19/08/2026
হঠাৎ চাকরিটা চলে যায় হৃদয়ের। চাকরি চলে যাবার পর থেকে তার স্ত্রী মুনার ব্যবহারও কেমন বদলে যেতে শুরু করেছে। গত দুই মাস ধরে বেকার হৃদয়। এই দুই মাসে মুনা সবকিছুতে বিরক্ত হয়ে গেছে যেন। বিশেষ করে হৃদয় নামক মানুষটার সবকিছু তার বিরক্ত লাগে। মনে হয়, তার ছায়াটা সহ্য করতেও কষ্ট হচ্ছে।
মুনার এমন আচরণে বেশ কষ্ট পায় হৃদয়। গত দুই মাসে কম চেষ্টা করেনি নতুন চাকরির। হচ্ছে না। এখানে তার দোষ নেই। তবুও দোষ। বেকার ছেলে আর অবিবাহিত মেয়ে দুটোই সমাজের বোঝা। ঘরের বোঝা। তবে মাত্র দুই মাসেই যে হৃদয় মুনার জন্য বোঝা হয়ে যাবে তা ভাবতে পারেনি হৃদয়। এতটাও পর মুনাকে ভাবেনি। হ্যাঁ এটা ঠিক গত দুই মাস ধরে মুনা সংসার চালাচ্ছে। কিন্তু সব টাকা তো তার নয়? মুনা যে টাকায় সংসার চালাচ্ছে, সেগুলো তো হৃদয়েরই টাকা। সে সারা মাসের সংসার খরচ শেষে যতটা টাকা বাঁচতো তার থেকে নির্দিষ্ট একটা অংশ মুনাকে জমাতে দিতো। কোন মাসে সেটা পাঁচ হাজার ছিলো, কোন মাসে দুই হাজার। গত দুই বছরের বিবাহিত জীবনে এমনই চলে আসছে। এখন বিপদের দিনে মুনা সেই টাকায় সংসার চালাচ্ছে। এ হিসাবে তো টাকা হৃদয়ের। অথচ মুনা এমন ভাব নিচ্ছে যেন তার নিজের কষ্ট করে উপার্জন করা টাকায় সংসার চালাচ্ছে। হৃদয়কে এমনই অনুভব করাচ্ছে। হৃদয় মুনার এমন তিক্ত আচরণে খুব মনকষ্ট পাচ্ছে। পাবে না কেন? মুনা তার সামান্য থেকে সামান্য ভুলটাও সহ্য করতে পারছে না। তার কোন আবদার তো কানেই নিতে চায় না। মাস খানেক হলো রাতে কাছেও যেতে দিচ্ছে না।
হৃদয় প্রথম প্রথম মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভেবেছে, সে বেকার। আশেপাশের মানুষ নানান কথা বলে। তাছাড়া গত দুই মাসে বাবা, মায়ের কাছে কোন টাকা পাঠাতে পারেনি। হয়তো তারাও মুনাকে ফোন করে কথা শুনিয়েছে। সব মিলিয়ে সে বিরক্ত। সংসার সামলে হাঁপিয়ে গেছে মুনা। তবে এখন আর এসব ভাবতে পারছে না হৃদয়। মানছে, মুনার সবকিছু সামলাতে চাপ হয়ে যাচ্ছে। নিজের জমা টাকা খরচ করতে কষ্টও হচ্ছে। হয়তো ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় হচ্ছে। তাই বলে এমন আচরণ করবে? এই তো মাত্রই যে আচরণ করলো, এটা কি স্বাভাবিক? রোজ সন্ধ্যায় হৃদয়ের চা খাওয়ার অভ্যাস। এক কাপ চা তার লাগেই। তবে বহুদিন হলো খাওয়া হচ্ছে না। মুনা দিচ্ছে না। নিজে করে খেতে গেলেও মুনার সে কি মুখ ঝামটা? চিনির যা দাম। এটা সম্পর্কে হৃদয়ের আইডিয়া আছে? নাই। থাকবে কিভাবে, এখন তো সংসার খরচ মুনা দেয়। তাই টাকার মূল্য হৃদয় বুঝছে না। তাই সকাল সন্ধ্যা চা খাচ্ছে। কোন হিসাব নেই হৃদয়ের। প্রানপ্রিয় বউয়ের মুখে এমন কথা শুনে আহত হয় হৃদয়। আর চা খায় না। সেদিনের পর থেকে আর সন্ধ্যায় তার চা লাগে না। তবে আজ মাথাটা একটু বেশিই ধরেছে। ব্যথা করছিলো। তাই বাধ্য হয়ে মুনাকে বলে,“এক কাপ চা বানিয়ে দিবে মুনা? প্লীজ?”
হৃদয় খুব অনুরোধ করে বলে। ভাবছিলো তার এমন নমনীয় কন্ঠে মুনা বুঝবে সে অসুস্থ। তার অনুরোধটা রাখবে মুনা। কিন্তু না। মুনা তাকে বুঝলো না। বরং সে রেগে গেলো। রাগের মাথায় বলে বসলো,“হ্যাঁ ঘরে বসে খাওয়া আর ঘুম ছাড়া তো কোন কাজ নাই তোমার। শুধু খাবা আর ঘুমাবা, আর অর্ডার দিয়ে যাবা আমাকে। বিনা পয়সার কাজের লোক পেয়েছো। তাকে অর্ডার করবা, বান্দীর মতো খাটাবা। আর নিজে শুয়ে বসে খাবা। এই তো সারাদিনের কাজ তোমার।”
মুনার এত কঠিন কথা শুনেও হৃদয় আবার অনুরোধ করে বলে,“মাথাটা ব্যথা করছে। প্লীজ আজকের জন্য এক কাপ চা বানিয়ে দাও।”
“পারবো না। মাথা ব্যথা না ছাই। ঘরে বসে বসে অজুহাত দিয়েই যাবা। কাজ বাজের ঠিক নাই। ঘরে বসে শুধু হুকুম করা। পারবো না আমি চা বানাতে। আমি তোমার হুকুমের দাস নই। কাজের লোক নই আমি, যে ঘন্টায় ঘন্টায় অর্ডার দিবা।”
সেই শুরু হলো মুনার রেডিও। সেটা ঘন্টা দুই চললো। যার সারমর্ম, এই সংসারের জন্য মুনা খেঁটে মরছে। কত কষ্ট করে সংসার খরচ চালাচ্ছে। নিজের কষ্টের টাকা,বাবা মায়ের কাছ থেকে ধার করে। এসবের কিছুই হৃদয় বোঝে না। শুধু বোঝে শুয়ে বসে খাওয়া। মুনার সব কথা মানতে পারলেও হৃদয় এটা মানতে পারে না সে তার বাবা, মায়ের থেকে টাকা ধার করে সংসার চালাচ্ছে। গত দুই মাসের খরচ এতটাও বেশি ছিলো না যে সেটার টাকাটা থাকবে না। তবুও হৃদয় কিছু বলে না। চুপচাপ শুনে যায়। তবে এখন আর ভালো লাগে না। মুনার খিটখিটে স্বভাবটা এখন তার মাথার যন্ত্রণা হয়ে গেছে। যেটাকে সে সহ্য করতে পারছে না। এদিকে চাকরি যে পাবে সেই সেদিকেও মনোযোগী হতে পারছে না। কোন চাকরির ইন্টারভিউ ভালো হচ্ছে না। ঘরে এমন অশান্তি থাকলে কি ভালো হয়? তবুও হৃদয় একের পর এক ইন্টারভিউ দিয়ে যায়।
অবশেষে দীর্ঘ চার মাস বেকার থাকার পর বিশ হাজার টাকা বেতনের একটা চাকরি জুটিয়ে নেয় হৃদয়। তবে এই বেতনের চাকরিতে মুনা খুশি হয় না। এত অল্পে সব চলবে কিভাবে? গত চার মাসে মুনা তার অনেক শখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছে। সেগুলো সারাজীবন তো বিসর্জন দিতে পারবে না। হৃদয়ের এই স্বল্প বেতনের চাকরিতে তার সেই শখ পূরণ হবে না। তাই তার মাথা খারাপ। সে খুশি হতে পারে না। তার মলিনতা, তার অখুশি দেখেও হৃদয় কিছু বলে না। চুপ করে থাকে। এর সবচেয়ে বড় কারণ মুনা। গত চার মাসে মুনা হৃদয়ের সঙ্গে এত খারাপ ব্যবহার করেছে যে এখন সে তার মন থেকেই উঠে গেছে। হৃদয় আর মুনাকে মন দিতে পারছে না। কিছুতেই পারছে না। তাই তার মন খারাপ হৃদয়কে ছুঁতে পারে না। ছুঁবে কিভাবে? গত মাসে মুনা রাগ করে বাবার বাড়ি চলে যায়। তার জমানো সব টাকা শেষ। হৃদয় তাকে সংসার খরচ দিতে না পারলে সে আসবে না। হৃদয় তাকে পরপর কয়েকদিন নিয়ে আসতে গিয়েছে, কিন্তু না সে আসবে না। তার তখনই পনেরো হাজার টাকা দরকার। নয়তো সে অন্য পথ দেখবে। হৃদয় প্রথমে অন্য পথ বুঝতে না পারলেও পরে বুঝতে পারে অন্য পথ মানে ডিভোর্স।
হৃদয় মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। তার বংশে কোন ডিভোর্স নেই। সেও চায় না এমনটা হোক। তাছাড়া তার হৃদয়ে স্ত্রী হিসাবেই মুনাই রয়েছে। নিজের স্ত্রীকে সে ছাড়তে চায় না। তাই তখনই নিজের শখের ফোনটা বিক্রি করে দিয়ে বারো হাজার টাকা এনে মুনার হাতে দেয়। তার চাহিদার তিন হাজার টাকা কম ছিলো, সেজন্য মুনা একা নয় সেদিন তার মাও অনেক কথা শুনিয়েছে। মুনার কথা সহ্য করে নিতে পারলেও তার শাশুড়ীর অপমানটা হৃদয় কখনোই ভুলতে পারবে না। সেটা তার জন্য অনেক অপমানের ছিলো। আর ঐ এক ঘটনায় মুনাও তার হৃদয় থেকে মুছে গেছে বলতে গেলে। তাই তার মন খারাপ এখন তার তার হৃদয় ছুঁতে পারছে না। মুনা একা একা রাগ দেখাচ্ছে, বকে যাচ্ছে। হৃদয় তাতে গুরুত্ব দেয় না। তবে এখন কিছু না বললে মুনা যে সারারাত এমনে বকে যাবে বুঝতে পেরে হৃদয় বলে,“মাস শেষে আঠারো হাজার টাকা তোমার হাতে দিবো। এটা দিয়ে তোমার শখ আহ্লাদ পূরণ হয়ে যাবে। আর সংসারটা নাহয় গত চার মাসের মতো একটু টেনেই চালালে। এর মাঝে আমি ভালো জব ম্যানেজ করে নিবো।”
অতঃপর মুনা থামে। এভাবে চলে যায় আরও চার মাস। হৃদয় এখন পয়ত্রিশ হাজার টাকার একটি জব করে। সংসার বেশ ভালোই চলছে। তবে মুনা এবং হৃদয়ের সম্পর্ক আগের মতো নেই। হৃদয় কেমন গম্ভীর হয়ে গেছে। মুনাকে অনেকটা এড়িয়ে চলে। যেটা এখন মুনার চোখে লাগে। আগে কিসের জন্য জানি চোখে পড়েনি? এক সময় হৃদয় তাকে খুব ভালোবাসতো। খুব যত্ন করতো। হঠাৎ তার চাকরি চলে যায়। মুনা বিষয়টা তার মায়ের সঙ্গে শেয়ার করতেই সবকিছু কেমন এলোমেলো হয়ে যায়। হৃদয় এবং মুনার প্রেমের বিয়ে ছিলো। তাই আজও তার বাবা, মা হৃদয়কে মন থেকে মানতে পারেনি। তারা শুধু মুনার জেদটা মেনে নিয়েছে। তাই হয়তো সুযোগ পেয়েই মুনার মা হৃদয়ের বদনাম করতে শুরু করে দেয়। এমনি কোনরকম সংসার চালায়। এখন চাকরি নাই। এখন তো মুনার জমানো টাকা, তার গহনা সব বিক্রি করে হৃদয় খাবে। মুনাকে অত্যাচার করে বাবার থেকে টাকা পয়সা নিতে বাধ্য করবে। বেকার ছেলেদের আর কাজ কি? এটাই তো কাজ। মুনার পুরো জীবনটা শেষ, এই ছেলের সঙ্গে থেকে। এই সেই কত কথা! মুনারও মনে হয় এটাই হয়তো ঠিক। তাছাড়া তার মা তার অন্য দুই বোনের বরদের এত সুনাম করতো যে তার মাঝে হৃদয় খুব নগণ্য ছিলো। সঙ্গে তাদের বোনরা তো ফোন করে তাদের দামি দামি গিফট, উপহারের শো-অফ করতো। সব মিলিয়ে মুনা কোথাও গিয়ে তার বোনদের হিংসা করেই হৃদয়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে ফেলে। তার বারবার মনে হচ্ছে, তার বোনরা এত ভালো জায়গায় আছে সেখানে তো তারও থাকার কথা ছিলো। তা নাহয়ে তার অবস্থান এই বেকার জামাইয়ের সংসারের হাল ধরতে শেষ হচ্ছে। সব মিলিয়ে মুনা অনেক খিটখিটে হয়ে গিয়েছে। তবে এখন চাকরি পেয়ে হৃদয় দুই হাজার টাকা নিজের কাছে রেখে বাকিটা তাকে দিয়ে দেয়। এর অর্ধেক টাকায় দুজনের সংসার খরচ হয়ে যায়। বাকি টাকা দিয়ে মুনা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। এখন তার অন্যকিছুর চাহিদাটা নেই। তার মনে এখন হৃদয়ের ভালোবাসার চাহিদাটা জন্ম নিয়েছে। সেটার অভাব বোধ হচ্ছে তার।
কিন্তু হৃদয় যেনও তাকে দেখেও দেখছে না। মুনা হৃদয়ের মনমতো সেজে, তার পছন্দের কাজ করেও তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছে না। এসবে মুনা বিরক্ত হয়ে যায়। একদিন হৃদয়কে চেপে ধরে। তাকে হৃদয় আগের মতো ভালোবাসছে না কেন? এটা মুনা মানতেই পারছে না। মুনা হৃদয়ের ভালোবাসা না পেয়ে এবার রাগ দেখায়। যা দেখে হৃদয় ম্লান হাসে। আর সেদিনই প্রথম হৃদয় তার মনের মধ্যে থাকা সব কথা মুনাকে খুলে বলে। অনেক আগে চেষ্টা করছিলো মুনাকে ঠান্ডা মাথা বোঝাতে, কিন্তু মুনা বুঝতে চায়নি। যার ফলস্বরূপ এখন তাদের সম্পর্কটা এমন হয়ে গেছে। হৃদয় খুব সুন্দরভাবে বলে,“এই জগতে আমি একা নই যার হঠাৎ চাকরি চলে গিয়েছে। সংসারে অভাব দেখা দিয়েছে। এমন অনেকে আছে। তবে গিয়ে দেখো তাদের স্ত্রীরা তাদের সঙ্গে কু কুরের মতো আচরণ করে না বা করেনি। এমন মেয়ে হাজারে একটা পাবে যে তার স্বামীর দু:সময়ে তাকে সাহস, ভরসা না দিয়ে বরং অবহেলা করেছে। নারীরা মায়ের জাত। তারা অন্যদের কষ্ট খুব কম দেয়। বিশেষ করে স্বামীকে কষ্ট দেয় না বললেই চলে। একবার তুমি ভাবো তো, তুমি কি সেই নারীদের মধ্যে পড়ো? পড়ো না। তাদের এবং তোমার মাঝে অনেক অনেক পার্থক্য। এই পার্থক্যটা কেন তৈরি হলো মুনা? আমার হঠাৎ চাকরি চলে গেছে, সংসারে একটু টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে। তার মানে তো এটা নয় যে আমি জীবনে উঠে দাঁড়াতে পারবো না। ঐ অবস্থা থেকে ফিরতে পারবো না। এমন তো ছিলো না বিষয়টা। একটু সময় দিলে সব ঠিক হয়ে যেতো। অথচ তুমি সেই সময়টা দিতে পারলে না। এখন হয়তো তুমি বলবে তুমি অন্যের প্ররোচনায় বিপথে গিয়েছো, কিন্তু বিশ্বাস করো এটা সত্য নয়। কেউ নিজে থেকে খারাপ হতে না চাইলে কেউ তাকে বানাতে পারে না খারাপ। কখনোই পারে না। তোমার মধ্যে আমাকে নিয়ে হয়তো শুরু থেকেই হীনমন্যতা ছিলো। এখনও আছে। তাই তো আমার ভালোবাসা, যত্নের চেয়ে আমার টাকাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তোমার কাছে। তুমি চিন্তা করো না, আমি চেষ্টা করছি এরচেয়েও ভালো জব পাওয়ার। তখনও সব টাকা তোমাকেই দিবো। তবে ভালোবাসার কথা বললে সেটার কথা আমি জানি না। এটা মনের ব্যপার, মন থেকে একবার উঠে গেলে সেই মনে কিভাবে জায়গা দিতে হয় তা আমার জানা নেই।” ব্যস। এতটুকু বলে হৃদয় চলে যায়। মুনা খুব আহত হয়। হৃদয় তাকে খুব ভালোবাসতো। তার জন্য পাগল ছিলো বলে কথা। সেই ছেলে এখন বলছে তার মনে তার জায়গা নাই? এটাও সম্ভব। হয়তো সম্ভব। এজন্যই হয়তো গুনিজনরা বলে, সম্পর্কটা এমন তিক্ততায় নিয়ে যেও না যেখান থেকে মিষ্টান্নের দেখা পাওয়া কঠিন। তবে কি মুনা এতই তিক্ত বানিয়ে ফেলেছে, তার সংসার জীবনটা? হয়তো তাই।
পরিশেষে, এভাবে চলছে মুনা এবং হৃদয়ের সংসার। এতদিনে তাদের সংসারে একটি সন্তানও এসেছে। যে সন্তানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মুনা এবং হৃদয়ের দূরত্ব কমছে। তবে পুরোপুরি কমছে কি-না জানা নেই মুনার। হৃদয় তাকে আগেই জানিয়েছে, সে তাকে ছাড়বে না। তার সঙ্গে সে সারাজীবন থাকতে চায়। তবে হয়তো সম্পর্ক আগের মতো করতে পারবে না। এটা তার হাতে নেই। এটা মনের ব্যপার। সেটা মনের উপর ছেড়ে দিয়ে মুনা থাকতে পারলে থাকুক। নয়তো চলে যেতে পারে। তবে মুনা যায়নি৷ সে থেকে গেছে। সে তো সংসার করতে চায়। তবে সেই সময়ে তার মাথায় কি চলছিলো তার জানা নেই। কেন যে এত খারাপ হয়ে গেলো? এজন্য সে বেশিরভাগ তার মা বোনদের দ্বায়ী করে। সেজন্য তাদের থেকে দূরত্ব তৈরি করে নিয়েছে। মায়ের পরামর্শে এখন আর সে চলে না। এখন তার সংসারে সে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই তো ইতিমধ্যে তার সংসারে একটা ছোট শিশুর আগমন হয়েছে। তার মা তো আরও কয়েক বছর পর নিতে বলছিলো। হৃদয়ের ভাবগতি দেখে। তবে মুনা তার পরামর্শ নেয়নি। তার মনে হয়েছে, সন্তানটা এলে হয়তো ঠিক হবে সব। হচ্ছেও তাই। অনেকটা ঠিক হচ্ছে তাদের সম্পর্ক। আশা করা যায় খুব শীঘ্রই সম্পর্কটা পূর্বের মতোই মধুর হবে। এজন্য অবশ্য মুনাকে সতর্ক থাকতে হবে। একই ভুল করা যাবে না। কোনমতেই না। মুনা এটা করবেও না। সে এক ভুলেই যথেষ্ট শিক্ষা পেয়েছে। তাই তো ভুল শুধরে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সংসারটা তার এবং হৃদয়ের। দু'জনার এই সংসারের সুখ, দুঃখ সব দু'জনার৷ এখানে তৃতীয় ব্যক্তির জায়গা নাই। স্বামী, স্ত্রীর সংসারে সবাই তৃতীয় ব্যক্তি। এটা মেনে মুনা এগিয়ে যাচ্ছে।
[গল্পের মুনা তো ভুল বুঝলো তবে বাস্তবের মুনারা কখনো ভুল অনুভব করে না। যাই হোক সবসময় মেয়ে দিক চিন্তা করে গল্প লিখি তাই এবার একটু ছেলের দিক চিন্তা করে লিখলাম। সবাই এক নয়। বেশিরভাগ মেয়েরা স্বামীর পাশে থাকে তবে ব্যতিক্রম দুই একজন রয়েছে। তাদের নিয়ে এই গল্প]
(সমাপ্ত)
#সংসার_দু'জনার
#নুসরাত_জাহান_মিষ্টি
#ছোটগল্প