14/12/2025
যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যপক ড.এস এম আব্দুল আওয়ালের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শোক র্যালি বের হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো:নজরুল ইসলাম,কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো:শামীম আহসান, রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম, প্রক্টর প্রফেসর ড.কামরুজ্জামান খান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড.রাশেদুল হকসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন,বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা -কর্মচারীবৃন্দ। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে র্্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পদক্ষিন করে স্বাধীনতা চত্বরে শেষ হয়।
পরে স্বাধীনতা চত্ত্বরে বিশ্ব বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার ।এছাড়াও পুষ্পস্তবক অর্পন করেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, গণিত বিভাগ, লোক প্রশাসন বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ, রসায়ন বিভাগ, বাংলা বিভাগ, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, স্বাধীনতা হল, জুলাই ৬ হল, গণতন্ত্র হল, মাতৃভাষা হল ও রোভার স্কাউট।
এসময় উপাচার্য ড. এস এম আব্দুল আওয়াল বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস সুদীর্ঘ—১৯৫২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত। দেশের অস্তিত্বে বিশ্বাসী গণতন্ত্রকামী মানুষই সবসময় দেশের জন্য লড়াই করেছে। একটি দেশের নিরাপত্তা সেদেশের বুদ্ধিজীবীদের উপর নির্ভর করে। পাকিস্তান এই কারণেই ১৯৭১ সালের আজকের দিনে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে, যাতে দেশ মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।
তবে, স্বাধীনতার পরেও দেশ স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্টের মধ্য দিয়ে গিয়েছে এবং আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতা এখনো পাইনি। এর প্রমাণ হলো ওসমান হাদী বা এরশাদুল্লাহর মতো ব্যক্তিদের উপর হামলা। স্বাধীনতার পঞ্চাশোর্ধ্ব বছর পরেও আমরা নিজেদের মধ্যে হানাহানি নিয়ে ব্যস্ত।
তিনি মালয়েশিয়ার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের অভাব, প্রকৃত দেশপ্রেমিকের অভাব ও একতার অভাবের কারণে উন্নয়নে পিছিয়ে আছি। মত-পথের ভিন্নতা সত্ত্বেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থে সকলকে অবশ্যই একতাবদ্ধ থাকতে হবে।
উপ -উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো:নজরুল ইসলাম বলেন, আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে শতাধিক বুদ্ধিজীবীকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছিল। এটার কারন ছিল যে তাদের স্বাধীনতা দিতেই হবে কিন্ত এই দেশ যেন গড়ে ওঠতে না পারে। এটার বাস্তবতার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় অনেক দেশ আমাদের পরে স্বাধীনতা অর্জন করেও আমাদের থেকে সমৃদ্ধ। আমরা যদি আজকে থেকেও দেশকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করি তাহলেও সম্ভব। বুদ্ধিজীবীদের তালিকা থেকে দেখা যায় ১০০০ এর মধ্যে ৯৯১ জনই শিক্ষাবিদ ছিল।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনারা শিক্ষাবিদ তাই আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে বেশি সময় নিবো না দেশ গড়তে।এবং এই প্রতিজ্ঞাই হোক আজকের বুদ্ধিজীবী দিবসের অঙ্গীকার।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.মো: শামীম আহসান বলেন, ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ চালায় আমাদের অগ্রযাত্রাকে থামানোর জন্য।এর ফলে আমরা অসংখ্য শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার ও বিভিন্ন পেশার বুদ্ধিজীবীদের হারায়। ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে ১৪ই ডিসেম্বরের গনহত্যার কারনেই। বাঙালি জাতি বার বার হোচট খেয়েছে কেননা দেশকে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবে তাদের হত্যা করা হয়েছে।তারপরও কিন্তু তারা আামাদের বিজয়কে এবং অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।আমরা যদি ২০২৫ সালের ১৪ই ডিসেম্বরের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যায় আমরা একটু হলেও অগ্রসর হয়েছি অর্থাৎ আমরা সেসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করি আমাদের এই প্রজন্ম তাদের রক্তকে বৃথা যেতে দিবে না এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
উল্লেখ্য,সবশেষে শহীদদের স্মরণে ১মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের জন্য দোয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম শেষ হয়।এবং বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।