17/10/2025
শিরোনাম: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তথ্যযুদ্ধ ও এর প্রতিরোধ কৌশল
ভূমিকা
২১শ শতাব্দী তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে যুদ্ধের ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি এখন তথ্য, যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল অবকাঠামোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একে বলা হয় “তথ্যযুদ্ধ” বা Information Warfare।
বাংলাদেশের মতো উদীয়মান ডিজিটাল রাষ্ট্রের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।
তথ্যযুদ্ধের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি
তথ্যযুদ্ধ হল এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র বা সংগঠন তথ্য, সংবাদ, যোগাযোগ মাধ্যম এবং সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্য রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান বা জনগণের চিন্তা-চেতনা, সিদ্ধান্ত ও নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করে।
এর মূল উদ্দেশ্য — ভয়, বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা।
তথ্যযুদ্ধের ধরণ
ক্র. ধরণ বর্ণনা
১ সাইবার আক্রমণ (Cyber Attack) সরকারি ও বেসরকারি সার্ভার, ব্যাংক বা মিডিয়া সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে তথ্য চুরি বা ধ্বংস করা।
২ ভ্রান্ত তথ্য (Disinformation) ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করা।
৩ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (PsyOps) জনগণের মানসিক স্থিতি দুর্বল করে রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
৪ মিডিয়া ম্যানিপুলেশন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য বিকৃতি বা গুজব প্রচার।
৫ গোপন নজরদারি ও তথ্য চুরি (Espionage) শত্রু রাষ্ট্র বা সংস্থার গোপন তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তথ্যযুদ্ধের ঝুঁকি
1. রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার:
নির্বাচনী সময়ে ভুয়া প্রচারণা ও বিদেশি প্রভাবিত কন্টেন্ট দ্বারা জনমত প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
2. সাইবার আক্রমণ:
সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত হ্যাকিং ও ডেটা ব্রিচ ঘটছে।
3. সামাজিক বিভ্রান্তি:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম, জাতি ও রাজনীতি নিয়ে বিভাজন সৃষ্টিকারী ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
4. অর্থনৈতিক প্রভাব:
অনলাইন প্রতারণা ও ভুয়া বিনিয়োগ প্রচারণা সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি করছে।
বর্তমান সরকারি উদ্যোগ
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (২০১৮) প্রণয়ন।
জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা নীতি (২০২৩) বাস্তবায়ন।
BD-CSIRT (Bangladesh Computer Security Incident Response Team) কার্যক্রম পরিচালনা।
A2i, BGD e-Gov CIRT সহ সাইবার সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
প্রতিরোধ কৌশল ও সুপারিশ
ক. নীতিগত ও আইনি পদক্ষেপ
তথ্যযুদ্ধ মোকাবিলায় জাতীয় তথ্য নিরাপত্তা নীতি আরও শক্তিশালী করতে হবে।
ডিজিটাল আইনের অপব্যবহার রোধ করে প্রকৃত অপরাধ দমন নিশ্চিত করা জরুরি।
খ. শিক্ষা ও সচেতনতা
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রশিক্ষণ চালু করা।
সাধারণ জনগণকে ভুয়া তথ্য শনাক্তের সহজ পদ্ধতি শেখানো।
গ. প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা
সরকারি সার্ভার ও ব্যাংক সিস্টেমে এনক্রিপশন ও সাইবার ডিফেন্স ব্যবস্থা জোরদার করা।
জাতীয় পর্যায়ে AI-ভিত্তিক ফেক নিউজ শনাক্তকরণ সিস্টেম গঠন।
ঘ. মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা
সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নৈতিক ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচার প্রশিক্ষণ প্রদান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সরকারি সমন্বয় জোরদার করা।
ঙ. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
সাইবার কূটনীতি (Cyber Diplomacy) জোরদার করে বিদেশি রাষ্ট্র ও সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া।
উপসংহার
তথ্যযুদ্ধ আজকের বিশ্বে এক বাস্তব হুমকি। এটি শুধু সাইবার বা প্রযুক্তিগত নয়, বরং মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধেরও এক আধুনিক রূপ।
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা টিকিয়ে রাখতে হলে ডিজিটাল দক্ষতা, তথ্যনির্ভর সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা সর্বস্তরে বিস্তার করা অপরিহার্য।
প্রস্তুতকারক:
MD EMRAN HOSEN
ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা
Virtual Hero Academy & Hello Mathbaria Initiative
Linkwes, Mathbaria it training Center