Rumi korim

Rumi korim গল্প শুধু গল্পেই হইনা। গল্পেই একসময় সঠিক পথে চলার মনোবল হয়ে দারায়।ফ্যাক্ট, গল্প পড়ার একটা নেশা।

02/11/2025

যে স্বামীর জন্য নিজেকে সাজিয়ে তুললাম সেই স্বামী আমার সাজ দেখে বললো,“লাঙ ধরেছিস? মনে রং লাগছে? নয়তো এমন সং সেজে বসে আছিস কার জন্য?”
স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে আমার হৃদয়টা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল। সেই সঙ্গে তার কথার ভাবার্থ বুঝতে অসুবিধা হলো না। যেখানে অন্য স্বামীরা তার স্ত্রীকে সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করে। তার সাজ দেখে প্রশংসা করে সেখানে আমার স্বামী আমাকে উপহাস করে একটি নোংরা অপবাদ দিয়ে দিলো। এটার ভাবার্থ বুঝতে অন্যদের অসুবিধা হলেও আমার হলো না। আমি বুঝতে পারলাম আমার স্বামী যেই অপবাদ আমাকে দিয়েছে সেটা তার গায়েরই কলঙ্ক। আমার মনে রং না লাগলেও তার মনে রং লেগেছে। হ্যাঁ লেগেছে। নয়তো আমার এই সৌন্দর্য উপেক্ষা করে সে কিভাবে পারছে বেলকনিতে বসে অন্যকারো সাথে ফোনে গল্প করতে। ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায় তবুও তার গল্প ফুরায় না।

বিছানায় তার স্ত্রী তার সঙ্গে একটু সময় কাটানোর অপেক্ষা করছে সেখানে সে অন্য কারো সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। আমি আর নিতে পারলাম না। বিছানা থেকে উঠে বেলকনিতে চলে গেলাম। রাগান্বিত গলায় বললাম,“তুমি কার সঙ্গে কথা বলছো?”

“আমি একটু পরে ফোন দিচ্ছি।”
কথাটি বলে আমার স্বামী ফোন রেখে আমার দিকে তাকায়। কঠিন গলায় বলে,“সেই কৈফিয়ত তোকে দিবো?”

“হ্যাঁ দিবে।
আমি তোমার স্ত্রী। আমার জানার অধিকার রয়েছে।”
আমার মুখে এই কথা শুনে আমার স্বামী কঠিন চোখে আমার দিকে তাকায়। আমি তাতে ভয় না পেয়ে বলি,“ওখানে বিছানায় আমি তোমার জন্য সেজেগুজে বসে রয়েছি। আর তুমি আমার সেই সাজটাকে সং বলে এখানে এসে অন্যকারো সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে গেলে। এতটা অবহেলার আমি তোমার কাছে। কেন? কে সে? যার জন্য তুমি আমাকে এতটা দূরে করে দিচ্ছো?”

“সে নিশ্চয় তোর লাঙের মতো সস্তা না।”
এই কথাটি শুনে আমি রাগান্বিত চোখে তার দিকে তাকায়। অতঃপর….

মালতী এই অব্দি বলে থেমে যায়। তার পাশে থাকা মুন বলে,“অতঃপর তুমি তাকে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে আঘাত করলে, তাই না?”
মুন কথাটি বলে মালতীর দিকে তাকাতে মালতী না সূচক মাথা নাড়ায়। এটা দেখে মুন হতাশ হয়ে বলে,“তবে?”

“আমার স্বামী আমার গালে কষে একটি থাপ্পড় মা রে। সেই থাপ্পড় দ্বারা সে বোঝায় তার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকানো আমার উচিত হয়নি। এটা একটা দুঃসাহস। আমার এই দুঃসাহস দেখানোর অধিকার নাই।”
মালতী কথাটি বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এটা শুনে মুন আরও বেশি হতাশ হয়ে বলে,“ধুর। এটা তো সেই চিরচেনা জনম দুঃখী সাবানা বউয়ের গল্প হয়ে গেল। কোথায় ভাবলাম প্রতিবাদী বউ হবে, তাকে কষে কয়েকটা লাগিয়ে দিবে। তা না। ধুর।”

মুন খুব দুঃখী গলায় কথাগুলো বলে। তার বলার ধরণ দেখে মালতী হেসে দেয়। অতঃপর বলে,“জীবন এত সহজ নয়। যদি কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়ো তখন বুঝতে পারবে। নিজের হৃদয়ের খুব কাছের মানুষ যখন ধোঁকা দেয়, অপমান করে তখন মুখ লুকিয়ে কাঁদা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। এটাই নারী জনম।”

“একদম না।
প্রতারক তো প্রতারকই। প্রতারকের আর কোন সংঙ্গা হয় না। সে কখনো হৃদয়ের মানুষ হতে পারে না। তার পরিচয় একটাই সে এক বিশ্বাসঘাতক। যাকে ঘৃণা করা যায় ভালোবাসা নয়।”

“ভালোবাসো নাই তো। ভালোবাসলে বুঝতে।”
এটা শুনে মুন শব্দ করে হাসে। অতঃপর বলে,“ভালোবাসি তো। তবে হ্যাঁ সে যদি প্রতারক হয় তবে তাকে ঘৃণা করতে দু’বার ভাববো না।”

এটা শুনে মালতী মুনের মিষ্টি মুখটির দিকে তাকায়। মায়া এবং স্নিগ্ধতায় গড়া এক মুখ। খুব নিষ্পাপ তার চাহনি। সেই মুখে ফুটে রয়েছে এক মিষ্টি হাসি। মালতী কৌতূহল না ধরে রাখতে পেরে বলে,“ভালোবাসো?”

মুন মাথা নাড়ায়। যার অর্থ তার জীবনে ভালোবাসা আছে। মালতী তার ভালোবাসার গল্প শুনতে চায়। মুন সেটা না বলে উল্টো প্রশ্ন করে,“আপনার বিয়েটা কি পারিবারিকভাবে হয়েছে?”

“ভালোবেসে।”
মালতীর এই কথা শুনে মুন অবাক হয়ে যায়। ভালোবেসে বিয়ে করার পর বিয়ের তিন বছরের মাথাই মালতীর স্বামীর তার প্রতি সব আগ্রহ শেষ হয়ে গেল। সে অন্যকারো প্রেমে পড়ে গেল। এটা শুনে মুন অবশ্য কিছুটা হাসে। সে বলে,“আপনি খুব বোকা। সেই মানুষটা আপনাকে কখনোই ভালোবাসেনি। যদি বাসতো তবে এত সহজেই আপনাকে ভুলে অন্যকোন মেয়ের দিকে ঝুঁকতে পারতো না। আফসোস আপনি তার ভালোবাসার মিথ্যে অভিনয়টা ধরতে পারেননি।”

“আবেগ যখন বিবেককে ছাড়িয়ে যায় তখন সত্য মিথ্যের পার্থক্য বোঝা যায় না। আর হ্যাঁ প্রত্যেক মানুষই জীবনের এক পর্যায়ে এসে সত্য মিথ্যে গুলিয়ে ফেলে আবেগে গা ভাসায়। সবাই বোকা।”
মালতীর এই কথায় মুন হাসে। নিজের হাসি দিয়ে সে বোঝাতে চায় সে এখনো বোকা হয়নি। মালতী তার হাসি দেখে ম্লান হাসে। বাসের এককোনে মনমরা হয়ে বসে ছিলো মালতী। সেই সময়ে তার পাশের সিটটি এসে দখল করে নেয় চঞ্চল এবং বাঁচাল স্বভাবের মুন। যদিও প্রথম দিকে মালতী মুনের কোন কথার জবাব দিচ্ছিলো না। তবে কিছুটা সময়ের পর তার মুনের সরলতার কাছে হার মানতে হয়। সে কথা বলতে শুরু করে। কথার ছলে মুন মালতীর বিষন্নতার কারণ জানতে চাইলে মালতী উপরোক্ত বিষয়গুলো বলে।

তবে মালতীর সেই কথার মাঝে কতটা কষ্ট এবং বিষন্নতা লুকিয়ে আছে সেটা মুন বুঝতে পারছে না। এটা মালতীকে হতাশ করে না। মুনকে সে এই অল্প সময়ে যতটা চিনেছে তাতে সে বুঝতে পেরেছে মেয়েটার মাঝে কিছুটা বাচ্চামো স্বভাব রয়েছে। বড়দের বড় বড় কথাগুলো হয়তো সে নিতে পারে না। এক কথায় কঠিন কথাগুলো সে নিজের মতো সহজ করে নেয়। মালতী এটাই ভাবছিলো। সেই মূহুর্তে তাকে অবাক করে দিয়ে মুন বলে,“কেন অযথা অন্যের সান্ত্বনার আশা করছেন? তাও এমন একটা বিষয় নিয়ে যেখানে আপনি জানেন ওপর পাশের মানুষটা আপনার নয়। সেই মানুষটা একটা প্রতারক। তার জন্য চোখের পানি বিসর্জন না দিয়ে বরং এখন যেই সময়ে আছেন সেই সময়টা উপভোগ করুন।”

“আমার কারো সান্ত্বনার প্রয়োজন নেই।”
মালতী কথাটা কিছুটা অভিমান নিয়েই বলে। এটা দেখে মুন আবার হাসে। সে হেসে মালতী চোখের কোনে জমা পানিটা মুছে দিয়ে বলে,“যে যেতে চায় তাকে চলে যেতে দিতে হয়। কারণ জোর করে কাউকে রাখা যায় না। যাকে গভীরতম ভালোবাসা দিয়ে বাঁধতে পারেননি তাকে কাগজের বন্ধনে বেঁধে রাখার কোনই মানে হয় না।”

“আমি তো তোমাকে এখনো বলিনি যে আমার স্বামী আমার কাছ থেকে ডিভোর্স চাচ্ছে। কিন্তু আমি তাকে সেটা দিতে চাচ্ছি না। তাহলে তুমি বুঝলে কিভাবে?”

“সত্যি এমন নাকি?
আপনি তো আসলেই সাবানা টাইপ বউ। আমি তো জাস্ট ধারণা করলাম আপনার গল্পটা শুনে। ইশ আমি মনেমনে বলছি, এটা সত্যি না হোক। কিন্তু দূর্ভাগ্য দেখুন, সত্যি হয়ে গেল। খুবই খারাপ। আমার আপনার মতো সাবানা পছন্দ না।”
এটা শুনে মালতী বড় বড় চোখ করে মুনের দিকে তাকায়। মুন খিলখিল করে হেসে দেয়। তার হাসির শব্দে আশেপাশের কিছু যাত্রী তাদের দিকে তাকায়। মুন সেটায় গুরুত্ব না দিয়ে বলে,“আরে ভয় নেই। আমার মেয়ে পছন্দ না। আমি ছেলেই পছন্দ করি। মানে ইটিশ পিটিশ ওটাই পছন্দের। অহেতুক ভয় পাবেন না।”
একটু থেমে মুন আবার বলে,“মেয়ে পছন্দ করলেও আপনার মতো ছিচকাদুনি পছন্দ করতাম না।”
এটা শুনে মালতী না চাইতেও হেসে দেয়। পরক্ষণে সে হাসিটা থামিয়ে দেয়। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,“ষোলো বছর বয়সে ভালোবাসার মায়ায় পড়ে তার হাত ধরে পালিয়ে এসেছিলাম। তিন বছর সব ভালোই চলছিলো। অতঃপর তার অন্য নারীতে আসক্ত হওয়া। প্রথম প্রথম সে আমাকে দোষারোপ দিয়ে তাড়াতে চাইতো। আমি যদি হাতে একটু মেহেদীও দিতাম তবে সে সেটা দেখে বোঝাতে চাইতো আমি পরপুরুষকে খুশি করতে এমনটা করেছি। সে চেয়েছিলো তার এসব ব্যবহারে আমি অতিষ্ঠ হয়ে চলে যাই৷ তাও যাচ্ছিলাম না দেখে সরাসরি ডিভোর্সের কথা বলে। তবে আমি রাজি হয় না। যার জন্য প্রতি নিয়ত আমার উপর চলে অমানবিক অত্যাচার। একটা সময় না পেরে বাবার বাড়ি চলে যাই। গত তিনদিন আগে ডিভোর্সের পেপার পাঠালো। সেটা হাতে নিয়েই এখন তার বাড়ির উদ্দেশ্য যাচ্ছি।”
এতটুকু বলে মালতী থেমে যায়। অতঃপর মুনকে উদ্দেশ্য করে বলে,“কথাগুলো মনের মধ্যে চাপা পড়েছিলো। কাউকে বলতে পারলো ভালো লাগতো। তাই তোমাকে বলে হালকা হওয়া। আমি জানি আমার এসব কথাবার্তা তোমার পছন্দ হচ্ছে না।”

“আপনার কথা নয়। আমার আপনার বিষন্ন মুখটা পছন্দ হচ্ছে না। অন্যের জন্য কাঁদতে কাঁদতে নিজের জন্য হাসতে ভুলে যাওয়া মানুষ আমার ভীষণ অপছন্দের।”
কথাটি শুনে মালতী কিছুটা অবাক হয়ে মুনের দিকে তাকায়। মুন শান্ত গলায় বলে,“যে যেতে চায় তাকে যেতে দিন। আগামীর পথটা সুন্দর হবে। নয়তো জীবনটা থমকে থাকবে একই স্থানে। এটা আরও বেশি কষ্টের।”
মালতী তার প্রসঙ্গ বদলে মুনকে তার কথা বলতে বলে। মুন অল্প করে বলে, তার বাবা-মা নেই। মামার বাড়িতে মানুষ। তার পৃথিবীটা খুবই ছোট। সেই ছোট পৃথিবীতে সে খুবই সুখী। কারণ সে যখন যার সংস্পর্শে থাকে সেটাতেই স্বর্গ সুখ খুঁজে পায়। এটা হয়তো মুনের বিশেষ গুন। তার সুখের জীবনকে আরও সুন্দর করতে একদিন এক সুপুরুষের আগমন ঘটে। একটি কাজে তাদের এলাকায় তার আসা যাওয়া লেগে থাকে। সেখান থেকেই পরিচয়, পরিচয় থেকে প্রণয়। খুব শীঘ্রই হয়তো বিয়ে করবে তারা। মুন খুব সংক্ষেপে কথাগুলো বলে মালতীর দিকে তাকায়। মালতী ম্লান হাসে। মামার বাড়িতে যে মুন বিশেষ ভালো ছিলো না সেটা সে স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে। তবে মুন সেটাকে জটিল করে না দেখে বরং খুব সহজ করে দেখেছে এবং বর্ননা করেছে। এভাবেই বাস যাত্রায় মুন এবং মালতীর অল্প সময়ের মাঝে খুব ভাব হয়ে যায়। মুন নানা আজগুবি গল্প বলে তাকে হাসাতে থাকে। মালতীও হাসে। কথার ফাঁকে মুন তাকে আবারও বোঝায় তার স্বামী যা চায় তাই দেওয়া উচিত তার। কারণ ঐ মানুষ কখনোই তার ভালোবাসা বুঝবে না। মালতীও বিষয়টা বুঝতে পারে তাই সে তার স্বামীকে ফোন দিয়ে বাস স্টেশনে আসতে বলে। এক কথায় তো আসবে না। তাই মালতী তাকে জানিয়ে দেয় সে ডিভোর্স দিতে রাজি। মালতী ডিভোর্স দিতে রাজি শুনে তার স্বামীও আসতে রাজি হয়ে যায়।

মালতী তার স্বামীকে এসব বলে ভেঙে যেতে নেয় তখন মুন তাকে সামলায়।মালতী মিষ্টি এক হাসি দেয়। অতঃপর বলে,“আমি আর বোকা হবো না।”
মুন তার কথা শুনে খুব খুশি হয়। সেও হাসে। এভাবেই তাদের দু'জনার একটা সুন্দর যাত্রা হয়। অতঃপর বাস এসে গন্তব্যে থামে। মুন এবং মালতী দু'জনেই নামে। তারা একে-অপরকে বিদায় জানায়। মালতী দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তার স্বামীকে দেখে কিছুটা মলিন মুখেই তাকায়। সেটা মুনের লক্ষ্য করতে তার দৃষ্টি সেদিকে যায়। মালতী তার সামনে দিয়ে এগিয়ে গিয়ে তার স্বামীর সামনে দাঁড়ায়। মুন হতভম্ব হয়ে যায়। মালতীর স্বামীর মুখটা মুনের জন্য অবাক করার মতোই। এই সেই মানুষ, যাকে নিয়ে সে সুখের একটা ঘর সাজিয়েছে। আর তার এই সাজানো ঘরটাই মালতীর এত বছরের ভালোবাসাকে মিথ্যে করে দিয়েছে। মুন সবটা বুঝতে পেরে পুরো বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। তার পৃথিবী ঘুরে যায়। তার কানে ভেসে উঠে মালতীর বলা সেই কথাটি তাহলো,“সবাই বোকা। জীবনের এক পর্যায়ে এসে আমরা সবাই আবেগে গা ভাসিয়ে দেই। আমরা সবাই বোকা।”
মুন তখন হেসেছিলো। কারণ তার চোখে তার ভালোবাসার মানুষ ছিলো পবিত্র, নিষ্পাপ। সেই মানুষটি তার ভাবনার বিপরীত অনুভব হতেই মুন বুঝতে পারে, সে এতদিন আবেগের চোখে তাকিয়ে ছিলো। অবশেষে সেও বোকা হয়ে গেল। এটা উপলব্ধি হতে মুন কয়েক পা পিছিয়ে যায়। সে ফোন বের করে প্রথমে ঐ মানুষটিকে সব জায়গা থেকে ব্লক দিয়ে দেয়। অতঃপর উল্টো পথে পা বাড়ায়। মানুষটার নজরে সে পড়ার আগেই সরে যায়। এই মানুষটা তাকে ভালোবেসেছে কি-না তা সে জানে না। তবে যদি কখনো এক মূহুর্তের জন্যও ভালোবেসে থাকে তবে কোন কারণ বিহীন তার এই হারিয়ে যাওয়াই তার জন্য যথেষ্ট শা স্তি। এই আশা নিয়েই মুন হাঁটতে থাকে।

পরিশেষে,
মালতী এবং তার স্বামীর ডিভোর্স হয়। তার স্বামী এরপর মুনকে খোঁজার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু পায়নি। তাকে না পেয়ে কিছুটা হতাশ হলেও সে ভেঙে পড়েনি। কারণ তার মতো পুরুষরা কখনো কাউকে মন দেয় না। শুধুমাত্র নিখুঁত অভিনয়ই দেয়। তাই তো আবারও নতুন শিকারের উদ্দেশ্য এগিয়ে যায়। তবে সবসময় তো আর জীবন চাওয়ার মতো চলে না। তারও চলে না। কোন এক দুপুরে এক ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে যায় সে। যার ফলস্বরূপ কাটা পড়ে দুটি পা। আর তখন থেকেই তার জীবনটা নরক হয়ে যায়। নিজের বলতে একটি মানুষ ছিলো না যে তাকে ভালোবেসে সেবা করবে। যারা ছিলো সবাই বাধ্য হয়ে, মুখ ঝামটা দিয়ে কোনরকম তাকে দেখে রাখছিলো। জীবনের এই প্রান্তে এসে সে নিজেও বোকা হয়ে গেছে। বোকা বলেই সে একজন পাখিকে মনের মধ্যে পুষে না রেখে, একাধিককে জায়গা দিয়েছিলো। তাই তো এখন তাকে যত্নে আগলে রাখার মতো কোন প্রানের পাখিই নেই।

(সমাপ্ত)

#বোকা
নুসরাত_জাহান_মিষ্টি

(ভুলক্রটি ক্ষমা করবেন। আশা করি খুব একটা খারাপ হয় নাই।)

" আমার বাবা তোমায় পছন্দ করেনি।ওনাদের আরো সুন্দরী বউমা লাগবে "" তাহলে আমায় বিয়ে করলে কেন? "" আমার পছন্দ।কথা দিয়েছিলাম আজী...
31/10/2025

" আমার বাবা তোমায় পছন্দ করেনি।ওনাদের আরো সুন্দরী বউমা লাগবে "

" তাহলে আমায় বিয়ে করলে কেন? "

" আমার পছন্দ।কথা দিয়েছিলাম আজীবন পাশে থাকবো।তাই তো বিয়ে করে পাশে রাখলাম "

" বাবার অপছন্দের মেয়েকে নিয়ে সুখী হওয়া যায় না "

" দেখা যাক না কি হয় "

অন্যদিকে ছেলের বিয়েতে নিশিকান্ত বাবুর দীর্ঘশ্বাস!একমাত্র ছেলে,তবুও তার অপছন্দের একটা মেয়েকে বিয়ে করলো।তার পছন্দের কোনো মূল্যই দিলো না।কি হলো এত কষ্ট করে ছেলেকে বড় করিয়ে,পড়াশোনা করিয়ে?

তবুও তিনি বিষয়টা মেনে নিতে চেষ্টা করলেন।কিন্তু খানিকটা ভয় ও হলো।মেয়ে তো জানেই, তাকে তার শ্বশুর পছন্দ করেনি।

বিয়ের পর যদি কোনো মেয়ে জানে যে তার শ্বশুর বিয়েতে অমত পোষণ করেছে তাহলে সে বউ বিগড়ে যায়।শ্বশুরকে নানানভাবে জ্বালা যন্ত্রণা করে।নিশিকান্ত বাবুর কিছুটা ভয় হলো,এই মেয়েটাও কি সেরকম কিছু করবে?সবসময় ঠেস মে"রে কথা বলবে?

এমন সময় দরজায় ঠকঠক আওয়াজ হলো।নিশিকান্ত বাবু দরজায় তাকিয়ে দেখলেন ছেলের বৌ দাঁড়িয়ে।স্নিগ্ধ স্বর ভেসে এলো

" বাবা,ভেতরে আসি? "

নিশিকান্ত বাবু গম্ভীর স্বরে বললো " কি দরকার? "

" সিগারেটের ছাই ফেলার জন্য একটা এস্ট্রে আনছি আপনার জন্য।দেখুন তো পছন্দ হয় কিনা "

" লাগবে না "

" আহা দেখুন না একবার।না দেখেই কেন বলছেন লাগবে না? "

কথাটা বলতে বলতে মেয়েটা ঘরে ঢুকলো।ঢুকে নাক মুখ কুঁচকে বললো " ইশশ,ঘরের সবকিছু এতো এলোমেলো করে রেখেছেন?সিগারেটের বিশ্রী গন্ধে তো ঘর ভরে গেছে "

নিশিকান্ত বাবু কিছু বললেন না।মেয়েটাকে তার অসহ্য লাগছে।মেয়েটা পাথরের উপর ডিজাইন করা একটা এস্ট্রে নিশিকান্ত বাবুর সামনে এগিয়ে দিয়ে বললো

" বাবা দেখুন তো এটা পছন্দ হয় কিনা।দোকানদার বলেছে এটা শ্বেতপাথরের।আমি পাথর চিনি না। দেখে বলুন না,এটা কি সত্যিই শ্বেতপাথরের? "

নিশিকান্ত বাবু আমতা আমতা করে বললো " চশমা ছাড়া আমি বুঝতে পারবোনা "

" চশমা কোথায় রাখছেন? "

" মনে পড়ছে না।টেবিলে আছে বোধহয় "

" আপনি তো আমার বাবার মতোই মনভুলো লোক।ভালোই হলো,দুইটা বাবাই পেয়েছি একইরকম "

" দুই বাবাই একইরকম " কথাটা শুনে নিশিকান্ত বাবু বিস্মিত হয়ে গেলেন।মেয়েটা সারা ঘর খুঁজে চশমা এগিয়ে দিলেন।নিশিকান্ত বাবু পরখ করে দেখে বললেন

" হ্যা শ্বেতপাথরের "

" উফফ,বাঁচা গেলো।আমি তো ভয়ে ছিলাম।আপনি একটু বাইরে যাবেন? আমি ঘরটা গোছাবো "

" লাগবে না "

" রেগেরেগে কথা বললে আমার কান্না পায় "

নিশিকান্ত বাবু নিরুপায় হয়ে ছাঁদে গেলেন।মেয়েটা তো ভারি জ্বালাতন শুরু করেছে।

বিকেলে ঘরে গিয়ে তিনি নিজের ঘর নিজেই চিনতে পারলেন না।সবকিছু পরিপাটি।ঘরে হালকা মিষ্টি গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে।খানিক্ষন বাদেই চা হাতে মেয়েটা ঘরে ঢুকে বললো

" বাবা এইযে চা।বারান্দায় চলুন,আপনার সাথে লুডু খেলবো "

" লুডু খেলা পছন্দ না "

" তাহলে কোনটা পছন্দ? "

" দাবা "

" ইশশ,আমি তো দাবা পারিনা।তাহলে আমায় শিখিয়ে দিন। প্রতিদিন বিকেলে বাবা মেয়ে একসাথে দাবা খেলবো "

কিছুদিন যেতেই নিশিকান্ত বাবু লক্ষ্য করলো মেয়েটি তার জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছে।তার একটি মেয়ের শখ ছিলো,সেটা পুরন হয়নি।ছেলে হবার দুই ঘন্টা পরেই তার স্ত্রী ইহলোক ত্যাগ করেন।এই প্রথম নিশিকান্ত বাবু বুঝলেন বাবার প্রতি মেয়েদের ভালোবাসা কতটা তীব্র হয়।

প্রায় একমাসের মধ্যেই নিশিকান্ত বাবু সিগারেট খাওয়া পুরোপুরি বাদ দিয়ে দিলেন।কারণ একটাই,বৌমা সিগারেটের গন্ধ সহ্য করতে পারে না।তিনি মেয়েটির ভালোবাসায় এতোটাই মুগ্ধ হয়ে গেলেন যে তার মুখে বাবা ডাক না শুনলে তার প্রেশার ফল করে।

এক বিকেলে দাবা খেলতে গিয়ে মেয়েটা বললো " আচ্ছা বাবা,দাবা খেলায় রাজা,মন্ত্রী সবাই আছে।কিন্তু রাণী নেই কেন? "

নিশিকান্ত বাবু হাস্যজ্বল মুখে বললেন " রাণী থাকে বাড়িতে।যেমন আমার বাড়িতে তুমি "

কথাটা শুনে মেয়েটা খিলখিল করে হাসলো।নিশিকান্ত বাবু ভারাক্রান্ত মনে বললো

" তোমাদের বিয়েতে আমার মত ছিলো না।এটা জানো? "

" হু জানি।আপনি কি ভেবেছিলেন? আমি আপনাকে জ্বালাতন করবো? "

" এমন ভাবনা আশা কি দোষের? "

" না দোষের না "

" যে তোমার বিয়েতে সম্মতি দেয়নি তাকে বাবার সম্মান দিলে? "

" এক দেখায় পছন্দ হওয়াটা আসলে ঠুমকো।পছন্দ অর্জন করাটাই বেশি আনন্দের, বুঝলেন শ্বশুর মশাই।আর বাবারা যতোই কঠোর হোক,মেয়েদের ভালোবাসা উপেক্ষা করতে পারেনা। যেমনটা আপনি পারেননি "

আদর্শ_ঘরণী
লেখক জয়ন্ত_কুমার_জয়

৮ মাসের প্রে"গন্যান্ট অবস্থায় শ্বাশুড়ি মা আমায় রান্না করতে বললেন।বললাম " মা রান্নার তাপ,ধোঁয়ায় বেবির ক্ষতি হতে পারে "মা ...
29/10/2025

৮ মাসের প্রে"গন্যান্ট অবস্থায় শ্বাশুড়ি মা আমায় রান্না করতে বললেন।বললাম " মা রান্নার তাপ,ধোঁয়ায় বেবির ক্ষতি হতে পারে "

মা কর্কষ স্বরে বললো " গ্যাসের চুলায় রান্না করবে,ধোঁয়া পেলে কোথায়? "

" রান্নার সময়কার ওই তেল মসলা মিশ্রণের ধোঁয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছে ডাক্তার "

"পোয়াতি অবস্থায় আমরা রান্না করিনি নাকি? আমার আজও মনে আছে,রুপক যেদিন হলো সেদিন সকালেও ডাল,আমু ভর্তা করে রান্না করেছি।এখনকার সময়ে এসে যত্ত ঢং "

মায়ের কথায় ভিষণ মন খারাপ হলো।বললাম " দাঁড়িয়ে থাকতেও পারছি না মা।ইদানীং পে"টে ব্যথা হয় "

" বাপরে বাপ! এক বেলা রান্না করতে বললাম তাতে কত অযুহাত!মাথাটা ধরেছে তাই রান্না করতে বললাম।আর বাহানা দিতে হবে না।মাথা ব্যথা নিয়ে আমিই যাচ্ছি রান্নাঘরে "

কথাটা বলে মা হনহন করে রান্না ঘরে গেলো।আমার শরীরটাও ভিষণ খারাপ করেছে।কিন্তু মায়ের কথার তীর সহ্য করতে না পেরে দেয়াল ধরে ধরে রান্না ঘরে গেলাম।

মাকে অনেকবার বললাম যে মা আমার শরীর খুব খারাপ তাই আসতে চাইনি।আপনার যখন খুব মাথা ব্যথা করছে তাহলে আমায় দিন আমিই রান্না করি।

মা উল্টো আমায় কথা শোনাতে লাগলেন।এরমধ্যেই স্বামী আসলো দুপুরে খেতে।স্বামীকে দেখে মায়ের মুখ থেকে যেন আরো কথা ছুটতে লাগলো।বারবার বলছে, আমরা আর বাচ্চা জন্ম দেইনি,সংসার চালাইনি।এক বেলা রান্নাও করতে পারেনা।আরো কত কি।

মায়ের কথায় স্বামী আমায় বললো " এক বেলা রান্না করলে কি এমন হয়?এতো ঠুসঠুসে হয়ে থাকলে চলবে?"

স্বামীর কথায় আমার কান্না পেয়ে গেলো।উনিও আমায় বুঝলেন না! উল্টো কথা শোনাচ্ছেন!

প্রে"গনেন্সির সময়টা আমার এভাবেই কে"টেছে।এরপট দিন যেতে লাগলো।

ছোট ননদ যখন ৩ মাসের প্রে"গন্যান্ট তখনি তাকে শ্বশুর বাড়ি থেকে এনে মা নিজের কাছে রাখলেন।মেয়েকে এনে বললেন " মা তোর যা লাগবে তোর বউদিকে বলবি।বিছানা থেকে একদম নামবি না।প্রচুর আরাম করতে হবে এইসময়টায় "

শ্বাশুড়ি মায়ের দিকে অনেক্ক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম।বউমা ৮ মাস প্রে"গ্ন্যাসি চলাকালীন এক বেলা রান্না করতে চাইনি জন্য কতো কথা শোনাতেন।সেই তিনি এখন নিজের মেয়ের বেলায় ভালোবাসার সাগর নিয়ে হাজির হয়েছেন!

এখন বুঝতে পারি,কেনো আজকালকার বউ শ্বাশুড়িকে দেখতে পারেনা।কেনো বউরা তাদের শ্বশুর শ্বাশুড়িকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে বলে।

শ্বাশুড়ি মাকে বললাম " আচ্ছা না,আমার বেলায় কি কি করেছিলেন মনে আছে? ৯ মাস চলাকালীন সময়েও রান্না করিয়ে নিয়েছেন।এখন মেয়ের বেলায় বলছেন যা লাগবে বউদিকে বলতে? "

মা বললো " ও তোমার ননদ,এটুকু করবে না? "

" করবো তো অবশ্যই।কারণ আমি আপনার মতো পর আপন করিনা।বউমাকে এক নজরে, মেয়েকে আরেক নজরে দেখিনা।শুধু মনে করিয়ে দিলাম আমায় বেলায় কি কি করেছেন "

এভাবে বলতে চাইনি।উপায় না পেয়ে বলতেই হলো।এসব বিষে ভরা মহিলাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে না দেখিয়ে দিলে কখনো বুঝতে পারে না।এরা শুধু পারে সহজ সরল বউমাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খেতে।

পর_হিংসে_আপন_ক্ষয়
জয়ন্ত_কুমার_জয়

"স্ত্রী স্বাবলম্বী হলে স্বামীকে স্ত্রীর ভরণ পোষণ দিতে হবে না।" এই হেড লাইনটুকু ফেসবুকে পড়েই আমার স্বামী রাতুল আনন্দে প্...
22/10/2025

"স্ত্রী স্বাবলম্বী হলে স্বামীকে স্ত্রীর ভরণ পোষণ দিতে হবে না।" এই হেড লাইনটুকু ফেসবুকে পড়েই আমার স্বামী রাতুল আনন্দে প্রায় চিৎকার করে উঠলো।

আমি ছুটে এসে বললাম,

- কি হয়েছে? এত জোরে চিৎকার করছ কেন?

-শোন রুবা এখন থেকে তোমার খরচ তুমি নিজে চালাবে আমি তোমার কোন ভরণপোষণ দিতে পারবো না।

আমি তার হাতে থাকা মোবাইলটা দেখে বিষয়টা আঁচ করলাম, গতকাল থেকেই এই নিউজটা খুব ভাইরাল হয়েছে।

-এমনিতেই কি তুমি আমার হাত খরচ দাও নাকি?

-কেন দেবো? তুমি নিজেই চাকরি করো। আমি বলেছিলাম চাকরি করার দরকার নেই, তুমি তো আমার কথা শোনোনি।

-আমার বাবা-মা বহু কষ্টে পড়াশোনা করিয়েছেন শিক্ষিত বানিয়েছেন। তাদের প্রতি আমার কর্তব্য আছে দায়িত্ব আছে। তার ওপর তুমি ভালো করেই জানো আমার বাবা-মায়ের কোন ছেলে নেই অতএব তাদেরকে অর্থনৈতিক সাপোর্ট দেওয়া আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

-সে ঠিক আছে বুঝলাম। এখন থেকে তোমার থাকা খাওয়ার খরচ আমি বহন করতে পারবো না।এই দেখো নিউজ বের হয়েছে। রাতুল ফাজিলের মত হাসতে লাগলো।

আমি হাই তুলে বললাম,

- আচ্ছা ঠিক আছে, বাড়ি ভাড়া তো দিতে হবে আর সাথে ওই গ্যাস বিল কারেন্ট বিল যা কিছু আছে সব কিছুই আমরা এখন থেকে অর্ধেক অর্ধেক দিব, ঠিক আছে, তুমি খুশি?

রাতুল "হুররে" বলে একটা চিৎকার দিয়ে বাইরে চলে গেল বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে।

প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে ভাবলাম এরকম একটা গাধা ছেলে কি করে আমার হাজব্যান্ড হলো! যে শুধুমাত্র হেডলাইনটুকু দেখে এত মাতামাতি করছে। সে ফিরে এলো রাত সাড়ে দশটার দিকে।

-বুঝলে রুবা আজকে সন্ধ্যাটা খুব ভালো কেটেছে, বহুদিন পর এত ভালো সন্ধ্যা কাটালাম ,খেতে দাও দেখি।

-আমি তো রান্না করিনি।

-কেন! অবাক হয়ে রাতুল জানতে চাইলো।

-আমার খাবারের খরচ যদি আমার দিতে হয় তাহলে আমি কষ্ট করে হাত পুড়িয়ে তোমার জন্য রান্না করবো কেন? আর এমনিতেও আমার খাবারের পুরো খরচ কিন্তু তুমি বহন করো না বেশিরভাগ সময় অফিস থেকে ফেরার পথে কাঁচা বাজার কিন্তু আমিই করে নিয়ে আসি।

-সে যাই হোক, আমি এখন কি খাবো?

-সেটা তো আমার জানার কথা না।

-তুমি কি খেয়েছো?

-আমি তো বাইরে থেকে অর্ডার করে নিয়ে এসেছি আর এমনিতেও তো মাস শেষ। নিজের জন্য বাজার করবো, তোমার নিজের বাজার তুমি করে নেবে। আমার রান্না আমি করবো, তোমার রান্না তুমি। আমি শুতে চললাম।

রাতুল আবার বের হয়ে গেল। তার বোধহয় একটু বেশি ক্ষুধা লেগেছিল । বাইরে থেকেই খেয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে তখন প্রায় রাত পৌনে বারোটা।

আমাকে অন্য ঘরে শুতে দেখে রাতুল বলে উঠলো,

-কি ব্যাপার তুমি অন্য ঘরে কেন?

-কারন আমি স্বাবলম্বী, আমি হাই তুলে বললাম। কোন পুরুষের সাথে আপাতত আমার শুতে ইচ্ছা করছে না।

-মানে... মানে কি?

-মানে আমি স্বাধীন স্বাবলম্বী স্বনির্ভর তাই আমার ইচ্ছে হলে আমি কারো সাথে বিছানা শেয়ার করবো, ইচ্ছা না হলে করবো না। আর তুমি আমার মত কোন এলিট ক্লাস, সুন্দরী, শিক্ষিত মেয়ের সাথে বিছানার শেয়ার যদি করতে চাও, কি বলতে চাচ্ছি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো তবে সেই মেয়ের পিছনে তোমার প্রতি রাতে মিনিমাম খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা। আমি ওই টাইপ মেয়ে নই। তুমি যদি অন্য জায়গায় যেতে চাও যেতে পারো, আমার কোন অসুবিধা নেই।

-তুমি আমার বিয়ে করা বউ, এসব ফালতু কথা কেন বলছো?

-আমাদের বিয়ের সময়ও আমার ভরণপোষণের পুরো দায়িত্ব তুমি নিয়েছিলে যদিও বাস্তবিক অর্থে তুমি সেটা নাওনি । আমার ছোটখাটো সমস্ত প্রয়োজন আমি নিজে মেটাই। এমনকি সংসারের বিভিন্ন কাজেও মাসে আমার বেতনের প্রায় অর্ধেক টাকা খরচ হয়ে যায়।

রাতুলের হা করা মুখ দেখে অন্য রুমে চলে গেলাম।

পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার সময় রাতুল আমাকে পেছন থেকে বললো,

- শোনো আজ তাড়াতাড়ি ফিরে এসো, আমিও তাড়াতাড়ি ফেরার চেষ্টা করবো, বাবা-মা আসবে।

-তোমার বাবা-মা আসবে তাতে আমি কি করবো? পারবো না আমি, আমার রাত হবে।

-মানে তোমার শ্বশুর-শাশুড়ি আসবে তোমার কোন দায়িত্ব-কর্তব্য নেই? তুমি তো সব সময় তাদের প্রতি তাদেরকে তোমার নিজের বাবা-মা মনে করেছো।

-করেছি, এখন থেকে আর করবো না ।

-কেন? রাতুল প্রায় মারমুখি হয়ে আমার দিকে এলো।

-তাদের অপরাধ হচ্ছে তারা একটা মূর্খ ছেলে জন্ম দিয়েছেন।

আমি গটগট করে বের হয়ে গেলাম।

বাসায় ফিরলাম রাত ৮ টায়। রাতুল ঝিম মেরে বসে আছে। বাবা-মা কেউ আসেনি। বুঝলাম, রাতুল নিজেই হয়তো ফোন করে না করে দিয়েছে সিনক্রিয়েটের ভয়ে।

-তুমি আসলে কি চাচ্ছো রুবা?

-আমি আবার কি চাইবো? বলতে বলতে রুমে গিয়ে কাপড় ছাড়লাম, বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হলাম। রাতুল সবসময়ই দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, যেন আমার সাথে কথা বলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রান্নাঘরে গিয়ে নিজের জন্য এক কাপ চা তৈরি করলাম। ডাইনিং টেবিলে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছিলাম। রাতুল আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি জানি এই সময় ওর পর পর দুই কাপ চা লাগে। তাও আবার একবারে বানালে হবে না। এক কাপ খেতে খেতে আরেক কাপ ঠান্ডা হয়ে যায় আর দ্বিতীয় বার গরম করা চা ও মুখে তোলে না।

- আমার ভুল হয়ে গেছে রুবা। ওই খবরটা দেখে এরকম করা উচিত হয়নি,সবকিছু আগের মতো হয়ে যাক।

চায়ের কাপটা আরেকবার চুমুক দিয়ে সোজা হয়ে বসলাম।

-তুমি যে একটা গণ্ডমূর্খ ,অপদার্থ এই কথা কি তুমি জানো রাতুল ?

-আমি মূর্খ! তুমি জানো আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে...

আমি তাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম,

- শুধুমাত্র সার্টিফিকেট মানুষকে শিক্ষিত করতে পারে না। নিউজটা যদি ঠিকমতো পড়তে তাহলে সবকিছু বুঝতে পারতে। তোমার মত মানুষদের জন্যই এরকম চটকদার হেডলাইন তৈরি হয়। ওই নিউজটা দিল্লির হাইকোর্টের একটা মামলার জন্য শুধুমাত্র। আর হ্যাঁ সেটা বিবাহিত অবস্থায় নয় ডিভোর্সড অবস্থায়। মামলার স্থান দিল্লির হাইকোর্ট। যেখানে স্ত্রী সরকারি চাকরিতে গ্রুপ এ অফিসার হিসেবে কর্মরত আর স্বামী একজন আইনজ্ঞ। তারা শুধুমাত্র এক বছর সংসার করেছিল এবং তারপর তাদের বিচ্ছেদ হয়। স্ত্রী যখন আইনের কাছে স্বামীর কাছ থেকে এলিমনি দাবি করে তখন আদালত দেখেছে স্ত্রী নিজেই ভালো সরকারি পদের অধিকারী। স্বামীর তুলনায় তিনি নিজেই প্রচুর উপার্জন করেন আর স্ত্রীর উল্লেখযোগ্য ভরণপোষণের প্রয়োজন একেবারেই নেই বলে বিচারক মনে করেছেন। এই মামলার প্রেক্ষিতেই তোমার পছন্দের লাইনটি এসেছে তবে সেটা সবার ক্ষেত্রে কিন্তু প্রযোজ্য নয়। তুমি হেডলাইন দেখে ভেতরের কিছু না পড়ে অথবা সত্যতা যাচাই না করে যা তা বলা শুরু করলে।

রাতুল মাথা নিচু করে বললো,

- আমার ভুল হয়ে গেছে।

-না তোমার ভুল হয়নি, আসলে তোমার অপরাধ হয়েছে। এখন আমি বুঝতে পেরে গেছি যে তুমি আমার চাকরি করা একেবারেই পছন্দ করো না। আমি চাকরির পাশাপাশি তোমার পুরো সংসার দেখাশোনা করি, তোমার বাবা-মাকে প্রাপ্য সম্মান দেই, তোমার জন্য রান্না করি, ঘর পরিষ্কার করি, তোমার কাপড় ধুয়ে দেই, সবকিছু করি তবুও তোমার এত সমস্যা! একটা অর্ধ সংবাদ থেকেই আমি তোমার কথাটা রূপটা দেখতে পেলাম।

-প্লিজ রুবা,আমাকে মাফ করো।

-হ্যাঁ করে দিলাম। কিন্তু এখন থেকে সবকিছুই সমান সমান হবে। তোমার বাবা মাকে যদি আমাকে শ্রদ্ধা করতে বলো তাহলে আমার বাবা-মায়ের দিকটাও তোমাকে দেখতে হবে। আমার বাবা মাকে যদি টাকা পাঠাতে নিষেধ করো তাহলে তোমার বাবা-মাকেও তুমি টাকা পাঠাতে পারবে না। ঘরের কাজ করার জন্য আলাদা মানুষ রাখো যার বেতন অর্ধেক তুমি দেবে, অর্ধেক আমি দেব। আমি রান্না ঘরের পথ মারাবো না। যদি সেটা করেও থাকি একান্ত নিজের জন্য করবো এই যেমন এখন নিজের চা করে খাচ্ছি। সামনে তুমি বসে আছো কিন্তু তোমাকে দেয়ার মত প্রয়োজন আমি বোধ করছি না।

কথাগুলো উগ্রে দিয়ে আমি শুতে চলে গেলাম গতকালের মতোই অন্য ঘরে।

পরদিন ছিল শুক্রবার। ঘুম থেকে উঠে দেখি রাতুল এক কাপ চা হাতে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

-গুড মর্নিং,ঘুম কেমন হলো?

-ভালো হয়েছে। চা টা খেয়ে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং রুমে গিয়ে দেখি সে অলরেডি নাস্তা সাজিয়ে রেখেছে। তেমন কিছু না কলা, পাউরুটি, জেলি আর ডিম।

-আমি সরি রুবা, এখন থেকে আর এরকম হবে না।

-হ্যাঁ বলতে থাকো আমি শুনছি।

-তোমার চাকরি নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই।

-আর

-কাজের বুয়াও রাখবো তোমাকে বেতন শেয়ার করতে হবে না।

-আর

-ঘরের অন্যান্য কাজে যতটা পারি তোমাকে সাহায্য করবো।

-আর

-তোমার বাবা মাকে নিজের বাবা মায়ের মত দেখবো ঠিক যেমন তুমি দেখো আমার বাবা-মাকে।

আর

-আর.. আর তো কিছু মনে পড়ছে না আর.. আর..

আমি মাথা নিচু করে হাসলাম রাতুল কে বুঝতে দিলাম না। একেই বোধহয় বলে "ঠেলার নাম বাবাজি"

-ঠিক আছে তোমার সবকিছু আমি মঞ্জুর করলাম।

-সবকিছু আবার আগের মত চলবে তো রুবা?

-চেষ্টা করবো। তুমি যেহেতু নাস্তা তৈরি করেছ তাই আমি এই বেলার মত চা করছি।

আমি নাস্তা শেষ করে উঠে গিয়ে দুই কাপ চা নিয়ে ফিরে এলাম।

-থ্যাংকস গত রাত থেকে চা না খেয়ে আমার মাথা পুরো ধরে আছে। এই চায়ের যে কি প্রয়োজন ছিল আমার,বিশ্বাস করো, থ্যাঙ্ক ইউ রুবা ।

আমি মনে মনে ভাবলাম, তিনটা বছর ওর জন্য সবকিছু আমি করেছি। এমনকি জুতো পরিষ্কার থেকে শুরু করে সব মানে সব আর আজকে এক কাপ চায়ের জন্য ও আমাকে এত সুন্দর করে থ্যাঙ্কস বলছে। আসলে কারো জন্যই টেকেন ফর গ্রান্টেড হতে হয় না, হলেই বিপদ, হোক সে যতই কাছের মানুষ।

#সমতা
কলমে:সুবর্না শারমিন নিশী

বিষাদের_রঙ (২)নুসরাত_জাহান_মিষ্টি মায়ের কথা যত শুনছি তত অবাক হচ্ছি। মা আমাকে এবং খুশিকে পাশে বসিয়ে শান্ত গলায় বলে,“সারাজ...
21/10/2025

বিষাদের_রঙ (২)
নুসরাত_জাহান_মিষ্টি

মায়ের কথা যত শুনছি তত অবাক হচ্ছি। মা আমাকে এবং খুশিকে পাশে বসিয়ে শান্ত গলায় বলে,“সারাজীবন আমি সব কথা বুকের মধ্যে চেপে রেখেছি। হ্যাঁ আমি আমার সন্তানকে তার বাবার থেকে দূরে রেখে হয়তো ভুল করেছি। তাকে তার বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেছি। তার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি খোকা। তুই আমাকে ক্ষমা করবি কি করবি না জানি না। তবে আমার স্থানে দাঁড়িয়ে যেটা আমার সঠিক মনে হয়েছে আমি সেটাই করেছি৷”
একটু থেমে আবারও বলে,“এত বছরে কখনো এসব বলিনি। বলতেও চাইনি। তবে আজ মনে হচ্ছে না বললে নয়। আমি সবটা বলার আগে তোদের এটাই অনুরোধ করবো, তোরা এটাকে এক স্ত্রীর গল্প হিসাবে দেখিস। এটা আমার গল্প। আমার সংসারের গল্প। এখানে কোন বাবার গল্প বলা হচ্ছে না। ছোটবেলায় যেমনটা বলেছিলাম তোকে খোকা। তোর বাবা তেমনই। পৃথিবীর প্রতিটি বাবাই বেষ্ট। তোর বাবাও বেষ্ট।”

মায়ের কথা শুনে আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত হলাম। আমি বুঝতে পেরেছি, সারা জীবন মুখে হাসি দেখা মায়ের জীবনটা খুবই রঙহীন। তার এই গল্পে তার যন্ত্রণা ফুটে উঠবে। সেটা হয়তো আমি আমার অবস্থান থেকে উপলব্ধি করতে পারবো না। তবুও প্রস্তুতি নিচ্ছি। মা কথাগুলো বলার আগে আমার গালে আলতো করে হাত রাখে। মিষ্টি করে বলে,“তোর বাবা সত্যি ভালো। সে থাকলে তোর সব ইচ্ছা পূরণ করতো। আমিই তাকে তোর কাছে থাকতে দেইনি। আমি খুব খারাপ মা। তোর বাবার প্রতি কোন খারাপ চিন্তা মনের মধ্যে ঢুকাস না বাবা। সে থাকলে খুব ভালো বাবা হতো।”

মায়ের কথা শুনে আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। আমার নিজের ছোটবেলার একটি কথা খুব মনে পড়লো। আমার যখন সাত বছর বয়স তখন আমার বন্ধু রাহুলের বাবা তাকে সাইকেল কিনে দেয়। একদিন খুব শখ করেই তার সাইকেলে হাত বুলিয়ে ছিলাম। একটু বসতে চাচ্ছিলাম। তখন রাহুল আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। অতঃপর বলে,“আমার সাইকেলে হাত দিবি না। বাবা বলেছে এটার কিছু হলে আমাকে আস্ত রাখবে না।”

“এটার কিছু হবে না।
আমাকে একটু দে। আমি একটু সময় চালাবো। সাইকেলের কোন ক্ষতি হবে না।”

”না ভাই। পারবো না। বাবা এটা কাউকে ধরতে দিতেও বারণ করেছে।”

আমি রাহুলের কথা শুনে অনুরোধ করে বললাম,“দে না ভাই। প্লীজ। খুব চালাতে ইচ্ছা করছে।”

“এত ইচ্ছা করলে তোর বাবাকে বল সাইকেল কিনে দিতে।”
রাহুল এই কথা বলতে অন্য এক বন্ধু বলে উঠে,“ওর বাবাকে বলবে কিভাবে? ওর তো বাবা নাই। ওর বাবা সাইকেল কিনে দিতে হবে সেই ভয়ে ওদের ছেড়ে চলে গেছে।”
এটা বলে সব বন্ধুরা মজা নিতে শুরু করে। তাদের কথা শুনে আমার ভীষণ কষ্ট হয়। আমি কান্না করতে করতে বাড়ি আসি। মাকে সব বলে বলি,“মা বাবা খুব পঁচা। সে আমাদের ভালোবাসে না। সে খুব পঁচা। তাই তো আমাদের ছেড়ে থাকছে।”

মা আমাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে বলে,“না বাবা। তোমার বাবা পঁচা নয়। সে খুব ভালো মানুষ। সে তোমার কাছে আসতে পারছে না তাই দূরে আছে। সে অনেকটা দূরে থাকে তো। অনেক অনেক দূরে। চেয়েও আসতে পারছে না। তোমার বাবা পঁচা নয়৷ সে খুব ভালো। সে তোমার এই কষ্টের কথা জানলে ছুটে চলে আসতো। তোমাকে সবচেয়ে দামি সাইকেল কিনে দিতো।”
এভাবে মা বাবার গল্প বলতে শুরু করে। বাবা এত দূরে আছে যে সে আমার কথা জানে না। জানলে আমার জন্য পৃথিবীর সব সুখ নিয়ে আসতো। মা এখানে বাবার সম্পর্ক এত ভালো কথা বলে যে তা আমার হৃদয়কে প্রশান্তি দেয়। অন্যরকম শান্তি। যেই শান্তি আমি এতদিন অব্দি বাবার কথা মনে পড়লেই পেতাম। আমি এসব ভেবে মনমরা হয়ে যাই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেবেছিলাম বাবা বেঁচে নেই। আসলে মা যখন বলতো আমার বাবা আমার কথা জানলে ছুটে আসতো। সে জানতে পারছে না। তখন ভেবে নিয়েছিলাম সে নেই। কিন্তু আজ বুঝলাম সে আছে৷ শুধু আমার কথাই মা তার কানে পৌঁছাতে দিলো না। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নটা মনে জাগতে মা বলতে শুরু করলো তার গল্প। আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে মায়ের কথা শুনতে শুরু করলাম। কারণ আমি জানি, আমার মায়ের এই গল্পের মাঝেই আমার সব প্রশ্নের জবাব লুকিয়ে রয়েছে। সবটা লুকিয়ে রয়েছে।

মা তার অতীতের স্মৃতিতে চলে গেল। তার স্মৃতিতে আজও সব জীবন্ত। মা বললো,

____

সজীবের বোন সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাবী হয়। তার বাড়িতে বেড়াতে আসার পর থেকেই সজীবের সঙ্গে আমার পরিচয়। সজীব আমাকে প্রথম দেখায় পছন্দ করে ফেলে। আমাকে দেখার জন্য সে ঘন ঘন বোনের বাড়ি বেড়াতে আসতো। যদিও সেসব আমি প্রথমে জানতাম না। ধীরে ধীরে জানতে পারি। যখন আমিও তাকে পছন্দ করতে শুরু করি। এক পর্যায়ে দু'জন দু'জনকে পছন্দ করায় একটা সম্পর্ক জড়িয়ে যাই। ভাবী আমাদের দু'জনার দেখা করিয়ে দেওয়া, কথা বলার সুযোগ করে দিতো। এভাবে দুই বছর আমরা চুপিচুপি প্রেম করি। অতঃপর বড় ভাইয়ের হাতে ধরা খাই। তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে। সেদিন বড় ভাইয়া আমার উপর খুব রেগে ছিলো। ঘরে নিয়ে এসে দু'টো থাপ্পড়ও দিয়েছিলো। বাবা সব শুনে আমার বিয়ের জন্য পাত্র দেখতে লাগলো। আমি এসব জেনে মাকে কান্নাকাটি করে বলেছিলাম, আমি সজীবকে ছাড়া বাঁচবো না। কিন্তু সজীব যে বেকার। তাই আমার বাবা, মা রাজি হলো না। সজীবের বাবা, মা কথা বলতে চাইলেও আমার বাবা, মা চায়নি। অতঃপর ভালোবাসার টানে ভাবীর সাহায্যে পালিয়ে আসলাম সজীবের হাত ধরে। হ্যাঁ ভালোবাসা। গভীর ভালোবাসায় পাগল হয়ে সব ছেড়ে তার হাত ধরে চলে আসলাম। আমরা এসে সোজা বিয়ে করে নেই। এই খবর বাবা, ভাইয়ের কানে যেতে তারা এক কথায় বললো,“আমাদের দু’টো মেয়ে। আর কোন মেয়ে নেই।”

বাবা আমার জন্য আমার বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিলো। এসবে আমি খুব ভেঙে পড়েছিলাম। সেদিন সজীব ভীষণ ভালোবেসে আমাকে বুঝিয়ে বলে,“তুমি চিন্তা করো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি একটা চাকরি পাই। দেখবে তোমার বাবা, মা তোমাকে মেনে নিবে। তারা তোমার উপর রাগ করে থাকতেই পারবে না।”
সজীবের কথায় আমি কিছুটা শান্ত হই। পরক্ষণে মনকে মানিয়ে বলি,“আমাকে কখনো ঠকাবে না তো সজীব। আমি আমার সবকিছু ছেড়ে তোমার হাত ধরেছি। শুধুমাত্র তোমার ভালোবাসা দেখে। এই ভালোবাসাটা সারাজীবন বাসবে তো সজীব?”

“বাসবো।
আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি। এভাবেই সারাজীবন ভালোবাসবো।”
সজীবের কথায় আমার আবেগি মন নেচে উঠে। ভালোবাসা পেয়ে মনে হলো জীবনে সব পেয়েছি৷ এই ছেলেটা আমাকে এত ভালোবাসা দেখিয়েছে যে তার ভালোবাসায় ভুলেই গিয়েছিলাম, আমার বাবা এসব প্রেম ভালোবাসা পছন্দ করে না। তার সম্মান তার কাছে বড়। তার সম্মান নষ্ট করে চলে আসা আমাকে আমার বাবা কখনোই মেনে নিবে। এসব আমি জানতাম। তবুও ভয় পাইনি। কারণ আমার কাছে আমার ভালোবাসা ছিলো। হয়তো বাবা, মাকে সেভাবে আর কাছে পাবো না। তাতে সেই সময়ে বেশি দুঃখ পাইনি। দুঃখ যতটা পেয়েছিলাম সেসবও ভুলিয়ে দিয়েছে সজীব। তার ভালোবাসা পেয়ে আমি এক রঙীন জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। তাই তো স্বার্থপরের মতো বাবা, মাকে ভুলে গেলাম। যদিও আমি বাবা, মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তারা করেনি। মা করতে চাইলেও বাবার ভয়ে করতে পারেনি। তবে দুঃখ ছিলো না। সজীবের সঙ্গে বিবাহিত জীবনের দু’টো বছর চোখের পলকে কেটে যায়। তার পরিবার এবং তার থেকে এত ভালোবাসা পেয়েছি যে নিজেকে কখনো দুঃখী মনেই হয়নি। এরই মাঝে সজীব একটা চাকরিও যোগাঢ় করে নেয়। সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছিলো। ইতিমধ্যে দুই বছর কেটে যাওয়ায় একদিন শাশুড়ী এসে আমার হাত ধরে বলে,“এবার তোমরা বাচ্চা নিয়ে নাও। দুই বছর তো হলো। আর কত দেরি করবে। একটা বাচ্চা নিয়ে নাও। আমরাও একটা নাতি নাতনির মুখ দেখে ম রি।”
সেদিন শাশুড়ী মায়ের কথাটা বিঁষ মনে হয়নি। স্বাভাবিক লাগছিলো। তবে তার কথা ধীরে ধীরে বিঁষাক্ত হয়ে ওঠে। যখন দেড় বছর চেষ্টা করার পরও আমাদের বাচ্চা হচ্ছিলো না। বিয়ের সাড়ে তিন বছর কেটে গেল। অথচ বাচ্চা হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছিলো না। এটা নিয়ে শাশুড়ী, শ্বশুড় কথা শোনাতে শুরু করে। তাদের কথা তাদের বংশধর চাই। কিন্তু আমি সেটা দিতে পারছি না। এসবে অবশ্য প্রথম দিকে সজীব তাদের জবাব দিতো। সজীবের কথা,“মাত্র সাড়ে তিন বছর হলো। তাছাড়া আমরা তো চেষ্টা করছি। নাহলে কি করার।”
সজীবের এই জবাবটাই আমার জন্য অনেককিছু ছিলো। তাই দুঃখ লাগতো না। কিন্তু….।


চলবে,

(ভুলক্রটি ক্ষমা করবেন। আশা করি খারাপ হয়নি লেখা।)

Address

Panchagarh
Rājshāhi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rumi korim posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Rumi korim:

Share