23/06/2025
শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে 'শেখ মুজিব' বন্দনা চালু করেছিল - রায়হান
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য রাহানুল আলম রায়হান বলেছেন বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে 'শেখ মুজিব' বন্দনা চালু করেছিল। জিয়াউর রহমানের নাম ইতিহাসের পাতায় মুছে ফেলে শিক্ষার্থীদের জয় বাংলা স্লোগান শিখিয়েছে।
সোমবার (২৩ জুন) রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজারে তারেক রহমান কর্তৃক বিএনপির ৩১ দফার রূপরেখা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত পথসভা ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। তিনি বলেন,রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কেবল বিএনপির একার দফা নয়, এটি বিএনপির সঙ্গে যারা জোটবদ্ধ রয়েছে তাদের সকলের মতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এই ৩১ দফা শুধু দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সর্বস্তারের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপির এই ৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রায়হান বলেন , ৩১ দফায় দলীয় যে নির্দেশনা রয়েছে তা জেলা, উপজেলা ইউনিয়ন থেকে গ্রাম পর্যায়ে ছোট ছোট কর্মসূচি আকারে ছড়িয়ে দিতে হবে। আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের উদ্দেশ্য ও এর মাধ্যমে জনগণ কি ধরনের উপকৃত হবে তা জানাতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে। রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে জাতিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যাবে। এতে থাকবে না কোনো রাজনৈতিক বৈষম্য। এমনকি স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেভাবে ধ্বংস করেছে, তা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতেও ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
জেলা বিএনপির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে ১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতিত হয়েছেন তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করা হবে। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। প্রত্যেক পরিবারের নারীদের জন্য একটি কার্ড প্রদান করা হবে। এর মধ্যে যে অর্থ সরবরাহ করা হবে তা দিয়ে নারীরা তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নদী খননে কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।
নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়ে রায়হান বলেন, মানুষ যদি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে না থাকে সেই দলের কোনো সার্থকতা নেই। কোনো দল বা ব্যক্তি জনবিচ্ছিন্ন হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখছে, তাই চাঁদাবাজ লুটতরাজকারীদের বিএনপিতে কোনক্রমেই ঠাঁই হবেনা।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম হেনা, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব আলী, রাজশাহী জেলা কৃষক দলের সদস্য মুকুল আলী,ঘাসি গ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য হাফিজুর রহমান, মোহনপুর উপজেলা একাত্তরপ্রজন্ম দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাবুল ইসলাম, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাফফর হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, একাত্তর প্রজন্ম দলের সদস্য মুস্তফা হোসেন, শাহার আলী, শ্যামপুরহাট ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাহফিল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ আলী, মোহনপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক মাইনুল ইসলাম হিরো।