19/02/2026
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম চাইলে এখন পরিষদ আহবান করতে পারবেন এবং একটি নতুন সংবিধানও তৈরি করে ফেলতে পারবেন। এই মারাত্মক অস্ত্র বিরোধীদের হাতে তুলে দিয়েছে বিএনপি নিজে।
রাষ্ট্রপতির জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী- গণভোটে "হ্যাঁ" জিতলে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। এই পরিষদের কাজ শুরু করতে প্রয়োজন অন্তত ৬০ জন সদস্য।
বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের কথা অনুযায়ী সংবিধান সংষ্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। কিন্তু এনসিপি-জামাত জোটসহ মোট ৭৭ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। যা ৬০ জনের বেশি। ফলে তারা চাইলেই এখন একটা পরিষদ আহ্বান করতে পারবেন।
এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদও একই কথা জানান।
আবার আওয়ামীপন্থি সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, ৭৭ জন এমপি মিলে যদি আলাদা কিছু করার চেষ্টা করেন, তাহলে যে সংঘাতময় পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে, যা জনসমর্থন পাবেনা।
এখানে সাংবিধানিক কোনো সমস্যা নাই, জনবিচ্ছিন্ন উনি ঠিক করতেছেন জনসমর্থন পাবে কি পাবে ন! যাই হোক, মূল পয়েন্ট, পরিষদ আহ্বান করে নতুন সংবিধান রচনা করা যাবে।
বিএনপিপন্থী আইন বিশেষজ্ঞদের দাবী, সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ দিয়ে এমন গণভোট করা সাংবিধানিকভাবে বৈধ কি না- তা নিয়েও আইনি প্রশ্ন রয়েছে।
তারা মনে করেন বিএনপি এই গণভোট অধ্যাদেশ মানতে বাধ্য নয়। কারণ কী? কারণ সংসদহীন অবস্থায় জারি করা যেকোনো অধ্যাদেশ সংসদে বৈধতা না পেলে বাতিল হয়ে যায়।
এখানেই আসে বৈধতার বিষয়। এবং মূল ঝামেলা।
প্রথমত, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে, যা সাংবিধানিকভাবে ঠিক আছে। এটার জন্য আলাদা করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়নি।
কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী তো নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আছে। এ নির্বাচন তো সে প্রক্রিয়া মেনে হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে হয়নি। বরং একটা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হয়েছে যা সংবিধানে নেই। ২৪ সালে 'নির্বাচিত' সরকারকে উৎখাত করে একটা বায়বীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্ডারে হয়েছে। ফলে আরপিও মেনে হলেি এই নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী ইসির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার নির্বাচন না।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধ্যাদেশে একই দিনে দুই নির্বাচন করার ঘোষণা ছিল। এবং সেটাই এই নির্বাচনের একমাত্র ভিত্তি। সেই অধ্যাদেশকে সংসদে বৈধতা না দিলে ভবিষ্যতে এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। খুবই স্বাভাবিক।
মেইন বিষয় সংকটের। আইনগত একটা শূণ্যতা আছে। এবং সেটাকে আরো তরান্বিত করেছে সালাউদ্দিন সাহেব। এখন যদি বিরোধীদল পরিষদ আহ্বান করে এবং ৭৭ জন নিয়ে নিজেদের মতো একটা নতুন সংবিধান তৈরি করে ফেলে, তাহলে বিরাট বড় একটা সংকটের দিকে যাবে দেশ। অবশ্য বর্তমান সরকার তথা বিএনপি গণভোট ও জুলাই না মানলেও এই সংকট আসবে।
দেশকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র পথ জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়ে জনগণের রায় মেনে নেওয়া। সব দল ঐক্যবদ্ধ থাকা। কোনোরকম এদিক-ওদিক হলেই সংকট শোয়েব আক্তারের বল কিংবা রবার্তো কার্লোসের ফ্রী-কিকের স্পিডে দৌড়ে আসবে।
সংগ্রহীত