07/11/2025
একটা অদ্ভুত এবং মজার ঘটনা শেয়ার করি–
'দুই বান্ধবী আসছে আমার চেম্বারে, দুজনেরই বয়স ২০ বা ২১ বছরের মধ্যে। ধরা যাক, একজনের নাম "X"
আরেক জনের নাম "Y"!
X হচ্ছে আমার রোগী। Y তাকে নিয়ে এসেছে। দুজনেই অ-বিবাহিতা।
তাদের সমস্যাট হল- "তল-পে/টে ব্য/থা, জ্ব''র জ্ব''র লাগে, মুখে রুচি নাই, শ''রী''র দু''র্ব''ল! মাথাও চক্কর দেয় মাঝে মাঝে।''
পি/রি''য়ডের হিস্ট্রি নিলাম। সে ঠিকমত বলতেই পারলো না।
যেহেতু অবিবাহিতা সেহেতু সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করাও অশোভন। একটা আল্ট্রাসাউন্ড আর একটা প্র/সা''ব পরীক্ষা দিলাম।
আল্ট্রাসাউন্ডে দেখি ৩ মাসের প্রে/গ''ন্যান্ট। অবাক হইনি। কারণ এটা আমাদের জন্য নতুন কিছু না। সব সনোলজিষ্টই এমন ঘটনা অহরহ ফেস করেন।
মেয়েটি যতটুকু নাটক করা দরকার, সব করল। কিভাবে কি হলো সে জানেই না!
এতেও অবাক হইনি। অনেকের তো আজকাল 'বাতাসেই' পে/টে বা/চ্চা চলে আসে! এ ঘটনাও আমরা জানি। এসব ক্ষেত্রে আমি একদম নিশ্চুপ থাকি। আমরা ডায়াগনোসিস বলে- ''আমি চুপ, যত বড় পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবিই হোক, আমি চুপ তো চুপ।''
যা-ই হোক, একটা অ-বিবাহিতা মেয়ে
প্রে/গ''ন্যান্ট এটা কিন্তু মূল বিষয় না।
মূল বিষয়ে আসি এবার -
''বাচ্চা যেভাবেই আসুক (বাতাসে, স্বপ্নে, আ''গুনে, অথবা পানিতে ভে/সে ভে/সে) যেহেতু মেয়েটি আনম্যারিড সেহেতু সে বা''চ্চা রাখবে না।
আমি যেহেতু টারমিনেশন করি না এবং এ রিলেটেড অ্যাডভাইসও দেই না সেজন্য আমি পেশেন্টকে ছেড়ে দিছি!
কিন্তু পেশেন্ট এম আর (বা/চ্চা ন/ষ্ট করার পদ্ধতি ) এখানেই করবে। রীতিমত হাতে পায়ে ধরাধরি। কান্না-কা/টি। -''ম্যাডাম কি হবে আমার? আমাকে দয়া করে বাচাঁন।''
পরে পেশেন্টকে বুঝিয়ে কাউন্টারে পাঠাইছি।
কাউন্টার আর আমার চেম্বার পাশাপাশি। উপরে খোলা। মাঝখানে থাইগ্লাস দিয়ে পার্টিশন করা। কথা বার্তা সব শোনা যায়।
যেহেতু কৃ/মি''নাল অ্যা/ব''র''শন, হসপিটাল কর্তৃপক্ষও মুখিয়ে থাকে। টাকার পরিমাণ নিয়ে দর কষা-কষি হচ্ছিলো।
টাকার পরিমাণ শুনে রোগীর বান্ধবী উ''ত্তে''জিত হয়ে উচ্চস্বরে বলে উঠল– "এখানে এত বেশি চান কেন? গতমাসে তো আমিও করাইছি মাত্র ৩০০০ টাকা দিয়ে!''
কি বুঝলেন? না বুঝলে জাতীয় ও''ষু''ধ নাপা খান!
© ডা.ফাহমিদা মাহবুবা