13/07/2026
প্রেমের টানে চীনা যুবক বাংলাদেশে!! নাকি মানবপাচারের ফাঁদ? এটাই বুঝায়ে বলি।
সম্প্রতি টাংগাইলের ক্লাস নাইনে পড়ুয়া একটা কিশোরী মেয়ের ভিডিও দেখলাম। জীবনটা ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি। এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিদেশির সাথে প্রেম! সোজাসাপ্টা করে বললে, মধ্যবয়সী এক চাইনিজের সাথে তথাকথিত প্রেম। চীনা যুবক প্রেমের টানে বাংলাদেশ! তারপর হুটহাট করে বিয়ে!! এবার চীনে নিয়ে যাওয়ার পালা!!
দেখেন, সবকিছুই হুটহাট! পরিবার ভাবে- মেয়ের ভাগ্য খুলে গেছে। বিদেশে যাবে, বড় শহরে থাকবে, টাকা-পয়সার কষ্ট থাকবে না।
হ্যাপি এন্ডিং!! আসলে তা হয় না।
ম্যক্সিমাম ক্ষেত্রে এই গল্পগুলোর শেষটায় শুধু অন্ধকার!
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশে “ক্রস-বর্ডার ম্যারেজ” বা সীমান্তপারের বিয়ের আড়ালে নারী পাচারের ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। Human Rights Watch ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখিয়েছে- মায়ানমারের কাচিন ও শান অঞ্চল থেকে শত শত নারীকে বিয়ের নামে চীনে নিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে।
United Nations Office on Drugs and Crime একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে- কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের নারীরা বিয়ের প্রলোভনে পাচারের শিকার হয়েছে। পাকিস্তানেও ২০১৯ সালে বিয়ের নামে চীনে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের খবর আসে! ইনভেস্টিগেশনে বেরিয়ে আসে কিছু বড় চক্রের তথ্য।
এসব ঘটনায় একটা কমন মিল পাওয়া যায়। তারা মূলত টার্গেট করে দরিদ্র, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, কম শিক্ষিত পরিবারের মেয়েদেরকে!
এবার বাংলাদেশের ঘটনাগুলোর সাথে মিলিয়ে নেন! যাদেরকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তারা এই শ্রেনীগুলোতে কিনা? হ্যাঁ, প্রায় শতভাগ! কম শিক্ষিত হওয়ায় মেয়েগুলো নিজেরাও সহজে পালাতে পারে না! আবার তার ফ্যামিলিও চীন থেকে তাদের মেয়েকে উদ্ধার করতে পারে না!
কথা হলো, চীনে মেয়েদের পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে কেন?
উত্তর হল- চীনে এক সন্তান নীতির কারনে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষের তুলনায় নারী কম! প্রতি ১০৭ জন পুরুষের বিপরীতে ১০০ জন নারী! কম বয়সী নারীর সংখ্যা আরো কম!
এখন এই চাহিদাকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক দালাল চক্র সক্রিয় হয়েছে। তারা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। দ্রুত বিয়ের চাপ দেয়। পরিবারকে নগদ টাকা বা বিদেশে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তারপর মেয়েটিকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট কেড়ে নেয়, যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
কয়েকটি কি-পয়েন্ট লক্ষ্য করেন-
১. বিদেশি যুবক/বুড়ো একটি সদ্য কিশোরীকাল পেরুনো মেয়েকে তড়িঘড়ি বিয়ে করতে আসে
২. ছেলের পরিবারের কেউ সরাসরি জড়িত থাকে না
৩. মেয়ে কিংবা তার পরিবার চীনা ভাষা সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখে না
৪. চীনে নিয়ে যাওয়ার পাসপোর্ট/ ভিসা, অন্যান্য কাগজপত্র পরিবারের হাতে থাকে না!
৫. আর, সবশেষে চীনে যাওয়ার পর মেয়ের সাথে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়!!
আর, আমাদের দেশের অশিক্ষিত সাংবাদিকের দল খবর শোনায়-
"প্রেমের টানে চীনা যুবক বাংলাদেশের অমুক গ্রামে"!!
আরো বড় সমস্যা হল, এই যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে অল্প বয়সী মেয়েদের সম্পর্ক ও দ্রুত বিয়ের প্রবণতা বাড়ছে, এ নিয়ে বাংলাদেশের সরকার এখনও উদাসীন! প্রপার ইনভেস্টিগেশন নাই। বড় আকারে পরিসংখ্যানও সরকারের সামনে নাই!!
আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল, বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই দূতাবাসের কনফার্মেশন, বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করে নিবেন।
যদি, একজন বাবা-মাকেও সচেতন করতে পারি, এ উদ্দেশ্যেই লেখাটি।
@ ড. বদরুজ্জামান খোকন
#মানবপাচার_বন্ধ_হোক
#বাংলাদেশের_মেয়েরা_নিরাপদ_হোক