02/11/2025
যে স্বামীর জন্য নিজেকে সাজিয়ে তুললাম সেই স্বামী আমার সাজ দেখে বললো,“লাঙ ধরেছিস? মনে রং লাগছে? নয়তো এমন সং সেজে বসে আছিস কার জন্য?”
স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে আমার হৃদয়টা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল। সেই সঙ্গে তার কথার ভাবার্থ বুঝতে অসুবিধা হলো না। যেখানে অন্য স্বামীরা তার স্ত্রীকে সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করে। তার সাজ দেখে প্রশংসা করে সেখানে আমার স্বামী আমাকে উপহাস করে একটি নোংরা অপবাদ দিয়ে দিলো। এটার ভাবার্থ বুঝতে অন্যদের অসুবিধা হলেও আমার হলো না। আমি বুঝতে পারলাম আমার স্বামী যেই অপবাদ আমাকে দিয়েছে সেটা তার গায়েরই কলঙ্ক। আমার মনে রং না লাগলেও তার মনে রং লেগেছে। হ্যাঁ লেগেছে। নয়তো আমার এই সৌন্দর্য উপেক্ষা করে সে কিভাবে পারছে বেলকনিতে বসে অন্যকারো সাথে ফোনে গল্প করতে। ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায় তবুও তার গল্প ফুরায় না।
বিছানায় তার স্ত্রী তার সঙ্গে একটু সময় কাটানোর অপেক্ষা করছে সেখানে সে অন্য কারো সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। আমি আর নিতে পারলাম না। বিছানা থেকে উঠে বেলকনিতে চলে গেলাম। রাগান্বিত গলায় বললাম,“তুমি কার সঙ্গে কথা বলছো?”
“আমি একটু পরে ফোন দিচ্ছি।”
কথাটি বলে আমার স্বামী ফোন রেখে আমার দিকে তাকায়। কঠিন গলায় বলে,“সেই কৈফিয়ত তোকে দিবো?”
“হ্যাঁ দিবে।
আমি তোমার স্ত্রী। আমার জানার অধিকার রয়েছে।”
আমার মুখে এই কথা শুনে আমার স্বামী কঠিন চোখে আমার দিকে তাকায়। আমি তাতে ভয় না পেয়ে বলি,“ওখানে বিছানায় আমি তোমার জন্য সেজেগুজে বসে রয়েছি। আর তুমি আমার সেই সাজটাকে সং বলে এখানে এসে অন্যকারো সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে গেলে। এতটা অবহেলার আমি তোমার কাছে। কেন? কে সে? যার জন্য তুমি আমাকে এতটা দূরে করে দিচ্ছো?”
“সে নিশ্চয় তোর লাঙের মতো সস্তা না।”
এই কথাটি শুনে আমি রাগান্বিত চোখে তার দিকে তাকায়। অতঃপর….
মালতী এই অব্দি বলে থেমে যায়। তার পাশে থাকা মুন বলে,“অতঃপর তুমি তাকে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে আঘাত করলে, তাই না?”
মুন কথাটি বলে মালতীর দিকে তাকাতে মালতী না সূচক মাথা নাড়ায়। এটা দেখে মুন হতাশ হয়ে বলে,“তবে?”
“আমার স্বামী আমার গালে কষে একটি থাপ্পড় মা রে। সেই থাপ্পড় দ্বারা সে বোঝায় তার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকানো আমার উচিত হয়নি। এটা একটা দুঃসাহস। আমার এই দুঃসাহস দেখানোর অধিকার নাই।”
মালতী কথাটি বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এটা শুনে মুন আরও বেশি হতাশ হয়ে বলে,“ধুর। এটা তো সেই চিরচেনা জনম দুঃখী সাবানা বউয়ের গল্প হয়ে গেল। কোথায় ভাবলাম প্রতিবাদী বউ হবে, তাকে কষে কয়েকটা লাগিয়ে দিবে। তা না। ধুর।”
মুন খুব দুঃখী গলায় কথাগুলো বলে। তার বলার ধরণ দেখে মালতী হেসে দেয়। অতঃপর বলে,“জীবন এত সহজ নয়। যদি কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়ো তখন বুঝতে পারবে। নিজের হৃদয়ের খুব কাছের মানুষ যখন ধোঁকা দেয়, অপমান করে তখন মুখ লুকিয়ে কাঁদা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। এটাই নারী জনম।”
“একদম না।
প্রতারক তো প্রতারকই। প্রতারকের আর কোন সংঙ্গা হয় না। সে কখনো হৃদয়ের মানুষ হতে পারে না। তার পরিচয় একটাই সে এক বিশ্বাসঘাতক। যাকে ঘৃণা করা যায় ভালোবাসা নয়।”
“ভালোবাসো নাই তো। ভালোবাসলে বুঝতে।”
এটা শুনে মুন শব্দ করে হাসে। অতঃপর বলে,“ভালোবাসি তো। তবে হ্যাঁ সে যদি প্রতারক হয় তবে তাকে ঘৃণা করতে দু’বার ভাববো না।”
এটা শুনে মালতী মুনের মিষ্টি মুখটির দিকে তাকায়। মায়া এবং স্নিগ্ধতায় গড়া এক মুখ। খুব নিষ্পাপ তার চাহনি। সেই মুখে ফুটে রয়েছে এক মিষ্টি হাসি। মালতী কৌতূহল না ধরে রাখতে পেরে বলে,“ভালোবাসো?”
মুন মাথা নাড়ায়। যার অর্থ তার জীবনে ভালোবাসা আছে। মালতী তার ভালোবাসার গল্প শুনতে চায়। মুন সেটা না বলে উল্টো প্রশ্ন করে,“আপনার বিয়েটা কি পারিবারিকভাবে হয়েছে?”
“ভালোবেসে।”
মালতীর এই কথা শুনে মুন অবাক হয়ে যায়। ভালোবেসে বিয়ে করার পর বিয়ের তিন বছরের মাথাই মালতীর স্বামীর তার প্রতি সব আগ্রহ শেষ হয়ে গেল। সে অন্যকারো প্রেমে পড়ে গেল। এটা শুনে মুন অবশ্য কিছুটা হাসে। সে বলে,“আপনি খুব বোকা। সেই মানুষটা আপনাকে কখনোই ভালোবাসেনি। যদি বাসতো তবে এত সহজেই আপনাকে ভুলে অন্যকোন মেয়ের দিকে ঝুঁকতে পারতো না। আফসোস আপনি তার ভালোবাসার মিথ্যে অভিনয়টা ধরতে পারেননি।”
“আবেগ যখন বিবেককে ছাড়িয়ে যায় তখন সত্য মিথ্যের পার্থক্য বোঝা যায় না। আর হ্যাঁ প্রত্যেক মানুষই জীবনের এক পর্যায়ে এসে সত্য মিথ্যে গুলিয়ে ফেলে আবেগে গা ভাসায়। সবাই বোকা।”
মালতীর এই কথায় মুন হাসে। নিজের হাসি দিয়ে সে বোঝাতে চায় সে এখনো বোকা হয়নি। মালতী তার হাসি দেখে ম্লান হাসে। বাসের এককোনে মনমরা হয়ে বসে ছিলো মালতী। সেই সময়ে তার পাশের সিটটি এসে দখল করে নেয় চঞ্চল এবং বাঁচাল স্বভাবের মুন। যদিও প্রথম দিকে মালতী মুনের কোন কথার জবাব দিচ্ছিলো না। তবে কিছুটা সময়ের পর তার মুনের সরলতার কাছে হার মানতে হয়। সে কথা বলতে শুরু করে। কথার ছলে মুন মালতীর বিষন্নতার কারণ জানতে চাইলে মালতী উপরোক্ত বিষয়গুলো বলে।
তবে মালতীর সেই কথার মাঝে কতটা কষ্ট এবং বিষন্নতা লুকিয়ে আছে সেটা মুন বুঝতে পারছে না। এটা মালতীকে হতাশ করে না। মুনকে সে এই অল্প সময়ে যতটা চিনেছে তাতে সে বুঝতে পেরেছে মেয়েটার মাঝে কিছুটা বাচ্চামো স্বভাব রয়েছে। বড়দের বড় বড় কথাগুলো হয়তো সে নিতে পারে না। এক কথায় কঠিন কথাগুলো সে নিজের মতো সহজ করে নেয়। মালতী এটাই ভাবছিলো। সেই মূহুর্তে তাকে অবাক করে দিয়ে মুন বলে,“কেন অযথা অন্যের সান্ত্বনার আশা করছেন? তাও এমন একটা বিষয় নিয়ে যেখানে আপনি জানেন ওপর পাশের মানুষটা আপনার নয়। সেই মানুষটা একটা প্রতারক। তার জন্য চোখের পানি বিসর্জন না দিয়ে বরং এখন যেই সময়ে আছেন সেই সময়টা উপভোগ করুন।”
“আমার কারো সান্ত্বনার প্রয়োজন নেই।”
মালতী কথাটা কিছুটা অভিমান নিয়েই বলে। এটা দেখে মুন আবার হাসে। সে হেসে মালতী চোখের কোনে জমা পানিটা মুছে দিয়ে বলে,“যে যেতে চায় তাকে চলে যেতে দিতে হয়। কারণ জোর করে কাউকে রাখা যায় না। যাকে গভীরতম ভালোবাসা দিয়ে বাঁধতে পারেননি তাকে কাগজের বন্ধনে বেঁধে রাখার কোনই মানে হয় না।”
“আমি তো তোমাকে এখনো বলিনি যে আমার স্বামী আমার কাছ থেকে ডিভোর্স চাচ্ছে। কিন্তু আমি তাকে সেটা দিতে চাচ্ছি না। তাহলে তুমি বুঝলে কিভাবে?”
“সত্যি এমন নাকি?
আপনি তো আসলেই সাবানা টাইপ বউ। আমি তো জাস্ট ধারণা করলাম আপনার গল্পটা শুনে। ইশ আমি মনেমনে বলছি, এটা সত্যি না হোক। কিন্তু দূর্ভাগ্য দেখুন, সত্যি হয়ে গেল। খুবই খারাপ। আমার আপনার মতো সাবানা পছন্দ না।”
এটা শুনে মালতী বড় বড় চোখ করে মুনের দিকে তাকায়। মুন খিলখিল করে হেসে দেয়। তার হাসির শব্দে আশেপাশের কিছু যাত্রী তাদের দিকে তাকায়। মুন সেটায় গুরুত্ব না দিয়ে বলে,“আরে ভয় নেই। আমার মেয়ে পছন্দ না। আমি ছেলেই পছন্দ করি। মানে ইটিশ পিটিশ ওটাই পছন্দের। অহেতুক ভয় পাবেন না।”
একটু থেমে মুন আবার বলে,“মেয়ে পছন্দ করলেও আপনার মতো ছিচকাদুনি পছন্দ করতাম না।”
এটা শুনে মালতী না চাইতেও হেসে দেয়। পরক্ষণে সে হাসিটা থামিয়ে দেয়। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,“ষোলো বছর বয়সে ভালোবাসার মায়ায় পড়ে তার হাত ধরে পালিয়ে এসেছিলাম। তিন বছর সব ভালোই চলছিলো। অতঃপর তার অন্য নারীতে আসক্ত হওয়া। প্রথম প্রথম সে আমাকে দোষারোপ দিয়ে তাড়াতে চাইতো। আমি যদি হাতে একটু মেহেদীও দিতাম তবে সে সেটা দেখে বোঝাতে চাইতো আমি পরপুরুষকে খুশি করতে এমনটা করেছি। সে চেয়েছিলো তার এসব ব্যবহারে আমি অতিষ্ঠ হয়ে চলে যাই৷ তাও যাচ্ছিলাম না দেখে সরাসরি ডিভোর্সের কথা বলে। তবে আমি রাজি হয় না। যার জন্য প্রতি নিয়ত আমার উপর চলে অমানবিক অত্যাচার। একটা সময় না পেরে বাবার বাড়ি চলে যাই। গত তিনদিন আগে ডিভোর্সের পেপার পাঠালো। সেটা হাতে নিয়েই এখন তার বাড়ির উদ্দেশ্য যাচ্ছি।”
এতটুকু বলে মালতী থেমে যায়। অতঃপর মুনকে উদ্দেশ্য করে বলে,“কথাগুলো মনের মধ্যে চাপা পড়েছিলো। কাউকে বলতে পারলো ভালো লাগতো। তাই তোমাকে বলে হালকা হওয়া। আমি জানি আমার এসব কথাবার্তা তোমার পছন্দ হচ্ছে না।”
“আপনার কথা নয়। আমার আপনার বিষন্ন মুখটা পছন্দ হচ্ছে না। অন্যের জন্য কাঁদতে কাঁদতে নিজের জন্য হাসতে ভুলে যাওয়া মানুষ আমার ভীষণ অপছন্দের।”
কথাটি শুনে মালতী কিছুটা অবাক হয়ে মুনের দিকে তাকায়। মুন শান্ত গলায় বলে,“যে যেতে চায় তাকে যেতে দিন। আগামীর পথটা সুন্দর হবে। নয়তো জীবনটা থমকে থাকবে একই স্থানে। এটা আরও বেশি কষ্টের।”
মালতী তার প্রসঙ্গ বদলে মুনকে তার কথা বলতে বলে। মুন অল্প করে বলে, তার বাবা-মা নেই। মামার বাড়িতে মানুষ। তার পৃথিবীটা খুবই ছোট। সেই ছোট পৃথিবীতে সে খুবই সুখী। কারণ সে যখন যার সংস্পর্শে থাকে সেটাতেই স্বর্গ সুখ খুঁজে পায়। এটা হয়তো মুনের বিশেষ গুন। তার সুখের জীবনকে আরও সুন্দর করতে একদিন এক সুপুরুষের আগমন ঘটে। একটি কাজে তাদের এলাকায় তার আসা যাওয়া লেগে থাকে। সেখান থেকেই পরিচয়, পরিচয় থেকে প্রণয়। খুব শীঘ্রই হয়তো বিয়ে করবে তারা। মুন খুব সংক্ষেপে কথাগুলো বলে মালতীর দিকে তাকায়। মালতী ম্লান হাসে। মামার বাড়িতে যে মুন বিশেষ ভালো ছিলো না সেটা সে স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে। তবে মুন সেটাকে জটিল করে না দেখে বরং খুব সহজ করে দেখেছে এবং বর্ননা করেছে। এভাবেই বাস যাত্রায় মুন এবং মালতীর অল্প সময়ের মাঝে খুব ভাব হয়ে যায়। মুন নানা আজগুবি গল্প বলে তাকে হাসাতে থাকে। মালতীও হাসে। কথার ফাঁকে মুন তাকে আবারও বোঝায় তার স্বামী যা চায় তাই দেওয়া উচিত তার। কারণ ঐ মানুষ কখনোই তার ভালোবাসা বুঝবে না। মালতীও বিষয়টা বুঝতে পারে তাই সে তার স্বামীকে ফোন দিয়ে বাস স্টেশনে আসতে বলে। এক কথায় তো আসবে না। তাই মালতী তাকে জানিয়ে দেয় সে ডিভোর্স দিতে রাজি। মালতী ডিভোর্স দিতে রাজি শুনে তার স্বামীও আসতে রাজি হয়ে যায়।
মালতী তার স্বামীকে এসব বলে ভেঙে যেতে নেয় তখন মুন তাকে সামলায়।মালতী মিষ্টি এক হাসি দেয়। অতঃপর বলে,“আমি আর বোকা হবো না।”
মুন তার কথা শুনে খুব খুশি হয়। সেও হাসে। এভাবেই তাদের দু'জনার একটা সুন্দর যাত্রা হয়। অতঃপর বাস এসে গন্তব্যে থামে। মুন এবং মালতী দু'জনেই নামে। তারা একে-অপরকে বিদায় জানায়। মালতী দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তার স্বামীকে দেখে কিছুটা মলিন মুখেই তাকায়। সেটা মুনের লক্ষ্য করতে তার দৃষ্টি সেদিকে যায়। মালতী তার সামনে দিয়ে এগিয়ে গিয়ে তার স্বামীর সামনে দাঁড়ায়। মুন হতভম্ব হয়ে যায়। মালতীর স্বামীর মুখটা মুনের জন্য অবাক করার মতোই। এই সেই মানুষ, যাকে নিয়ে সে সুখের একটা ঘর সাজিয়েছে। আর তার এই সাজানো ঘরটাই মালতীর এত বছরের ভালোবাসাকে মিথ্যে করে দিয়েছে। মুন সবটা বুঝতে পেরে পুরো বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। তার পৃথিবী ঘুরে যায়। তার কানে ভেসে উঠে মালতীর বলা সেই কথাটি তাহলো,“সবাই বোকা। জীবনের এক পর্যায়ে এসে আমরা সবাই আবেগে গা ভাসিয়ে দেই। আমরা সবাই বোকা।”
মুন তখন হেসেছিলো। কারণ তার চোখে তার ভালোবাসার মানুষ ছিলো পবিত্র, নিষ্পাপ। সেই মানুষটি তার ভাবনার বিপরীত অনুভব হতেই মুন বুঝতে পারে, সে এতদিন আবেগের চোখে তাকিয়ে ছিলো। অবশেষে সেও বোকা হয়ে গেল। এটা উপলব্ধি হতে মুন কয়েক পা পিছিয়ে যায়। সে ফোন বের করে প্রথমে ঐ মানুষটিকে সব জায়গা থেকে ব্লক দিয়ে দেয়। অতঃপর উল্টো পথে পা বাড়ায়। মানুষটার নজরে সে পড়ার আগেই সরে যায়। এই মানুষটা তাকে ভালোবেসেছে কি-না তা সে জানে না। তবে যদি কখনো এক মূহুর্তের জন্যও ভালোবেসে থাকে তবে কোন কারণ বিহীন তার এই হারিয়ে যাওয়াই তার জন্য যথেষ্ট শা স্তি। এই আশা নিয়েই মুন হাঁটতে থাকে।
পরিশেষে,
মালতী এবং তার স্বামীর ডিভোর্স হয়। তার স্বামী এরপর মুনকে খোঁজার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু পায়নি। তাকে না পেয়ে কিছুটা হতাশ হলেও সে ভেঙে পড়েনি। কারণ তার মতো পুরুষরা কখনো কাউকে মন দেয় না। শুধুমাত্র নিখুঁত অভিনয়ই দেয়। তাই তো আবারও নতুন শিকারের উদ্দেশ্য এগিয়ে যায়। তবে সবসময় তো আর জীবন চাওয়ার মতো চলে না। তারও চলে না। কোন এক দুপুরে এক ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে যায় সে। যার ফলস্বরূপ কাটা পড়ে দুটি পা। আর তখন থেকেই তার জীবনটা নরক হয়ে যায়। নিজের বলতে একটি মানুষ ছিলো না যে তাকে ভালোবেসে সেবা করবে। যারা ছিলো সবাই বাধ্য হয়ে, মুখ ঝামটা দিয়ে কোনরকম তাকে দেখে রাখছিলো। জীবনের এই প্রান্তে এসে সে নিজেও বোকা হয়ে গেছে। বোকা বলেই সে একজন পাখিকে মনের মধ্যে পুষে না রেখে, একাধিককে জায়গা দিয়েছিলো। তাই তো এখন তাকে যত্নে আগলে রাখার মতো কোন প্রানের পাখিই নেই।
(সমাপ্ত)
#বোকা
নুসরাত_জাহান_মিষ্টি
(ভুলক্রটি ক্ষমা করবেন। আশা করি খুব একটা খারাপ হয় নাই।)