19/05/2025
কখনো কি মনে হয়েছে, সব কিছু ঠিক থাকলেও কিছু একটা যেন ঠিক নেই?
মন খারাপের একটা ছায়া সারাদিন পেছনে পেছনে হাঁটে।
কখনো নিজের জন্য, কখনো পরিবারের, আবার কখনো এমন কিছু নিয়ে যেটার ওপর আসলে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই।
জীবনটা আসলে এমনই।
আমরা চাইলেও সব কিছু আমাদের মতো করে চলে না।
অনেক সময় ভীষণ চেষ্টা করেও ফল পাই না।
কখনো কাছের মানুষগুলো এমন আচরণ করে, যেটা আমরা কল্পনাও করিনি।
আবার কখনো নিজের ভেতরের ক্লান্তিটা এত বেশি হয়ে যায়, মনে হয় — “একটু থেমে যাই, একটু নিজেকে ছাড় দিই।”
সেই জায়গাটাতেই হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটা লুকিয়ে থাকে।
থেমে যাব, নাকি আবার একটু হাঁটা শুরু করব?
আমার বিশ্বাস, আমাদের প্রতিটা মানুষের জীবনে এমন সময় এসেছে — যখন চারপাশের সব কিছু একটা ভার হয়ে আসে। কিন্তু আমরা সবাই কি থেমে গেছি?
না।
আমরা ঠিকই উঠেছি। মুখ ধুয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছি।
বাইরের সেই চেনা মুখটার পেছনে ক্লান্তি, অভিমান, কষ্ট লুকিয়ে রেখে আমরা কাজে বের হয়েছি।
হ্যাঁ, হয়তো গতি খুব একটা ছিল না, কিন্তু চলাটা ছিল।
সেই চলাটাই আসলে সবচেয়ে বড় শক্তি।
আমার এক শিক্ষক বলতেন, “তুমি যত দুর্বলই হও, যত কষ্টেই থাকো, শুধু থেমে যেয়ো না। একটু একটু করে এগোলে একদিন ঠিক পৌঁছাবে।”
এ কথাটা আমি সব সময় মনে রাখি।
একদিন যদি মনে হয় আর পারছি না — তখন নিজেকে একটু সময় দাও, কিন্তু পুরোপুরি থেমে যেও না।
আজ যদি তুমি শুধু একটা কাজ করো — তাও কিন্তু এক ধাপ এগোনো।
আজ যদি কারো না শুনেও নিজের স্বপ্ন আঁকড়ে থাকো — সেটাও অনেক বড় সাহস।
আমরা যারা সাধারণ মানুষ, আমাদের নায়কোচিত কোনো জীবন হয় না।
কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট সাহসী চলাই আমাদের জীবনের নায়ক করে তোলে।
তাই বলি —
জীবনে যা কিছুই হোক, থেমে থাকা যাবে না।
একটু ধীরে হাঁটব, দরকার হলে থেমে একটু কাঁদব,
কিন্তু আবার দাঁড়াব, আবার হাঁটব।
এই জীবন আমাদের, এই পথটাও আমাদের —
আর হাঁটার নামই তো বেঁচে থাকা।