01/05/2026
বৌদ্ধ পূর্ণিমার তাৎপর্য: বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ও পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এটি পালিত হয়। এই দিনটির তাৎপর্য তিনটি কারণে অনন্য, কারণ গৌতম বুদ্ধের জীবনের তিনটি প্রধান ঘটনা একই তিথিতে ঘটেছিল। একে ত্রিস্মৃতি বিজড়িত পূর্ণিমা বলা হয়।
খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে বৈশাখী পূর্ণিমায় নেপালের লুম্বিনী উদ্যানে রাজা শুদ্ধোধন ও রানি মায়াদেবীর ঘরে সিদ্ধার্থ গৌতম জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পরই তিনি সাত কদম হেঁটে ঘোষণা করেছিলেন, “আমিই জ্যেষ্ঠ, আমিই শ্রেষ্ঠ। এটাই আমার শেষ জন্ম।”
২৯ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করে ছয় বছর কঠোর সাধনার পর ৩৫ বছর বয়সে বৈশাখী পূর্ণিমার রাতে ভারতের বুদ্ধগয়ায় বোধিবৃক্ষের নিচে তিনি বোধিজ্ঞান লাভ করেন। দুঃখের কারণ, দুঃখ নিরোধের উপায় এবং নির্বাণের পথ আবিষ্কার করে তিনি বুদ্ধ অর্থাৎ জাগ্রত হন। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্ম প্রচারের পর ৮০ বছর বয়সে বৈশাখী পূর্ণিমার রাতেই কুশীনগরে শালবৃক্ষের নিচে তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। অর্থাৎ জন্মমৃত্যুর চক্র থেকে চিরমুক্তি পান।
চতুরার্য সত্য, অষ্টাঙ্গিক মার্গ, পঞ্চশীল পালনের মাধ্যমে নির্বাণ লাভের পথ দেখানো এবং অহিংসা পরম ধর্ম এই বাণী প্রচার করা তাঁর শিক্ষার মূল অংশ। লোভ, হিংসা, বিদ্বেষ ত্যাগ করে মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, উপেক্ষা এই চার ব্রহ্মবিহার চর্চার আহ্বান জানান তিনি। জাতপাত ও বর্ণভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সকল মানুষের সমতার কথা বলেন বুদ্ধ। “সব্বে সত্তা সুখিতা হোন্তু”, অর্থাৎ জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
এই দিন বৌদ্ধরা ভোরে মন্দিরে যান, বুদ্ধমূর্তি স্নান করান, প্রদীপ ও ধূপ জ্বালান, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করেন। দান, শীল, ভাবনা এই ত্রিশরণের চর্চা হয়। জীবহত্যা থেকে বিরত থেকে নিরামিষ আহার করা হয়। পশুপাখি অবমুক্ত করা এবং দুঃস্থদের দান করা এই দিনের প্রধান কাজ। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস ওড়ানোর মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার প্রতীকী প্রকাশ ঘটে।
হিংসা, যুদ্ধ ও অসহিষ্ণুতায় জর্জরিত বিশ্বে বুদ্ধের মধ্যপন্থা ও অহিংসার বাণী আজও সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক। ব্যক্তিগত লোভ ও সামষ্টিক বিদ্বেষ দূর করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় বুদ্ধ পূর্ণিমা।