Safe Motivation

Safe Motivation গ্রুপ : 🌺গল্পের সব গুলো পর্ব এক সাথে পেতে facebook.com/groups/1015336140416635 গ্রুপে জয়েন হয়ে থাকুন।❤️‍🩹

🌺 নতুন নতুন গল্প পেতে পেজটি ফলো করে রাখুন।🔔

💋১৮+ রোমান্টিক এলার্ট  #শহৱে_প্রেমেৱ_ঘ্রাণ #পর্ব_১০_বর্ধিতাংশহৈচৈ শব্দে মুখরিত ক্লাস মুহূর্তেই শান্ত হলো তাহসিন এর প্রবে...
13/06/2026

💋১৮+ রোমান্টিক এলার্ট
#শহৱে_প্রেমেৱ_ঘ্রাণ
#পর্ব_১০_বর্ধিতাংশ

হৈচৈ শব্দে মুখরিত ক্লাস মুহূর্তেই শান্ত হলো তাহসিন এর প্রবেশে। নিজের গভীর চোখ মেলে ক্লাসের মাঝ বরাবর তাকালে তার আঁখি শিথিল হয় মুহূর্তেই। গত রাত থেকেই ছটফট করতে থাকা চিত্ত যেনো ধুকপুক শব্দে তার অস্তিত্ব জানান দেয়।তাহসিন ক্লাসের সবাই কে এক প্রকার অগ্রাহ্য করে এগিয়ে যায় তানিয়ার দিকে।

এদিকে তানিয়া বকবাকুম হয়ে গেছে। হঠাৎ করে তাহসিন এর প্রবেশে সে কিছুটা অবাক হয়। চোখে মুখেই প্রকাশ পায় তার চমক ভাব। আবার এখন ছেলেটা'কে তার দিকেই এগিয়ে আসতে দেখে শরীর চনমন করে ওঠে। কিন্তু তানিয়ার সব ভাবনা মিশে যায় যখন দেখে তাহসিন তার বেঞ্চ থেকে দুই বেঞ্চ পিছে গিয়ে দাড়ায়। তাহসিন কে দেখেই সেই বাঞ্চের ধারে বসে থাকা মেয়েটি দাঁড়িয়ে পরে। তানিয়া সবটাই পরখ করে।

মেয়েটি দাঁড়িয়ে মাথা নত করে। তার দেহের কাপা ভাব বলে দিচ্ছে মেয়েটি তাহসিন কে দেখে নার্ভাস।
তাহসিন মেয়েটির দিকে না তাকিয়েই তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটি চিরকুট বের করে মেয়েটির সামনে রেখে অতি ধীর লয়ে হলে,,,

"আমি চাইলেই নিঃশব্দে এই চিঠির জবাব দিতে পারতাম কিন্তু মনে হলো তোমার সামনে দাড়িয়ে প্রত্যাখান করলে তুমি বুঝবে।। পড়াশোনায় মন দাও,,,এই সময় তোমার জীবনে এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"

তাহসিন এর কথায় মেয়েটি ফুপিয়ে ওঠে। নিস্তব্ধ কক্ষে সবার কানের গেছে তাহসিন এর কথা। তাহসিন জায়গা ত্যাগ করতে গেলে মেয়েটি নাক টেনে বলে ওঠে,,,"আমি তোমাকে ভালো,,,,"

তাহসিন আর বলতে দিলো না। গলার স্বরে জোর মিশিয়ে তাকালো তানিয়ার দিকে,,যে কিনা অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছে তাকে। তাহসিন বলে ওঠে,,,

"সম্ভব না,,,আমি চাই কাউকে।"

সমস্ত ক্লাস তাহসিন এর কথায় চমকে উঠলো। মুহূর্তেই শুরু হলো ক্লাস জুড়ে ফুসফুসানি। তাহসিন কে পুরো কলেজের সবাই চেনে। রগচটা,বদমেজাজি ছেলে সে। রাজনীতির সাথে জড়িত,,,কানে কানে খবর এসেছে এবার এম. এল. এ ভোট সে দাঁড়াবে। তাহসিন এর কথা কম, হাত বেশি চলে। তাই কলেজের সবাই তাকে এড়িয়ে, বেঁচে চলাচল করে। এই মেজাজি ছেলেও কাউকে চাইতে পারে! এটা যেনো উত্তর দিকে সুর্য উদয় হওয়ার ন্যায় অবাক বিষয়।

তাহসিন দাঁড়ায় না। তার গভীর চোখে এক বার তানিয়া'কে পরখ করে বেরিয়ে যায় ক্লাস থেকে। তানিয়ার চোখে মুখে বিস্ময় ভাব স্পষ্ট। তাহসিন এর কথাতে কি ছিলো? যাহ তাকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলো?
----------
আরহাম এর গাড়ি থামে কলেজ গেটের কাছে। ফরমাল ড্রেস কোড তার। এক কথায় অসাধারণ লাগছে। গাড়ীর ডোর খুলে বেরিয়ে আসতেই ক্যাম্পাসের সকলের নজর কাড়ে সে। আরহাম কোনো দিকে না তাকিয়ে হাটা ধরলো।হাতে তার মেডিসিন বক্স। তাহসিন এর ব্যস্ততার কারণে তাকেই মেডিসিন দিয়ে যেতে বলে কলেজে।

সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় শুনতে পায় কিছু মেয়ের হাসির কণ্ঠ। সেই একাধিক কণ্ঠের মাঝে আরহাম এর কানে সুর তোলে কারোর হাসির ঝংকার। আরহাম এর বুক ধক করে উঠল। কৌতুক নিয়ে এগিয়ে গেলো সেই রুমের দিকে। কিছুটা গেলেই পা জোড়া থেমে যায়। এটা ঠিক নয়। কক্ষটা গার্লস কমেন্ট রুম,,,সেই এক নারির জন্য সবাইকে অসস্তিতে ফেলতে সে পারে না। নিজেকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে সোজা তাহসিন এর কাছে যায়। বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে আড্ডা দেয় তারা।

কলেজ করিডোর থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে আসার সময় সামনে তাকাতেই দেখলো তার মনহরণী কে। যে কি না সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসছে এক মনে।
আরহামের হৃদ স্পন্দন কয়েকগুন বেড়ে গেল মুহূর্তেই ,তার চোখ জোড়া হয়ে উঠলো অস্থির। মনে হচ্ছে আশপাশটা ধোঁয়ায় ধোঁয়া। সে আর তার মনের মালিক ছাড়া কেউ নেই আশেপাশে।।

এদিকে রেশন কোথায় পালাবে ভাবছে! কোন তিথিতে সে নিজের ফোন ভুলল কমন রুমে!?কেনো ভুললো সে? তার গলা শুকিয়ে আসছে, পেট গুর গুর শব্দ করছে। ভারিক্কি নিশ্বাস ফেলে ঝটপট সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে আসতে চাইলেও পা দুটো যেন জমে যাচ্ছে কথাও। এরই মাঝে শুনতে পায় মানব শিথিল কণ্ঠ,,,

"রেশম"

এই বার যেনো রেশম এর শরীর অবশ হয়ে পড়ে যাবে যাবে ভাব। কেন? কেন শুনলো মানুষটার ডাক! কেন তার কণ্ঠ ভীষণ ভাবে চিত্ত আকুল করে দিল রেশম এর !? পিছে ফিরে তাকালো না রেশম। ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো। আবারও শুনতে পেলো।

"কথা বলতে চাই!"

রেশম বাকরুদ্ধ। চোখ বন্ধ করে নেবার সাথে সাথেই ভেসে উঠলো সেদিনের ক্যাফেতে আরামের হাত জড়িয়ে থাকা রমণীর অবয়ব।। আরহাম এবার অস্থির হয়ে রেশমের পিছনে এসে দাঁড়ালো শুকনো ঢুকে বলল,,,"একবার,,,কথা বলতে চাই। তাকাও এদিকে,,,একবার।"

রেশম গরম নিঃশ্বাস ত্যাগ করে হেঁটে চলে যেতে নিলেই আরহাম খপ করে ধরে রেশমের কব্জি। রেশম যেন ছলাৎ করে ওঠে। রাগে ফুঁসে বলে,,,

"এটা কি ধরনের অসভ্যতামি? নেই হাত ছাড়ুন আমার।"

"তাকাও,,,ছেড়ে দেবো?"

রক্ত লাল চোখের রেশম তাকায় আরহামের দিকে।
চোখ ছোট ছোট করে,ভ্রু কুঁচকে বলে,,,

"কেন তাকাবো আমি আপনার দিকে? আর কি কথা বলতে চান আপনি? আমার সাথে আমরা একে অপরকে চিনি না।"

"সত্যিই কি চিনি না? প্রথম দেখা হলে কি,,,কারো প্রতি কারোর এত আক্রোশ থাকে?"

"আমার হাত ছাড়ুন মিস্টার আরহাম?"

"বাহ্,,, প্রথম দেখাতেই নামটাও জেনে গেলে? আমি তো আমার নাম বলিনি।"

রেশম থমথমে খেয়ে যায় তাও দমে যায় না। আপন হাত মুচরাতে মুচরাতে বলে ওঠে,,,"আচ্ছা যখন তখন, যেখানে সেখানে যেকোন মেয়ের হাত ধরে নেওয়া এবং ধরতে দেওয়া এটা কি আপনার চরিত্রের পরিচয়?"

আরহাম ছেড়ে দেয় রেশম এর হাত। এইবার রেশম'কে অবাক করে দিয়ে রেশমের বাহু ধরে সোজা নিজের সান্নিধ্যে নিয়ে এসে মাথা নিচু করে ঝুঁকে পড়ে। চোখে চোখ রেখে বলে,,,

"চরিত্রের পরিচয় তো আমি এভাবে দেবো না। সেটা দেওয়ার ভিন্ন কায়দা আছে। এই যে আমি তোমাকে ছাড়বো,একদম ধরবো অন্য উপায়ে। ট্রাস্ট মি রেশম আর পালাতে পারবে না তুমি তখন।"

কথাটি বলেই এক প্রকার রেশমকে দূরে ঠেলে দিল আরহাম অতঃপর আবারও বলল,,,,"দুর থেকেই অনুভূতির জন্ম আমার এইবার কাছে এসে এই অনুভুতির বহিঃপ্রকাশ ঘটাব রেশম।।"

আর দাঁড়ায় না আরহাম। মাথার মধ্যে চলতে থাকা পরিকল্পনা নিয়ে ত্যাগ করে রেশমের দৃষ্টিকোণ। এদিকে রেশন অবাক, হতবাক চোখের কোনে জমাট বাধা জল যেন মুহূর্তে গড়িয়ে পড়বে ভাব।।
রেশন দেওয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে অবাধ্য নোনা জল গুলো গাল বেয়ে নেমে আসে।। মানুষটা তার প্রথম অনুর াগ, মানুষটা তার শেষ ভালোবাসা। তারপরেও কোথাও একটা জমে আছে অভিমান।।
---------------
শিফা কলেজ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসার পর কিছু মেয়েকে একসাথে দাড়িয়ে কি যেনো ফোন দেখতে দেখে। শুধু মেয়েগুলো দেখছি না হাসাহাসি করছে সাথে বলে উঠছে,,, ' ওয়াও, ড্যাসিং, ভাই এরকম একটা বয়ফ্রেন্ড হলে কতই না ভালো হয়।'
এই সকল কথা শিফাকে আরো কৌতুহলী করে তোলে। সে এগিয়ে গিয়ে মেয়েগুলোকে বলে ওঠে,,,

"কি দেখছিস তোরা?"

মেয়েগুলি ভূত দেখার মত চমকে ওঠে। একে অপরের দিকে তাকিয়ে শিফা বলে,,,"দেখ কাউকে বলবি না প্লিজ।"

শিফাও মাথা নাড়িয়ে বলে,,," বলবো না"

মেয়ে গুলি ফোন সামান্য এগিয়ে দেয় শিফার দিকে। ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই শিফার পায়ের তলা চিনচিন করে ওঠে। চোখ গুলি যেন কঠোর থেকে এবার বেরিয়ে আসবে। ফোনের স্ক্রিনে চলতে থাকা ভিডিওটার মধ্যে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আরিশ এর তেজস্বী ,উগ্র রূপ। এক ছেলেকে সে বেধড়ক পেটাচ্ছে। কোন দিকে তার হুঁশ নেই। হাতে থাকা হকি স্টিক ভেঙে যাবে যেন এবার। শিফার অন্তর লাফাতে থাকে। শুকনো মুখে মেয়েগুলোর দিকে একবার তাকাতেই তারা চোখ মুখ কুঁচকে বলে ওঠে,,,,

"শিফা তুই কিন্তু কাউকে কিছু বলিস না। ওইদিনের সমস্ত ভিডিও সবার ফোন থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। সেই দিন আমি খুব দ্রুত বাড়ি চলে যাই, তাই ভিডিওটা আমার ফোনেই থেকে গেছে।।
আরিশ স্যারের উপর আমরা ক্রাশ আছে,এইরূপে তাকে জোস লাগছে, তাই ভিডিওটা রেখে দিয়েছি। তুই কাউকে কিছু বলবি না তো!?"

শিফা অবলা দের মত মাথা নাড়ায়,,,সে বলবে না।
অতঃপর ধির পায়ে হেঁটে চলে যায়। তার মাথায়,চোখের সামনে ঘুরঘুর করছে সেই ভিডিও। শিফা যেনো শাস নিতে ভুলে। এদিক সেদিক তাকিয়ে শিফা দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে। দৌঁড়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে চাইলে দেখতে পায় গেটের সামনে এক বাইক এর আগমন।

সুঠাম দেহে শার্ট প্যান্ট পড়া আরিশ। রোদে তাকে আরো আকর্ষণীয় লাগছে।চোখে সানগ্লাস, চকচক করছে তার আদল। হাতা কনুই পর্যন্ত গুটানো। বাইক এর পিছন থেকে নেমে দাঁড়ায়। বাইক এর সাথে বাধা দুইটা হকি স্টিক হাতে তুলে নিয়ে কলেজের দিকেই এগিয়ে যায়।

শিফার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো। ভয়ে একেকার সে। আরিশ কে এগিয়ে আসতে দেখে শিফা থরথর করে ওঠে। মনে হচ্ছে সেই ক্রুদ্ধ আরিশ। আরিশ শিফা কে দেখে ভ্রু কুঁচকে তার দিকেই এগিয়ে যায়।
সামনা সামনি দাড়িয়ে কিছু বলতে যাবে কি তার আগেই শিফা মনে প্রাণে দৌড় দেয়। আরিশ যেনো বকা বোন যায়। অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে শিফার দৌড়ে যাওয়ার দিকে।

ক্রমশ
--------------👉

------------------👉সবাই বেশি বেশি করে রেসপন্স করবেন

 #নির্লজ্জ_ভালোৰাসা  #পর্ব_২১👑 - 💋রেমান্টিক এলার্ট 🚫লেখিকা_প্রিঁয়ঁসেঁনীএয়ারপোর্টে মানুষ ভরপুর। সবাই যার যার ব্যাগপত্র ন...
13/06/2026

#নির্লজ্জ_ভালোৰাসা
#পর্ব_২১👑 - 💋রেমান্টিক এলার্ট 🚫
লেখিকা_প্রিঁয়ঁসেঁনী

এয়ারপোর্টে মানুষ ভরপুর। সবাই যার যার ব্যাগপত্র নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। যেন সবাই যার যার গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত।এয়ারপোর্টের বাইরে বিরক্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে তুরা। সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছে আরশির বন্ধুর জন্য, কিন্তু তার আসার খবর নেই। তুরা যখন বিরক্তিতে ছটফট করতে লাগল, ঠিক তখনই পিছন থেকে পুরুষালি কণ্ঠ ভেসে এল।

"এক্সকিউজ মি, আপনি কি মিস তুরা?"

পুরুষালি কণ্ঠ শুনে তুরা চমকে উঠল। সে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখে একটি ছেলে। ছেলেটিকে দেখে তুরা চিনে ফেলল। এই সেই আরশির বন্ধু! আরশি তুরাকে ছবি দেখিয়েছিল। আর আরশির বন্ধু নেহালকেও আরশি তুরার একটা ছবি হোয়াটসঅ্যাপে দিয়েছিল। তাই দুজন দুজনকে চিনতে সময় লাগল না। তুরা নেহালকে দেখে তাড়াতাড়ি স্বস্তিততার সাথে উত্তর দিলো।

"জ্বি,আমি তুরা।"

নেহাল হলো একজন পাইলট। আরশির সাথে তাঁর অনেক আগে থেকেই বন্ধুত্ব। এই সবেমাত্র নেহাল পাইলট হয়েছেন। এর বাইরেও, তাঁর বাবা বিমান, পাসপোর্ট, ভিসা এসবের কন্ট্রাক্টর। তাই এই কারণেও নেহাল এই পেশাটি বেছে নিতে পেরেছে।

নেহাল তুরার কথা শুনে তুরাকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করল।তারপর নেহাল তুরার উদেশ্য সতর্ক ও চিন্তিত কণ্ঠ স্বরে বলল।

"দেখুন মিস তুরা, আমি আরশির কাছ থেকে সব শুনেছি। আর সুইজারল্যান্ড যাওয়ার জন্য আব্বুকে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করে বিমান বুকিংও করে দিয়েছি। কিন্তু পাসপোর্ট আর ভিসা ছাড়া আপনি সুইজারল্যান্ডে গিয়ে কার কাছে যাবেন যেন? (একটু ভাবুক হয়ে) ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে আব্রাহাম রৌদ্র খান, যিনি একজন ওই দেশের নাগরিক এবং একজন বিখ্যাত বিজনেসম্যান। তাঁর সাথে যদি কোনো প্রকার সাক্ষাৎ না করতে পারেন, তাহলে কিন্তু আপনি পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া পুলিশের হাতে ধরা খেতে পারেন। তাই বলছি, বিষয়টা আপনি একটু ভেবে দেখুন।"

নেহালের কথায় তুরা কিছুতেই বুঝতে পারছে না সে কী জবাব দেবে। কারণ সে সত্যি রৌদ্রকে ভালোবাসে। আর তাঁর কাছে যেতে হলে তার যা করতে হয়, সে তাই করবে। যদি মরণও আসে, তবুও তুরা হাল ছাড়বে না।

তুরা গভীর শ্বাস ও সাহস নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ী উত্তরে বলল।

"কোনো সমস্যা নেই। আমি যাবো। সেখানে কী হয় না হয়, সেটা পরে দেখা যাবে। এখন আপনি আমাকে নিয়ে চলুন।"

নেহালের তখনও শেষবারের মতো সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করল।

"মিস তুরা, আপনি শিওর? বিষয়টা কিন্তু অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে?।"

তুরা চোখ বন্ধ করে একটা গভীর শ্বাস নিল। সেই শ্বাসেই যেন সমস্ত দ্বিধা দূর হয়ে গেল।তুরা চূড়ান্ত স্থিরতা স্বরে বলল।

"হ্যাঁ, আমি শিওর।"

এরপর তুরাকে নিয়ে নেহাল তড়িঘড়ি এয়ারপোর্টে প্রবেশ করল। আরশি আগে থেকেই প্রয়োজনীয় টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে, তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পার হতে কোনো সমস্যা হলো না। টার্মিনালের ব্যস্ততা এড়িয়ে নেহাল আর তুরা দ্রুত বিমানের কাছে চলে এল।তুরা কাঁপা কাঁপা পায়ে বিমানের সিঁড়িতে পা দিল। শরীরের প্রতিটি কোষে যেন এক তীব্র অনিশ্চয়তা। যত পা এগোচ্ছে, ততই বুক ধড়ফড়িয়ে উঠছে। যেন বুকে কোনো সামুদ্রিক ঝড় চলছে। তুরা এক মুহূর্তে মানসিক শক্তি সঞ্চয় করে দ্রুত পা ফেলে বিমানে উঠে পড়ল।

বিমানে উঠেই দেখল অনেক যাত্রী। স্বাভাবিকভাবেই তুরা অসংলগ্ন বোধ করল কোথায় সে বসবে? ঠিক তখনি নেহাল বিমানে উঠে তুরার আসন দেখিয়ে স্বচ্ছন্দ কণ্ঠে বলল।

"আপনি এখানে বসেন। এই বিমান আমিই চালাই।"

তুরা নেহালের কথায় কৃতজ্ঞতার এক ঝলক প্রকাশ করে সামান্য মুচকি হেসে সিটে বসে পড়ল। দুর্গম পথের ভয় তুরার আত্মা কাঁপিয়ে দিচ্ছে। পা দুটিও থরথর করে কাঁপছে। নেহাল তুরার সিট বেল্ট বেঁধে দিয়ে তাঁর পাইলট আসনে (ককপিটে) চলে গেল। তুরা চুপচাপ বসে থাকল।

আশপাশে অনেক মানুষ স্বাভাবিকভাবে গল্প করছে, কেউ ফোনে ব্যস্ত। কিন্তু তুরার মনের ভেতরে যেন এক ভয়ংকর নীরবতা। যেন ভয়ংকর কিছু ঘটতে চলেছে। সে নিজেও জানে না, আবেগের বশে সে এক অজানা পথে পা দিতে চলেছে। তুরা জানে না এই আবেগ তাঁকে কোথায় নিয়ে যাবে। ভালোবাসার মানুষের কাছে, নাকি কোনো বিপদের মুখে? সেই ভেবেই যেন তুরার মনে আরও ভয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বেশ কিছুক্ষণ পর বিমানের সব যাত্রী উঠে গেল। বিমানের সিঁড়িও ধীরে ধীরে উপরে উঠে বন্ধ হয়ে গেল। বন্ধ হওয়ার মুহূর্তেই বিমান চলতে লাগল। রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই শব্দে তুরার ভয় আরও দ্বিগুণ বাড়তে লাগল। কিন্তু এইখানে দুই ভিন্ন রকম ভয় এক, ওই দেশে গিয়ে কি রৌদ্রকে খুঁজে বের করতে পারবে? আর তুরা এই প্রথম বিমানে উঠল, তাই তুরার স্বাভাবিকভাবেই ভয় লাগছে।

হঠাৎ বিমান ধীরে ধীরে আকাশে উড়তে লাগল। উড্ডয়নের সেই তীব্র গতিতে তুরা ভয়ে পরনের লেহেঙ্গা খামচে ধরে চোখ বন্ধ করে দিল। আর বিমান আকাশে অনেক উপরে উড়ে যেন এক ঝটকায় মিলিয়ে গেল।

অবশেষে ,তুরা তাহলে চলেই গেল সুইজারল্যান্ড!

এদিকে,,,,

ভাগ্যে কী লেখা আছে, কেউ বলতে পারে না। শুধুমাত্র একজনই বলতে পারেন, আর তিনি হচ্ছেন আমাদের মহান আল্লাহ তায়ালা।আর সেই ভাগ্যের লিখন মেনে, শিহাব আর আরশির বিয়ে হয়ে গেছে! হয়তো বিধাতা আগে থেকেই লিখে রেখেছেন এঁদের দু'জনের বিয়ে হবে। কিন্তু শিহাব এখনো আরশিকে দেখেনি। কারণ আরশি কোনো না কোনো ছলনায় ঘোমটার আড়ালে থেকেছে।

কাজী যখন কবুল বলতে বলেছেন, তখন আরশি আগে পিছে না ভেবে একপ্রকার ভয়েই 'কবুল' বলে দেয়। আর শিহাব তো তুরা মনে করে হাওয়ার গতিতে কবুল বলে দিয়েছে।

ঘোমটার আড়ালে আরশি তখন শিহাবের আর তার জীবন নিয়ে জুয়া খেলার এক ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন। আরশির শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেছে। সে জানে না এই মিথ্যা কবুল তার আর শিহাবের জীবনে কী ভবিষ্যৎ বয়ে যাবে।

বিয়ের আসরে ছেলে-মেয়ে উভয়েই নাচ-গানের তালে তালে নাচ করছে। চারদিকে তখন উৎসবের চরম আনন্দ।আর শিহাব তো তুরাকে (আসলে আরশি) দেখার জন্য হিমশিম খাচ্ছে। কারণ আরশি এখন পর্যন্ত ঘোমটা তোলেনি। ঠিক তখনি আরফা শিহাবের বিষয়টা লক্ষ্য করল। সে মুখ টিপে হেসে এগিয়ে এসে শিহাবের কানে ফিসফিস দুষ্টুমিমাখা স্বরে বলল।

"কী ভাই! বউ দেখার তাড়াহুড়ো বুঝি সইছে না?"

আরফার কথায় শিহাব দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে অধৈর্য কণ্ঠে বলল।

"বুঝোই যখন তাহলে! ঘোমটাটা সরাচ্ছো না কেন?"

আরফা শিহাবের কথায় প্রতি উত্তর দিয়ে মজা করার স্বরে বলল।

"ঘোমটা সরাতে হলে দশ হাজার টাকা দিতে হবে!"

শিহাব আরফার কথায় তাড়াহুড়ো অধীর ও ব্যাকুল কণ্ঠে জবাব দিল।

"বোন! দশ হাজার না, বিশ হাজার নিও! একটু ঘোমটাটা সরিয়ে দাও! আমি একটু দেখি আমার চাঁদের মতো বউয়ের মুখটা।"

শিহাবের চোখে তুরার মুখ দেখার চরম আকাঙ্ক্ষা। সে জানে না, ঘোমটার আড়ালে তার জন্য কী বিরাট চমক অপেক্ষা করছে। আরফা তখন খিলখিল করে হেসে উঠল।

শিহাবের তাড়াহুড়োর মাঝেই আশিক খান এগিয়ে এসে আরশির পাশে বসলেন। তিনি আরশির দুই কাধে হাত রেখে স্নেহের আবদার নিয়ে বললেন।

"মা, এখন ঘোমটাটা তোল। সকলে আমার কলিজার টুকরো মেয়েটাকে দেখুক।"

আশিক খানের কথা শোনে আরশির কলিজা কেঁপে উঠল। দুই হাত মুঠো করে সে কাঁপতে লাগল। বিধাতা তাঁকে কোন বিপদে ফেললেন! ভাবতেই আরশির যেন বুক ফেটে কান্না আসছে। এখন সে কী করবে সেই চিন্তায় যেন আরশি কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছে না।আরফা আরশির পাশে এগিয়ে এসে সকলের উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক স্বরে বলল।

"আমি তোলছি। হয়তো আমার ছোট্ট বোনটা লজ্জা পাচ্ছে।"

কথাটা বলেই আরফা আরশির ঘোমটাটা আস্তে আস্তে তুলে ফেলল। আর আরশি সাথে সাথে মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে ফেলল।তুরার জায়গায় আরশিকে দেখে বাড়ির সকলে যেন বিদ্যুৎ এর ধাক্কা খেল এবং চমকে উঠল। সবার মুখ হা হয়ে গেল। শিহাবের যেন হার্ট অ্যাটাক হলো সে দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ল!

আয়ান চোখ কপালে তোলে হতবাক কণ্ঠ স্বরে বলল।

"আরশিইইই! তুইইইইই!"

বাড়ির নাচ গান এক মুহূর্তেই থমকে গেল। মুহূর্তের নীরবতা যেন সব কোলাহলকে গ্রাস করে ফেলল। সবাই হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। খান বাড়ির কেউ কোনো কথা বলতে পারছে না। তাঁরা যেন কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।

শিহাব ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে বসল। তারপর আরশির দিকে তাকিয়ে চোখ অনেকবার ঝাপসা দিল। যেন সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। শিহাব কাঁপা কাঁপা স্বরে আরশির দিকে তাকিয়ে হতভম্ব কন্ঠে প্রশ্ন করল।

"আ আ আরশি! ত ত তুমি? ত ত তুরা কোথায়?"

আরশি কিছু বলছে না। শুধু মাথা নিচু করে আছে। কী বলবে? সত্যিটা বলে দেবে যে সে তুরাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে? কিন্তু কথাটা বললে তো তুরা নিজের পরিবারের চোখে খারাপ হয়ে যাবে। আর শিহাব, যাকে সে একটু আগে তিন কবুল বলে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেছে, তার কাছে তো পরম দোষী হয়ে থাকবে। এসব ভাবতেই আরশি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।

আনোয়ার খান উদ্বেগ হয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে আরশির কাছে এসে কঠিন স্বরে প্রশ্ন করল।

"আরশি! সত্যি করে বল! তুই এইখানে কেন? আর তুরা কোথায়?"

আনোয়ার খানের কথায় আরশি আরও জোরে কান্না করে দিল। তাঁর কান্না যেন সকলের মনে আরও চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আনোয়ার খান পুনরায় আরশির দিকে তাকিয়ে প্রায় চিৎকার করে চরম উদ্বেগ প্রশ্ন করলেন।

"কীইই হলো আরশি! চুপ করে আছিস কেন? তুরা কোথায়? আর তুই তুরার জায়গায় কেন?"

আরশি কান্না থামাতে পারছে না। সে কোনো উত্তর দিতে পারছে না, আর দেবেই বা কী করে! পর মুহূর্তেই মনে মনে ভাবল সত্যিটা যে কোনোভাবে তাঁকে লুকিয়ে রাখতে হবে। তুরা যে রৌদ্রের কাছে চলে গেছে, এই কথাটা কোনোভাবেই বলা যাবে না। নাহলে শিহাব তুরার জন্য সুইজারল্যান্ডেও চলে যেতে পারে।আরশি এসব ধারণা নিয়ে সত্যিটা লুকিয়ে ফেলল। সে ফট করে মনে সাহস সঞ্চয় করল এবং সকলের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে বলল।

"তুরা নেই! তাঁকে আমি চলে যেতে বলেছি! সে পালিয়ে গেছে! কারণ আমি শিহাব ভাইয়াকে ভালোবাসি, তাই আমি তুরাকে বাধ্য করেছি পালিয়ে যেতে! আর আমি শিহাব কে বিয়ে করে নিয়েছি।"

আরশি কথাটা বলতেই সজোরে থাপ্পড় পড়লো আরশি গালে।বাড়ির সকলেই সেই থাপ্পড়ে আরও চমকে উঠল। পুরো বাড়িটা যেন এক মুহূর্তে থমকে গেল। উৎসবের আলো নিভে গিয়ে অন্ধকার নেমে এল। কেবল আরশির কান্নার শব্দ সেই ভয়াবহ নীরবতাকে মাঝেমধ্যে ভেঙে দিচ্ছে।

সুইজারল্যান্ড,,,,

দীর্ঘ পনেরো ঘণ্টা জার্নি করে বিমান এসে থামল সুইজারল্যান্ডে। বিমানবন্দরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ভেদ করে তুরা বাইরের ঠান্ডা হাওয়া অনুভব করল। নতুন শহর, নতুন মানুষ, চারপাশের বিস্ময়কর স্থাপত্য সব কিছুই কেমন জানি অদ্ভুত ও অচেনা লাগছে তুরার কাছে।

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তুরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সে গন্তব্যহীন, বুঝতে পারছে না কীভাবে সে রৌদ্রকে খুঁজবে। তুরা হাঁটছে আর চারপাশ দেখছে। বরফে ঢাকা পাহাড় আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পথ সবমিলিয়ে এক অত্যন্ত সুন্দর শহর, দেখার মতো যা তুরাকে মুগ্ধ করল।তুরা যখন চারপাশ দেখতে ব্যস্ত, ঠিক তখনি কিছু নোংরা বিদেশি যুবক (ছেলে) তুরাকে দেখে চারপাশে ঘিরে ফেলল। আচমকা বিদেশী ছেলেগুলোকে দেখে তুরা ভয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠল।সবগুলো ছেলের মাঝে একজন ছেলে বিচ্ছিরি মার্কা হাসি দিয়ে বলল।

"Hey, Schönheit! Du siehst aus wie eine Bangladescherin, richtig?"

বাংলা অনুবাদ _"এই সুন্দরী! দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশী নতুন,তাই না?"

তুরা ছেলেটার ভাষা বুঝতে পারল না। পারবেই বা কী করে! কারণ সে বিদেশী ভাষার কোনো অর্থই জানে না। তার চোখে আতঙ্কে ছানাবড়া।
তুরাকে কথা বলতে না দেখে আরেকজন ছেলে পাশ থেকে সব ছেলের উদ্দেশ্যে বলল।

"Bruder, schau dir an, was für eine Beute wir haben! Sie ist wunderschön. Ich habe selten so ein Mädchen aus Bangladesch gesehen"

বাংলা অনুবাদ_ "ভাই! কী মাল দেখেছিস! আর হেব্বি সুন্দরী! আমি এইরকম বাংলাদেশের মেয়ে খুব কমই দেখছি।"

কথাটা বলতেই ছেলে গুলো হা হা করে সকলে হেসে উঠল।যুবকদের নোংরা হাসি আর অশালীন দৃষ্টি তুরার গায়ের ওপর যেন স্রোতের মতো আছড়ে পড়ল। তুরা বুঝতে পারছেনা এরা কী বলছে, কিন্তু তাদের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও হিংস্র চোখ দেখে সে ভয়াবহ বিপদ আঁচ করতে পারছে তুরা।

তুরা অপরিচিত ছেলেগুলোর উদ্দেশ্যে কাঁপা কাঁপা গলায়, প্রায় মিনতির স্বরে বলল।

"ভাইয়ারা,কারা আপনারা? আমি আপনাদের চিনি না। আমার পথ ছাড়েন বলছি!"

তুরা কথাটা বলেই যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই, ছেলেগুলো আরও শক্তভাবে চারপাশ ঘিরে ধরল। একজন ছেলে তুরার গায়ে নোংরা ভাবে স্পর্শ করতে করতে বলল।

"Hey, Baby! Was ist die Eile? Komm mit uns, wir geben dir viel Geld. Gib uns einfach nur Spaß।"

বাংলা অনুবাদ_ "হেই বেইবি! এত তাড়া কিসের? আমাদের সাথে চলো, অনেক টাকা দেব। শুধু আমাদের মজা দেবে।"

এইভাবে শরীরে নোংরা স্পর্শ করা দেখে এক মুহূর্তে তুরা ভয়, মনের আতঙ্ক সবকিছু ভুলে গেল। সে সজোরে থাপ্পড় মারল ছেলেটির গালে।তুরা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে তীব্র ঘৃণা চোখে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলল।

"বাসায় কি মা বোন নেই আপনাদের? রাস্তায় মেয়ে দেখলেই গায়ে হাত দিতে ইচ্ছে করে? ছিহ্হ্!"

তুরার এই অপ্রত্যাশিত প্রতিবাদে সব ছেলে রেগে ফেটে উঠল। যাকে তুরা থাপ্পড় মেরেছে, সেই ছেলেটি গালে হাত দিয়ে সব ছেলের উদ্দেশ্যে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল।

"Was zum Teufel starrt ihr an? Packt dieses Ding! Wie wagt sie es, mich anzufassen? Heute zeige ich ihr den Preis dieses Mutes. Steht nicht einfach nur herum, packt sie!"

বাংলা অনুবাদ_ "এই! তোরা দেখছিস কী? এই মালটাকে ধর! ওর কত বড় সাহস আমার গায়ে হাত তোলে! আজ দেখাবো এই সাহসের দাম। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিস কী? ধর একে!"

ছেলেটির কথা শুনে একজন যুবক দ্রুত এগিয়ে এসে তুরার হাত চেপে ধরল। ছেলেটির কঠোর স্পর্শে তুরা বুঝতে পারল ছেলেগুলো মোটেই ভালো নয়। আর সে যে খুব বিপদের মধ্যে পড়ে গেছে তা খুব ভালো করেই বুঝে গেল, এখন যে সে কী করবে ভেবেই পাচ্ছে না। বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসেবে তুরা সাহস জোগাড় করে ছেলেটির হাতে কামড় বসাল।

ছেলেটি তুরার কামড়ে যন্ত্রনায় চিৎকার করে উঠলো।

"Aua! Lass los!"

বাংলা অনুবাদ_"উহ! ছাড়!"

তুরা চারদিকে তাকাল এইখানে থাকা যাবে না। নাহলে তার সব শেষ হয়ে যাবে। তুরা কোনো কিছুই না ভেবে তার লেহেঙ্গা সামান্য উঁচু করে ধরে দিল দৌড়। ছেলেগুলোও তুরাকে ধরার জন্য পিছু ছুটল।

তুরা দৌড়াচ্ছে, হঠাৎ তুরার রৌদ্রের কথাটা মনে পড়ল। রৌদ্র ঠিকই বলেছিল, এই দেশটা ভালো না। এই দেশে মেয়েদের কোনো সম্মান নেই। যা আজ তুরা প্রমাণ পেল। এখন রৌদ্রের ঘৃণা করা দেশটা তুরারও ঘৃণার দেশে পরিণত হয়ে গেল। একটু আগে যেই দেশটা দেখে তুরা মুগ্ধ হয়েছিল, তা এক নিমিষেই তুরার কাছে ঘৃণায় পরিণত হলো।তুরার শরীর দুর্বল হয়ে আসছে। সে আর দৌড়াতে পারছে না। পা যেন থেমে আসছে। ছেলেগুলো প্রায় তুরার কাছাকাছি।

তুরা দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ একটা দামি, কালো বিদেশি গাড়ির সাথে হালকা ধাক্কা খেল। সে সামান্য ব্যথা পেল, কিন্তু তেমন আঘাত পেল না। কারণ গাড়িটা তুরার আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই তুরা এই বিরাট বিপদ থেকে রক্ষা পেল।

গাড়িটির ঠিক পিছন পিছন আরও ছয়টি কালো রঙের বিলাসবহুল গাড়ি এসে সারি বেঁধে থামল। পুরো এরিয়াটা যেন এক মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল। তুরা অত্যন্ত দুর্বল শরীরে চোখ তুলে গাড়ির দিকে তাকাল। নোংরা ছেলেগুলো ততক্ষণে প্রায় কাছে চলে এসেছে।তুরা একবার পিছনে মৃত্যুসম ছেলেগুলোর দিকে তাকাল, আবার সামনে জীবনের শেষ আশা গাড়িগুলোর দিকে তাকাল। তুরার শরীর হেলে পড়ছে। চোখে ঝাপসা দেখছে। যে কোনো সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে।

তুরা ঝাপসা ঝাপসা চোখে সামনের গাড়িটির দিকে তাকাল। ধীরে ধীরে গাড়িটির জানালার কাচ খুলে গেল। সেই একই মুহূর্তে, পিছনের গাড়িগুলো থেকে কয়েকজন সুঠামদেহী বডিগার্ড এসে প্রথম গাড়িটির ডোর খুলে দিল।আর ডোর খুলে দেওয়ার সাথে সাথে গাড়ি থেকে কারও বাম পা বের হলো।

পরের মুহূর্তেই গাড়ির ভেতরে থাকা মানুষটা যেন এক গতিময় ছায়ার মতো বের হয়ে পড়ল। আর সেই মানুষটা আর কেউ নন তুরার হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা! যার জন্য সে কতদিন যন্ত্রণা অনুভব করেছে, যাকে প্রতি নিঃশ্বাসে মিস করেছে। যার জন্য সে মৃত্যুকে উপেক্ষা না করে এতদূর এসেছে।

সেই ব্যক্তি আর কেউ নয় সয়ং_আব্রাহাম রৌদ্র খান!

রৌদ্রের কালো ওভারকোট, সুগঠিত চেহারা আর তীব্র, শীতল চোখ এক অপরিচিত শহরে তুরার কাছে চিরচেনা এক স্বর্গ মনে হলো। সেই মুহূর্তে রৌদ্রের উপস্থিতি তুরার কাছে শুধু তাঁর ভালোবাসার মানুষ নই, যেন সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তির এক অভেদ্য প্রাচীর হয়ে এসেছে রৌদ্র।

রৌদ্রকে দেখেই তুরার শুকনো ঠোঁটে যেন এক স্বর্গের হাসি ফুটে উঠল। মনের ভেতর যেন এক বুক ভরা শান্তি বয়ে গেল। চারপাশের সব বিপদ এক মুহূর্তে তুচ্ছ হয়ে গেল।দুজনে দু'জনের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। রৌদ্র যেন নড়তেও ভুলে গেছে। তাঁর চোখ একদম তুরার দিকে স্থির।

তুরা আর নিজেকে সামলাতে পারল না। দুর্বল শরীরেই হেলতে হেলতে প্রায় দৌড়ে রৌদ্রের কাছে এসে রৌদ্রকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। সেই আলিঙ্গনে ছিল দীর্ঘ বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, আর ভয়াবহ বিপদ থেকে মুক্তির স্বস্তি।তুরা দুর্বল ও শান্তি মেশানো স্বরে রৌদ্রের কানে ফিসফিস করল।

"রৌদ্র....!"

নামটা নিয়েই তুরা নুইয়ে পড়ল রৌদ্রের বুকে। তুরার চোখ বন্ধ হয়ে গেল। আর আস্তে আস্তে সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল। চরম ক্লান্তি ও মানসিক চাপের ফলে তুরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।

অবশেষে তুরা আর রৌদ্রের আবার দেখা হলো! আর একম সঠিক জায়গায় তুরা সেন্সটা হারালো।

চলবে....!

ধন্যবাদ সবাইকে...!

~~~~~~~~~~~~
সবাই বেশি বেশি করে রেসপন্স করবেন।
~~~~~~~~Safe Motivation

🚫( প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত।১৮+এলার্ট #প্রেম_নাকি_পৱকীয়া  #পর্ব_১১লেখিকা মৌসুমি চৌধুরীএয়ারপোর্টের বাইরে আসতেই তাদ...
13/06/2026

🚫( প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত।১৮+এলার্ট
#প্রেম_নাকি_পৱকীয়া
#পর্ব_১১
লেখিকা মৌসুমি চৌধুরী

এয়ারপোর্টের বাইরে আসতেই তাদের জন্য নির্ধারিত গাড়িতে করে রওনা হলো তারা হোটেলে চেক ইন করার জন্য। ভোরের আলো তখনও ভালো করে ফোটেনি। শেষ রাতের নীলচে আলোর মাঝে রাস্তার সোডিয়াম বাতিগুলো অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছিলো।পারমিতার কাছে গাড়ির জানালা দিয়ে যতদূর দেখা যায় সবই ভালো লাগছিলো।এই প্রথম সে দূরে কোথাও বেড়াতে এলো।অফিসিয়াল ট্যুর হলেও লং জার্নির সময়টা সে ভালোই উপভোগ করছে।

একটু বেশিই যেন শীত শীত করছে তার। গায়ের চাদরটা খুলে ভালোভাবে জড়িয়ে নিলো সে। অতনু তখন ঘুমিয়ে কাদা। ঘুমন্ত চেহারাটা যেন একটা নিষ্পাপ শিশুর আদলে গড়া। স্বপ্ন দেখছে বোধহয় তাই ঠোটের কোনে এক চিলতে হাসি। এ কদিন যা গেছে তার পরে আজ যেন শান্তিতে ঘুম এসেছে। তার না বলা অনেক কথা ও বুঝে যায় সে। তাদের মধ্যে যেন একটা অদৃশ্য মাধ্যম আছে মনের কথা প্রকাশ করার। কেউ কিছু না বলেও কত কথা বলে যায়...

মেরিন ড্রাইভ দিয়ে গাড়িটা এগুতে লাগলো। পারমিতা গাড়ির সিটে গা এলিয়ে দিলো আবার একটু যেন চোখ লেগে আসলো তার। গাড়িটা থামতেই দুজনের ঘুম ভেঙে গেলো। নেমে এসে লাগেজ টেনে ভেতরে ঢুকতেই রিসার্ভ করা হোটেল রুমের চাবি বুঝে নিয়ে যার যার রুমে ঢুকে। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে পারমিতা একটু অবাক হলেও দরজাটা খুলে দেখে অতনু দাঁড়িয়ে। সে কিছু বলার আগেই তার চোখ দু'হাতে ঢেকে বললো, চুপচাপ চলো তো আমার সাথে।

কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমায়?...বললো পারমিতা।

আমাকে কি ভরসা করা যায়?...অতনু জানতে চাইলো।

এখন পর্যন্ত তো মনে হচ্ছে যায়, পরের কথা জানিনা...

তাহলে এখন না হয় ক্ষণিকের জন্য অন্ধ বিশ্বাসটা ধরে রাখো আমার প্রতি...বলে হাসলো অতনু।

হেটে হেটে অনেকটা দূর চলে এসেছে বলে মনে হলো পারমিতার। সে বললো, আর কতদূর জনাব...

এই তো চলে এসেছি, আরেকটু ধৈর্য্য ধরো।

এভাবে কি হাঁটা যায়, তাও আবার শাড়ি পড়ে!!! হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে কি কেলেংকারী টাই না হবে...

আরে পড়বেনা পড়বেনা, আমি আছিতো নাকি...

কিছুদূর যেতেই পারমিতার কানে ভেসে আসতে লাগলো সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন।চোখ থেকে মনে হয় হাত সরে গেলো। ধীরেধীরে চোখ মেলতেই দেখলো সেই নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের ফুলেফেঁপে গর্জে ওঠা অপার্থিব সৌন্দর্য্য। খুশিতে মন নেচে উঠলো তার। সাগর যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাকে। অবাক বিস্ময়ে চেয়ে দেখতে লাগলো প্রকৃতির রুপ।

অতনুর দিকে তাকিয়ে সে বললো, তুমি এজন্যেই আমাকে এত জোর করে আনলে ট্যুরে!!!

অতনু মৃদু হাসলো...

পারমিতা বললো, তুমি সমুদ্র ভালোবাসো অতনু?

আমি তোমাকে ভালোবাসি পারমিতা।

পারমিতা মুচকি হেসে অতনুর হাতটা ধরলো...তারপর তাকে সাথে করে একছুটে নেমে গেলো সমুদ্রের জলে।

অতনু অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো আর পারমিতা বললো, স্বপ্নের মানুষটার আসনে আজ তোমায় বসালাম।

অতনু পারমিতার মুখটা দু'হাতে তুলে ধরে তার কপালে চুম্বন একে দিলো। পারমিতা লজ্জায় মাথা নত করে অতনুর বুকে যেন মিশে যেতে চাইলো। তাদের এই মধুর আলিঙ্গনের সাক্ষী হয়ে রইলো প্রভাতে উদীয়মান সূর্যের কিরণ। এক নতুন সূর্যোদয় যেন তাদের জীবনকে রাঙিয়ে দিতে রাজসাক্ষীর ভূমিকায় থাকলো।

তারপর দু'জনেই যেন ক্ষণিকের জন্য নীরব থেকে অনুভবে সুখ খুঁজে নিতে চাইলো। একসময় অতনু বলে উঠলো, তুমি খুশি হয়েছো তো পারমিতা?

হুম...খুউব খুশি আমি।

অতনু হেসে বললো, সমুদ্র ভালো লেগেছে তোমার?

অন্নেক ভালো...জোর দিয়ে বললো পারমিতা।

আর আমি?...বলে অতনু জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইলো।

তুমিইইই...জানিনা যাও... বলে এক পা এক পা করে পিছিয়ে পারমিতা দৌড় লাগালো। আর অতনুও তাকে ধরতে দৌড়তে দৌড়তে এসে কোমর জড়িয়ে ধরলো।

তারপর দু'জনের প্রাণ খোলা হাসির আওয়াজ যেন সমুদ্রের গর্জনকেও হার মানালো। সবকিছু ছাপিয়ে তাদের সঙ্গসুখটাই যেন আর সবার চোখে পড়লো।অন্যান্য যারা সূর্যোদয় দেখতে এসেছিলো বীচে তারা চেয়ে রইলো তাদের দিকে। একজন ফটোগ্রাফার ক্লিক ক্লিক করে কটা ছবি তুলতেই পারমিতার অন্তরাত্মা যেন কেঁপে উঠলো, সে ভয় পেয়ে অতনুর দিকে তাকিয়ে তার হাতটা শক্ত করে ধরলো।

অতনু এগোতেই ফটোগ্রাফার ছেলেটা হাসিমুখে বললো, স্যার এই সুন্দর মূহুর্তগুলো তো ক্যামেরাবন্দী না করলেই নয়...ছবিগুলো হাতে পেলেই বুঝবেন যে কত অমূল্য।

তারপর অতনুর কাছ থেকে হোটেলের নাম আর রুম নম্বর নিয়ে বললো সন্ধ্যায় দিয়ে আসবো। অতনু জানতে চাইলো, ছবি কি আরো তুলেছো?

ছেলেটা বললো, আপনার আর ম্যাডামের একসাথে বেশ কটা তুলেছি।

ওর কটা সিঙ্গেল পিক তুলে দিও...বলে তাকাতেই দেখলো পারমিতা পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

পারমিতা অতনুর কানে মুখ নিয়ে বললো, আমার একা ছবি দিয়ে হবে টা কি?

অতনু বললো, স্মৃতি হয়ে থাকবে...তোমার কাছে। আর কাপল পিকগুলো আমি নিয়ে যাবো।

পারমিতা আরক্তিম নয়নে চেয়ে রইলো। তাদের এই বন্ধন যে ক্ষণিকের সুখ আর তারপরেই বিচ্ছেদ, সেই বেদনার সুর যেন সে এখন থেকেই শুনতে পাচ্ছে...

হোটেলে ফিরে এসে যার যার রুমে ঢুকে স্নান করে রেডি হয়ে নাস্তা সেরে নিলো দু'জনেই। তারপরই কনফারেন্সের জন্য ছুটলো ফাইলপত্র গুছিয়ে।পারমিতা একটু নার্ভাস বোধ করছিলো যদিও তবু অতনু পাশে আছে বলে সাহস পেলো। অন্যান্য যারা ছিলো তাদের অনেকের সাথেই কুশল বিনিময় হলো। আর সে খুব মন দিয়ে যতটা সম্ভব কনফারেন্স এটেন্ড করলো। নতুন অনেককিছু জানতে পেরে ভালো লাগছিলো তার। অতঃপর সবার সাথে লাঞ্চ করে বেরুতে পারলো তারা। অতনু জিজ্ঞেস করছিলো যে সে বোর তো হয়ে যাচ্ছেনা...শুনে পারমিতা বললো, তুমি পাশে থাকলে বোর হবার প্রশ্নই আসেনা।

তারপর দু'জনে আর হোটেলে ফিরলোনা। সূর্য যখন মাথার ওপর তখন সেই পড়ন্ত বিকেলে সাগর তীরের তপ্ত বালুতে পা রেখে এগিয়ে গিয়ে অতনু একটা ছাউনির নিচে আধশোয়া হয়ে ঢেউয়ের আছড়ে পড়া দেখতে লাগলো। পারমিতা এসে বসতে নিতেই অতনু তাকে হাত টান মেরে নিজের দিকে নিয়ে আসলো। পারমিতার মুখ যেন রক্তিম বর্ণ ধারণ করলো। সে বললো, সবাই দেখছে...

অতনু বললো, এখানে কারুর অন্যের জন্য নষ্ট করার মতো অতো সময় নেই...সবাই নিজ নিজ কাজে মত্ত...বলে দুষ্টুমি ভরা চোখে তাকালো পারমিতার দিকে।

পারমিতা লজ্জা পেয়ে বললো, তুমি সমুদ্র দেখতে এসেছো না অন্যকিছু?

আমিতো তোমাকে দেখতে এসেছি, যত কাছে থেকে দেখা যায়...বলে হাসলো অতনু।

পারমিতা কনুই দিয়ে অতনুর পেটে গুতো দিয়ে বলে, তাই না...কিন্তু আমার তো সমুদ্র দর্শনেই আগ্রহ...তাহলে তুমি থাকো আমি বরং যাই সাগরের কাছাকাছি।

পারমিতা হাসিমাখা চেহারায় উঠে গিয়ে ধীর পায়ে বালুতটে হেটে হেটে সমুদ্রের দিকে যখন যাচ্ছিলো ঠিক তখনই সেই ফটোগ্রাফার এলো অতনুর কাছে। তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই অতনু বললো, ঝটপট কটা স্ন্যাপ নিয়ে নাও ম্যাডামের...আর সাথে সূর্যাস্তের লালিমা ছড়ানো আকাশটা যেন ভালো মতো আসে।

ফটোগ্রাফার শুনে ফিক করে হেসে দিয়ে বলে, স্যার ওসব কেরামতি আমাদের শেখানো লাগেনা...রোজই তো দেখছি, তাই জানি কিভাবে ছবি তুলে দিলে মনে গেথে যাবে চিরকালের জন্যে।

অতনু মৃদু হেসে বললো, আচ্ছা কথা না বলে তাড়াতাড়ি তোলো...ম্যাডাম যেন বুঝতে না পারে।

পারমিতা নিজের মনে সমুদ্রের ঢেউ গুনছে যেন, আর কোনদিকে তার খেয়াল নেই। ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে তার পায়ে, ভীষণ ভালো লাগায় মন ছুয়ে যাচ্ছে।

পটাপট কয়েকটা ছবি তুলে নিয়ে ফটোগ্রাফার ছোকরাটা বললো, স্যার আপনিও যান না...আরো কটা তুলে দেই...আপনাকে আর ম্যাডামকে মানিয়েছে ভালো...সেই জুটি আপনাদের 👌

অতনু খুশি হয়ে বললো সত্যি বলছিস?

ছোকরা বত্রিশ পাটি বের করে বলে ভগবানের দিব্বি স্যার আপনাদের রোমিও জুলিয়েট ছাড়া কেউ কিছু বলবেনা।

অতনু উঠে যায় সমুদ্রের দিকে, পারমিতা যেখানটায় দাঁড়িয়ে আছে ঠিক তার পাশ ঘেষে দাঁড়ায়। দুজনেই একসাথে ঢেউ মাখে পায়ে।তারপর বালুতে বসে সূর্যের সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়া সদৃশ অস্ত যাওয়া দেখে হোটেলে ফিরে যায়।

পারমিতা ফ্রেশ হয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে যখন ছেড়ে দেয়া কাপড় বারান্দায় শুকোতে দিতে গেলো তখন সি ভিউ হোটেল রুম দেখে তার চোখ ছানাবড়া অবস্থা। অতনু যে তার জন্য এতখানি করবে তা সে ভাবতে পারেনি...

তারপর চেয়ার টেনে বসে সমুদ্র দেখতে দেখতে ভাবলো এখন ডিনার টাইম পর্যন্ত এতটা সময় জেগে থেকে সে কি করবে। ভাবতে না ভাবতেই রাজনকে একটা কল করা উচিত মনে হলো, অথচ সারাদিনে একবারও তার মনে হয়নি। রাজন কি ভাবছে কে জানে...

রিং হচ্ছে রিং হচ্ছে অতপর রাজন হ্যালো বলতেই পারমিতা জানালো যে সে ভালো আছে আর কনফারেন্স ও ভালো লাগছে তার।

সেটা তোমার কন্ঠ শুনেই বুঝতে পারছি...বললো রাজন।

পারমিতার মনে হলো তার হৃদপিণ্ড যেন এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেলো। রাজন কি সব বুঝে ফেলেছে। তার নিজের অগোচরে মনের গহীনে যে খুশি লুকায়িত তা কি কন্ঠস্বরে ধরা পড়ে গেছে!!!

এসব ভাবনা যখন তাকে গ্রাস করছে ঠিক তখনি রাজন বলে উঠলো, কিছু বলছোনা যে?

কি বলবো?...পারমিতা বললো।

আমাকে বলার কিছু যদি নাই থাকে, তবে কল ধরে না থেকে কেটে দিলেই পারো...বললো রাজন।

তুমি ভালোভাবে থেকো, ঘরের খেয়াল রেখো, সময়মত খেয়ো...আর কিছু বলার জন্য খুঁজে পেলোনা পারমিতা।

আচ্ছা, রাখছি...বলে রাজন কল রাখলো।

পারমিতা চুপচাপ বসে ভাবতে লাগলো, শেষ কবে সে রাজনের সাথে একটানা দীর্ঘসময় ধরে ফোনে কথা বলেছিলো...তাদের সম্পর্কটা বোধহয় তার অনুমানের চেয়েও বেশি নিষ্প্রাণ।

এসব ভাবনায় বুদ হয়ে যখন সে একাকার ঠিক তখনই অতনুর কল আসলো। হ্যালো বলতেই...অতনু বললো, একা একা বসে আছো তবুও আসছোনা কেন?

রাজনকে কল দিয়েছিলাম, তার সাথে কল বলছিলাম তাই...বলতে নিয়েও যেন গিলে ফেললো কথাটা। পারমিতার মনে হলো রাজনের কথা তুলে অতনুকে সে আর দুঃখী করবেনা। থাক না দুদিন হাসিখুশি দুজনে।

সে বললো, তুমি কি মনে করো তাই ভেবে আসিনি।

তুমি নিজে থেকে আসলে আমি খুশিই হবো আর কিছু ভাববার জো নেই।

পারমিতা যেন চাবি দেওয়া পুতুলের মতো অতনুর কথায় নিজের রুম থেকে বের হয়ে ডোর লক করে অতনুর দরজায় নক দিলো। অতনু তার উদভ্রান্ত চেহারা দেখেই বুঝতে পারলো কিছু একটা খুব ভাবাচ্ছে তাকে। তাই সে যতটা উচ্ছ্বাস নিয়ে দরজা খুলেছিলো ঠিক ততটাই যেন হতাশ হলো।

কি হয়েছে তোমার বলবে আমাকে?
সে শুকনো হেসে বললো, কই নাতো আমি ভালো আছি।

না, তুমি আর আমার পারমিতা নেই। এ কাকে নিয়ে এসেছো বলো তো?

পারমিতা শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।

অতনু বললো, দেখ পারমিতা আমি তোমাকে হয়তো একতরফা ভালোবাসি...কিন্তু তুমি বন্ধুত্বের খাতিরে আর সিমপ্যাথি দেখিয়ে আমাকে আশা জাগিয়োনা। আমি তোমার বন্ধু কিংবা তোমার ভাষায় বস যাই হই না কেন তোমার অনিচ্ছাসত্ত্বে তোমাকে ছোয়ার ধৃষ্টতা যেন কখনো না করি তা মনেপ্রাণে চাইবো। আমার ভালোবাসা যদি তোমার কাছে হ্যারাসমেন্ট বলে মনে হয়, তবে তার আগে আমার মরণ ভালো।

পারমিতা অতনুর মুখে হাত রেখে তাকে থামায় আর বলে, ভুল হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দিও। অতনু তাকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় শুয়ে থাকলো। কিন্তু পারমিতার মনে যে দোলাচল তখনো চলছিলো তা অতনু জানেনা...

ডিনার টাইমে তারা একসাথে হোটেলের ডাইনিং রুমে ডিনার সেরে এসে যার যার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। পরদিন সকালে পারমিতা খুব ভোরে উঠে স্নান সেরে রেডি হয়ে তার প্রেজেন্টেশন এর রিহার্সাল করতে থাকলো তারপর অতনু এসে ডাকতেই ব্রেকফাস্ট সেরে চুপচাপ চলে গেলো কনফারেন্স এটেন্ড করতে। প্রেজেন্টেশন সে ভালোই দিলো...সবার অনেক বাহবা পেয়ে মন একটু যেন হালকা লাগছিলো।

লাঞ্চের পর আজ আর কোথাও না গিয়ে সে মাথা ধরেছে বলে হোটেলে ফিরে নিজের রুমে শুয়ে থাকলো। অতনু নীরবে শুধু দেখে যেতে লাগলো পারমিতার নির্লিপ্ততা..সে তার রুমে কিছু জরুরি কল করে বসে ভাবতে লাগলো কেন হঠাৎ পারমিতা এতো বদলে গেলো।

সূর্যাস্তটা আজ বারান্দায় বসেই দেখলো পারমিতা। সি ভিউ রুম হওয়ায় এখান থেকেও বেশ দেখা যায়। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতন উথাল-পাথাল যেন তার মনের মধ্যেও চলছে...

রাত গভীর হলে অতনু বারান্দায় এসে দেখে একফালি চাঁদ যেন আকাশটাকে সাজিয়ে রেখেছে আর জ্যোছনা বিলাচ্ছে। সে তাকিয়ে দেখে পাশের বারান্দায় অন্ধকারে বসে পারমিতা নির্নিমেষ তাকিয়ে রয়েছে আকাশের পানে। দেখে যা বোঝার বুঝে আর দেরি না করে এসে পারমিতার দরজা নক করে। সে দরজা খুলতেই তার হাত ধরে কিছু না বলেই তাকে নিয়ে যায় সমুদ্রসৈকতে। জ্যোছনায় যেন চারিদিক ভেসে যাচ্ছে। পারমিতার হাত ছেড়ে দিয়ে সে বলে চেয়ে দেখ পূর্ণিমা রাতে তোমার প্রিয় সমুদ্র কত সুন্দর দেখায়। পারমিতা তাকিয়ে দেখে সমুদ্রের জলে চাঁদের আলো পড়ে যেন চিকচিক করছে আর চারিদিক ফকফকা আলো হয়ে আছে। বালুতটে যেন জোছনার আলোয় তাদের দুজনের দুটি ছায়া সুস্পষ্টভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পারমিতা সেদিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ আপনমনে খুব ধীরে ধীরে হাটতে হাটতে সমুদ্রের দিকে পা বাড়ালো।ঢেউয়ের দিকে যেতে যেতে সে গভীর জলে নামলো, কি ঘটতে যাচ্ছে বুঝতে অতনুর একটু সময় লাগলেও সে দৌড়ে জলে নেমে পারমিতার কাছে গিয়ে তাকে টেনে নিজের দিকে ফেরাতেই দেখে যে তার চোখ ভেসে যাচ্ছে কান্নার নোনাজলে।

অতনু কিছু বুঝতে না পেরে তার কাধ ঝাকিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে, কি করতে যাচ্ছিলে তুমি?...মরে যেতে চাও!!! কেন???

পারমিতা অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে বলে...আমি কি করবো বলে দাও...ভালোবাসি অতনু...তোমার থেকে নিজেকে কি করে দূরে সরিয়ে রাখবো...বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

অতনু তার কান্নাভেজা মুখ দুহাতে তুলে ধরে পারমিতার ওষ্ঠে চুমু খেতে থাকে ক্রমাগত, যেন ভালোবাসা দিয়ে আজ সব কষ্ট ভুলিয়ে দেবে। একসময় পারমিতাও সারা দিয়ে ওষ্ঠে ওষ্ঠ মিলিয়ে ভালোবাসা বিনিময় করে। একটানা চুম্বনে যেন দুজনেরই সময়ের হিসেব নেই, দুজনেই আজ দু'জনার হতে প্রস্তুত, চন্দ্রালোকিত সেই সমুদ্রসৈকতে তাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পায়।

চলবে

আপনাদের রেসপন্স এর ওপরে পরের পর্ব আসবে,,,, তাই সবাই বেশি বেশি করে রেসপন্স করবেন। #রোমান্টিক #গল্প #নতুন

Address

Rajshahi

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Safe Motivation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Safe Motivation:

Share