13/06/2026
💋১৮+ রোমান্টিক এলার্ট
#শহৱে_প্রেমেৱ_ঘ্রাণ
#পর্ব_১০_বর্ধিতাংশ
হৈচৈ শব্দে মুখরিত ক্লাস মুহূর্তেই শান্ত হলো তাহসিন এর প্রবেশে। নিজের গভীর চোখ মেলে ক্লাসের মাঝ বরাবর তাকালে তার আঁখি শিথিল হয় মুহূর্তেই। গত রাত থেকেই ছটফট করতে থাকা চিত্ত যেনো ধুকপুক শব্দে তার অস্তিত্ব জানান দেয়।তাহসিন ক্লাসের সবাই কে এক প্রকার অগ্রাহ্য করে এগিয়ে যায় তানিয়ার দিকে।
এদিকে তানিয়া বকবাকুম হয়ে গেছে। হঠাৎ করে তাহসিন এর প্রবেশে সে কিছুটা অবাক হয়। চোখে মুখেই প্রকাশ পায় তার চমক ভাব। আবার এখন ছেলেটা'কে তার দিকেই এগিয়ে আসতে দেখে শরীর চনমন করে ওঠে। কিন্তু তানিয়ার সব ভাবনা মিশে যায় যখন দেখে তাহসিন তার বেঞ্চ থেকে দুই বেঞ্চ পিছে গিয়ে দাড়ায়। তাহসিন কে দেখেই সেই বাঞ্চের ধারে বসে থাকা মেয়েটি দাঁড়িয়ে পরে। তানিয়া সবটাই পরখ করে।
মেয়েটি দাঁড়িয়ে মাথা নত করে। তার দেহের কাপা ভাব বলে দিচ্ছে মেয়েটি তাহসিন কে দেখে নার্ভাস।
তাহসিন মেয়েটির দিকে না তাকিয়েই তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটি চিরকুট বের করে মেয়েটির সামনে রেখে অতি ধীর লয়ে হলে,,,
"আমি চাইলেই নিঃশব্দে এই চিঠির জবাব দিতে পারতাম কিন্তু মনে হলো তোমার সামনে দাড়িয়ে প্রত্যাখান করলে তুমি বুঝবে।। পড়াশোনায় মন দাও,,,এই সময় তোমার জীবনে এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
তাহসিন এর কথায় মেয়েটি ফুপিয়ে ওঠে। নিস্তব্ধ কক্ষে সবার কানের গেছে তাহসিন এর কথা। তাহসিন জায়গা ত্যাগ করতে গেলে মেয়েটি নাক টেনে বলে ওঠে,,,"আমি তোমাকে ভালো,,,,"
তাহসিন আর বলতে দিলো না। গলার স্বরে জোর মিশিয়ে তাকালো তানিয়ার দিকে,,যে কিনা অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছে তাকে। তাহসিন বলে ওঠে,,,
"সম্ভব না,,,আমি চাই কাউকে।"
সমস্ত ক্লাস তাহসিন এর কথায় চমকে উঠলো। মুহূর্তেই শুরু হলো ক্লাস জুড়ে ফুসফুসানি। তাহসিন কে পুরো কলেজের সবাই চেনে। রগচটা,বদমেজাজি ছেলে সে। রাজনীতির সাথে জড়িত,,,কানে কানে খবর এসেছে এবার এম. এল. এ ভোট সে দাঁড়াবে। তাহসিন এর কথা কম, হাত বেশি চলে। তাই কলেজের সবাই তাকে এড়িয়ে, বেঁচে চলাচল করে। এই মেজাজি ছেলেও কাউকে চাইতে পারে! এটা যেনো উত্তর দিকে সুর্য উদয় হওয়ার ন্যায় অবাক বিষয়।
তাহসিন দাঁড়ায় না। তার গভীর চোখে এক বার তানিয়া'কে পরখ করে বেরিয়ে যায় ক্লাস থেকে। তানিয়ার চোখে মুখে বিস্ময় ভাব স্পষ্ট। তাহসিন এর কথাতে কি ছিলো? যাহ তাকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলো?
----------
আরহাম এর গাড়ি থামে কলেজ গেটের কাছে। ফরমাল ড্রেস কোড তার। এক কথায় অসাধারণ লাগছে। গাড়ীর ডোর খুলে বেরিয়ে আসতেই ক্যাম্পাসের সকলের নজর কাড়ে সে। আরহাম কোনো দিকে না তাকিয়ে হাটা ধরলো।হাতে তার মেডিসিন বক্স। তাহসিন এর ব্যস্ততার কারণে তাকেই মেডিসিন দিয়ে যেতে বলে কলেজে।
সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় শুনতে পায় কিছু মেয়ের হাসির কণ্ঠ। সেই একাধিক কণ্ঠের মাঝে আরহাম এর কানে সুর তোলে কারোর হাসির ঝংকার। আরহাম এর বুক ধক করে উঠল। কৌতুক নিয়ে এগিয়ে গেলো সেই রুমের দিকে। কিছুটা গেলেই পা জোড়া থেমে যায়। এটা ঠিক নয়। কক্ষটা গার্লস কমেন্ট রুম,,,সেই এক নারির জন্য সবাইকে অসস্তিতে ফেলতে সে পারে না। নিজেকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে সোজা তাহসিন এর কাছে যায়। বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে আড্ডা দেয় তারা।
কলেজ করিডোর থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে আসার সময় সামনে তাকাতেই দেখলো তার মনহরণী কে। যে কি না সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসছে এক মনে।
আরহামের হৃদ স্পন্দন কয়েকগুন বেড়ে গেল মুহূর্তেই ,তার চোখ জোড়া হয়ে উঠলো অস্থির। মনে হচ্ছে আশপাশটা ধোঁয়ায় ধোঁয়া। সে আর তার মনের মালিক ছাড়া কেউ নেই আশেপাশে।।
এদিকে রেশন কোথায় পালাবে ভাবছে! কোন তিথিতে সে নিজের ফোন ভুলল কমন রুমে!?কেনো ভুললো সে? তার গলা শুকিয়ে আসছে, পেট গুর গুর শব্দ করছে। ভারিক্কি নিশ্বাস ফেলে ঝটপট সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে আসতে চাইলেও পা দুটো যেন জমে যাচ্ছে কথাও। এরই মাঝে শুনতে পায় মানব শিথিল কণ্ঠ,,,
"রেশম"
এই বার যেনো রেশম এর শরীর অবশ হয়ে পড়ে যাবে যাবে ভাব। কেন? কেন শুনলো মানুষটার ডাক! কেন তার কণ্ঠ ভীষণ ভাবে চিত্ত আকুল করে দিল রেশম এর !? পিছে ফিরে তাকালো না রেশম। ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো। আবারও শুনতে পেলো।
"কথা বলতে চাই!"
রেশম বাকরুদ্ধ। চোখ বন্ধ করে নেবার সাথে সাথেই ভেসে উঠলো সেদিনের ক্যাফেতে আরামের হাত জড়িয়ে থাকা রমণীর অবয়ব।। আরহাম এবার অস্থির হয়ে রেশমের পিছনে এসে দাঁড়ালো শুকনো ঢুকে বলল,,,"একবার,,,কথা বলতে চাই। তাকাও এদিকে,,,একবার।"
রেশম গরম নিঃশ্বাস ত্যাগ করে হেঁটে চলে যেতে নিলেই আরহাম খপ করে ধরে রেশমের কব্জি। রেশম যেন ছলাৎ করে ওঠে। রাগে ফুঁসে বলে,,,
"এটা কি ধরনের অসভ্যতামি? নেই হাত ছাড়ুন আমার।"
"তাকাও,,,ছেড়ে দেবো?"
রক্ত লাল চোখের রেশম তাকায় আরহামের দিকে।
চোখ ছোট ছোট করে,ভ্রু কুঁচকে বলে,,,
"কেন তাকাবো আমি আপনার দিকে? আর কি কথা বলতে চান আপনি? আমার সাথে আমরা একে অপরকে চিনি না।"
"সত্যিই কি চিনি না? প্রথম দেখা হলে কি,,,কারো প্রতি কারোর এত আক্রোশ থাকে?"
"আমার হাত ছাড়ুন মিস্টার আরহাম?"
"বাহ্,,, প্রথম দেখাতেই নামটাও জেনে গেলে? আমি তো আমার নাম বলিনি।"
রেশম থমথমে খেয়ে যায় তাও দমে যায় না। আপন হাত মুচরাতে মুচরাতে বলে ওঠে,,,"আচ্ছা যখন তখন, যেখানে সেখানে যেকোন মেয়ের হাত ধরে নেওয়া এবং ধরতে দেওয়া এটা কি আপনার চরিত্রের পরিচয়?"
আরহাম ছেড়ে দেয় রেশম এর হাত। এইবার রেশম'কে অবাক করে দিয়ে রেশমের বাহু ধরে সোজা নিজের সান্নিধ্যে নিয়ে এসে মাথা নিচু করে ঝুঁকে পড়ে। চোখে চোখ রেখে বলে,,,
"চরিত্রের পরিচয় তো আমি এভাবে দেবো না। সেটা দেওয়ার ভিন্ন কায়দা আছে। এই যে আমি তোমাকে ছাড়বো,একদম ধরবো অন্য উপায়ে। ট্রাস্ট মি রেশম আর পালাতে পারবে না তুমি তখন।"
কথাটি বলেই এক প্রকার রেশমকে দূরে ঠেলে দিল আরহাম অতঃপর আবারও বলল,,,,"দুর থেকেই অনুভূতির জন্ম আমার এইবার কাছে এসে এই অনুভুতির বহিঃপ্রকাশ ঘটাব রেশম।।"
আর দাঁড়ায় না আরহাম। মাথার মধ্যে চলতে থাকা পরিকল্পনা নিয়ে ত্যাগ করে রেশমের দৃষ্টিকোণ। এদিকে রেশন অবাক, হতবাক চোখের কোনে জমাট বাধা জল যেন মুহূর্তে গড়িয়ে পড়বে ভাব।।
রেশন দেওয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে অবাধ্য নোনা জল গুলো গাল বেয়ে নেমে আসে।। মানুষটা তার প্রথম অনুর াগ, মানুষটা তার শেষ ভালোবাসা। তারপরেও কোথাও একটা জমে আছে অভিমান।।
---------------
শিফা কলেজ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসার পর কিছু মেয়েকে একসাথে দাড়িয়ে কি যেনো ফোন দেখতে দেখে। শুধু মেয়েগুলো দেখছি না হাসাহাসি করছে সাথে বলে উঠছে,,, ' ওয়াও, ড্যাসিং, ভাই এরকম একটা বয়ফ্রেন্ড হলে কতই না ভালো হয়।'
এই সকল কথা শিফাকে আরো কৌতুহলী করে তোলে। সে এগিয়ে গিয়ে মেয়েগুলোকে বলে ওঠে,,,
"কি দেখছিস তোরা?"
মেয়েগুলি ভূত দেখার মত চমকে ওঠে। একে অপরের দিকে তাকিয়ে শিফা বলে,,,"দেখ কাউকে বলবি না প্লিজ।"
শিফাও মাথা নাড়িয়ে বলে,,," বলবো না"
মেয়ে গুলি ফোন সামান্য এগিয়ে দেয় শিফার দিকে। ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই শিফার পায়ের তলা চিনচিন করে ওঠে। চোখ গুলি যেন কঠোর থেকে এবার বেরিয়ে আসবে। ফোনের স্ক্রিনে চলতে থাকা ভিডিওটার মধ্যে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আরিশ এর তেজস্বী ,উগ্র রূপ। এক ছেলেকে সে বেধড়ক পেটাচ্ছে। কোন দিকে তার হুঁশ নেই। হাতে থাকা হকি স্টিক ভেঙে যাবে যেন এবার। শিফার অন্তর লাফাতে থাকে। শুকনো মুখে মেয়েগুলোর দিকে একবার তাকাতেই তারা চোখ মুখ কুঁচকে বলে ওঠে,,,,
"শিফা তুই কিন্তু কাউকে কিছু বলিস না। ওইদিনের সমস্ত ভিডিও সবার ফোন থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। সেই দিন আমি খুব দ্রুত বাড়ি চলে যাই, তাই ভিডিওটা আমার ফোনেই থেকে গেছে।।
আরিশ স্যারের উপর আমরা ক্রাশ আছে,এইরূপে তাকে জোস লাগছে, তাই ভিডিওটা রেখে দিয়েছি। তুই কাউকে কিছু বলবি না তো!?"
শিফা অবলা দের মত মাথা নাড়ায়,,,সে বলবে না।
অতঃপর ধির পায়ে হেঁটে চলে যায়। তার মাথায়,চোখের সামনে ঘুরঘুর করছে সেই ভিডিও। শিফা যেনো শাস নিতে ভুলে। এদিক সেদিক তাকিয়ে শিফা দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে। দৌঁড়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে চাইলে দেখতে পায় গেটের সামনে এক বাইক এর আগমন।
সুঠাম দেহে শার্ট প্যান্ট পড়া আরিশ। রোদে তাকে আরো আকর্ষণীয় লাগছে।চোখে সানগ্লাস, চকচক করছে তার আদল। হাতা কনুই পর্যন্ত গুটানো। বাইক এর পিছন থেকে নেমে দাঁড়ায়। বাইক এর সাথে বাধা দুইটা হকি স্টিক হাতে তুলে নিয়ে কলেজের দিকেই এগিয়ে যায়।
শিফার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো। ভয়ে একেকার সে। আরিশ কে এগিয়ে আসতে দেখে শিফা থরথর করে ওঠে। মনে হচ্ছে সেই ক্রুদ্ধ আরিশ। আরিশ শিফা কে দেখে ভ্রু কুঁচকে তার দিকেই এগিয়ে যায়।
সামনা সামনি দাড়িয়ে কিছু বলতে যাবে কি তার আগেই শিফা মনে প্রাণে দৌড় দেয়। আরিশ যেনো বকা বোন যায়। অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে শিফার দৌড়ে যাওয়ার দিকে।
ক্রমশ
--------------👉
☞
------------------👉সবাই বেশি বেশি করে রেসপন্স করবেন