M HARUN 11

M HARUN 11 I am M HARUN 12

পকেটের সব টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার মানে-- যখন তোমার টাকা যখন কমে যাচ্ছিল, তখন তুমি সংযত হওনি। হয় অপচয় করেছো, নয়তো ফুর্তি করা ...
26/10/2025

পকেটের সব টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার মানে-- যখন তোমার টাকা যখন কমে যাচ্ছিল, তখন তুমি সংযত হওনি। হয় অপচয় করেছো, নয়তো ফুর্তি করা নিয়ে ব্যাস্ত ছিলে। পরীক্ষায় পাশ করার ছয় মাস পরেও চাকরি না পাওয়ার মানে, পরীক্ষায় পাশ করার ছয় মাস আগে থেকেই, তুমি তোমার জীবনের সিরিয়াস কোন প্ল্যান করোনি। তোমার লাইফের সব দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মানে,তোমার জীবনের একটা দুইটা দরজা যখন বন্ধ হচ্ছিলো, তখন তুমি সতর্ক হওনি।

শোন লাইফের সবকিছুর আবহাওয়া একদিনে পাল্টায় না। ধীরে ধীরে জানান দিয়ে পাল্টাতে থাকে, তখন তোমার বুঝার অনুভূতি ছিলো না। একদিনে গ্রীষ্মকাল পাল্টে, শীতকাল চলে আসে না। আস্তে আস্তে পাল্টাতে পাল্টাতে, এক ডিগ্রি, দুই ডিগ্রি, পাঁচ ডিগ্রি করে চেইঞ্জ হতে হতে একদিন কনকনে শীতের কুয়াশা তোমায় ঘিরে ফেলে। এক চিমটে ফাঁকিবাজি, এক চিলতে আলসেমি, আর এক টুকরা অজুহাত দিয়েই একটু একটু করে ব্যর্থতার দেয়াল তৈরি হতে থাকে। তোমার জীবনে তাই হয়েছে, কারণ তুমি অসতর্ক ছিলে, জীবনের প্রতি উদাসীন ছিলে। বেহিসেবী জীবনযাপন করেছিলে।

তবে মনে রাখবে- খারাপ সময় একদিনে আসেনা। খারাপ যেমন ধীরে ধীরে তৈরি হয়, খারাপ সময়কে পাল্টানোর কাজও ধীরে ধীরে করতে হয়। একটু বেশি হার্ডওয়ার্ক, একটু বেশি চেষ্টা, একটু বেশি রাত জেগে সাধনা না করলে, তোমার জীবনের টার্নিং পয়েন্টে তুমি পৌঁছাতে পারবেনা। একটু বেশি সময়, স্রোত থেকে উঠে না দাঁড়ালে, নিজের সময়গুলোকে একটু বেশি কাজে লাগানোর চেষ্টা না করলে, একটু বেশি সময় ফেইসবুক-ইউটিউব-মোবাইল থেকে দূরে না থাকলে-- একটু বেশি সফল কিভাবে হবে? তোমার এখন পরিশ্রম করার সময়, তুমি ফেইসবুক, ইউটিউবে সময় ব্যয় না করে কাজের সন্ধানে বের হও। তা নাহলে জীবন থেকে তুমি এমনভাবে ছিটকে পড়বে যে, তোমার কোনো অস্তিত্ব তুমি নিজেই খুজে পাবেনা।

তুমি যখন জীবনে সফল হবে, যখন তোমার অফুরন্ত সময় থাকবে, তখন তুমি ফেইসবুক ইউটিউব দেখে, তা জ্ঞান অর্জনের কাজে লাগাও। মাস্তি, মউজ করার জন্য নয়। প্রযুক্তির সামাজিক মাধ্যমে আকর্ষিত হয়ে অনেকেই অলস হয়ে গেছে, অনেকেই পড়ালিখায় অমনোযোগী হয়ে খারাপ রেজাল্ট করেছে, অনেকেই কর্মবিমুখ হয়েছে।

প্রদীপ কখনো নিজের সম্মন্ধে বলে না, তার প্রকাশিত আলোই তার পরিচয় দেয়!! ঠিক তেমনই তুমি তোমার সম্মন্ধে অন্যের কাছে কিছু বলার প্রয়োজন পড়বে না, শুধু ভালো কর্ম করে যাও,কর্মই তোমাকে পরিচয় দিবে।
মনে করো না সবসময়ই তোমার পাশে কেউ থাকবে, মনে করো না ঋন চাইলেই তুমি ঋন পাবে, ঋন তোমার আত্বার স্বাধীনতাকে নষ্ট করে দিবে। তুমি তার কাছে নিম্নমানের মানুষ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠবে। অসন্মানিত হবে। ঋন নিয়ে সময় মতো পরিশোধ করতে না পারলে তুমি জাল মানুষের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। তোমার পরিচয় হবে তুমি মিথ্যুক, প্রতারক।

অনেকেই কর্ম জীবন হতে অবসর নিয়ে একাকী বসে ভাবে অতীত জীবনে যা করেছি তার একটাও ঠিক করিনি, যা করা উচিত ছিল তা বোধ হয় করিনি। কাউকেই মনে হয় সন্তুষ্ট করতে পারিনি। এ হতাশা নিয়েই বাকি জীবনটা কাটাতে হয়। আসলে সংসার এক মিথ্যে মায়াজাল। আল্লাহ্কে সন্তুষ্ট করা বাদ দিয়ে আপনজনদেরকে খুশি রাখার কাজে মশগুল থাকা যথেষ্ট নয়। অনেক আপনজন তোমার কাছ থেকে সারাজীবন সুবিধা নিবে, কিন্তু তোমার দুঃখের সময় তাদেরকে পাশে পাবেনা। তারা শুধুমাত্র তোমার কাছ থেকে নিতেই শিখবে, কিন্তু কিছুই দিবেনা। এই দুনিয়াতে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করা ছাড়া কারো উপর ভরসা করা যায় না। তিনি তোমার সুখ দুঃখের পরম বন্ধু।

মনে রেখো যৌবন কালের ভুল কখনোই বৃদ্ধ কালে সংশোধন করা যায় না। তাই যৌবন চলে যাবার আগে বৃদ্ধকালের জন্য পথ সৃষ্টি করে রাখো। তোমার বৃদ্ধকালের দুঃখের কারণ তুমি নিজেই, কারণ তুমি যৌবন কালের সুবর্ণ সুযোগকে কাজে না লাগিয়ে হেলাখেলায় দিন অতিবাহিত করেছো। তাই এখন বৃদ্ধ বয়স তোমাকে চিন্তাগ্রস্ত করে রেখেছে, অভাব তোমাকে গ্রাস করেছে। এ থেকে একমাত্র পুনরায় তোমার নুতন করে পরিশ্রম এবং কর্ম পরিকল্পনাই তোমাকে মুক্ত করতে পারে, যদিও তা কষ্ট সাধ্য ব্যাপার।

এখনও সময় আছে, চেঞ্জ ইউর মাইন্ড, চেঞ্জ ইউর টাইম, ডু এনি ওয়ার্ক ফর ডেভলপ ইউর লাইফ, ডু প্রেয়ার, গেট পিস। সো, নো লস্ট টাইম, গো এহেড।

কখনোই যা ভুলেও করবেন না।ধরুন আপনি আপনার সন্তানের প্রতি কোন কারণে অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আপনি রাগের মাথায় আপনার সন্তানকে বললেন...
14/10/2025

কখনোই যা ভুলেও করবেন না।

ধরুন আপনি আপনার সন্তানের প্রতি কোন কারণে অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আপনি রাগের মাথায় আপনার সন্তানকে বললেন.. মর তুই! ফেরেশতারা তখন বললো.. আমিন।

আপনার সন্তানকে বললেন.. তোর ভবিষ্যত অন্ধকার। ফেরেশতারা তখন বললো.. আমিন।

আপনি রাগের মাথায় আপনার সন্তানকে বললেন.. তোর মুখ আমি দেখতে চাই না। ফেরেশতারা তখন বললো.. আমিন।

আপনি রাগের মাথায় মেয়েকে বললেন.. জীবনেও স্বামীর ভাত খেতে পারবি না। ফেরেশতারা তখন বললো.. আমিন।

আপনি রাগের সময় সন্তানকে বললেন.. মরার সময় পানি পাবি না। ফেরেশতারা তখনও বললো.. আমিন।

আচ্ছা আপনি তো সেই মানুষ তাই না— যে নিজের সন্তানকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন?

আপনি তো সেই মানুষ তাই না— যার থেকে কেউ বেশি আন্তরিক দোয়া করতে পারবে না!

আপনি কি জানেন.. ফেরেশতারা প্রতিটা কথার পরে আমিন আমিন বলেন!

আপনি কি জানেন— মা-বাবার রাগের মাথায় বলা প্রতিটা কথা আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হয়। তো আপনার কলিজার টুকরা সন্তানের ক্ষতি আপনি নিজেই করছেন না তো?

আপনার সন্তান অন্যায় করছে.. মা-বাবা হিসেবে আপনি এই ভাষা ব্যবহার না করে এগুলো বলুন..আল্লাহ তোকে হেদায়েত দিন। আমার জন্য চক্ষু শীতলকারী বানান। অথবা বলতে পারেন—আল্লাহ তোকে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মত বানান। আল্লাহ তোকে আয়েশা রা. এর মত বানান। সবার সন্তান সবার কলিজার টুকরা। অতএব সন্তানকে বদদোয়া দেওয়া মানে নিজের চোখে নিজে বালি দিয়ে নষ্ট করে ফেলা! আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন (আমিন)।

17/01/2025

শ্রীলঙ্কার একটি শপিং মলের ভিডিও।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দাবী কি যৌক্তিক?
16/12/2024

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দাবী কি যৌক্তিক?

স্বাধীনতা যুদ্ধের লিখিত ইতিহাস প্রায় ৯০ ভাগই মিথ্যা… বদরুদ্দীন উমর।১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক-প্রকৃত ই...
16/12/2024

স্বাধীনতা যুদ্ধের লিখিত ইতিহাস প্রায় ৯০ ভাগই মিথ্যা… বদরুদ্দীন উমর।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক-প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয়নি। যেটা লেখা হয়েছে সেটা হলো সরকারি ভাষ্য, যা লেখা হয়েছে সেটা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মিথ্যা। বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, লেখক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ বদরুদ্দীন উমর সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

দেশের স্বাধীনতার ৫৩তম বিজয় দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস এবং পূর্বাপর ঘটনাবলি সম্পর্কে বদরুদ্দীন উমর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ৯৩ বছর বয়সেও তিনি নিরলস চিন্তা, গবেষণা ও লেখায় সক্রিয় রয়েছেন। তার বলিষ্ঠ কণ্ঠ, ইতিহাস পর্যবেক্ষণ ও চিন্তার দৃঢ়তা জাতীয় যেকোনো সংকটে আমাদের সাহস ও শক্তি যোগায়।
স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং এ নিয়ে বিতর্ক ও প্রকৃত সত্য আড়াল করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে বদরুদ্দীন উমর বলেন, এই স্বাধীনতা আন্দোলনকে প্রথম থেকে এমনভাবে বলা হয়েছে যে, শেখ মুজিবই এ যুদ্ধের মহানায়ক। পরে তো শেখ হাসিনা এই স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা এমনভাবে বলত যেন, এটা তাদের পারিবারিক ব্যাপার, তাদের পরিবারই নাকি এই যুদ্ধ পরিচালনা করেছে, ইতিহাসের এই যে আবর্জনা এখন পরিষ্কারের সময় হয়েছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধ কিভাবে শুরু হলো- এ প্রশ্নের জবাবে বদরুদ্দীন উমর বলেন, ১৯৭১ এর মার্চের শুরু থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের চলমান আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় এবং ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস হামলার কারণে স্বাধীনতা যুদ্ধ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ কারণে যুদ্ধের কোনো প্রস্তুতি ছাড়া দেশের মানুষ একটি অসম যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শেখ মুজিব সম্পর্কে এটা বলা যায় যে, তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন এটা একটা ভুয়া কথা। আসলে তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিব এই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে সর্বোচ্চ আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নিজে চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।

তিনি আসলে দুটো বিষয়কে মেনে নিতে পারেননি, একটা হচ্ছে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি, যেটা তিনি চেয়েছিলেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়া। এ জন্য স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে কিছুই জানতে চাইতেন না, তাজউদ্দিনসহ অন্য নেতারা দেশে কি হয়েছিল ৭১ সালে, সেটা জানানোর এবং বলার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তিনি কিছুতেই শুনতে চাইতেন না।

শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা ঘোষণার দাবি সম্পর্কে উমর বলেন, ৭ মার্চের যে বক্তৃতা, সাধারণত বলা হলো এটা ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা, কারণ শেখ মুজিব বলেছিলেন এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম ইত্যাদি, কিন্তু দেখা যায় এইসব কথা একেবারেই ভুয়া ছিল। এইসব কথা তিনি বলেছিলেন, তৎকালীন পরিস্থিতির চাপে। কেননা জনগণের অভ্যুত্থান তো ১ মার্চ থেকেই শুরু হয়েছিল। ইয়াহিয়া যখন বললো এখানে জাতীয় পরিষদের বৈঠক ৩ তারিখে হবে না, তখনই কারো অপেক্ষা না করে অভ্যুত্থান আরো তীব্র হলো। সেই পরিস্থিতির চাপে এবং স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য তখন ছাত্রদেরও চাপ ছিল; এ চাপের মুখে উত্তেজনার বশে শেখ মুজিব এই বক্তৃতা দিয়েছিলেন। এতে তিনি এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো- এ জাতীয় কথাবার্তা বলেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য কেউ ঘরে ঘরে দুর্গ তৈরি করে না, ঘর থেকে বেরিয়েই যুদ্ধ করতে হয়। এটা লাঠিসোঁটারও কাজ নয়, যেখানে শত্রুরা কামান-বন্দুক-যুদ্ধবিমান নিয়ে সজ্জিত আছে; সেখানে লাঠিসোঁটায় কাজ হয় না- শেখ মুজিবের এসব ছিল কেবল কথার কথা।

উমর বলেন, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন তাদের বলছেন, তোমরা আমার ভাই। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বলছেন, তোমরা আমার ভাই। এই ধরনের স্ববিরোধী কথাবার্তা ৭ মার্চের বক্তৃতায় ছিল। বলা হচ্ছে, এ ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছে, সবচেয়ে বড় কথা হলো এই বক্তৃতা দেয়া হলো ৭ তারিখে, এরপরে ১৫ তারিখে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এলো এবং এরপর থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার দলবল ইয়াহিয়া খানের সাথে আলাপ-আলোচনা করল। তখন এই আলোচনার সময় কি হয়েছিল, তারা কী বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবি নিয়ে আলোচনা করেছিল, নাকি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করছিল। ক্ষমতার ভাগাভাগি ছিল পূর্ব-পাকিস্তান কতটা পাবে, পশ্চিম-পাকিস্তান কতটা পাবে। শেখ মুজিব যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠের নেতা ছিলেন, এই ভাগাভাগির মধ্যে তার একটা লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী হওয়া। এটাই হচ্ছে সত্য, যারা বলে ৭ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছে, তারা এ ব্যাপারে কী বলবে। ইয়াহিয়া এবং মুজিবের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, স্বাধীনতার আলোচনা? এ থেকে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগ যতই হম্বিতম্বি করুক, যতোই স্বাধীনতার কথা বলুক- ওই সময় তাদের মাথায় স্বাধীনতার কোনো চিন্তা ছিলো না। শেখ মুজিব সব সময় আপস চাইছিলেন এবং এই আপস করে পৃথিবীর কোনো দেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। এই আপোস করে তিনি পাকিস্তান সরকারের সাথে কোনো রকম একটা ক্ষমতা ভাগাভাগি চাইছিলেন। এর ফলে দেখা গেল ২৫ মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি বাহিনী জনগণের ওপর আক্রমণ করল, তখন শেখ মুজিবসহ সব আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিল, একদিকে আওয়ামী লীগের অহিংস অসহযোগ আন্দোলন, অন্য দিকে একটা শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। আওয়ামী লীগের এই গান্ধীবাদী আন্দোলন ছিল একটা হাস্যকর ব্যাপার।

যুদ্ধের কোনো প্রস্তুতিই ছিল না? এমন প্রশ্নের জবাবে বদরুদ্দীন উমর বলেন, না আওয়ামী লীগের দিক থেকে যুদ্ধের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তারা পুরোপুরি একটি সাংবিধানিক লাইনে এ সমস্যার সমাধান চাইছিল। তবে অন্যদিকে এ আশঙ্কাও ছিল যে একটা হামলা হতে পারে, ৭ মার্চের পর থেকে আওয়ামী লীগের লোকরা বেসামরিক প্রশাসন, রেডিও, টিভিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। কিন্তু আসল ক্ষমতা হলো সামরিক শক্তি, সেটা মোকাবিলা করার কোন প্রস্তুতি ছিল না। আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি ছিল একটা বায়বীয় ব্যাপার।

এ অবস্থায় একদিকে পাকিস্তানি বাহিনী হামলার প্রস্তুতি নিতে থাকল। অন্যদিকে বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা ও সৈনিকরা চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিদ্রোহ করল, তারা আওয়ামী লীগকে বিষয়টি জানাল, কিন্তু আওয়ামী লীগ এসব পাত্তা দিল না। কারণ আওয়ামী লীগের লড়াই করার প্রস্তুতি এবং চিন্তাও ছিল না। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার সাথে সাথে পুরো আওয়ামী লীগের কাঠামো ভেঙে পড়ল। শেখ মুজিব সকলকেই বলতে থাকলো পালাও-পালাও, সবাই পালানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সামরিক বাহিনীর আক্রমণের মুখে শেখ মুজিবের যে নেতৃত্ব তা ভেঙে পড়ল। আন্দোলন যেভাবে করছিলেন সেটা সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ল। কারণ সেটা মোকাবেলা করার কোনো প্রস্তুতি আওয়ামী লীগের ছিল না। তাদের গেরিলা যুদ্ধেরও কোনো প্রস্তুতি ছিল না। এ সময় আওয়ামী লীগ অসহায় অবস্থায় পড়ল। আওয়ামী লীগের নেতারা প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেশিরভাগ ইন্ডিয়ায় চলে গেল।

সবাইকে পালিয়ে যেতে বলে শেখ মুজিবুর রহমান নিজে কেনো বাসায় থাকলেন, তার তো পালিয়ে গিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা। পাকিস্তানি বাহিনীর চূড়ান্ত আক্রমণ শুরুর পরও তার বাসায় অবস্থানে পেছনে কী কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন- এ প্রশ্নের জবাবে বদরুদ্দীন উমর বলেন, শেখ মুজিব আত্মসমর্পণের জন্য বাড়িতে বসে রইলেন। আওয়ামী লীগের লোকেরা এবং তাদের বুদ্ধিজীবীরা বলে শেখ মুজিবকে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে, তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। আমি বলেছি, তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। আমি বারবার বিভিন্ন লেখায় এ কথা লেখায় আমার বিরুদ্ধে তারা ক্ষুব্ধ। সবাইকে শেখ মুজিব পালিয়ে যেতে বলছেন, আর তিনি বাড়িতে বসে থাকেন, তার মানেই হলো তিনি আত্মসমর্পণের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং পাকিস্তানি বাহিনী এসে তাকে তুলে নিয়ে গেল। এটা গ্রেফতার নয়, এটা আত্মসমর্পণ। তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হলো।

পাকিস্তানের জেলে থেকে শেখ মুজিব কি জানতেন দেশে কি হচ্ছে? এর জবাবে উমর বলেন, সেখানে পুরো যুদ্ধের সময় নয় মাস জেলে ছিলেন, সেখানে তাকে কোনো খবরের কাগজ দেয়া হয়নি, রেডিও টেলিভিশনের কোনো খবর তিনি দেখতে পারেননি। তিনি যুদ্ধের কোনো খবরই জানতে পারেননি। কারও সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা বা নেতৃত্ব দেয়া তো দূরের কথা, তিনি জানতেনই না যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তিনি পাকিস্তানের জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর লন্ডনে গিয়ে জানলেন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তার বেটি (শেখ হাসিনা) ঢাকডোল পিটিয়ে অনবরত বলছে, তিনি (শেখ মুজিব) ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক। শেখ মুজিবের যে একটা ভাবমূর্তি এটাকে তারা ব্যবহার করছিল সেটাই তাদের সম্বল ছিল। এ পর্যন্তই, কিন্তু শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছিলেন এটা একটা সম্পূর্ণ ভুয়া কথা, মুক্তিযুদ্ধের সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ করবে আর তাদের নেতা-কর্মীরা সব দেশের মাটি ছেড়ে পালালো,পৃথিবীর ইতিহাসে এমনটা কোথাও নেই। তারা গিয়ে ভারত সরকারের হাতে দেশ স্বাধীন করার ভার ছেড়ে দিলো। এ জন্য ভারতীয়রা বলে থাকে এটা নাকি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, এক হিসেবে কথা ঠিক। ভারতের দেরাদুনে প্রশিক্ষণ দিয়ে যে মুজিব বাহিনী তৈরি করেছিল তারা কেউ লড়াই করেনি। আওয়ামী লীগের কোন নেতা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি। তারা কলকাতায় ভালোই ছিল, আরাম-আয়েশে ছিল।

এখানে লড়াই করেছে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। তারা যে লড়াই আরম্ভ করল আওয়ামী সেটা চায়নি। বাইরের কোন আক্রমণে নয়, দেশের ভেতরে থেকে সাধারণ মানুষ লড়াই করেছে, এ জন্যই পাকিস্তানি বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ অবদান এ দেশের জনগণের, তারাই লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী নেতা-কর্মীরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় এই লড়াইটা সম্পূর্ণ ভারত নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল। এ জন্য দেখা গেলো ১৬ ডিসেম্বর যখন আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর হলো, সেখানে ছিলেন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডার জগজিৎ সিং অরোরা। এই অরোরার কাছেই নিয়াজী আত্মসমর্পণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ও সর্বাধিনায়ক এম এজি ওসমানি সেখানে ছিলেন না। যৌথ কমান্ডে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে বলা হলেও এখানে বাংলাদেশের কোন প্রতিনিধি রাখা হয়নি। গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকার দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাকে কোনো চেয়ারও দেয়া হয়নি। এটা ছিল ভারতীর সামরিক বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ।

স্বাধীনতার পর ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিব দেশে ফিরে আসলেন। জনগণ তাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিলেন। স্বাধীনতার আগের মুজিব আর স্বাধীনতার পরের মুজিরের শাসন, কী ঘটেছিল তখন? জবাবে বদরুদ্দীন উমর বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর ভারত সরকার এবং সেনাবাহিনী শেখ মুজিবকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছে। নিজের শক্তির জন্য এখানে বসেননি। কিন্তু দেশের মানুষ তাকে ভালোবেসেছিল। এই জনগণকে নিয়ে তিনি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারতেন। সেটা না করে শুরু হলো লুটপাটের রাজত্ব। আওয়ামী লীগের লোকরা লুটপাট শুরু করলো। অবাঙালি লোকদের সব সম্পদ লুট হয়ে গেল। যারা আওয়ামী লীগের সাথে ছিল না তাদের ঘরবাড়ি লুট হলো, লুণ্ঠনজীবী শ্রেণি তৈরি হলো। শেখ মুজিব হলেন তাদের নেতা। কলকারখানা জাতীয়করণ করে আওয়ামী লীগের লোকদের হাতে তুলে দিলেন। ক্ষমতায় এসে তিনি জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। দেশব্যাপী ভয়াবহ নির্যাতন শুরু হলো। জাসদ নেতা-কর্মীদের ওপর হত্যা-নির্যাতন শুরু হলো।

রক্ষীবাহিনী গঠন প্রসঙ্গে বদরুদ্দীন উমর বলেন, সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও শেখ মুজিব রক্ষী বাহিনী গঠন করলেন। সেনাবাহিনীকে তিনি বিশ্বাস করতেন না, এই সেনাবাহিনীই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। এতে এমন হলো আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়ল। যে জনগণ শেখ মুজিবকে সমর্থন দিয়েছে তারা এ অবস্থা চায়নি, এ জন্য তারা দেশ স্বাধীন করেনি। এতে শেখ মুজিব ও তার দল জনসমর্থন হারিয়ে ফেলল। এমন জনবিচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য নিজেদের লেখা সংবিধান সংশোধন করে তিনি সব দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় বাকশাল চালু করলেন। দেশের সংবাদপত্র বন্ধ করে দিলেন। এমনকি সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক পত্রিকাও বন্ধ করা হলো। আমাদের মাসিক সংস্কৃতি পত্রিকাও বন্ধ করে দিলাম। দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হলো। ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজ সিকদারকে গ্রেফতার করা হলো, ২ জানুয়ারি গভীর রাতে নিরাপত্তা হেফাজতে তাকে হত্যা করা হলো। এরপর শেখ মুজিব জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন, কোথায় সিরাজ সিকদার! প্রকৃতির প্রতিশোধ এমনই যে এর মাত্র কয়েকমাস পরে তিনি নিজেই নাই হয়ে গেলেন।

শেখ মুজিবের শাসনের পতন এবং ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বদরুদ্দীন উমর বলেন, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। বাংলাদেশে সাড়ে পনেরো বছরের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের অবসান হয়েছে। ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের পর এই গণঅভ্যুত্থান একটি যুগান্তকারী ঘটনা। ১৯৫২ সাল থেকে এখানে পরপর যে গণঅভ্যুত্থানগুলো ঘটেছে তার মধ্যে জুলাই মাসের এই গণঅভ্যুত্থান হলো সব থেকে ব্যাপক, গভীর এবং শাসকদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক।

উমর বলেন, ৫ আগস্ট, ২০২৪ বাংলাদেশ রাহুমুক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার দলের সর্বস্তরের নেতা-মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটির নেতা থেকে একেবারে নিচের স্তরের নেতারাও ঘরবাড়ি ছেড়ে পলায়ন করেছে। ২০০৯ সাল থেকে পনের বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে বাংলাদেশকে অক্টোপাসের মতো কামড়ে ধরে রেখেছিল, সে কামড় থেকে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত হয়ে জনগণ এখন যে স্বাধীনতা উপভোগ করছেন এতটা স্বাধীনতা- ১৯৭২ সালের পর আর কখনো ঘটেনি।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে বদরুদ্দীন উমর বলেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতার ক্ষেত্রে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল এবং সেই শূন্যতা ঐতিহাসিকভাবেই পূরণ করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। সূত্র: বাসস

কোন এক আমাবস্যা রাতে,, টুমি আর আমি পিয়ু😊
15/12/2024

কোন এক আমাবস্যা রাতে,, টুমি আর আমি পিয়ু😊

15/12/2024

৭ এপিবিএন, সিলেট (খাগড়াছড়ি অস্থায়ী হেডকোয়ার্টার), খাগড়াছড়ি।

10/12/2024

মালদ্বীপের হুলেমালে সী বীচে সন্ধ্যার পরে একটি রেস্টুরেন্টের বাহ্যিক দৃশ্য।

10/12/2024

শ্রীলঙ্কার স্বাধীন চত্বরের দৃশ্য।

10/12/2024

শ্রীলঙ্কার এক জাতীয় মিলনায়তনে।

10/12/2024

মালদ্বীপের হিমাফুজি আইল্যান্ডে যাওয়ার পূর্বমুহুর্তে জেটিতে দাঁড়িয়ে।

10/12/2024

শ্রীলঙ্কার হোটেল ওশানে ব্রেকফাস্টের সময়।

Address

Rājshāhi
1206

Telephone

+8801729997997

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when M HARUN 11 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to M HARUN 11:

Share