03/02/2026
আজ বিসিবির একটি সংবাদ সম্মেলনে যে দৃশ্যের অবতারণা করে পুরো সম্মেলনটাই বানচাল করা হলো সেটাকে এক কথায় বলা যায় "স্যাবোটাজ"..
আজকের প্রেস কনফারেন্স ছিল "গ্রাউন্ডস রিলেটেড" অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ একটি ব্যাপার নিয়ে সাংবাদিকদের আপডেট জানানোর। তৃণমূল ক্রিকেটের উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট নিয়ে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিসিবির তরফ থেকে সাংবাদিকদের নানান তথ্য জানানোর কথা ছিল। ১৩৮ টা টার্ফ উইকেট তৈরি করা হবে, বরিশাল স্টেডিয়াম নিয়ে কিছু আপডেট জানানোরও কথা ছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য দারুণ একটা ব্যাপার!
অথচ এই বস্তুনিষ্ঠ আলাপগুলো জনগণ ঠিকমতো জানতে পারলো না, সেই ক্রিকেটীয় ব্যাপারগুলা আড়াল হয়ে ভাইরাল হয়ে গেল "সাংবাদিকদের সাথে বিসিবি পরিচালকের ফাইট" শীর্ষক গরম গরম নিউজ!
দেখেন, বিসিবি রিসেন্টলি সাংবাদিকদের রেস্ট্রিকশনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা অনেক গণমাধ্যমকর্মীর নাই পছন্দ হতে পারে। অনেক সাংবাদিকই কিন্তু আছেন যারা অন্তত চেষ্টা করেন দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ সংগ্রহ করার। সেক্ষেত্রে অনেকেরই মনে প্রশ্ন কিংবা দাবি থাকতে পারে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, সেটাই তো স্বাভাবিক।
কিন্তু সেটার প্রতিবাদ হতে পারে মিডিয়ায়, কিংবা বিসিবির সাথে সম্মিলিতভাবে বসে আলোচনা করে, কিংবা সম্মিলিতভাবে আবেদন বা স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমেও তো অন্তত সেটা ভদ্রস্থভাবে করা যায়।
কিন্তু সেটা কি এভাবে এগ্রেসিভভাবে একটা সংবাদ সম্মেলনে উত্তপ্ত ভাষা প্রয়োগ করে করা যায়?
"আমরা কি আপনার পিআর টিম যে যখন ডাকবেন আসবো, আর যখন লাগবে না তালা ঝুলিয়ে দিবেন" বলে যেভাবে খালেদ মাসুদ পাইলট কে আক্রমণ করা হলো সেটা মনে হয়না কোনো সিস্টেমেটিক প্রতিবাদ হতে পারে।
খালেদ মাসুদ পাইলট অনেক ভদ্রতার সাথেই দেখলাম ব্যাপারটা হ্যান্ডেল করার চেষ্টা করেছেন, একবার চলে গিয়েও আবার ফেরত আসলেন সবাইকে সরি বলার জন্য। তিনি বারবার বলতে চাইলেন যে আমরা তো একটি পরিবারের মতই, সেখানে কি সুন্দরভাবে আলোচনা করা যায়না? আর গ্রাউন্ডস রিলেটেড সংবাদ সম্মেলনে এগুলো নিয়ে তো আলোচনা হওয়ারই কথা না, সেটার আলাদা স্থান আছে।
কিন্তু আলোচনার কোনো স্কোপ না রেখে আপনি যদি বারংবার কাউকে উত্তপ্ত ভাষায় এট্যাক করতে থাকেন তাহলে আসলে আলোচনার কোন স্কোপ থাকেই না! তখন আসলে মুখ দিয়ে - " আপনি ভিউয়ারশিপ বাড়ানোর জন্যই এই প্রশ্ন করছেন" টাইপ স্যাভেজ উত্তরই বের হয়ে যায়। এবং সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা আসলে এমন উত্তরে বেশ অবাক হয়েছেন ছবিতেই দেখতে পাচ্ছেন। আমার মনে হয়না সেখানে উপস্থিত সবাই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিব্রতকর পরিস্থিতি চেয়েছেন আসলে।
ওইযে বললাম আগেরদিন, ক্রিকেট বাদে আসলে সবকিছুই চলছে। আজকের তৃণমূল ক্রিকেট নিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ কিছু টপিক আড়াল হয়ে ভাড়ামিটাই হাইলাইট হয়ে উঠলো। যদি প্রতি পদে পদে অসহযোগিতা করে ক্রিকেট টাকেই আড়ালে রেখে নিজেদের ইগো প্রদর্শন টাই মেইন টপিক হয়ে ওঠে অনেকের কাছে, তাহলে তো ব্যাপারটা দিনদিন আরো নোংরাই হয়ে উঠবে।
প্রতিবাদ জানানোর ১০১ টা ভাষা আছে, বাট সরি টু সে সেটা এভাবে নয়। আজ যেটা আমরা দেখলাম সেটা স্রেফ ভাড়ামি এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা ছাড়া কিছুই না!
ক্ষতিটা ক্রিকেটেরই হচ্ছে.....