18/08/2026
২০২৬ সালে আমরা বাস করি,কিন্তু আমাদের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা সেই মধ্যযুগীয় হয়ে রয়েছে।
যারা নারীদের হয়রান করে তারা আসলে কি চায়?তারা চায় নারী মাথা নিচু করে চলবে, চোখে চোখ রেখে কথা বলবে না, নিজের মত প্রকাশ করবে না। আর কোনো নারী যদি সেই নিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, প্রতিবাদ করে, নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচতে চায়—তখনই তার গায়ে একটা অপমানজনক তকমা সেঁটে দেওয়া হয়।
একজন ছেলে আড্ডা দিলে, নিজের মতো জীবন কাটালে—সেটা নাকি স্বাভাবিক। অথচ একই কাজ একজন নারী করলে শুরু হয়ে যায় ফিসফাস, বিচার আর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা।
যে নারী স্কুটি চালায়, সে খারাপ।
যে নারী নিজের পছন্দের পোশাক পরে, সে খারাপ।
যে নারী নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয়, সেও খারাপ।
অথচ একজন নারীকে রাস্তায় অপমান করা হলে, গণপরিবহনে অশালীন আচরণের শিকার হতে হলে, প্রতিবাদ করলে উল্টো তাকেই শুনতে হয়—“আপনি কি খুব সাধু?”
সমস্যাটা নারীর পোশাকে নয়, তার চলাফেরায় নয়, তার স্বাধীনতায়ও নয়। সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
আমরা প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক সময়ে বাস করছি। হাতে স্মার্টফোন, চারপাশে আধুনিক প্রযুক্তি—কিন্তু চিন্তাভাবনায় এখনো বহু দূর পিছিয়ে। আমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করছি, কিন্তু মানুষকে দেখার ক্ষেত্রে এখনো স্মার্ট হতে পারিনি।
একজন নারী মানুষ। তারও পছন্দ আছে, অপছন্দ আছে, ভুল করার অধিকার আছে, নিজের জীবন নিজের মতো করে বেছে নেওয়ার অধিকার আছে। তাকে প্রতিটি পদক্ষেপে সামাজিক আদালতে দাঁড় করিয়ে বিচার করার অধিকার কারও নেই।
নারীর স্বাধীনতা আমাদের দয়া নয়, তার অধিকার।
প্রশ্নটা তাই একটাই—
আমরা কবে এমন একটা সমাজ তৈরি করব, যেখানে একজন নারীকে আগে মানুষ হিসেবে দেখা হবে, তারপর নারী হিসেবে?
আমরা কবে সত্যিই আধুনিক হবো?