04/09/2025
[Spoiler Alart ]
আবুল কালাম আজাদ একটি কুরিয়ার অফিসে চাকরি করে। তার স্বপ্ন গায়ক হওয়া। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন দেয়ালে স্বপ্নটা বারবার ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে। ঘটনাক্রমে আজাদের মন ভরে ওঠে এক ভয়ংকর মানসিকতায়—খুনের ইচ্ছা। চেষ্টা করেও সে নিজেকে এই অন্ধকার থেকে দূরে সরাতে কিন্তু পারে না, বরং সমাজের বাস্তবতা তাকে সেই দিকে আরও ঠেলে দেয়। ধীরে ধীরে সে হয়ে ওঠে দেশের মানুষের আস্থার আরেক নাম। তবে শেষ পর্যন্ত আজাদ কি ধরা পড়বে?
‘আকা’ মূলত একটি সোশ্যাল থ্রিলার, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখার মতো একটি ওয়েবসিরিজ। বিশেষত প্রথম চারটি এপিসোড দর্শককে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখবে। ভিকি জাহেদ এখানে যেই ওয়ার্ল্ডটা নির্মাণ করেছেন, সেটি একেবারেই বাস্তব ও আমাদের চারপাশের সাথে ভীষণ রিলেটেবল। তার উপর কাব্যিক সব সংলাপ সিরিজটিকে আরও গভীর করেছে। এই ওয়ার্ল্ডে আকা এবং আজাদ চরিত্রগুলো যেনো বেশ শক্তিশালীভাবেই ফিট হয়েছে। এখানে, আজাদের বিষণ্ণতা কিংবা তার মানসিক দোদুল্যমানতা—সবকিছুই সংলাপের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে মানিয়ে গেছে। এছাড়াও ভিকি জাহেদ সিরিজজুড়ে তার নিজস্ব নির্মাণশৈলী বজায় রেখেছেন। সিরিজে থ্রিল যেমন ছিল, তেমনি রোমান্টিক মুহূর্তগুলোতেও একধরনের মিষ্টি আবহ টের পাওয়া গেছে। কিছু ডিটেইলিং বেশ নজর কেড়েছে।
এই সিরিজে আফরান নিশো আজাদের চরিত্রে দুর্দান্ত। চরিত্রের ভিতরের দ্বন্দ্ব-বিষণ্ণতা এবং প্রত্যাবর্তনটাকে তিনি যথাযথভাবে তুলে ধরেছেন। তার কণ্ঠে কাব্যিক সংলাপগুলো এক অন্যরকম আবহ তৈরি করেছে। নিশোর পাশাপাশি নাবিলাও চমৎকার অভিনয় করেছেন। নিশো-নাবিলার কেমিস্ট্রি ছিল ভীষণ মিষ্টি। অবশ্য নাবিলা এমনিতেও বেশ মিষ্টি, নাবিলার সংলাপ বলার ধরণটিও বেশ মুগ্ধ করেছে। এছাড়াও, আজিজুল হাকিম (নিশোর চাচার ভূমিকায়) যথাযথ, আর ইমতিয়াজ বর্ষণও এই ক্যাট-অ্যান্ড-মাউস চেজে সঠিক ভারসাম্য এনেছেন।
তো সব মিলিয়ে ‘আকা’ আমার কাছে একটি এনগেজিং সোশ্যাল থ্রিলার ওয়েবসিরিজ। ভিন্ন স্বাদের কিছু দেখতে চাইলে হইচই-তে ‘আকা’ অবশ্যই দেখতে পারেন।