23/07/2026
ছেলেটা কে চিনি না!!
বাড়ি -কড়ইতলা,লক্ষীপুর,নোয়াখালী।
আজ সন্ধ্যাঁয় খুব খুদা পেয়েছিলো, রাস্তার পাশে বসে বসে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর একটা চিকেন ফ্রাই খাচ্ছিলাম হঠাৎ খেয়াল করলাম এই ছেলেটা দূরে দাড়িয়ে খাবার দেখছে এবং সেই সাথে আমাদের খাওয়া দেখতেছে তো প্রথমে বিষয়টা ওতোটা সিরিয়াসলি নেইনি কিন্তু কিছুক্ষণ পরে দেখলাম ও সেখানে নেই কিন্তু পরক্ষণেই আমার পিছনে এসে আমাকে বলতেছে ভাইয়া আমাকে কিছু একটা খেতে দেবেন! আমি খাওয়া থামিয়ে বললাম তোমার বাসা কোথায় এবং তোমার মা বা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা কোথায় তারপর ও যা বললো আমি প্রথমে ভেবেছিলাম ও মিথ্যা বলতেছে কিন্তু পরে ওর চাহনি এবং ওর কথার টোন শুনে বুঝলাম যে ও আসলে সব সত্যিই বলছে হয়তো। তো আমি ওর পরিবার এবং বাসার ঠিকানা জানতে চাওয়ার পরে ও বললো যে, ওর মা নেই,বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন একজন পাগল ব্যক্তি, এতোদিন নানির কাছে থাকতো এবং ওর আরো ২ টা ছোট ভাই বোন আছে এবং ওর এখানে থাকার জায়গা নেই ও ২/৩ দিন আগে এই শহরে এসেছে এবং ও আসার পর থেকে নাকি রাস্তাতেই ওর দিন যাপন করতেছে। ওর নানীর কাছে এতোদিন থাকতো কিন্তু তিনি নাকি ওরে প্রচন্ড মারধর করে তাই ও বাড়ি থেকে না বলে চলে এসেছে এই অচেনা শহরে। ওর কথা শুনতে শুনতে ততক্ষণে ওরে আমি একটা গরম গরম টিক্কা খেতে দিলাম কিন্তু ওর শুকনো মলিন মুখ দেখে আমার মনে হলো যে, ওর আরও কিছু বলার আছে কিন্তু ভয়ে ভয়ে ও খাচ্ছে কিন্তু আর কিছু বলছে না পরবর্তীতে আমি নিজে থেকে ওকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এই তিন দিনে খেয়েছে কিনা?পরবর্তীতে ও আস্তে করে বললো ভাইয়া মানুষের কাছে চাইয়া চাইয়া খাইছি এই কয়দিন কিন্তু আজ সারাদিনে ভাত খাইনি শুধু সকালে একজন হালকা পাতলা কিছু খেতে দিয়েছিলো, ওর এই কথাটা শুনতেই ভেতর থেকে খুব নিদারুণ কষ্ট অনুভব করলাম কারণ পৃথিবীতে ভাতের জন্যই মানুষের এই সংগ্রাম আর এই ভাতের খুদা বড় খুদা। এরপর ওকে আমি বললাম তুমি আস্তে আস্তে খাও সমস্যা নেই আমি তোমাকে ভাত খাওয়াবো এটা শুনতেই মনে হইছিলো যেন ও খুবই খুশি হইছে, এরপর ও হাতের খাবারটা তাড়াতাড়ি শেষ করে আমার পিছু পিছু হাটতে শুরু করলো এবং ভাতের একটা হোটেলে যেতেই দেখতে পেলাম ওর খুদাটা আসলে কোন লেভেলে ছিলো কারণ ওর সামনে ভাতের প্লেট দিতেই ও শুধু ভাত কোনো তরকারি ছাড়াই খেতে শুরু করে দিয়েছে এরপর বললাম আস্তে খাও তোমাকে অন্যান্য তরকারিও দিবে। সে শুধু খাচ্ছিলো আর কিছু ভাবার যেনো তার সময়ই নেই।অতঃপর ছেলেটাকে বললাম যে এভাবে রাগ করে আসা ঠিক হয়নি এবং বললাম যে, ও যেন আবার বাড়িতে চলে যায়, আরও বিভিন্ন কিছু বুঝানোর পরে বললো ঠিক আছে ভাইয়া আমি বাড়ি চলে যাবো। এরপর আমার জরুরি কাজ থাকায় আমি ওর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, হোটেল কতৃপক্ষকে ওরে যত্নসহকারে খাওয়াতে বলে সেখান থেকে চলে যাই।জানি না এই ছেলেটা সত্যি সত্যি ওর বাড়ি চিনে যেতে পারবে কিনা, আমি ওর বাড়ির অনেকের মোবাইল নাম্বার চেয়েছিলাম কিন্তু ও একটাও জানে না।তবুও এই ছেলেটার জন্য দোয়া করি ও যেন সহি সালামতে ওর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। যদি এই ছেলেটাকে কেউ চিনে থাকেন তবে অবশ্যই ওর পরিবারের কাছে ওকে ফিরে যেতে সাহায্য করবেন।
আল্লাহ নিশ্চয়ই তার সকল সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল।