেন, আর
সাহাবীগণ সকলে অঝোরে কাঁদতে শুরু করতেন।
কিন্তু পরবর্তীজনেরা যখন তিলাওয়াত শ্রবণের মানসিকতা হারিয়ে ফেলে, তখনই তাদের
নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয়। চারিত্রিক অবনতি ঘটে এবং মেধা ও বোধশক্তি লোপ পায়।
কুরআনের স্থলে মানুষ অন্যকিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ার ফলে যাবতীয়
ফিতনা-ফাসাদের সৃষ্টি হয়। নানা রকম বিপদাপদ ও বালা-মুসিবত দেখা দেয়।
মানহাজগত বিচ্যুতি ঘটে; অনেক তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ও গোলযোগপূর্ণ হয়ে পড়ে।
মুসলিমদের শক্তি-সাহস ও সংকল্প পর্যবসিত হয় হতাশা ও ব্যর্থতায়। অতএব,
আমাদের কুরআনের কাছে ফিরতেই হবে। কুরআন পড়তেই হবে। কারণ —
কুরআনের মিশন হচ্ছে মানুষকে হিদায়াত ও সিরাতুল মুসতাকীমের পথ
প্রদর্শন করা।
■ কুরআন হচ্ছে আলোকবর্তিকা। যাবতীয় রোগের শিফা[২]। জ্ঞান-বিজ্ঞান,
সভ্যতা-সংস্কৃতি এবং শিক্ষা ও দর্শনের কেন্দ্রস্থল।
■ কুরআন আমাদের প্রাণশক্তি। জীবনের অবলম্বন এবং সুখ ও সৌভাগ্যের সোপান।
[১] সূরা নিসা, আয়াত : ৪১
[২] সুস্থতা লাভের উপাদান
কুরআন হচ্ছে ঐশীবাণী, স্রষ্টার সংবিধান এবং কুরআনই হচ্ছে শাশ্বত ও
চিরন্তন বিজ্ঞান-দর্শন।
সুতরাং, আমরা কি কুরআন দিয়ে নিজেদের জীবন গড়তে পারি না? পারি না
রামাদান ও বাকি এগারো মাস কুরআন নিয়ে কাটাতে? যদি পারি, তবে এই
মহাযানের বরকতে আমাদের জীবনযাত্রা আরও মসৃণ হবে। জীবনমান আরও উন্নত
হবে। সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি হতাশার ঘোর কেটে নেমে আসবে শুভ্র
প্রভাত । আমরা কি পারব এমনটা করতে?
ভালোবাসার রামাদান বই থেকে হুবহু অনুকরণ চলমান
#৩০থেকে৩২পাতা

 #কুরআনে কারীম ও রামাদানের সম্পর্করামাদান হচ্ছে বরকতময় মাস। পবিত্র কুরআনের সাথে এই মাসের সম্পর্ক অত্যন্তগভীর। আল্লাহ সু...
18/02/2026

#কুরআনে কারীম ও রামাদানের সম্পর্ক
রামাদান হচ্ছে বরকতময় মাস। পবিত্র কুরআনের সাথে এই মাসের সম্পর্ক অত্যন্ত
গভীর। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِى أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ
রামাদান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য
হিদায়াতস্বরূপ এবং সত্যের সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ এবং ন্যায় ও অন্যায়ের
মাঝে পার্থক্যকারীরূপে[১]
এই মাসেই পবিত্র কুরআন লওহে মাহফুয থেকে সপ্তম আসমানে অবতীর্ণ হয়।
এজন্যও রামাদান অত্যন্ত দামি। শুধু রামাদান কেন? কুরআনের সাথে যার সম্পর্ক
যত বেশি হবে, সে তত বেশি দামি হবে। এজন্যই রামাদানের প্রতি রাতে নবীজি
* ও জিবরীল আলাইহিস সালাম পরস্পরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন।
কুরআনের প্রতিটি শব্দ, বাক্য ও বাণী নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন। সম্যকরূপে
হৃদয়ঙ্গম করতেন এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করতেন। এক কথায়, কুরআনের
মধুময় বাণীর শ্যামল ভূমিতে তারা হারিয়ে যেতেন।
[১] সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫
সিয়াম ও তিলাওয়াত উভয়টি একসঙ্গে চালিয়ে গেলে সিয়াম পালনকারী বারি
হৃদয়ে রামাদানের পাশাপাশি কুরআনের প্রতিও ভালোবাসা তৈরি হয়। বরকত,
এই গ্রন্থের সান্নিধ্যে কাটে তার রামাদান। মহান আল্লাহ বলেন—
كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكَ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوْلُوا الْأَلْبَابِ
এটি একটি বরকতময় কিতাব—যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি। যাতে মানুষ
এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে। ১
তিনি আরও বলেন—
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا
তারা কি কুরআনের মর্ম-বিষয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? না তাদের
অন্তর তালাবদ্ধ?[২]
পবিত্র কুরআনে আরও বলা হয়েছে—
أَفَلاَ يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيراً
তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? পক্ষান্তরে যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকারও
পক্ষ থেকে হতো, তবে অবশ্যই তারা এতে অনেক বৈপরিত্য দেখতে পেত [৩]
নিয়াম অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করলে হৃদয়ের গভীরে অপার্থিব স্বাদ অনুভূত
হয়। ইবাদাতে অনিঃশেষ প্রেরণা জাগে। চিন্তা ও মনোজগতে ইতিবাচক পরিবর্তন
আসে। হৃদয় মহান রবের প্রতি ভালবাসায় সিক্ত হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসে সুরভি ছড়িয়ে
পড়ে এবং তিলাওয়াতের মৃদুমন্দ গুঞ্জনে দেহ-মনে শিহরন জাগে।
(১) সাদ, আবার ২৯
(b) র, আয়াত : ১৪
(0) না, আ
এছাড়াও রামাদানে কুরআন তিলাওয়াত করলে কুরআন নাযিলের প্রেক্ষাপট,
সংকলনের ইতিহাস, তাফসীরকারকদের ব্যাখ্যা এবং কুরআনের প্রতি সালাফদের
গুরুত্বদানের ব্যাপারগুলো চোখের সামনে স্পষ্ট ভেসে ওঠে। অধিকন্তু কুরআন
তিলাওয়াতের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—
এক. আবু উমামা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন—
اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لأَصْحَابِهِ
তোমরা কুরআন পাঠ করো। কেননা, এই কুরআন কিয়ামতের ময়দানে
তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশকারী হবে।[১]
দুই. উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন—
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে কুরআনে কারীম নিজে শেখে এবং
অন্যকে শেখায় [২]
তিন. আবু উমামা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন—
اقْرَءُوا الزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ ، وَسُورَةٍ آلِ عِمْرَانَ ، فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ ، أَوْ
كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ ، أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافُ ، تُحَاجَانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا
তোমরা দু'টি পুষ্প পাঠ করো, যথা সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান। কারণ, এ
দু'টি সূরা কিয়ামতের দিন মেঘমালার মতো অথবা দুই দল পাখির ঝাঁকের মতো
সারিবদ্ধভাবে উড়বে। এরা উভয়ে পাঠকের পক্ষ হয়ে আল্লাহর সম্মুখে কথা বলবে ।
[১] সহীহ মুসলিম : ১৩৯০
[২] সহীহ বুখারী : ৪৭৩
[৩] সহীহ মুসলিম : ১৩৯০
ভালোবাসার রামাদান বই থেকে হুবহু অনুকরণ চলমান
#২৭থেকে২৯পাতা

17/02/2026

মেয়েদের মর্ডান নাম

সাত. সিয়াম মানুষের পাকস্থলী ও রক্ত পরিষ্কার করে। খাদ্য-সংক্রান্ত জটিল সমস্যাসমাধানের পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা ও পরিপাক-...
17/02/2026

সাত. সিয়াম মানুষের পাকস্থলী ও রক্ত পরিষ্কার করে। খাদ্য-সংক্রান্ত জটিল সমস্যা
সমাধানের পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা ও পরিপাক-শক্তি বৃদ্ধি করে।
আট. সিয়ামের ফলে হৃদয় বিগলিত হয়। গুনাহের চাহিদা ও কুপ্রবৃত্তি লোপ পায়।
সুকুমারবৃত্তি জাগ্রত হয়। এভাবে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সহজ হয়। ফলে
রামাদানে অন্য সময়ের তুলনায় দুআ একটু বেশিই কবুল হয়।
নয়. আল্লাহর হুকুমে সারা দিন পানাহার থেকে বিরত থাকার ফলে আল্লাহর
বিধানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের যোগ্যতা তৈরি হয়। একমাত্র তার সন্তুষ্টি লাভের
উদ্দেশ্যে পানাহার ও সহবাস বর্জন এবং সকল প্রকার কুপ্রবৃত্তি উপেক্ষা করার
গৌরবময় সৌভাগ্য অর্জিত হয়।
দশ. অনৈতিক চাহিদা ও মনোবাসনা চরিতার্থ না করে সিয়ামের ওপর অটল থাকার
ফলে ধৈর্য ও সহনশীলতার মতো মহৎ গুণ অর্জিত হয় এবং তা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
একটি হাদীসে এসেছে—

وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ، فَلَا يَرْفُتْ يَوْمَيدٍ، وَلَا يَصْخَبْ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ، فَلْيَقُلْ: إِنِّي
امْرُؤٌ صَابِمُ
তোমাদের কেউ যখন সিয়াম রাখে তখন সে যেন অপ্রয়োজনীয় ও অশ্লীল
কথাবার্তা না বলে এবং চিৎকার বা হট্টগোল না করে। কেউ যদি তাকে
গালাগাল দেয় কিংবা তার সাথে গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে, তখন সে
যেন বলে, আমি রোজাদার [১]
এভাবে সিয়াম পালনের ফলে মানুষের সংযম, সহনশীলতা ও ক্রোধ দমনের শক্তি
বৃদ্ধি পায়। ধৈর্যধারণ অপেক্ষাকৃত সহজ হয়।
এগারো. সিয়াম হচ্ছে প্রবৃত্তির জন্য একটি পরীক্ষা। কারণ, সিয়ামের মধ্য দিয়ে
প্রবৃত্তিকে দিনভর অনাহারী রেখে আল্লাহর পথে সংগ্রাম ও সাধনার অনুশীলন
করানো হয়।
[১] সহীহ বুখারী : ১৯০৪; সহীহ মুসলিম : ১১৫ ১
পবিত্র কুরআনের ভাষ্যমতে আল্লাহর সৈনিক ‘তালুত' যখন 'জালুতা)-এর
বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের উদ্দেশ্যে বের হন, তখন যাত্রাপথে তার সৈন্যদের সমুদ্র
হতে পানি পান করতে বারণ করা হয়। কঠিন পিপাসার মুহূর্তে যা ছিল তাদের জন্য
অনেক বড় পরীক্ষা। তালুত সবাইকে লক্ষ্য করে বলেন—
إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍ فَمَن شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَن لَّمْ يَطْعَمُهُ فَإِنَّهُ مِنّى إِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْقَةٌ بيده
নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের একটি নদী দ্বারা পরীক্ষা করবেন। অতএব, যে
তার পানি পান করবে সে আমার দলভুক্ত নয়। আর যে তার স্বাদ গ্রহণ
করবে না, নিশ্চয়ই সে আমার দলভুক্ত; কিন্তু যে তার হাত দিয়ে এক
আঁজলা পরিমাণ খাবে, তার দোষ অবশ্য তেমন গুরুতর হবে না। খে
অতঃপর যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেন এবং
ইহকাল ও পরকালে তাদের জন্য উত্তম বিনিময় নিশ্চিত করেন।
সিয়াম পালনের আরও অনেক তাৎপর্য থাকতে পারে, তবে উপর্যুক্ত তাৎপর্যগুলো
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
[১] তালুত (যাকে বাইবেলে Saul বলা হয়েছে) ছিলেন সম্মানিত নবী শাময়ীল আলাইহিস সালাম কর্তৃক
নির্বাচিত বনী ইসরাঈলের একজন বাদশাহ। আর শাময়ীল আলাইহিস সালাম ছিলেন নবী দাউদ আলাইহিস
সালামের বাল্যকালে বনী ইসরাঈলের নিকট আল্লাহর দাওয়াত পৌঁছানোর দায়িত্বে থাকা একজন সম্মানিত
নবী । তৎকালীন বনী ইসরাঈল অত্যধিক পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়লে আল্লাহ তাআলা নবী শাময়ীল
আলাইহিস সালামকে বনী ইসরাঈলের সংশোধনের জন্য তাদের নিকট প্রেরণ করেন; কিন্তু তারা আল্লাহর
নবীকে মানছিল না। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর 'আমালিকা' নামক গোত্রের এক অত্যাচারী
বাদশাহকে চাপিয়ে দিলেন। যে অনেক শক্তিশালী ছিল। সে যখন বনী ইসরাঈলের ওপর নানা রকম অত্যাচার
চালাতে লাগল, তখন বনী ইসরাঈলের লোকেরা নবী শাময়ীল আলাইহিস সালামের কাছে এসে অনুরোধ
করল, আপনি যদি সত্যিকার নবী হয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের জন্য এমন একজন শক্তিশালী বাদশাহ
নির্বাচন করে দেন, যার নেতৃত্বে আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি। তখন শাময়ীল আলাইহিস সালাম
তালুত নামের এক ব্যবসায়ীকে তাদের বাদশাহ নির্বাচিত করেন। আর ‘আমালিকা' গোত্রের সেই অত্যাচারী
বাদশাহর নাম ছিল জালুত (যাকে বাইবেলে Goliath বলা হয়েছে) । যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন নবী-
নির্বাচিত বাদশাহ তালুত। সূত্র: সূরা বাকারা'র ২৫১ নাম্বার আয়াতের বিভিন্ন তাফসীর অবলম্বনে।
[2] সূরা বাকারা, আয়াত: ২৪৯
ভালোবাসার রামাদান বই থেকে হুবহু অনুকরণ চলমান

#২৫থেকে_২৬পাতা

 #সিয়ামের বিধান কেন?দানে সিয়ামের বিধানের পেছনে বিশেষ তাৎপর্য ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু লক্ষ্য-উদ্দেশ্য রয়েছে।কুরআন এবং হাদী...
16/02/2026

#সিয়ামের বিধান কেন?
দানে সিয়ামের বিধানের পেছনে বিশেষ তাৎপর্য ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু লক্ষ্য-উদ্দেশ্য রয়েছে।
কুরআন এবং হাদীসে কেবল মৌলিক উদ্দেশ্যগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। এগুলোর কিছু
আমাদের যুক্তিগ্রাহ্য আর কিছু যুক্তি-উর্ধ্ব। কুরআনের ভাষ্যমতে সিয়াম হচ্ছে তাকওয়া,
আল্লাহভীতি ও তার নৈকট্যলাভের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। কুরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা
হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর—যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো (১)
হাদীসের ভাষায় সিয়াম প্রবৃত্তি দমন করে, দৃষ্টিকে অবনত রাখে, আর অন্তরকে
করে পরিশুদ্ধ। বর্ণিত হয়েছে—
GG
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَ فَلْيَتَزَوَّج، فَإِنَّهُ أَغَضُ لِلْبَصَرِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ
بِالصَّوْمِ، فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءً
[১] সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮০
হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন
বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত
করে। আর যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সিয়াম পালন করে। কেননা,
সিয়াম তার যৌনতাকে দমন করবে।)
এছাড়াও সিয়ামের আরও কিছু তাৎপর্য রয়েছে। যেমন—
এক. সিয়াম পালন করলে খাদ্য ও রক্তনালি সংকীর্ণ হয়, ফলে দেহে শয়তানের
চলাচল রোধ হয় এবং সিয়াম পালনকারী শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়।
দুই. সিয়াম আমাদের নিঃস্ব, অসহায়, অভাবী ও অনাহারীদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
দারিদ্র্য-পীড়িত যে-পরিবার একমুঠো খাবারের জন্য দিনভর সংগ্রাম করে রাতের বেলা
খেয়ে-না-খেয়ে শুয়ে পড়ে—রাস্তার ধারে অথবা হোটেলের সামনের সরু গলিটায়—
সন্ধ্যেবেলা ইফতার মুখে তুলতেই সিয়ামের কল্যাণে তাদের কথা মনে পড়ে। চোখের
কোণে দু’ফোঁটা অশ্রু জমে। হৃদয়ের গভীরে তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা জাগে।
তিন. সিয়াম হচ্ছে আত্মার শুদ্ধি ও সমৃদ্ধির ঐশ্বরিক ব্যবস্থা। যে এই ব্যবস্থা গ্রহণ
করবে সে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে।
চার. সিয়াম হচ্ছে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার একান্ত গোপনীয় একটি বিষয়। সালাত,
যাকাত, হজ—এসব প্রকাশ্য ইবাদাত। এসকল ইবাদাত করলেও মানুষ বুঝতে পারে;
না করলেও বুঝতে পারে। অনেক সময় মানুষকে দেখানোর জন্যও এগুলো করা
হয়ে থাকে; কিন্তু সিয়ামের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কারও মৌখিক স্বীকারোক্তি
ব্যতীত বোঝার উপায় নেই যে, সে সিয়াম পালন করছে কি না? এটা জানেন শুধু
আল্লাহ। কাজেই কারও সিয়াম পালন করার অর্থ হচ্ছে সে একান্ত নিভৃতেও মহান
আল্লাহকে ভয় করে। সিয়াম যেহেতু একান্তই আল্লাহর, সেহেতু এর পুরস্কারও স্বয়ং
আল্লাহ-ই দেবেন। একটি হাদীসে বলা হয়েছে—
CG
[১] সহীহ বুখারী: ৫০৬৬; সহীহ মুসলিম : ৩268
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : قَالَ اللَّهُ : كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِى بِهِ

বলেন, মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘সিয়াম ব্যতীত
আদম-সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য; কিন্তু সিয়াম শুধুই আমার
জন্য। তাই আমি স্বয়ং এর প্রতিদান দেব।[১]
সালাফগণ রামাদান মাসের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রতিটি মুহূর্ত সর্বোচ্চ কাজে
লাগাতেন। এই মাসকে নেকী লাভের মহা সুযোগ হিসেবে গণ্য করতেন এবং
রাত্রিজাগরণ, সালাত আদায়, যিকির, তিলাওয়াত, দাওয়াত, নসীহত ও ইলম
শিক্ষাদানের মধ্য দিয়েই এই মাসটি যাপন করতেন।
সিয়াম তাদের নয়ন জুড়াত। হৃদয়ে প্রসন্নতা এনে দিত। আত্মার খোরাক জোগাত।
চিন্তাকে প্রসারিত করত এবং চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করত। তাই সিয়াম পালনে তারা
স্বর্গীয় আত্মপ্রশান্তি অনুভব করতেন।
জানা যায় যে, সালাফগণ এই মাসে কুরআন নিয়ে মসজিদে বসে পড়তেন।
তিলাওয়াত করতেন আর অঝোরে কাঁদতেন। সকল প্রকার গুনাহের কাজ থেকে
জবান ও চক্ষুর হিফাযত করতেন।
পাঁচ. রামাদানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে মুসলিম ভাইদের মাঝে ঐক্য তৈরি হয়। একসাথে
সিয়াম পালন ও অনাহার, অতঃপর একই সময়ে ইফতার ও খাবার গ্রহণের ফলে সবার
মাঝে এক ধরনের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে। অন্তরে সাম্য ও সহমর্মিতাবোধ জেগে ওঠে।
ছয়. রামাদান মাস বাকি এগারো মাসের যাবতীয় পাপাচারের ক্ষমা ও কাফফারাস্বরূপ।
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসে নবীজি বলেন—
GG
الصَّلَوَاتُ الخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ، مُكَفِّرَاتُ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَابِرَ
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমআ থেকে অপর জুমআ এবং এক রামাদান থেকে
আরেক রামাদান- তার মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারাস্বরূপ—যদি কবীরা
গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়। ২
(১) সঙ্গীত বুখারী : ১৯০৪, সহীহ মুসলিম: ১১৫১
[2] সঙ্গী মুসলিম :
ভালোবাসার রামাদান বই থেকে হুবহু অনুকরণ চলমান
#২২থেকে_২৪পাতা

Address

Rajshahi
Pabna
6600

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when RS Media posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to RS Media:

Share