20/09/2025
#আবিরের_স্প্যারো 🌻💛(ইবুক ভার্সন)
পর্ব -১১
হালিমা বেগম উদ্বিগ্ন কণ্ঠে শুধালেন,
কি হলো আবির? শরবত ভালো হয় নি?
মেঘ ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে। মুখবিবর ছোট হয়ে গেছে। আবির ভাই বলে দিলে কি হবে। ও তো মজা করেছিল।
মেঘ আমতা আমতা করে বলল,
ভালো হয় নি!
আবির শাণিত দৃষ্টিতে মেঘকে দেখছে। মেঘের ভীতুকর চেহারা দেখে নিজের অজান্তে হেসে ফেলল। সঙ্গে সঙ্গে ক্র জোড়া দু'দিকে সরে গেল। মেঘের দিকে তাকিয়ে থেকেই গ্লাসের সবটুকু শরবত একেবারে খেয়ে নিল। ফাঁকা গ্লাসটা টেবিলের উপর রেখে চাপা নিঃশ্বাস ছাড়ল। এদিকে মেঘের অবস্থা নাজেহাল। কপালের ভাঁজ ফেলে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর মনে মনে বিরবির করছে, 'কি সর্বনাশ করলাম আমি!
আবির চেয়ে পুরো গ্লাসের শরবত এভাবে খেয়ে নিবে, এটা কল্পনাও করতে পারেনি। শরবত বানিয়ে এক চামচ মুখে দিয়েছিল, সে বিরক্তিকর টেস্ট এখনও মুখে লেগে আছে। এক মুঠো চিনি খেয়েও বারবার বমি আসছে। অথচ আবির ভাইয়ের নিদ্বিধায় পুরোটা খেয়ে নিল! কিভাবে সম্ভব?
আবির শান্ত কণ্ঠে জবাব দিল,
শরবত খুব ভালো হয়েছে, মামনি!
ঠিক আছে। তুই রেস্ট নে। আমি রান্না বসায়।
হালিমা বেগম উঠে গেলেন। মেঘ তখনও ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। কোনভাবে সহজ হতে পারছে না মেয়েটা। হালিমা বেগম রান্নাঘরে ঢুকতে মেঘ এগিয়ে এলো। অস্পষ্ট কন্ঠে বিড়বিড় করল,,
আপনি শরবতটা কিভাবে খেলেন?
আবির ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,
তুই এত কষ্ট করে বানিয়েছিস। আমি না খেলে তোর খারাপ লাগত না?
তাই বলে পুরোটা খেয়ে নিবেন? তিতা লাগে নি?
'আমার কাছে তিতা মনে হয় নি!
মেঘ চোখ বড় বড় করে চাইল। আবিরের দিকে খানিক ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,,
সরি, আমি আপনার সাথে দুষ্টামি করেছিলাম। আপনি আম্মু বা ভাইয়াকে কিছু বলবেন না, প্লিজ।
আবির আড়চোখে তাকিয়ে মুচকি হাসল কেবল। আবিরের হাসিতে মেঘের মনে অস্বস্তি ভর করেছে। হৃদয়ের কম্পন শুরু হয়েছে। আবিরের চোখে চোখ রাখার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এমন কেন হচ্ছে। ওই চোখে কিসের এত আকুতি।
মুহূর্তেই মেঘের দৃষ্টি সরে গেল। দুরন্ত হৃদয়ের গতি নিয়ন্ত্রণ এনে নরম পায়ে দূরে সরে দাঁড়াল। আবির তখনও নিরেট দৃষ্টিতে মেঘ কে দেখছে। ব্যগ্র মনের ব্যাকুলতা দু'চোখে আটকে আছে। ভালোবাসার নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি চোখের উপচে পড়া মায়ায় জন্ম দিচ্ছে। মুখে কিছু না বললেও, দৃষ্টি নিদ্বিধায় বলে দিচ্ছে,,
'আমার শূন্য হৃদয়ের পূর্ণতা তুমি।
সূর্য যেমন সোনালী আলোয় পৃথিবীকে আলোকিত করে, তেমনি মেঘের ঠোঁটের দুষ্টু হাসি, কান্না-আতঙ্কের ভঙ্গি, এমনকি নীরবতা ও আবিরের মনে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। আবিরের দৃষ্টি অনড়।
মেঘ আস্তে করে গলা ঝেড়ে বলল,,
আপনি চাইলে ভাইয়ার রুমে রেস্ট নিতে পারেন।
আবিরের অলৌকিক ভাবনার অবসান ঘটল।
হৃদয়কোনে জন্ম নেওয়া অনুভূতিদের ধামাচাপা নিতে উষ্ণ নিঃশ্বাস ছাড়ল। দৃষ্টির গভীরতা আটকাতে দুচোখ বন্ধ করে নিল। নিজেকে সংযত করে প্রশ্ন করল,,
তানভীর উঠেছে?
মনে হয় উঠেছে।
কোন রুম ওর?
মেঘ ইশারায় দেখিয়ে দিল। আবির ব্যাগ নিয়ে সেদিকে যেতে যেতে একবার ফিরে তাকাল। মোহঘোরে আচ্ছন্ন চোখের পল্লব ঝাপটে মুচকি হেসে রুমে চলে গেল। আবিরের ওমন দৃষ্টি, রহস্যময় হাসি বারবার প্রশ্ন বৃদ্ধি করছে মেঘকে। অতীত, বর্তমান একাধারে মিশে যাচ্ছে। আবিরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ নেই বহু বছর হতে চলল। সেই ছোটবেলায় কবে, কি দেখেছিল সেসব এখন মনেও নেই সেভাবে। বয়স আর চেহারা দুটোতেই এসেছে আমূল পরিবর্তন। অথচ প্রথম দেখাতেই মেঘকে তুই বলে সম্বোধন করল। বিষয়টা মেঘের কাছে একটু বেমানান লাগছে। তবে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছে,,
তুমি বললে, কেমন শুনাতো?
হয়তো ভালো, নয়তো এমনই বেমানান।
হালিমা বেগম রান্নাঘর থেকে ডাকলেন,
'মেঘ......
আসছি, আম্মু।
মেঘ মস্তিষ্কের সব ভাবনা-চিন্তা দূরে সরিয়ে রান্নাঘরে গেল।
হালিমা বেগম বললেন,,
আজকে আমাকে একটু হেল্প করতে হবে, মা।
'ঠিক আছে, করব। কিন্তু কি রান্না করবে তুমি?
হালিমা বেগম নির্দ্বিধায় বলতে লাগলেন,
পোলাও, মুরগি ঝাল মাংস, চিংড়ি মাছ ভুনা, মাছ ভর্তা,আর কি করা যায় বল তো!'
ঠিক আছে, করব। কিন্তু কি রান্না করবে তুমি?
হালিমা বেগম নির্দ্বিধায় বলতে লাগলেন,
পোলাও, মুরগি ঝাল মাংস, চিংড়ি মাছ ভুনা, মাছ ভর্তা, আর কি করা যায় বল তো!'
মেঘ দাঁতে দাঁত পিছে বলল,, এত আয়োজন কেন?
'কতদিন পর আবির এলো। ভালো-মন্দ রান্না করব না।
মেঘ কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,
আমার জন্য তো এত আয়োজন করো না।
'তুই কি মেহমান?
মেহমান হলেই কি এত আয়োজন করতে হবে।
হ্যাঁ, করতে হবে। তুই ছোট তাই বুঝিস না। হেল্প করবি কি না বল!
মেঘ আস্তে করে বলল,
'কি কি করতে হবে বলো।
তানভীর ঘুমাচ্ছে। আবির ব্যাগটা চেয়ারের উপর রেখে রুমটা ঘুরে দেখছে। ছোট একটা রুম ব্যালকনি পর্যন্ত নেই। রুমে জিনিসপত্রের পরিমাণও কম। একপাশে তানভীরের কিছু কাপড়-চোপড় ভাঁজ করে চেয়ারে রাখা। অন্যদিকে টেবিলে ল্যাপটপ, ফোন, কয়েকটি বই এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। আবির তানভীর পাশে বসল। তানভীরের হাতে ধাক্কা দিয়ে আস্তে করে ডাকল।
'তানভীর।
চলবে...
#গল্পপ্যাক্ট