Rajshahi 365

Rajshahi 365 আমরা রাজশাহীর কথা বলি....

যে রাজশাহীর রাস্তাগুলো একসময় হেঁটে যাওয়া মানুষদেরও চিনতো…  :আজকের রাজশাহীর ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে হঠাৎ যদি সময়টা পেছনে ঘ...
02/09/2026

যে রাজশাহীর রাস্তাগুলো একসময় হেঁটে যাওয়া মানুষদেরও চিনতো…

:

আজকের রাজশাহীর ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে হঠাৎ যদি সময়টা পেছনে ঘুরে যায়—আপনি হয়তো বিশ্বাসই করবেন না, এ একই শহর।

যেখানে এখন রিকশা, মোটরসাইকেল আর গাড়ির স্রোতের মাঝে মানুষ রাস্তা পার হওয়ার সুযোগ খোঁজে, একসময় সেখানে বিকেলের বাতাস প্রায় বাধাহীনভাবে বয়ে যেত।

দূরে একটি সাইকেলের ঘণ্টা শোনা যেত, ধীরে চলত দু-একটি রিকশা, আর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষকে দেখে মনে হতো—শহরটি কোথাও ছুটছে না। রাজশাহীর রাস্তারও তখন যেন শ্বাস নেওয়ার সময় ছিল। রাজশাহীর রাস্তাগুলো একসময় হেঁটে যাওয়া মানুষদেরও চিনতো…

আজকের রাজশাহীর ব্যস্ত কোনো মোড়ে দাঁড়িয়ে যদি চোখ বন্ধ করা যায়, হয়তো কয়েক দশক আগের শহরটাকে কল্পনা করা সম্ভব—একটি রাস্তা, যেখানে সারি সারি গাড়ির হর্ন নেই; ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা মানুষের ক্লান্ত মুখ নেই; রাস্তা পার হতে গিয়ে বুক ধড়ফড় করার ভয়ও নেই।

ছিল প্রশস্ত নীরবতা। ছিল ধীর গতি। আর ছিল এমন এক শহর, যেখানে রাস্তা যেন শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার পথ ছিল না—ছিল মানুষের জীবনযাপনের অংশ।

পুরোনো রাজশাহীর অনেক রাস্তা একসময় এত ভিড় দেখেনি, কারণ শহরটিও ছিল অন্যরকম। জনসংখ্যা কম ছিল, ব্যক্তিগত যানবাহন ছিল সীমিত, মানুষের চলাফেরার প্রয়োজনও ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট একটি শহরকেন্দ্রিক জীবনের মধ্যে।

অনেকেই হেঁটে যেতেন, সাইকেল ছিল দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম সঙ্গী, রিকশার গতি ছিল ধীর—আর সেই ধীরগতির মধ্যেই যেন শহরের একটি নিজস্ব ছন্দ ছিল।

ভাবা যায়, আজ যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে যায়, একসময় সেখানে বিকেলের দিকে পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে দাঁড়িয়ে দুটো কথা বলার সময় ছিল! দোকানের সামনে মানুষ বসে গল্প করত। রাস্তার পাশের গাছগুলো শুধু সৌন্দর্যের অংশ ছিল না, পথচারীদের ছায়াও দিত। শহরে গন্তব্য ছিল, কিন্তু সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া আজকের মতো এত নির্মম ছিল না।

তবে পুরোনো রাজশাহীর কম ভিড়কে শুধু “সোনালি অতীত” বলে দেখলেও ভুল হবে। কম ভিড়ের পেছনে ছিল সীমিত নগরায়ন, ছোট অর্থনৈতিক পরিসর এবং তুলনামূলক কম সুযোগ।

আজ শহর বড় হয়েছে কারণ মানুষের প্রয়োজন বেড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি কর্মসংস্থান—সবকিছুর বিস্তারের সঙ্গে মানুষও এসেছে। নতুন মানুষ এসেছে, নতুন স্বপ্ন এসেছে, নতুন যানবাহন এসেছে।

সমস্যা হয়তো শহর বড় হওয়ার মধ্যে নয়। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন শহরের রাস্তা পুরোনো থাকে কিন্তু মানুষের সংখ্যা ও চলাচল বদলে যায়। যখন আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু পরিকল্পিত চলাচল চাই না। যখন নতুন ভবন তৈরি হয়, কিন্তু পথচারীর জায়গা কমে যায়। তখন ভিড় শুধু রাস্তায় জমে না—মানুষের মনেও জমতে শুরু করে ক্লান্তি।

তবু পুরোনো রাজশাহীর রাস্তার কথা মনে পড়লে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নাড়া দেয়, তা হলো—একসময় শহরটি মানুষকে একটু সময় দিত। হাঁটার সময় দিত। চারপাশ দেখার সময় দিত। পরিচিত মুখকে চিনে হাসার সময় দিত।

আজ আমরা দ্রুত চলি, কিন্তু কোথায় পৌঁছাতে চাই—সেই প্রশ্নটি কি সবসময় করি?

হয়তো রাজশাহীর পুরোনো রাস্তাগুলো আমাদের অতীতে ফিরতে বলছে না। তারা শুধু মনে করিয়ে দেয়—একটি শহর সত্যিকার অর্থে আধুনিক তখনই, যখন সেখানে মানুষের চলাচল সহজ হয়, কিন্তু মানুষের জীবন হারিয়ে যায় না।

আপনার কি এমন কোনো রাজশাহীর রাস্তার কথা মনে আছে—যেখানে একসময় এত ভিড় ছিল না, অথচ আজ দাঁড়ালে মনে হয় শহরটা যেন চোখের সামনেই বদলে গেছে?

লেখক : সাংবাদিক

এটিই রাজশাহীর প্রথম চাইনিজ রেস্টুরেন্ট (১৯৭৬ সালের) —ইতিহাসের সাক্ষী কি এই পুরোনো দালানটি?  : রাজশাহীর হোসেনীগঞ্জ, বর্তম...
02/09/2026

এটিই রাজশাহীর প্রথম চাইনিজ রেস্টুরেন্ট (১৯৭৬ সালের) —ইতিহাসের সাক্ষী কি এই পুরোনো দালানটি?

:

রাজশাহীর হোসেনীগঞ্জ, বর্তমান বেতপট্টি মেইন রোডে দাঁড়িয়ে থাকা এই পুরোনো দালানটি হয়তো অনেকের চোখে শুধুই একটি ভবন।

কিন্তু একজন মানুষের স্মৃতিতে এটি জড়িয়ে আছে রাজশাহীর খাদ্যসংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়!

জানা যায়, ১৯৭৬ সালে এই ভবনের নিচতলায় রাজশাহীতে প্রথম চাইনিজ রেস্টুরেন্ট চালু হয়েছিল। রেস্টুরেন্টটির নাম ছিল—
“Shun Tung” — সান তুং!

একটি শহরের ইতিহাস শুধু রাজা, জমিদার কিংবা বড় বড় ঘটনার ইতিহাস নয়।একটি পুরোনো রেস্টুরেন্ট, একটি ভবন, বন্ধুদের সঙ্গে খেতে যাওয়ার স্মৃতি—এসবও একটি শহরের জীবন্ত ইতিহাস।

রাজশাহীর প্রথম চাইনিজ রেস্টুরেন্টের স্মৃতি বহন করা এই ভবনটি রাজশাহীর ইতিহাসের সাক্ষী! আপনি কি এই ভবনটি দেখেছে, আর জানতেন- এটিই ছিল রাজশাহীতে প্রথম চাইনিজ রেস্টুরেন্ট?

রাজশাহীর হোসেনীগঞ্জ এলো যেভাব—রাজশাহীর হোসেনীগঞ্জ নামটি কি এমনি এমনি এসেছে?  :এই নামের পেছনে লুকিয়ে আছে মহররম, তাজিয়া, জ...
02/09/2026

রাজশাহীর হোসেনীগঞ্জ এলো যেভাব—

রাজশাহীর হোসেনীগঞ্জ নামটি কি এমনি এমনি এসেছে?

:

এই নামের পেছনে লুকিয়ে আছে মহররম, তাজিয়া, জারি গান, তলোয়ার খেলা আর পুরোনো রাজশাহীর এক বিস্মৃত সাংস্কৃতিক ইতিহাস!

১৯৪৮ সালে মুর্শিদাবাদ থেকে ইসমাইলীয় শিয়া সম্প্রদায়ের আরও একটি দল রাজশাহীতে এসে বসবাস শুরু করেন। তারা মহররম উপলক্ষে আয়োজন করতেন মজলিশ, জারি মিছিল ও কাসিদা পাঠের।

বিশেষ করে যে স্থানে মহররমের সময় তারা তাজিয়া স্থাপন করতেন এবং তলোয়ার ও লাঠিখেলার আয়োজন করতেন, সেই স্থানটি ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে ওঠে—হোসেনীগঞ্জ নামে।

রাজশাহীর মহররমের আয়োজন শুধু ধর্মীয় আবেগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কুস্তি, লাঠিখেলা ও তলোয়ার খেলার ঐতিহ্যও। এ ক্ষেত্রে দরগাপাড়ার মিয়াজান শেখ এবং হোসেনীগঞ্জের তুফানির দল বিশেষ সুনাম অর্জন করেছিল বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়।
আরও মজার বিষয় হলো—পুরোনো

রামপুর-বোয়ালিয়ায় ছিল ‘রুটিআলা পাড়া’ নামে একটি এলাকা! সেখানে বসবাসকারী অনেক পরিবার নানা ধরনের রুটি ও বিস্কুট তৈরি করে শহরের দোকানগুলোতে সরবরাহ করত।

মহররমের সময় তাঁরা তৈরি করতেন বিশেষ শেরমাল বা শিরমাল—জাফরানের সুগন্ধযুক্ত ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের সুস্বাদু রুটি। সঙ্গে তৈরি হতো চিনির তৈরি তাজিয়ার সাঁচও।

ভাবুন তো—আজকের একটি এলাকার নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে মহররমের মিছিল, তাজিয়া, লাঠিখেলা, কুস্তি আর রাজশাহীর হারিয়ে যাওয়া খাদ্যঐতিহ্য!

আপনি কি হোসেনীগঞ্জের এই ইতিহাস আগে জানতেন? আর রাজশাহীর কোন এলাকার নামের ইতিহাস নিয়ে পরের পোস্ট চান—?

রাজশাহীর সেই বিকেলগুলো কোথায় হারিয়ে গেল?একসময় রাজশাহীতে বিকেল নামত খুব ধীরে। যেন সূর্যও জানত—এই শহরকে বিদায় জানানোর আগে ...
02/09/2026

রাজশাহীর সেই বিকেলগুলো কোথায় হারিয়ে গেল?

একসময় রাজশাহীতে বিকেল নামত খুব ধীরে। যেন সূর্যও জানত—এই শহরকে বিদায় জানানোর আগে একটু সময় নিতে হয়।

পদ্মার দিক থেকে বাতাস আসত, গাছের পাতায় আলো কাঁপত, আর মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ত কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই। আজ সেই বিকেলগুলো কোথায়? নাকি বিকেল এখনও আসে, শুধু আমরা আর তাকে দেখতে পাই না?

একসময় বিকেল মানেই ছিল সময়ের একটু অবকাশ। স্কুল শেষে বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটা, মহল্লার মোড়ে দাঁড়িয়ে গল্প, মাঠে ক্রিকেট বা ফুটবল, চায়ের দোকানে রাজনৈতিক তর্ক, আর পদ্মার পাড়ে বসে সূর্য ডোবা দেখা। রাজশাহীর বিকেল যেন শহরের মানুষের জন্য এক অদৃশ্য মিলনমেলা ছিল।

সেখানে ধনী-গরিবের আলাদা পরিচয় খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না; গুরুত্বপূর্ণ ছিল—সময় আছে, পাশে মানুষ আছে।

কিন্তু শহর বদলেছে। রাজশাহী বড় হয়েছে, জনসংখ্যা বেড়েছে, রাস্তা ব্যস্ত হয়েছে, যানবাহন বেড়েছে, মানুষের প্রয়োজনও বেড়েছে বহুগুণ।

আগে যে মানুষ বিকেলে হাঁটতে বের হতেন, তিনি এখন হয়তো অফিস থেকে ফিরছেন ক্লান্ত শরীরে। যে শিশুটি মাঠে খেলত, সে এখন কোচিং, মোবাইল কিংবা পর্দার ভেতরের পৃথিবীতে ব্যস্ত।

যে বন্ধুদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প হতো, তারা এখন একই শহরে থেকেও দেখা করার সময় খুঁজে পায় না।

তবু কি সব দোষ প্রযুক্তির? হয়তো নয়। প্রযুক্তি আমাদের দূরের মানুষকে কাছে এনেছে, কিন্তু কখনো কখনো কাছের মানুষটিকেই দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা আমাদের বেশি কাজ করতে শিখিয়েছে, কিন্তু অবসর উপভোগ করার ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। আমরা সময় বাঁচানোর জন্য এত কিছু আবিষ্কার করেছি—অথচ সেই বাঁচানো সময়টুকু কোথায় চলে যায়?

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, রাজশাহীর বিকেল আসলে হারিয়ে যায়নি। পদ্মার ওপর এখনও সূর্য ডুবে। এখনও কোথাও চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠে। এখনও কোনো পুরোনো গলিতে কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে গল্প করে।

হারিয়ে গেছে হয়তো আমাদের সেই ধীর হয়ে দাঁড়ানোর অভ্যাস—যে অভ্যাস মানুষকে বুঝতে শেখাত, জীবন শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর নাম নয়।

হয়তো একদিন আমরা আবার বিকেলের দিকে তাকাব। ফোনটা একটু দূরে রাখব। কোনো পুরোনো বন্ধুকে ডাকব। পদ্মার পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখব সূর্য ডুবছে—যেমন বহু বছর আগে ডুবত।

তখন হয়তো বুঝব, রাজশাহীর সেই বিকেলগুলো কোথাও হারিয়ে যায়নি। আমরাই হয়তো জীবনের এত দ্রুত পথে হাঁটতে হাঁটতে তাদের পেছনে ফেলে এসেছি।

আপনার কি মনে আছে রাজশাহীর এমন কোনো বিকেল—যেটা আজও মনে পড়লে মনে হয়, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো হয়তো তখনই নিঃশব্দে চলে যাচ্ছিল?

লেখক : সাংবাদিক

মোবাইল ফোন আসার আগে রাজশাহীর জীবন—যখন মানুষ হারিয়ে যেত না, শুধু দেখা করতে দেরি হতোআজকের রাজশাহীতে দাঁড়িয়ে যদি কাউকে বলা ...
01/09/2026

মোবাইল ফোন আসার আগে রাজশাহীর জীবন—যখন মানুষ হারিয়ে যেত না, শুধু দেখা করতে দেরি হতো

আজকের রাজশাহীতে দাঁড়িয়ে যদি কাউকে বলা হয়—একটা সময় ছিল, যখন কাউকে জরুরি কথা বলতে হলে তার বাড়িতে যেতে হতো—তাহলে হয়তো নতুন প্রজন্মের কাছে কথাটা অবিশ্বাস্য মনে হবে।

কিন্তু সত্যিই এমন একটা রাজশাহী ছিল।
যেখানে মানুষের পকেটে পৃথিবী ছিল না। ছিল না স্মার্টফোনের আলো। ছিল না মেসেঞ্জারের নীল চিহ্ন, হোয়াটসঅ্যাপের টুংটাং শব্দ, কিংবা রাতে ঘুম ভেঙে ফোনের স্ক্রিন দেখার অভ্যাস।

তবু মানুষ কথা বলত।

বরং হয়তো আজকের চেয়েও একটু বেশি।
মোবাইল ফোন আসার আগে রাজশাহীর জীবনকে শুধু “প্রযুক্তিহীন জীবন” বললে ভুল হবে। সেটি ছিল অন্য ধরনের যোগাযোগের জীবন। সেখানে খবর পৌঁছাতে সময় লাগত, কিন্তু মানুষ একে অপরের কাছে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগত না।

কারও সঙ্গে দেখা করার কথা থাকলে বলা হতো—“বিকেলে জিরোপয়েন্টে থাকিস”, কিংবা “সাহেববাজারে দেখা হবে।”
তারপর?

কোনো ফোন নেই।
কেউ দেরি করলে তাকে জিজ্ঞেস করার উপায় নেই—“কোথায় তুমি?”
অপেক্ষা করতে হতো।

আর সেই অপেক্ষার মধ্যেও ছিল এক ধরনের বিশ্বাস।
আজকের মতো প্রতি পাঁচ মিনিটে লোকেশন পাঠাতে হতো না। মানুষ জানত, কথা দিলে মানুষ আসবে। একটু দেরি হতে পারে, কিন্তু আসবে।

রাজশাহীর বিকেলগুলো তখন যেন একটু অন্যরকম ছিল।

পদ্মার পাড়ে বসে থাকা মানে শুধু ছবি তোলা নয়। কারণ ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীকে দেখানোর কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পদ্মার ওপর সূর্য ডুবে গেলে মানুষ সেটি নিজের চোখে দেখত, নিজের ভেতরে জমিয়ে রাখত।

বন্ধুরা পাশাপাশি বসত।
কেউ গল্প করত, কেউ চুপ করে থাকত।

কেউ হয়তো রাজশাহীর বাইরে চলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখত। কেউ চাকরি পাওয়ার চিন্তা করত। কেউ প্রেমে পড়েছে, কিন্তু সেই খবর জানানোর জন্য কোনো ইনবক্স ছিল না।
প্রেম তখনও ছিল।
কিন্তু প্রেমের গতি ছিল ধীর।

একটা চিঠি পৌঁছাতে সময় লাগত। কারও সঙ্গে দেখা করার জন্য রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। অনেক কথা মুখোমুখি বলতে হতো—যে কথাগুলো আজ আমরা কয়েক সেকেন্ডে লিখে পাঠিয়ে দিই।
হয়তো সে কারণেই কিছু কথা তখন বেশি ভারী ছিল।

মোবাইল ফোনের আগে রাজশাহীর মানুষের সামাজিক জীবন ছিল অনেক বেশি “স্থাননির্ভর”।
মানুষ কোথায় আছে—এটা জানার জন্য ফোন করা যেত না। তাই মানুষকে পাওয়া যেত নির্দিষ্ট জায়গায়।
সাহেববাজারে গেলে পরিচিত কাউকে দেখা হয়ে যেতে পারত।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গেলে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
পাড়ার মোড়ে সন্ধ্যার পর কয়েকজন মানুষ বসে আছে—এটা ছিল খুব স্বাভাবিক দৃশ্য।

চায়ের দোকান ছিল শুধু চা খাওয়ার জায়গা নয়।
সেখানে খবর পাওয়া যেত।
রাজনীতি নিয়ে তর্ক হতো।
ক্রিকেট নিয়ে ঝগড়া হতো।

কারও ছেলে চাকরি পেয়েছে, কারও মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে, কার বাড়িতে অতিথি এসেছে—সব খবর কোনো না কোনোভাবে পাড়ার মানুষের কাছে পৌঁছে যেত।

আজ আমরা পৃথিবীর খবর কয়েক সেকেন্ডে জেনে যাই।
কিন্তু পাশের বাড়ির মানুষটি কেমন আছে, সেটি জানি না।
তখন হয়তো পৃথিবীর খবর আসতে দেরি হতো, কিন্তু পাশের মানুষের খবর অজানা থাকত না।

তবে পুরোনো সেই জীবনকে শুধু সুন্দর বলে রোমান্টিক করে দেখাও ঠিক হবে না।
মোবাইল ফোন না থাকার অসুবিধাও ছিল।
জরুরি খবর পৌঁছানো কঠিন ছিল।

কেউ দূরে গেলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত হয়ে যেত। কোনো দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে খবর পৌঁছাতে সময় লাগত। দূর শহরে থাকা প্রিয়জনের কণ্ঠ শুনতে অনেক সময় টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, অফিস বা নির্দিষ্ট ফোনের ওপর নির্ভর করতে হতো।

আজকের প্রযুক্তি এই দূরত্বগুলো ভেঙে দিয়েছে।
রাজশাহীতে বসে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা সন্তানের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলা যায়।
হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খুঁজে পাওয়া সহজ হয়েছে।
জরুরি সাহায্য দ্রুত পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
তাই প্রশ্নটা কখনোই এমন নয় যে—“আগের দিন ভালো ছিল, নাকি এখন ভালো?”
আসল প্রশ্ন সম্ভবত অন্য জায়গায়।

আমরা কী পেয়েছি, আর সেই পাওয়ার বিনিময়ে কী একটু একটু করে হারিয়েছি?

মোবাইল ফোন আমাদের সময় বাঁচিয়েছে।
কিন্তু সময়ের ভেতরের শূন্য জায়গাগুলোও ভরে দিয়েছে।

আগে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে মানুষ চারপাশ দেখত।
আজ স্ক্রিন দেখে।
আগে বন্ধু না এলে তার জন্য অপেক্ষা করতে হতো।

আজ এক মিনিট দেরি হলেই ফোন—“কোথায়?”
আগে পদ্মার পাড়ে বসে নদী দেখা হতো।
আজ অনেক সময় নদীর চেয়ে নদীর সামনে নিজের ছবিটাই বেশি দেখা হয়।
আগে স্মৃতি তৈরি হতো।
আজ স্মৃতির প্রমাণ তৈরি হয়।
পার্থক্যটা খুব ছোট মনে হলেও, মানুষের জীবন বদলে যাওয়ার জন্য কখনো কখনো এতটুকুই যথেষ্ট।

রাজশাহীর সেই পুরোনো দিনগুলোর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হয়তো ছিল তার ধীর গতি।
শহর তখনও চলত।
মানুষও ব্যস্ত ছিল।
দুঃখ ছিল, অর্থকষ্ট ছিল, অনিশ্চয়তা ছিল, রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল।

কিন্তু মানুষের হাতে সারাক্ষণ এমন একটি যন্ত্র ছিল না, যা তাকে পৃথিবীর সব খবরের সঙ্গে যুক্ত রেখে নিজের পাশের মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।

সন্ধ্যা নামলে অনেক বাড়িতে মানুষ সত্যিই একসঙ্গে বসত।

খাওয়ার সময় ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখার প্রশ্ন ছিল না।

অতিথি এলে তাকে বসিয়ে রেখে কেউ অন্য কারও মেসেজের উত্তর দিত না।

মানুষের উপস্থিতি তখন সত্যিই উপস্থিতি ছিল।
শরীরও সেখানে।
মনও সেখানে।

আজ রাজশাহীর নতুন প্রজন্ম হয়তো ভাবতে পারে—ফোন ছাড়া মানুষ সময় কাটাত কীভাবে?
উত্তরটা হয়তো খুব সহজ।
মানুষ মানুষকে সময় দিত।

কেউ গল্পের বই পড়ত।
কেউ রেডিও শুনত।
কেউ টেলিভিশনের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করত।

কেউ বিকেলে মাঠে যেত।
কেউ ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখত।
আর কেউ হয়তো শুধু চুপচাপ বসে থাকত।
আজকের মানুষের কাছে “কিছু না করা” প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।

কারণ হাতে ফোন থাকলে পৃথিবী সবসময় আমাদের কিছু না কিছু করতে দেয়।
কিন্তু সেই পুরোনো রাজশাহী হয়তো মানুষকে মাঝে মাঝে কিছু না করার স্বাধীনতা দিত।
আর সেই শূন্য সময়েই মানুষ নিজের সঙ্গে দেখা করত।

হয়তো আমরা আসলে মোবাইল ফোন আসার আগের রাজশাহীকে মিস করি না।
আমরা মিস করি সেই বয়সকে, যখন বিকেল ছিল দীর্ঘ।

বন্ধুদের সঙ্গে দেখা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
অপেক্ষা ছিল কষ্টের, কিন্তু সুন্দর।
একটা চিঠি ছিল মূল্যবান।
একটা দেখা ছিল বিশেষ।

আর একজন মানুষ আমাদের সামনে বসলে তার দিকে তাকানোর মতো সময় আমাদের ছিল।
প্রযুক্তি আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে—এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, প্রযুক্তি পৃথিবীকে আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিতে দিতে একটি জিনিস খুব নিঃশব্দে বদলে দিয়েছে—
আমরা পৃথিবীর সঙ্গে আগের চেয়ে বেশি যুক্ত হয়েছি, কিন্তু একে অপরের সঙ্গে কি সত্যিই ততটাই যুক্ত আছি?

পদ্মার পাড় আজও আছে।
সাহেববাজার আজও আছে।
রাজশাহীর বিকেলও আসে।
শুধু বদলে গেছে বিকেলের দিকে তাকিয়ে থাকা মানুষের চোখ।

একসময় মানুষ অপেক্ষা করত কারও আসার জন্য।
আজ মানুষ অপেক্ষা করে একটি নোটিফিকেশনের জন্য।

আর এই দুই অপেক্ষার মাঝখানেই হয়তো লুকিয়ে আছে—একটি শহরের বদলে যাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় গল্প।

আপনার কি মনে পড়ে—মোবাইল ফোন আসার আগে রাজশাহীতে এমন কোন ছোট্ট জিনিস ছিল, যা তখন খুব সাধারণ ছিল, কিন্তু আজ ভাবলে অমূল্য মনে হয়?

লেখক : সাংবাদিক

রাজশাহীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ‘River City’ বানানো সম্ভব কি?  :  একদিন হয়তো বাংলাদেশের মানুষ রাজশাহীতে আসবে শুধু আম ...
01/09/2026

রাজশাহীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ‘River City’ বানানো সম্ভব কি?

: একদিন হয়তো বাংলাদেশের মানুষ রাজশাহীতে আসবে শুধু আম খেতে নয়, শুধু পদ্মার পাড়ে বিকেল কাটাতেও নয়—আসবে একটি শহর দেখতে।

একটি নদীকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে জন্ম নেওয়া শহর।

প্রশ্ন হলো—রাজশাহীকে কি সত্যিই বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ‘River City’ বানানো সম্ভব?
উত্তর—সম্ভব। খুবই সম্ভব।

কারণ রাজশাহীর কাছে এমন একটি সম্পদ আছে, যা কোটি কোটি টাকা খরচ করেও অন্য কোনো শহর তৈরি করতে পারবে না—পদ্মা।

রাজশাহী শহর দাঁড়িয়ে আছে পদ্মার উত্তর তীরে। এই নদী শুধু একটি জলধারা নয়; এটি এই অঞ্চলের ইতিহাস, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, স্মৃতি এবং মানুষের আবেগের অংশ। রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি মানুষের জীবনে পদ্মাপাড়ের কোনো না কোনো গল্প আছে। কারও প্রেম, কারও বন্ধুত্ব, কারও শৈশব, কারও বিষণ্ন বিকেল।

কিন্তু একটি বড় প্রশ্ন আছে—আমরা কি পদ্মাকে সত্যিই আমাদের শহরের কেন্দ্রবিন্দু বানাতে পেরেছি?

পদ্মাপাড়ে ওয়াকওয়ে হয়েছে, বসার জায়গা হয়েছে, পার্ক ও বিনোদনের নানা অবকাঠামো তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পদ্মার তীরকে আরও উন্নত ও আকর্ষণীয় করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এমনকি পদ্মা তীরবর্তী এলাকার উন্নয়ন, শহররক্ষা বাঁধ সম্প্রসারণ এবং ‘Padma Driveway’-এর মতো পরিকল্পনা নিয়েও কাজ ও আলোচনা চলছে।

কিন্তু একটি সুন্দর নদীর শহর শুধু ওয়াকওয়ে দিয়ে তৈরি হয় না।

একটি সত্যিকারের River City তৈরি হয় যখন নদী, প্রকৃতি, মানুষ, স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতি—সবকিছু একই পরিকল্পনায় যুক্ত হয়।

কল্পনা করুন—তালাইমারী থেকে শহরের পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত একটি দীর্ঘ, সবুজ, পরিচ্ছন্ন নদীতীর। কোথাও সাইকেল লেন, কোথাও খোলা সাংস্কৃতিক মঞ্চ, কোথাও শিশুদের প্রকৃতি পার্ক, কোথাও বই পড়ার জায়গা। সন্ধ্যার পর পদ্মার পাড় শুধু ফুচকার দোকান আর ভিড়ের জায়গা নয়—হয়ে উঠবে শিল্প, সংস্কৃতি ও নাগরিক জীবনের সবচেয়ে সুন্দর কেন্দ্র।

কিন্তু উন্নয়নের আগে আমাদের একটি কঠিন সত্য স্বীকার করতে হবে।

নদীকে জয় করে River City বানানো যাবে না। নদীকে সম্মান করেই বানাতে হবে।

পদ্মার নাব্যতা, ভাঙন, বন্যা, দূষণ এবং পরিবেশ—এসব উপেক্ষা করে কংক্রিটের স্বপ্ন তৈরি করলে সেটি একদিন নদীর কাছেই হার মানবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনায় পদ্মা অববাহিকার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, নিষ্কাশন, বন্যা ব্যবস্থাপনা ও নদীতীর রক্ষার মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—এটাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো—এ শহর এখনো পুরোপুরি কংক্রিটের জঙ্গলে হারিয়ে যায়নি।
এখনও সময় আছে।

আমরা চাইলে পদ্মার পাড়কে এমনভাবে গড়ে তুলতে পারি, যেখানে উন্নয়ন হবে, কিন্তু গাছ থাকবে। পর্যটন হবে, কিন্তু নদী নষ্ট হবে না। ব্যবসা হবে, কিন্তু জনসাধারণের জায়গা দখল হবে না।

রাজশাহীর সামনে তাই প্রশ্ন একটাই—
আমরা কি শুধু সুন্দর একটি শহর চাই, নাকি এমন একটি শহর চাই—যার সৌন্দর্যের গল্প শুনে মানুষ একদিন দূর দূরান্ত থেকে পদ্মার পাড়ে আসবে?

পদ্মা আমাদের সামনে প্রতিদিন বয়ে যায়।
হয়তো সে-ই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা।

এখন শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—
রাজশাহী কি পদ্মার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি শহরই থাকবে, নাকি একদিন পদ্মাকে হৃদয়ে নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর River City হয়ে উঠবে?

আপনার কী মনে হয়—রাজশাহীর পদ্মাপাড়কে বিশ্বমানের River City হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব?

লেখক : সাংবাদিক

রাজশাহীর আম থেকে হাজার কোটি টাকার শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব কি?  :একটি পাকা আম গাছ থেকে নামার পর আমাদের হাতে কতক্ষণ বেঁচে থাক...
01/09/2026

রাজশাহীর আম থেকে হাজার কোটি টাকার শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব কি?

:

একটি পাকা আম গাছ থেকে নামার পর আমাদের হাতে কতক্ষণ বেঁচে থাকে?

কয়েক দিন।

তারপর?

বিক্রি না হলে দাম কমে। নষ্ট হলে ফেলে দিতে হয়। কৃষকের বছরের পরিশ্রম তখন কখনো কখনো বাজারের দামের কাছে পরাজিত হয়।

কিন্তু পৃথিবীর বুদ্ধিমান অর্থনীতি ফলকে শুধু ফল হিসেবে দেখে না।

তারা দেখে—জুস, পাল্প, জ্যাম, জেলি, ম্যাঙ্গো বার, শুকনো আম, আইসক্রিম, বেবি ফুড, কনফেকশনারি, ফ্লেভার, রপ্তানি এবং একটি সম্পূর্ণ শিল্পব্যবস্থা।

সেখানেই রাজশাহীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আমরা কি শুধু আম উৎপাদন করব, নাকি আমের মূল্য তৈরি করব?

রাজশাহী অঞ্চলের আম অর্থনীতি ইতোমধ্যেই বিশাল। সাম্প্রতিক কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে লাখ লাখ টন আম উৎপাদিত হয় এবং এই ফলকে ঘিরে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা উৎপাদনে নয়—মূল্য সংযোজনে।

ভাবুন তো, মৌসুমে যে আমের দাম পড়ে যায়, যে আম দেখতে একটু ছোট বলে বাজারে কম দাম পায়, যে আম পরিবহনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়—সেই আমও যদি পাল্প কারখানায় যায়?

তাহলে সেটি আর ‘নষ্ট হওয়ার আম’ নয়।
সেটি হয়ে উঠতে পারে শিল্পের কাঁচামাল।

আজ বাংলাদেশের প্রায় ২৪–২৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হলেও রপ্তানির অংশ এখনো উৎপাদনের তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র।

অর্থাৎ আমাদের সমস্যা আমের অভাব নয়; সমস্যা আন্তর্জাতিক মানের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড চেইন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শক্তিশালী বাজারব্যবস্থার অভাব।

তাই রাজশাহীতে যদি পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে ম্যাঙ্গো প্রসেসিং জোন, আধুনিক পাল্প কারখানা, কোল্ড স্টোরেজ, শুকনো ফলের শিল্প, গবেষণাগার ও রপ্তানি কেন্দ্র—তাহলে হাজার কোটি টাকার শিল্প গড়ে তোলা কোনো কল্পকাহিনি নয়।

বরং প্রশ্নটি অন্য জায়গায়।

রাজশাহীর কাছে কি আম আছে? আছে।
মানুষ আছে? আছে।
বাজার আছে? আছে।
ব্র্যান্ড আছে? আছে।
তাহলে নেই কী?

সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—দূরদৃষ্টি।

রাজশাহীর আমকে আমরা যতদিন শুধু মৌসুমি ফল হিসেবে দেখব, ততদিন এর অর্থনীতি মৌসুমের সঙ্গেই শেষ হবে।

কিন্তু যেদিন আমকে শিল্প হিসেবে দেখব, সেদিন একটি আমের মৌসুম শেষ হলেও তার অর্থনীতি চলবে বারো মাস।

হয়তো রাজশাহীর ভবিষ্যৎ কোনো নতুন কারখানার চিমনিতে নয়—লুকিয়ে আছে আজও একটি পাকা আমের ভেতর।

প্রশ্ন শুধু একটাই—রাজশাহী কি সেই সম্ভাবনাকে চিনতে প্রস্তুত?

লেখক : সাংবাদিক

রাজশাহীর বোসপাড়া—নামটা কি এমনি এমনি এসেছে?  :আজ আমরা যে এলাকাকে বোসপাড়া নামে চিনি, একসময় তার নাম ছিল রামচন্দ্রপুর।কিন্তু...
01/09/2026

রাজশাহীর বোসপাড়া—নামটা কি এমনি এমনি এসেছে?

:
আজ আমরা যে এলাকাকে বোসপাড়া নামে চিনি, একসময় তার নাম ছিল রামচন্দ্রপুর।

কিন্তু কীভাবে বদলে গেল একটি এলাকার পরিচয়?
পুরোনো ইতিহাস বলছে, একসময় এই মহল্লায় বসবাস করতেন বোস বা বসু পদবিধারী অভিজাত ব্রাহ্মণ হিন্দু পরিবারগুলো।

তাদের বসবাস ও সামাজিক প্রভাবের কারণেই ধীরে ধীরে রামচন্দ্রপুর পরিচিত হয়ে ওঠে—বোসপাড়া নামে।

একটি এলাকার নাম কখনো শুধু মানচিত্রের পরিচয় নয়। নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সেই এলাকার মানুষ, তাদের জীবনযাপন, সামাজিক কাঠামো এবং সময়ের ইতিহাস।

সেই সময় সমাজে বর্ণভেদ ও সামাজিক বিভাজন ছিল অত্যন্ত কঠোর। প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতির কারণে এই এলাকার সামাজিক পরিসরও ছিল সীমাবদ্ধ; মুসলমান ও তৎকালীন নিম্নবর্ণ হিসেবে বিবেচিত অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের প্রবেশাধিকার নিয়ে কঠোরতা ছিল বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়।

সময় বদলেছে। মানুষ বদলেছে। বদলেছে রাজশাহীর সামাজিক চিত্রও।

পরবর্তীকালে ওই পরিবারের অনেকেই দেশভাগ ও পরবর্তী সময়ের নানা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চল ছেড়ে ভারতে চলে যান।

কিন্তু তারা চলে গেলেও রেখে গেছেন একটি নাম—
বোসপাড়া।

আজকের ব্যস্ত রাজশাহীর এই এলাকার নামের মধ্যে তাই লুকিয়ে আছে রামচন্দ্রপুর থেকে বোসপাড়া হয়ে ওঠার বহু পুরোনো এক ইতিহাস।

আপনি কি জানতেন বোসপাড়ার পুরোনো নাম ছিল রামচন্দ্রপুর? আপনার জানা থাকলে রাজশাহীর অন্য কোনো এলাকার পুরোনো নাম কমেন্টে লিখুন। ইতিহাসগুলো মানুষের মুখেই বেঁচে থাকুক।

রাজশাহীর গোরহাঙ্গা—নামটির পেছনে লুকিয়ে আছে এক বিতর্কিত, বিস্ময়কর ইতিহাস?  :একজন রহস্যময় ব্যবসায়ী, পুরোনো রাজশাহীর রাতের ...
01/09/2026

রাজশাহীর গোরহাঙ্গা—নামটির পেছনে লুকিয়ে আছে এক বিতর্কিত, বিস্ময়কর ইতিহাস?

:
একজন রহস্যময় ব্যবসায়ী, পুরোনো রাজশাহীর রাতের জীবন—আর মানুষের মুখে মুখে বদলে যাওয়া একটি নাম!

রাজশাহীর গোরহাঙ্গা নামটি শুনলে নামটির পিছিনে নামকরণের অনেক ধারণা হতে পারে। কিন্তু ইতিহাসের আরেকটি গল্প বলছে—এই নামের পেছনে ছিলেন গৌরাঙ্গ বসাক নামে এক ব্যক্তি!

ব্রিটিশ আমলে নাটোর থেকে পরিবার নিয়ে রাজশাহীতে এসে তিনি বর্তমান নিউমার্কেটের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে বসতি ও ব্যবসা শুরু করেন।
তারপর কীভাবে ‘গৌরাঙ্গের মোড়’ ধীরে ধীরে হয়ে গেল— গৌরহাঙ্গা… তারপর গোরহাঙ্গা?
সেই গল্পই রাজশাহীর পুরোনো শহরের এক বিস্মৃত অধ্যায়!

ব্রিটিশ আমলে তিনি পরিবারসহ রাজশাহীতে এসে বর্তমান নিউমার্কেটের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে কয়েকটি পাকা ঘর ভাড়া নেন এবং শুরু করেন তা***ড়ির ব্যবসা।

তখন এই এলাকার পরিবেশ ছিল আজকের রাজশাহীর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আশপাশে ছিল একটি বিশেষ পল্লি (বুঝে নিবেন)। ফলে গৌরাঙ্গ বসাকের ব্যবসাকেন্দ্রে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই তার ব্যবসা বেশ জমে ওঠে।

ধীরে ধীরে আশপাশের মানুষ, খদ্দের, টাঙ্গা ও রিকশাচালকদের মুখে জায়গাটি পরিচিত হতে শুরু করে—‘গৌরাঙ্গের মোড়’ নামে।

আর সময়ের সঙ্গে মানুষের মুখে মুখে—
গৌরাঙ্গের মোড় → গৌরহাঙ্গা → গোরহাঙ্গা।

একটি মানুষের নাম, একটি ব্যবসাকেন্দ্র, আর মানুষের মুখে মুখে বদলে যাওয়া উচ্চারণ—এভাবেই জন্ম নেয় একটি পুরো এলাকার পরিচয়!

পরে সাহেববাজার এলাকাতেও গৌরাঙ্গ বসাকের পরিবারের ব্যবসার পরিচয় পাওয়া যায়। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র দিলীপ কুমার বসাক (ডি. কে. বসাক)-এর নামে সেখানে ইলেকট্রনিক্স ও মদের দোকান ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।

আপনি কি গোরহাঙ্গা নামের এই ইতিহাস আগে জানতেন? নাকি আপনার জানা আছে অন্য কোনো গল্প? কমেন্টে লিখুন—রাজশাহীর হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস মানুষের স্মৃতিতেই বেঁচে থাকুক।

রাজশাহীতে আর কত রেস্টুরেন্ট চাই? এবার কি একটু অন্যরকম ব্যবসার কথা ভাবা যায় না?একটা সময় ছিল—রাজশাহীতে নতুন রেস্টুরেন্ট খু...
31/08/2026

রাজশাহীতে আর কত রেস্টুরেন্ট চাই? এবার কি একটু অন্যরকম ব্যবসার কথা ভাবা যায় না?

একটা সময় ছিল—রাজশাহীতে নতুন রেস্টুরেন্ট খুললে মানুষ বলত, “বাহ, নতুন কিছু হলো!” এখন অনেক জায়গায় নতুন রেস্টুরেন্ট দেখলে মনে হয়—“এটাও খুলল?”

একই বার্গার, একই শর্মা, একই ফুচকা, একই চা-কফি, একই সাজসজ্জা—শুধু সাইনবোর্ডটা আলাদা।

অথচ বাংলাদেশের খাদ্যসেবা খাত যে ছোট নয়, তার প্রমাণ পরিসংখ্যানেই আছে। BBS-এর ২০২১ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও চায়ের দোকানের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি; প্রায় ২.১ মিলিয়ন মানুষ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত।

সাম্প্রতিক বাজার গবেষণাতেও দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ফুডসার্ভিস খাত দ্রুত বাড়ছে।
তাহলে সমস্যা কোথায়?

সমস্যা খাবারের দোকান বেশি হওয়ায় নয়; সমস্যা হলো—আমরা ব্যবসার বৈচিত্র্য কমিয়ে ফেলছি।

একজন রেস্টুরেন্ট খুলছেন। পাশেরজনও রেস্টুরেন্ট। তার পাশেরজন ফাস্টফুড। একটু দূরে আরেকজন ফুচকা-চটপটি। সবাই একই ক্রেতার পকেট থেকে একই টাকার জন্য প্রতিযোগিতা করছেন।

অথচ রাজশাহীর দরকার হতে পারে আরও অনেক কিছু।

ভালো বইয়ের দোকান। শিশুদের সৃজনশীল শিক্ষাকেন্দ্র। ফটোকপি-প্রিন্টিংয়ের আধুনিক সেবা।

কৃষিপণ্য ও স্থানীয় পণ্যের ব্র্যান্ডেড দোকান। ফলের প্রসেসিং ও প্যাকেজিং ব্যবসা। হস্তশিল্পের শোরুম।
সাইকেল ও স্পোর্টস-ভিত্তিক ব্যবসা। বয়স্ক মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা। ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য শেয়ারড অফিস। স্থানীয় পণ্য অনলাইনে বিক্রির কেন্দ্র।

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু খাবার নয়—মানুষ, শিক্ষা, কৃষি, আম, পদ্মা, সংস্কৃতি এবং একটি শান্ত শহরের নিজস্ব জীবনধারা।

তাই নতুন ব্যবসা মানেই নতুন রেস্টুরেন্ট হতে হবে কেন?

হয়তো আপনার সামনে থাকা দোকানটি ফুচকা বিক্রি করে প্রতিদিন ভালো আয় করছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনারও ফুচকার দোকান খুলতে হবে।

ব্যবসার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—যেখানে সবাই যাচ্ছে, সেখানে যাওয়ার আগে একবার তাকিয়ে দেখুন, মানুষ আর কী খুঁজছে।

রাজশাহীকে শুধু খাওয়ার শহর নয়, নতুন কিছু তৈরির শহর বানানো দরকার।

কারণ শহরের উন্নতি শুধু দোকানের সংখ্যা বাড়লে হয় না— উন্নতি হয় যখন দোকানের ধরন বদলায়, মানুষের প্রয়োজনের নতুন সমাধান তৈরি হয়, আর একজন তরুণ উদ্যোক্তা সাহস করে বলে—
“সবাই যা করছে, আমি সেটা করব না। আমি এমন কিছু করব, যেটা রাজশাহীতে এখনও কম আছে।”

হয়তো সেখানেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় ব্যবসা।

আপনার চোখে রাজশাহীতে কোন ব্যবসার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, কিন্তু এখনও পর্যাপ্ত নেই? কমেন্টে একটি ব্যবসার নাম লিখুন। হয়তো আপনার একটি আইডিয়াই আরেকজনের নতুন স্বপ্নের শুরু হবে।

লেখক : সাংবাদিক

Address

Rajshahi

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rajshahi 365 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Rajshahi 365:

Shortcuts

Share