16/08/2025
বিসিএস (BCS) কথন: পর্ব ১
আজকের এই অংশে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) এর ১ম ধাপ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সংক্রান্ত আলোচনা করবো। সাথে আমার পড়ার স্ট্র্যাটেজি এবং বিভিন্ন বিষয়াদি প্রশ্নোত্তর স্টাইলে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। শুরু করা যাক।
১। ★★ বিসিএস পরীক্ষা কি? এর পদ্ধতি, আবেদনের যোগ্যতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া কেমন?
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস পরীক্ষা মূলত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশন (পিএসসি) এর মাধ্যমে নেওয়া হয়ে থাকে। একজন বিসিএস কর্মকর্তা হতে গেলে বেশ ক'টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। চার বছর মেয়াদী বিএ/বিএসসি/অনার্স ইত্যাদি পাস করা সাপেক্ষে আবেদন, এরপর ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, ৯০০+২০০ মিলিয়ে মোট ১১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা, এরপর ২০০ নম্বরের ভাইবা বোর্ড। এরপর চুড়ান্ত ফলাফল। চুড়ান্ত ফলাফলের পর সুপারিশ করা হয়। এখানে একটা বিষয় বলে রাখা ভাল। অনেকেই ক্যাডারদের নামের পাশে "সুপারিশপ্রাপ্ত" শব্দটা শুনে ভেবে থাকেন যে কেও সুপারিশ করেছে কিনা 😂 বিষয়টা এমন না। মূলত, কর্ম কমিশন ফলাফল টা পাবলিশ করার সময় তা সরকারের নিকট পেশ করেন, মানে সুপারিশ করলেন যে এরা আসলে ক্যাডার অথবা নন ক্যাডার পদের জন্য যোগ্য। এরপর সরকার চাকরিতে নিয়োগ দেয়। অর্থাৎ, সুপারিশ করার দায়িত্ব পিএসসির, নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা সরকারের। যাই হোক, এখানেই কি শেষ কাজ? একদমই না। আরো বেশ কিছু পথ পাড়ি দিতে হবে। সুপারিশপ্রাপ্ত হবার পর পুলিশ ভেরিফিকেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গেজেট বা প্রজ্ঞাপন এবং পরিশেষে জয়েনিং। আবেদন থেকে জয়েনিং এর কার্যক্রম শেষ করতে মোটামুটি ৪-৫ বছর লেগে যায়। সুতরাং কারো যদি বিসিএস কর্মকর্তা হবার অভিপ্রায় থেকে থাকে, তাহলে সবার আগে যেটি লাগবে তা হলো ধৈর্য। ধৈর্য না থাকলে আগেই ছেড়ে দিয়ে মাইন্ড অন্যদিকে শিফট করাটাই যুক্তিযুক্ত। কেননা দিনশেষে সবই চাকরি। বেঁচে থাকার অবলম্বন। সৎ পথে সৎ উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকা উপার্জনের হাজারটা পথ থাকে। ২০১৫ সালে প্রশ্ন ফাঁসের চক্করে মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হবার পর আমার ইচ্ছে ছিল বিসিএস ক্যাডার হবার। এ যাত্রায় আল্লাহ আমাকে নিরাশ করেন নি। তার মানে এই নয় যে বিসিএস ছাড়া কিছু নেই। এই ক্রেজ টা আসলেই কমানো উচিত। গবেষণা, উন্নত শিক্ষা, ক্রিয়েটিভিটি এগুলার অনেক দরকার আছে একটা দেশের প্রকৃত অগ্রগতিতে। এরপরেও যাদের স্বপ্ন বিসিএস তারা বাকি অংশ পড়তে পারেন।
২। ★★ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা কি? কেন দিতে হয়? কতজন এ পরীক্ষায় অংশ নেয়?
বিসিএস পরীক্ষার প্রথম ধাপ প্রিলিমিনারি বা বাছাই পর্ব। মোটামুটিভাবে দশটি বিষয়ের উপর ২ ঘণ্টায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা দিয়ে বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হলে আপনি দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষায় বসতে পারবেন। লিখিত পরীক্ষাই বিসিএস পরীক্ষার মূল ধাপ। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর বিসিএস ক্যাডার প্রাপ্তিতে কোন ভূমিকা রাখেনা। প্রতি বছর গড়ে ৩-৪ লাখ পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারিতে অংশ নেয়। খুব সম্ভবত ৪১ বিসিএস পরীক্ষায় ডেইলি ক্যাম্পাস নিউজ করেছিলো "৫৯ দেশের জনসংখ্যাকে ছাড়ালো ৪১ তম বিসিএসের আবেদন।" সে বছর আবেদন মোটামুটি সাড়ে ৪ লাখের কাছাকাছি পৌছেছিলো। যাই হোক, আপনাকে এটা ধরে রাখতে হবে আনুমানিক ৩-৪ লাখের একটা সংখ্যার সাথে আপনার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বসতে হবে।
৩। ★★ প্রিলিমিনারি টেকার ক্ষেত্রে প্রথম কাজটা কি? এক্ষেত্রে ব্যাসিক কতটা জরুরী?
সহজ বলতে আসলে দুনিয়ায় কিছু হয়না। যদি থাকে ওইটা বাবা মায়ের আদর ভালবাসা। এখন সহজ যেহেতু না, তাইলে উপায়? অনেক উপায় আছে। প্রথমত, আপনাকে কৌশলী হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যাসিক শক্ত থাকা বেশ জরুরি। আপনার ব্যাসিক ভাল থাকলে তো মাশআল্লাহ। আপনার পরিশ্রম অনেকটাই কমে যাবে। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ব্যাসিক আসলে কিভাবে ভাল করতে পারি? দেখুন, ব্যাসিক একদিনে গড়ে উঠে না। ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার বিভিন্ন স্টেজে আপনি ঠিক কিভাবে চেষ্টা করেছেন তার মাধ্যমেই ব্যাসিক গড়ে উঠবে। এর মানে এই না যে আপনার বর্তমান ব্যাসিকের অবস্থা খারাপ হলে আপনি তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। বড়জোর অন্যের থেকে আপনাকে শ্রম, ধৈর্য কিছুটা বেশি দিতে হতে পারে। তবে অসম্ভব বলতে কিছু নেই। মনে রাখবেন, নেপোলিয়ন বলেছিলেন, "Impossible is the word found only in a fool's dictionary. Wise people create opportunities for themselves and make everything possible." কৌশলী হওয়া, ব্যাসিকের উপর জোর দেওয়া, ভাল বই বাছাই করে চোখ কান বন্ধ করে পড়তে বসা। চোখ কান বন্ধ মানে মোটামুটি বাইরের জগৎ থেকে। আবার বই পড়ার সময় চোখ কান বন্ধ কইরেন না 😁
৪। ★★ বই সিলেকশন বা বুক লিস্ট কেমন হতে পারে? এক বিষয়ের জন্য কয়টা বই পড়তে হবে?
প্রিলিমিনারি টেকার ক্ষেত্রে বই সিলেকশন খুব প্রয়োজনীয় একটি কাজ। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ম্যাক্সিমাম ছেলেমেয়ে প্রিলি ফেল করে না বুঝে কয়েক গুচ্ছ আজগুবি বই কিনে হ-য-ব-র-ল স্টাইলে পড়ার কারণে। বিসিএস এর জন্য যেকোন প্রকাশনীর একটা বই পড়লেই হয়। এই লাইনটা ভালভাবে ফলো করেন "৪/৫ টা প্রকাশনীর বই কিনে একবার ছন্নছাড়া ভাবে পড়ার থেকে একটা ভাল প্রকাশনীর বই ৪/৫ বার করে পড়া অনেক ভাল।" কেও যদি একাধিক বই ভাল করে পড়তে পারেন, সেটা একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। তবে এক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। পড়তে থাকেন, পেয়ে যাবেন আশা করি।
৫। ★★ আপনার পরামর্শ অনুযায়ী কি কি বই পড়া যেতে পারে? আপনি কি কি পড়ছিলেন?
আমি বেশির ভাগ জর্জ এমপি-৩ সিরিজের বই কিনেছিলাম। পরবর্তীতে খুব একটা চেঞ্জ করা হয়নি। তবে সত্যি বলতে, এখন বাজারে বেশ ভাল ভাল প্রকাশনীর বই আছে। আমি এখানে কোন মার্কেটিং করছি না। শুধু নিজে যা পড়েছিলাম, তার সাথে আর কিছু যোগ করে আপনাদের জানাচ্ছিঃ
ক) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য: জর্জ এমপি-৩/অগ্রদূত
খ) ইংরেজি ভাষা: Master
গ) ইংরেজি সাহিত্য: মিরাকেল+ইন্টারনেট। সাহিত্য পড়ার কিছু কৌশল আছে। পরে শেয়ার করবো।
ঘ) বাংলাদেশ: জর্জ এমপি-৩
ঙ) আন্তর্জাতিক: জর্জ এমপি-৩
চ) গণিত: ৮/৯/১০ এর সাধারণ এবং উচ্চতর গণিতের বোর্ড বই+বিগত প্রশ্ন সমাধান
ছ) মানসিক দক্ষতা: ওরাকল/এমপি-৩+ বিগত প্রশ্ন
জ) ভূগোল: ৯/১০ এর বোর্ড বই থেকে টপিক ধরে [এই বিষয় বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বই থেকে অর্ধেকের বেশি কাভার হয়ে যায়]
ঝ) সাধারণ বিজ্ঞান: জর্জ এমপি-৩ /সাইন্স আওয়ার/ ওরাকল
ঞ) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: ইজি কম্পিউটার/আলাল'স কম্পিউটার, ইন্টারের বোর্ড বই।
ট) নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন: বিগত প্রশ্নসমূহ ব্যাখ্যা সহ।
৬। ★★ দৈনন্দিন পড়ার পদ্ধতি কেমন হবে? কত ঘণ্টা করে পড়তে হবে? কয় মাস পড়তে হবে?
দেখুন, শুরুতেই বলে নিয়েছিলাম ব্যাসিকের কথা। আপনার ব্যাসিক স্ট্রং থাকলে আর আপনি কৌশলী হলে ৬-৮ মাসেই সব কাভার দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনার দৈনিক মিনিমাম ৮-১০ ঘণ্টা সময় দিতেই হবে। আবার, ব্যাসিক তুলনামূলক দুর্বল এবং একদম শুন্য থেকে প্রস্তুতি নিতে চাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে এক থেকে দেড় বছর পর্যাপ্ত সময়। পড়ার টাইম দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা হওয়া উচিত। তবে মূল বিষয়টা হলো ধৈর্য আর কনসিস্টেন্সি। অধিকাংশেরই একটা সাধারণ সমস্যা হলো দুইদিন পড়লাম, আর সাতদিন খবর নাই। এ টাইপ পড়াশোনা কলেজ, ভার্সিটি এর এক্সামে মোটামুটিভাবে মানা যায়। কিন্তু বিসিএস এ এভাবে হবেনা। বরং আপনি যে পরিশ্রম টুকু করবেন সেটা পণ্ডশ্রম হবে। আমি অনেক ক্যান্ডিডেট দেখেছি যারা সাতদিন পাগলের মত পড়ে। এরপর আবার ২/৩ মাস ভ্যাকেশনে থাকে। বিসিএস এর ক্ষেত্রে এটা করলে অযথা আপনারই লস। হয় ধারাবাহিকতা রাখেন, নাহয় শুরুতেই ছেড়ে দেন। তবে হ্যাঁ, আপনি সপ্তাহে ৫ দিন পড়লেন খুব ভালভাবে, ২ দিন একটু ঘাটতি হলো, অথবা, একদিন ১২ ঘণ্টা, অন্যদিনে ৫/৬ ঘণ্টা পড়লেন, এগুলা মেকাপ করে নিতে পারবেন। লং টার্ম গ্যাপ হওয়া যাবেনা। মোটকথা, আপনার পড়ার মধ্যে ধারাবাহিকতা মেইনটেইন করে রাখতে হবে।
৭। ★★ পড়ার সময় ধারাবাহিকতা রাখতে হবে তা বুঝি। কিন্তু তার জন্য ধৈর্য টা রাখবো কিভাবে? আপনি কিভাবে ধৈর্য ধরে রাখছিলেন?
ধৈর্য না থাকলে ছেড়ে দিতে হবে সেটা সেই শুরুর আলোচনায় বলেছিলাম। আপনি সিভিল সার্ভিসে আসতে চান, ভাল জব পেতে চান, জব সিকিউরিটিও চান সেজন্য এতটুকু সেক্রিফাইস করতেই হবে। মনকে প্রশ্ন করেন যে আপনার চাকরিটা লাগবে কিনা। আপনার পরিবারের হাল আপনাকে ধরতে হবে কিনা। আগামী ৩০ বছর যদি আল্লাহ বাঁচায় রাখে তাহলে কিভাবে জীবনটাকে দেখতে চান, এসব ভাবনা ভাবুন, ধৈর্য এমনি চলে আসবে। আমার এমন অনেক সময় মনে হইছে ছেড়ে দেই। এসব উদ্ভট জিনিস কে পড়ে! কিন্তু আবার শুরু করছি। এমন অনেক অনেক দিন গেছে যে পড়তে পড়তে ঘুমে পড়ে যাচ্ছি, কিন্তু চোখে পানির ঝাপটা নিয়ে এসে আবার বসছি টেবিলে। আর এটা আমি নাহ। যারা সৎ উপায়ে একটা চাকরি পায়, তাদের সবার জীবনেই এমন কষ্টের দিন অতিবাহিত হয়েছে। টেবিলে বসে থাকতে থাকতে কোমড়, ব্যাকসাইড ব্যাথা হয়ে গেছে, একবার তো মাথা ঘুরে পড়েও গেছিলাম ভাই। হাল ছাড়লে হবে না। আর একটা কষ্টের অথচ মজার বিষয় শেয়ার করি আপনাদের। একবার আমি ভাত রান্নার জন্য রাইস কুকারে চাল ধুয়ে রান্নার জন্য দিছি। ঘণ্টা খানেক পরে পড়ার মধ্যে ব্রেক দিয়ে ভাত হইছে কিনা দেখতে গেছি। গিয়ে দেখি কুকারের ভেতরে পাত্র নেই। কই গেল? বেশ কিছুক্ষণ খুঁজে দেখি চালসহ পাত্র ফ্রিজে ঢুকায় রাখছি। পড়ার প্রেশারে আসলে খেয়াল ছিলনা যে পাত্র কই রাখছিলাম। মাথা ব্যাথা, ঘুমে ঢলে পড়া, বসে থাকতে থাকতে কোমড়, ব্যাক ব্যাথা হয়ে যাওয়া এসব হতেই থাকবে। কিন্তু ধৈর্যহারা হইয়েন না। যখনই ধৈর্য চলে যেতে যাবে, নামাজ পড়বেন আর ভাববেন আপনার চাকরিটা লাগবে কিনা।
৮। ★★ এতগুলো বই দেখলেই তো ভয় করে। শেষ হবে কখন এই ভয়ে বই খুলতেই মন চায়না। বই পড়ে শেষ করার কোন উপায় আছে আপনার কাছে? থাকলে সেগুলা কি কি? আর, পড়ার ক্ষেত্রে একটা একটা করে বই ধরে শেষ করবো নাকি রোজ কিছু বিষয় একসাথে?
যদিও এটা আপনার স্ট্র্যাটেজির উপর নির্ভর করে, তবে একটা করে শেষ করার মধ্যে ভুলেও ঢুকবেন না। আমার পরামর্শ থাকবে যে রোজ চার অথবা পাঁচটা বিষয় অন্তত কাভার দেয়ার চেষ্টা করেন। ভোরবেলা নামাজ কালাম পড়েই কোন এক বিষয় (আপনার ইচ্ছানুযায়ী) নিয়ে বসলেন। এরপর আরেক বিষয়। প্রতি বিষয়ে গড়ে ২/৩ ঘণ্টা করে রাখেন। এভাবে দৈনিক ১০/১২ ঘণ্টা হিসাবে ৪/৫ টা বিষয় কাভার করবেন। পরের দিন সকালে উঠে আগের দিন যেই বিষয় কম হইছে ওই বিষয় দিয়ে পড়া শুরু করবেন। এটা বেশ কার্যকরী সব বই একসাথে শেষ করার ক্ষেত্রে। গণিত এবং ইংরেজিকে এক্ষেত্রে রোজকার রুটিনে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
আরেকটা বিষয় শেয়ার করি। বই শেষ করার ক্ষেত্রে আমি এক অদ্ভুত স্ট্র্যাটেজি ফলো করতাম। কাজটা করতাম আমার বিরক্তিভাব কমানোর জন্য। এক পড়া পড়তে পড়তে বিরক্তি লাগেনা? বেশির ভাগ মানুষেরই তাই। এজন্য আমি বিক্ষিপ্তভাবে পড়তাম। মানে কোন সিরিয়াল মেইনটেইন করতাম নাহ। যেমন ধরেন, আমি বাংলাদেশ বিষয়াবলি পড়তেছি। শুরুর অংশ ভাল্লাগতেছে না কয়েকদিন পড়ার পর। এরপর আন্দাজে মাঝের দিকে একটা পেজ বের করে ওই অধ্যায় পড়া শুরু করতাম। এরপর সেই অধ্যায় শেষ হলে আবারো একইভাবে বিক্ষিপ্তভাবে অন্য আরেকটি অধ্যায়। অধ্যায় শেষ হলে সূচিপত্রে দাগিয়ে রাখতাম অবশ্যই। এই সিস্টেম আমি এজন্যই করতাম যেন আমার মনে না হয়, এতো পড়া কবে শেষ হবে। এভাবে করতে করতে একটা সময় দেখি অনেকটাই শেষ হয়ে যেতো। এভাবে বেশির ভাগ বইগুলা পড়ে শেষ করেছি। আপনি চাইলে এই পদ্ধতি ফলো করতে পারেন।
৯। ★★ আমি মাত্র অনার্স ফার্স্ট ইয়ার/সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। আমার এখন থেকে কিভাবে পড়া উচিত?
আপনি ভার্সিটিতে ১ম বা ২য় বর্ষে আছেন। এমনিতেই সেমিস্টার, মিড, প্রেজেন্টেশনের প্যাড়ার অভাব নেই। তাই এই দুই বছর বিসিএস এর চক্করে নিজের সুস্থ জীবনটা পাগল বানানোর একদমই দরকার নেই। চিল করেন, সিজিপিএ বাড়ানোর চেষ্টা করেন। এক্সট্রা কারিকুলার বিভিন্ন কাজ আছে, সেগুলাতে পার্টিসিপেট করবেন। তবে হ্যাঁ, একটা কাজ করতে পারেন বিসিএস এর জন্য। সেটি হলো, সম্ভব হলে টিউশনি করবেন। এতে আপনার সাবলম্বী হবার পথও বেশ খুঁলে যাবে। অন্তত গণিত এবং ইংরেজি এই দুই সাবজেক্টের টিউশনি করবেন। তবে ফাঁকিবাজি স্টাইলে পড়াবেন না। আগে নিজে হাতে কলমে বাসায় করবেন, বুঝবেন এবং তারপর স্টুডেন্ট কে শেখাবেন। এতে আপনার গণিত আর ইংরেজির যে কি উপকার পাবেন, সেটা পরেই টের পাবেন। আর যদি টিউশনি না পান, তাহলে এই কাজ দুইটাই বাসায় বসে বসে করবেন। ৮/৯/১০ এর গণিত বোর্ড বইগুলা একদম ধরে ধরে শেষ করবেন। আর ইংরেজির জন্য মাস্টার গ্রামার বই থেকে রোজ ২/৩ পাতা করে শেষ করে রাখেন। গ্রামারের পাশাপাশি রোজ কিছু ভোকাবুলারি শিখুন। অর্থাৎ, আমি বলতে চাচ্ছি, ১ম এবং ২য় বর্ষে ভার্সিটির চাপের পাশাপাশি আপনি শুধু গণিত আর ইংরেজি অংশটা পড়ে আগায় রাখেন। পড়ার কৌশলগুলা কেমন হবে তা বিস্তারিত জানতে পরবর্তী পোস্টগুলা ফলো করলে পেয়ে যাবেন।
১০। ★★ আমি ৩য় বর্ষে/চতুর্থ বর্ষে আছি। এখন আমার প্রিপারেশন কিভাবে নেওয়া উচিত?
বিসিএস প্রস্তুতির সময়কাল হিসেবে থার্ড ইয়ারের মাঝামাঝি সময়টা আমার কাছে উপযুক্ত মনে হয়। কারণ আমি নিজেও তাই করেছিলাম। যার ফলস্বরূপ, অ্যাপেয়ার্ড দিয়ে প্রথম বিসিএসে আল্লাহ আমাকে কবুল করেছেন। এক্ষেত্রে শুরুতে বাংলা, গণিত, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক এই ৫ টা বিষয় দিয়ে শুরু করবেন। প্রথম দিকে রোজ ৩/৪/৫/৬ ঘণ্টা সময় দিতে থাকবেন। কিছুদিন গেলে দেখবেন ভেতরে একটা পড়া পড়া ভাইব আসছে। এরপরে আস্তে আস্তে সময় কিছুটা বাড়িয়ে এডজাস্ট করে নিবেন। চেষ্টা করবেন অনার্স ফাইনাল ইয়ার পরীক্ষার অন্তত ১ মাস আগে সব শেষ করা। এরপর অনার্স এক্সাম শেষে পুরোদমে রিভিশন আর রিভিশন। তারপর শুরু হবে মডেল টেস্ট দেওয়া। মডেল টেস্ট বিষয়ে পরবর্তী প্রশ্নোত্তরে আলোচনা থাকবে।
★★ চলতে থাকবে.......!!
সৌজন্যে-
মোঃ আশরাফুল ইসলাম
বিসিএস ৪৪ (প্রশাসন) [সুপারিশপ্রাপ্ত]