Ramisa Fariha

Ramisa Fariha Hello guys.. Please like and follow for my new Channel.

বই পড়া সবচেয়ে সুন্দর অভ্যাস...📖🫠
18/07/2026

বই পড়া সবচেয়ে সুন্দর অভ্যাস...📖🫠

নীরবতা সবচেয়ে সুন্দর....!!! 🖤✨
18/07/2026

নীরবতা সবচেয়ে সুন্দর....!!! 🖤✨

26/12/2025

Rajbari....🍁🍂

゚viralfbreelsfypシ゚viral ゚ .

24/12/2025

🥺👉👈🥺

゚ ゚viralfbreelsfypシ゚viral

Gemini power🤌🍁 ゚viralfbreelsfypシ゚viral      ゚viralvideo   ゚viralシ      #চলবে
21/09/2025

Gemini power🤌🍁

゚viralfbreelsfypシ゚viral ゚viralvideo ゚viralシ #চলবে

 #আবিরের_স্প্যারো 🌻 (ইবুক ভার্সন)পর্ব -১৩তানভীরের আগে আবির চ্যাঁচিয়ে ওঠল, কাকে দেখতে আসবে?আপনি চিনবেন?চিনবো না কেন!মেঘ স...
21/09/2025

#আবিরের_স্প্যারো 🌻 (ইবুক ভার্সন)
পর্ব -১৩

তানভীরের আগে আবির চ্যাঁচিয়ে ওঠল,
কাকে দেখতে আসবে?

আপনি চিনবেন?

চিনবো না কেন!

মেঘ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,
বন্যার বোনকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে!

তানভীর তৎক্ষণাৎ বলল,
যেতে হবে না তোর!

কেন?

একজনকে দেখতে আসলে অন্য কোনো মেয়ের সেখানে থাকতে নেই। বিশেষ করে তোর মতো পেত্নীদের তো অবশ্যই নয়। কারণ ভালো মানুষের নজর সবসময় পেত্নীদের দিকেই পড়ে। তোকে পছন্দ হয়ে গেলে কি হবে ভেবেছিস।

মেঘ চোখ বাঁকিয়ে বলতে লাগল,
আমি অতশত বুঝিনা। কতদিন বিয়ে খাই না। আমি যাব মানে যাবোই।

তানভীর গম্ভীর কন্ঠে বলল,
না, বললাম তো।

তানভীর কিছু বলতে যাবে । তারমধ্যে আবির বলে ওঠল,
তানভীর, ওকে কিছু বলিস না। যেতে চাচ্ছে যাক।

মেঘ শসব্যস্ত চোখে আবির কে একবার দেখল। চোখ আর ঠোঁটের চূড়ান্ত বিস্ময় ফুটে উঠল। তানভীর আবিরের দিকে তাকাতেই আবির কিছু একটা ইশারা করল। সেটাও স্পষ্ট নজরে পরলো মেঘের। তবুও কিছু বলল না। তানভীর সরল কন্ঠে বলল,

আচ্ছা। যেতে চাচ্ছিস যা। কিন্তু সাবধান, আব্বুর সামনে আমাকে ফাঁসাবি না।

মেঘ এক গাল হেসে বলল,
ভালো কথা মনে করছো। আজ আব্বু আসুক। তোমার বিচার হবে।

কিসের বিচার?

সেটা আব্বু এলেই বুঝতে পারবে। এখন চায়ের কাপ দাও।

মেঘ হুলস্থুল বাঁধিয়ে দিল। তানভীর আকুল কণ্ঠে বলল,
চা শেষ হয় নি তো!

আর খেতে হবে না তোমার। এই কাপগুলো আমার। তুমি ফেলে দিয়ে ভেঙে ফেলতে পারো।

তানভীর মজার ছলে বলল,
এই কাপগুলো কি শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাবি?

অবশ্যই নিয়ে যাব। সকাল- বিকেল শশুর-শাশুড়িকে এই কাপে চা দিব আর বলব,
এগুলো আমার বৃত্তি টাকায় কেনা। আর জামাইকে কি বলব জানো?

তানভীর আবিরকে এক নজর দেখে বলল,
সেই কথা জামাইকে বলিস বনু।

তানভীরের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে আবির বলল,
শুনি কি বলবি?

তৎক্ষণাৎ হুঁশে ফিরল মেঘ। সঙ্গে সঙ্গে নিজের মুখ চেপে ধরল। বিরবির করতে লাগল,
সরি, মেহমানের সামনে মুখ ফস্কে গেছে।

মেঘ আবিরের হাত থেকে কাপ নিয়ে দ্রুত ছুটল। আবির আবারও বলল,
আস্তে যা। কাপ ভেঙ্গে গেলে শ্বশুর-শ্বশুড়ি কে চা দিবি কিভাবে?

অপ্রত্যাশিত ঘটনায় মেঘ ভীষণ লজ্জা পড়েছে। লজ্জায় মেঘে দু'গাল রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। মনের ঘরে তুফান শুরু হয়েছে। বুক ধুকপুক করছে। মেঘ যেতেই তানভীর বলল,,

ভাইয়া, বোনের কথা তুমি কিছু মনে করো না।

কোন কথায়?

তোমাকে বাইরের মানুষ বলল।

এখনো ঘরের মানুষ হই নি। তাই বাইরের মানুষ বললে খারাপ লাগার কোনো কারণও নেই। প্রথম দেখাতে তোর বোন ভালোবেসে জড়িয়ে ধরবে সেরকম কোনো সম্পর্কও আমাদের মধ্যে নেই। সবচেয়ে বড়ো বিষয়, তোর বোন যে আমার সাথে ভালোভাবে কথা বলেছে সেই অনেক।

তারপরও

তারপরও বলতে কোনো কথা নেই। এখন শুন, আমি কি বলি।

বলো।

আবির কন্ঠস্বর খাদে নামিয়ে কোমরপ গলায় বলল,,
মেঘকে নিয়ে একটু বের হব। ম্যানেজ করে দিস।

তানভীর বিস্ময় চোখে চেয়ে বলল,
আজকে?

হ্যাঁ!

আজ এলে আর আজই বের হতে চাচ্ছো। ও কি যাবে তোমার সাথে?

আবির নরম স্বর, যাবে! বন্যাদের বাসায় যাবে বলল না। আমি নিয়ে যাব ওকে। রাজি না হলে তুই বলবি যেন আমার সঙ্গে বের হয়।

আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখতে পারি।

আবির চোখ রাঙাতেই তানভীর বলল,,

আমাকে চোখ রাঙিয়ে লাভ হবে না। তোমাকে সেদিনই বলেছিলাম বাসায় আসো। দুই তিন দিনে মোটামুটি পরিচিত হয়ে গেলে সমস্যা হতো না। কিন্তু না! তোমার রাকিব ভাইয়ার বাসায় থাকতে হবে।

এমন ভাব করছিস যেন তোর বোন কে না কে! তোর বোনকে ছাড়া আমি বাঁচবই না।

তানভীর গালে হাত দিয়ে চোখ বড় বড় করে আবিরের দিকে তাকাল, আর বলল,,

আমার ধারণা তাই ছিল। ভুল ভাবতাম নাকি?

আবির সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট উল্টানো। কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,,

'না! তুই একদম ঠিক ভাবছিস। তোর বোনকে ছাড়া আমি সত্যিই বাঁচব না। তোর বোনকে না পেলে আমার সংসারে অমাবস্যা নেমে আসবে। আমার সন্তানরা মায়ের অভাবে আধমরা হয়ে যাবে। আর আমি তো বউ ছাড়া কঙ্কালই হয়ে যাব।

আবির একটু থামল। শ্বাস নিয়ে আবারো বলতে শুরু করল, 'আমাকে দেখে কি মনে হয়। তোর বোনের চিন্তায় চিন্তায় আমি অর্ধেক পাগল হয়ে গেছি। দিন রাত এক করে শুধু ভাবছি, তোর বোন আমাকে রিজেক্ট করলে আমি কি করব।

কি করবে?

রাতে বাসে সরাসরি পাবনা চলে যাব। সেখানে সিট বুকিং দিয়ে রেখেছি। ইদানিং চুল দাড়ি ও কাটছি না যেন দেখতে পাগল পাগল লাগে।

তানভীর হাসতে হাসতে প্রশ্ন করল,
বড় আব্বু জানে এসব?

হাবভাব দেখে সন্দেহ করেছে অবশ্যই। সেদিন শুনলাম

আম্মুকে বলতেছে,

তোমার ছেলের কোন পছন্দ থাকলে জানাতে বলো। কোনো মেয়ের জন্য নিজের জীবনের চিন্তা বাদ দিয়ে দেবদাস হয়ে ঘুরে বেড়ায় না যেন!

তানভীর হাসতে হাসতে এক পর্যায়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল।

আবির মুখ ফুলিয়ে শ্বাস ছেড়ে মলিন কন্ঠে বলল,

পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না। সময় থাকতে বুঝলি না।

দুপুরের পর পর মেঘ বের হলো। উদ্দেশ্য বন্যাদের বাসা।

নিচে নামতে দেখল আবির বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। খানিকটা দূরে তানভীর দাঁড়ানো। মেঘ মৃদু হেসে

বলল,,

তোমরা কি কোথাও যাচ্ছো?

চলবে...

#গল্পপ্যাক্ট

 #আবিরের_স্প্যারো 🌻💛 (ইবুক ভার্সন)পর্ব -১২দ্বিতীয়বার ডাকতেই সজাগ হলো। ঘুম ঘুম চোখে আবিরকে দেখে মৃদু হেসে বলল,কখন এসেছো ...
20/09/2025

#আবিরের_স্প্যারো 🌻💛 (ইবুক ভার্সন)
পর্ব -১২

দ্বিতীয়বার ডাকতেই সজাগ হলো। ঘুম ঘুম চোখে আবিরকে দেখে মৃদু হেসে বলল,

কখন এসেছো ভাইয়া!

বেশ কিছুক্ষণ হলো।

তানভীরে এবার স্পষ্ট চোখে তাকাল। ধীরে গলায় আওড়াল,,
'আমায় কল দিয়েছিলে?

অনেকগুলা। তোর ফোন দেখলাম সাইলেন্ট করা।

কাজের সময় ফোন সাইলেন্ট করে রাখি। ঘুমানোর আগে খেয়াল ছিল না, সরি।

কোনো ব্যাপার না।

তানভীর পূর্ণ দৃষ্টিতে আবিরের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল,,
বনুর সাথে দেখা হয়েছে?

আবির মুচকি হেসে উপর-নিচ মাথা নাড়াল।

তানভীর ফের জিজ্ঞাসা করল,
বনু চিনতে পেরেছে তোমাকে?

প্রথম চিনতে পারেনি। পরে চিনেছে মনে হয়।

আজেবাজে কোন আচরণ করেনি তো?

আবিরে চেহারা পাল্টে এলো। ত্রু কুঁচকে গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ওর সাথে আমার কি হলো, কি হলো না এসব আমি তোকে শেয়ার করতে বাধ্য নয়।

আমি সে কথা জানতেও চাই না।

ফ্রেশ হয়ে আয়। কথা আছে।

তানভীর ঘাড় কাত করে সম্মতি দিল। সঙ্গে সঙ্গে ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে চলে গেল।

মিনিট দুয়েক পর মেঘ রুমে এলো। আবিরের মনোযোগ তখন ফোনে। মেঘ কে খেয়াল করে নি। মেঘ গলা খাঁকারি দিতেই আবির স্পষ্ট চোখে তাকাল। মেঘ মলোয়েম কণ্ঠে জানতে চাইলো,,

আপনি কি চা খাবেন?

শরবতের মত এত মিষ্টি চা?

মেঘ এইপাশ-ওপাশ মাথা নেড়ে বলল, না,
এবার ভালো চা দিব। খাবেন।

হাত-পা না পুড়িয়ে চা করতে পারলে, আমি খেতে পারি। আমার জন্য এক কাপ চা করতে গিয়ে হাত পোড়ালে এই চা আমার গলা দিয়ে নামবে না।

তানভীর ওয়াশরুম থেকে বের হতে হতে বলল,
বনু খুব ভালো চা করে, আর হাত-পাও পুড়ায় না।

ভাইয়ের মুখে নিজের প্রশংসা শুনে মেঘের মুখেও হাসি ফুটল।
মেঘ আবারও জিজ্ঞাসা করল,
আদা কুচি দিয়ে লাল চা খাবেন নাকি কড়া লিকারের দুধ চা?

আবিরের সরল জবাব,
আদা কুচি দিয়ে লাল চা।

তানভীরের দিকে তাকিয়ে আবির জিজ্ঞাসা করল,
তুই কি চা খাবি?

আমার টা বনু জানে।

মেঘ সঙ্গে সঙ্গে চা করতে চলে গেল। তানভীর হাত-মুখ মুছতে ব্যস্ত হলো। আবির আশেপাশে নজর বুলিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে আওড়াল,

এই রুমে তুই কিভাবে থাকিস?

কেন ভাইয়া?

এত ছোট রুম। 10 মিনিটেই আমার দম বন্ধ লাগছে।থাকতে থাকতে অভ্যাস হয়ে গেছে।

আবির এ ব্যাপারে আর কথা বাড়াল না। কিছুক্ষণের মধ্যে মেয়ে চা নিয়ে এসেছে। আবির চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ভয়ে ভয়ে চুমুক দিল। এবার উল্টাপাল্টা কিছু ঘটে নি। চা সত্যিই খুব ভালো হয়েছে। আবির দ্বিতীয়বার চায়ে চুমুক দিয়ে নরম স্বরে বলল,,

বাহ, খুব ভালো ছাপা বানিয়েছিস। কোথাও ট্রেনিং নিয়েছিস।

হ্যাঁ, youtube মাম্মার কাছে এক সপ্তাহ ট্রেনিং নিয়ে চা বানানো শিখেছে।

তানভীর হেসে বলল,,

চা তো কিছুই না! বনু যে কত কি পারে তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। রেসিপি দেখে তোমার জিভে পানি আসবে এইটুকু নিশ্চিত।

মেঘ বলল,,
Thank you vaiya, এত প্রশংসা করার মত কিছু পারি না।

তানভীর ও উৎফুল্ল গলায় বলল,,

কথা শেষ হয় নি এখনও। শেষ করতে দে।

বলো।

শুনো ভাইয়া, রেসিপি সুন্দর দেখে আর জিভে পানি আসলেই কিন্তু চোখ- কান বন্ধ করে খেতে বসে পড়বা না।
এমনকি কারো সামনে বনুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ করতেও যেও না। কারণ খাওয়া শুরু করে দেখবে, পোলাও এ লবণ নেই। সবজির আলু সিদ্ধ হয়নি। ডালে তেল কিংবা পেঁয়াজও দেয়নি, মাংসতে মসলা হয় নি। সো বি কেয়ারফুল।

মেঘ অভিমানে ঠোট উল্টালো। নীরবে ভেংচি কাটল। আবির মেঘকে দেখছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। আবিরের হাসি দেখে মেঘের খুব রাগ হলো। মনে মনে অপমান বোধ করল। তানভীরের দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বলল,,

তুমি কেমন ভাই হ্যাঁ, বাইরের মানুষের সামনে নিজের বোনকে অপমান করছো।

তানভীর হেসে বলল,,

ভাইয়া বাইরের মানুষ হবে কেন! ভাইয়া আমাদের ঘরের মানুষ।

মেঘ রাগে গজগজ করতে করতে বেড়িয়ে যেতে লাগল।

দরজা পর্যন্ত গিয়ে আবারও থমকে দাঁড়াল। পেছন ফিরে তাকিয়ে নরম স্বরে বলল,

আজ দুপুরে আমার দাওয়াত আছে। খুঁজো না আমাকে।

কোথায় যাবি?

বন্যাদের বাসায়।

কেন?

বউ দেখতে আসবে।

তানভীরের আগে আবির চ্যাঁচিয়ে ওঠল,
কাকে দেখতে আসবে?

চলবে...

#গল্পপ্যাক্ট

 #আবিরের_স্প্যারো 🌻💛(ইবুক ভার্সন)পর্ব -১১হালিমা বেগম উদ্বিগ্ন কণ্ঠে শুধালেন, কি হলো আবির? শরবত ভালো হয় নি?মেঘ ভয়ে ভয়ে তা...
20/09/2025

#আবিরের_স্প্যারো 🌻💛(ইবুক ভার্সন)
পর্ব -১১

হালিমা বেগম উদ্বিগ্ন কণ্ঠে শুধালেন,
কি হলো আবির? শরবত ভালো হয় নি?

মেঘ ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে। মুখবিবর ছোট হয়ে গেছে। আবির ভাই বলে দিলে কি হবে। ও তো মজা করেছিল।

মেঘ আমতা আমতা করে বলল,
ভালো হয় নি!

আবির শাণিত দৃষ্টিতে মেঘকে দেখছে। মেঘের ভীতুকর চেহারা দেখে নিজের অজান্তে হেসে ফেলল। সঙ্গে সঙ্গে ক্র জোড়া দু'দিকে সরে গেল। মেঘের দিকে তাকিয়ে থেকেই গ্লাসের সবটুকু শরবত একেবারে খেয়ে নিল। ফাঁকা গ্লাসটা টেবিলের উপর রেখে চাপা নিঃশ্বাস ছাড়ল। এদিকে মেঘের অবস্থা নাজেহাল। কপালের ভাঁজ ফেলে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর মনে মনে বিরবির করছে, 'কি সর্বনাশ করলাম আমি!

আবির চেয়ে পুরো গ্লাসের শরবত এভাবে খেয়ে নিবে, এটা কল্পনাও করতে পারেনি। শরবত বানিয়ে এক চামচ মুখে দিয়েছিল, সে বিরক্তিকর টেস্ট এখনও মুখে লেগে আছে। এক মুঠো চিনি খেয়েও বারবার বমি আসছে। অথচ আবির ভাইয়ের নিদ্বিধায় পুরোটা খেয়ে নিল! কিভাবে সম্ভব?

আবির শান্ত কণ্ঠে জবাব দিল,
শরবত খুব ভালো হয়েছে, মামনি!

ঠিক আছে। তুই রেস্ট নে। আমি রান্না বসায়।

হালিমা বেগম উঠে গেলেন। মেঘ তখনও ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। কোনভাবে সহজ হতে পারছে না মেয়েটা। হালিমা বেগম রান্নাঘরে ঢুকতে মেঘ এগিয়ে এলো। অস্পষ্ট কন্ঠে বিড়বিড় করল,,
আপনি শরবতটা কিভাবে খেলেন?

আবির ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,
তুই এত কষ্ট করে বানিয়েছিস। আমি না খেলে তোর খারাপ লাগত না?

তাই বলে পুরোটা খেয়ে নিবেন? তিতা লাগে নি?

'আমার কাছে তিতা মনে হয় নি!

মেঘ চোখ বড় বড় করে চাইল। আবিরের দিকে খানিক ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,,
সরি, আমি আপনার সাথে দুষ্টামি করেছিলাম। আপনি আম্মু বা ভাইয়াকে কিছু বলবেন না, প্লিজ।

আবির আড়চোখে তাকিয়ে মুচকি হাসল কেবল। আবিরের হাসিতে মেঘের মনে অস্বস্তি ভর করেছে। হৃদয়ের কম্পন শুরু হয়েছে। আবিরের চোখে চোখ রাখার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এমন কেন হচ্ছে। ওই চোখে কিসের এত আকুতি।

মুহূর্তেই মেঘের দৃষ্টি সরে গেল। দুরন্ত হৃদয়ের গতি নিয়ন্ত্রণ এনে নরম পায়ে দূরে সরে দাঁড়াল। আবির তখনও নিরেট দৃষ্টিতে মেঘ কে দেখছে। ব্যগ্র মনের ব্যাকুলতা দু'চোখে আটকে আছে। ভালোবাসার নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি চোখের উপচে পড়া মায়ায় জন্ম দিচ্ছে। মুখে কিছু না বললেও, দৃষ্টি নিদ্বিধায় বলে দিচ্ছে,,

'আমার শূন্য হৃদয়ের পূর্ণতা তুমি।

সূর্য যেমন সোনালী আলোয় পৃথিবীকে আলোকিত করে, তেমনি মেঘের ঠোঁটের দুষ্টু হাসি, কান্না-আতঙ্কের ভঙ্গি, এমনকি নীরবতা ও আবিরের মনে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। আবিরের দৃষ্টি অনড়।

মেঘ আস্তে করে গলা ঝেড়ে বলল,,
আপনি চাইলে ভাইয়ার রুমে রেস্ট নিতে পারেন।

আবিরের অলৌকিক ভাবনার অবসান ঘটল।

হৃদয়কোনে জন্ম নেওয়া অনুভূতিদের ধামাচাপা নিতে উষ্ণ নিঃশ্বাস ছাড়ল। দৃষ্টির গভীরতা আটকাতে দুচোখ বন্ধ করে নিল। নিজেকে সংযত করে প্রশ্ন করল,,

তানভীর উঠেছে?

মনে হয় উঠেছে।

কোন রুম ওর?

মেঘ ইশারায় দেখিয়ে দিল। আবির ব্যাগ নিয়ে সেদিকে যেতে যেতে একবার ফিরে তাকাল। মোহঘোরে আচ্ছন্ন চোখের পল্লব ঝাপটে মুচকি হেসে রুমে চলে গেল। আবিরের ওমন দৃষ্টি, রহস্যময় হাসি বারবার প্রশ্ন বৃদ্ধি করছে মেঘকে। অতীত, বর্তমান একাধারে মিশে যাচ্ছে। আবিরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ নেই বহু বছর হতে চলল। সেই ছোটবেলায় কবে, কি দেখেছিল সেসব এখন মনেও নেই সেভাবে। বয়স আর চেহারা দুটোতেই এসেছে আমূল পরিবর্তন। অথচ প্রথম দেখাতেই মেঘকে তুই বলে সম্বোধন করল। বিষয়টা মেঘের কাছে একটু বেমানান লাগছে। তবে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছে,,

তুমি বললে, কেমন শুনাতো?

হয়তো ভালো, নয়তো এমনই বেমানান।
হালিমা বেগম রান্নাঘর থেকে ডাকলেন,

'মেঘ......

আসছি, আম্মু।

মেঘ মস্তিষ্কের সব ভাবনা-চিন্তা দূরে সরিয়ে রান্নাঘরে গেল।

হালিমা বেগম বললেন,,
আজকে আমাকে একটু হেল্প করতে হবে, মা।

'ঠিক আছে, করব। কিন্তু কি রান্না করবে তুমি?

হালিমা বেগম নির্দ্বিধায় বলতে লাগলেন,
পোলাও, মুরগি ঝাল মাংস, চিংড়ি মাছ ভুনা, মাছ ভর্তা,আর কি করা যায় বল তো!'

ঠিক আছে, করব। কিন্তু কি রান্না করবে তুমি?

হালিমা বেগম নির্দ্বিধায় বলতে লাগলেন,
পোলাও, মুরগি ঝাল মাংস, চিংড়ি মাছ ভুনা, মাছ ভর্তা, আর কি করা যায় বল তো!'

মেঘ দাঁতে দাঁত পিছে বলল,, এত আয়োজন কেন?

'কতদিন পর আবির এলো। ভালো-মন্দ রান্না করব না।

মেঘ কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,
আমার জন্য তো এত আয়োজন করো না।

'তুই কি মেহমান?

মেহমান হলেই কি এত আয়োজন করতে হবে।

হ্যাঁ, করতে হবে। তুই ছোট তাই বুঝিস না। হেল্প করবি কি না বল!

মেঘ আস্তে করে বলল,
'কি কি করতে হবে বলো।

তানভীর ঘুমাচ্ছে। আবির ব্যাগটা চেয়ারের উপর রেখে রুমটা ঘুরে দেখছে। ছোট একটা রুম ব্যালকনি পর্যন্ত নেই। রুমে জিনিসপত্রের পরিমাণও কম। একপাশে তানভীরের কিছু কাপড়-চোপড় ভাঁজ করে চেয়ারে রাখা। অন্যদিকে টেবিলে ল্যাপটপ, ফোন, কয়েকটি বই এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। আবির তানভীর পাশে বসল। তানভীরের হাতে ধাক্কা দিয়ে আস্তে করে ডাকল।

'তানভীর।

চলবে...

#গল্পপ্যাক্ট

 #আবিরের_স্প্যারো 🌻 (ইবুক ভার্সন)পর্ব -১০যুবকের কৌতুহলি চোখের দৃষ্টি খানিক নিভে গেল।মুখবিবরের উৎফুল্ল ভাবটাও আর নেই। মেঘ...
19/09/2025

#আবিরের_স্প্যারো 🌻 (ইবুক ভার্সন)
পর্ব -১০

যুবকের কৌতুহলি চোখের দৃষ্টি খানিক নিভে গেল।

মুখবিবরের উৎফুল্ল ভাবটাও আর নেই। মেঘ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে যুবকের ভাবমূর্তি পর্যবেক্ষণ করছে। হালিমা বেগম রান্নাঘর থেকে ডাকলেন,

কে এলো, মেঘ?

মেঘ উচ্চ স্বরে বলতে গেল,

চিনি না।

কিন্তু বলতে পারল না। সামনে দাঁড়ানো যুবকের ভয়ানক দৃষ্টি আটকে দিল তাকে। মেঘ আস্তে করে ডাকল,

দেখে যাও।

মেঘের ডাক ড্রয়িংরুম পর্যন্ত পৌঁছাল কি না,

কে জানে।

মেঘ এক হাতে দরজাটা শক্ত করে ধরে পুনরায় প্রশ্ন করল,

আপনি কে? কাকে চান!

তোকে চাই!

মুহূর্তেই থমকে গেল মেঘ। ভয় আর আতঙ্কে চিৎকার করার অবস্থা। মেঘ দৌড় দিতে নিল। ওমনি মেঘের হাতটা শক্ত করে ধরে ফেলল। মেঘ চোখ বন্ধ করে চিৎকার করতে নিল,,

আ.... তৎক্ষণাৎ মেঘের মুখ চেপে ধরল। যুবক নিদ্বিধায় মেঘের গা ঘেষে দাঁড়াল। কানের কাছে ঠোঁটে এগিয়ে ধীর গলায় বলল,,

'আমি আবির!

সহসা মেঘের দুচোখ প্রশস্ত হলো। ফ্যালফ্যালে দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কেবল। তখনও আবির মেঘের মুখ চেপে ধরে আছে। আবিরের শরীর থেকে আসা তীব্র সুগন্ধির ঘ্রাণ মেঘের দুনিয়া উলটপালট করে দিচ্ছে।

শরীরের প্রতিটা শিরা উপশিরাগুলো অবিরত ভাবে কম্পিত হচ্ছে। আবিরের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। চোখে চোখ রেখে বিড়বিড় করে বলল,

আমি সাজ্জাদুল খান আবির। সম্পর্কে তোর কি হই সেটা না হয় তোর উপরই ছেড়ে দিলাম। কিন্তু আজকের পর কোনদিন, কোনো অবস্থাতে আমাকে চিনতে না পারলে তোর সাথে এমন কোন অঘটন ঘটাব, যেটা তুই সারাজীবনও ভুলতে পারবি না। তাই আজ, এই মুহূর্তে তোর মন-মস্তিষ্কে আমার চেহারাটা ঢুকিয়ে নে।

আবির সহসা মেঘ কে ছেড়ে দিল। মেঘের ত্রু কুঁচকান। চোখ-মুখে বিরক্তির ভাব নিয়ে বলল,

আপনি কি পাগল?

'হ্যাঁ, তোর জন্য পাগল।

মেঘ গভীর দৃষ্টি সরু হলো। বিরক্তিক।র আওড়াল,,

কি বললেন?

তোর চোখে আমি পাগল। অথচ পুরো দুনিয়ার চোখে আমি অনেক কিছু।

এর মধ্যে হালিমা বেগম আসলেন। দরজার বাইরে কাউকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন,,

কে ওখানে?

আম্মুর কণ্ঠ শুনে মেঘ দরজা ছেড়ে দূরে সরে দাঁড়াল। আবির হাসিমুখে ডাকল,

মামনি....

সঙ্গে সঙ্গে হালিমা বেগম ডেকে ওঠলেন,

আবির!

বাবা, তুই এসেছিস?

আবির ভিতরে ঢুকল। হালিমা বেগম ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন। আদুরে গলায় বললেন,

কতদিন পর তোকে দেখছি। কেমন আছিস বাবা?

আলহামদুলিল্লাহ। তুমি কেমন আছো?

আছি আলহামদুলিল্লাহ। গতকালই বড়ো আফা বলেছিলেন, তুই ঢাকায় এসেছিস। কিন্তু আমার কাছে নাম্বার নেই তোর। কিভাবে কল দিব। রাতে তানভীরকে বললাম তোকে কল দিয়ে বলার জন্য। আবির শান্ত গলায়

বলল,,

তানভীর রাতেই বলেছে আমাকে। তার জন্যই সকাল সকাল চলে এসেছি। তানভীর কল রিসিভ করছিল না। তাই বারবার কলিংবেল চাপছিলাম যেন ওর ঘুম ভাঙে!

হালিমা বেগম বললেন,

এভাবে ওর ঘুম ভাঙবে না।

মেঘের দিকে তাকিয়ে হালিমা বেগম বললেন,,

এই মেঘ, চিনতে পেরেছিস? তোর আবির ভাই।

মেঘ কোনোমতে শুধু বলল,

হ্যাঁ!

আবির আড়চোখে মেঘের দিকে তাকিয়ে বলল,,

ওর আমাকে চিনতে হবে না। এই মেয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক ভুলতে বসেছে। হিংসুটে মেয়ে একটা।

মেঘ ভেঙচি কেটে বলল,, আমি হিংসুটে হলে আপনি তো হিটলারের নানা।

হালিমা বেগম মেঘকে ধমক দিয়ে বললেন, মেঘ, কি হচ্ছে!

সঙ্গে সঙ্গে আবির কে বললেন,,

আয়, বস এখানে। এই মেঘ আবিরের জন্য শরবত করে নিয়ে আয়।

হ্যাঁ হ্যাঁ, কেন নয়।

মেঘ রান্নাঘরে গিয়ে একটি লেবু কেটে নিল। গ্লাসে লেবুর রস দিয়ে যেই চিনির কৌটাতে হাত দিল, তৎক্ষণাৎ মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি এলো। দুই মিনিটের মধ্যে শরবতের গ্লাস নিয়ে হাজির হলো। মেঘ হাসিমুখে আবিরের সামনে শরবতের গ্লাস ধরে বলল,

নিন, আপনার শরবত।

আবির শরবতের গ্লাস হাতে নিয়ে মেঘের দিকে একবার চাইল। মেঘের চোখে মুখে তীব্র উত্তেজনা। ঠোঁটে মিটিমিটি হাসির রেখা। আবির গ্লাসের দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবল। তারপর গ্লাসটা টেবিলে রাখতে গেল। মেঘ গদগদ কণ্ঠে

বলল,,

আপনার জন্য স্পেশাল শরবত করেছি। খেয়ে দেখুন না।

হালিমা বেগম মেঘের সঙ্গে তাল দিলেন, খেয়ে নে, বাবা।

আবির গ্লাসটা রাখতে গিয়েও রাখতে পারল না। মুখের কাছে গ্লাস নিয়ে আরেক দফায় মেয়েকে দেখে নিল। মেঘ তখনও মুখ টিপে হাসছে। আবির এক ঢোক শরবত মুখে নিতেই দুচোখ বুঝে এলো। চিনি কিংবা লবণ ছাড়া লেবুর শরবত এক চামচ হলুদ গুঁড়ো অন্যরকম ফ্লেভার এনেছেষ এই টেস্ট জীবনেও পাইনি। আবিরের ক্র জোড়া কুঁচকে আসে। হালিমা বেগম উদ্বিগ্ন কণ্ঠে শুধালেন,

কি হলো আবির? শরবত ভালো হয় নি?

চলবে....

#গল্পপ্যাক্ট

19/09/2025

আসলেই 😫😫

#আবিরের_স্প্যারো #গল্পপ্যাক্ট ゚viralfbreelsfypシ゚viral ゚viralvideo #লেখনীতে_সালমা_চৌধুরী #চলবে #পর্ব_০১ ゚viralシ

Address

Rajshahi

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ramisa Fariha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share